যখন আপনি নিজেকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেবেন

হয়তো আপনি একজন খুব বেশী ধার্মিক মানুষ নন এবং আপনি আপনার পরিবারের বাকি সদস্যদের মতই জীবন যাপন করছেন। তারপর হৃদয়ে হঠাৎ এমন কিছু একটা অনুভূত হয়েছে এবং আপনি বলছেন, আমি এই পরামর্শটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে নিবো। আমি জানি না এটি কিভাবে হয়েছে , হয়তো আল্লাহ পাক এটি একটি YouTube ভিডিওর মাধ্যমে করেছেন নয়তো একজন বন্ধুর মাধ্যমে করেছেন অথবা অন্য কোন ভাবে করেছেন। কিন্তু আপনি জীবনে ভালো কিছু করার জন্যই আপনার জীবনকে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যখন আপনি আপনার জীবনের আচরণগুলো পরিবর্তন করতে শুরু করবেন, প্রথম যেই মানুষগুলো আপনার এই পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করবেন তারা হচ্ছেন আপনার নিজের পরিবার। তারা এটি লক্ষ্য করবেন যে আপনি আর আগের মানুষটির মতো নেই। আপনি আগের মত কথা বলেন না, আগের মত আচরণ করেন না, আপনি পূর্বের জায়গা গুলোতেও আর যান না। আপনার আগের বন্ধুগুলোও আর নেই, এবং এটি ঘটবেই। যখন আপনি ইসলামের দিকে ধাবিত হবেন তখন আপনি বন্ধুদের হারাতে শুরু করবেন । কারণ আপনার পূর্বের বন্ধুরা অনেক খারাপ কাজ করে এবং এখন আপনি তাদের সাথে এইসব খারাপ কাজে আর অংশ নিবেন না। সুতরাং আপনাকে বন্ধু হারানোর এই ব্যাপারটি সহ্য করতে হবে এবং এই একি সময়ে আপনার পরিবার ও বলবে যে আপনি কিছুটা অদ্ভুত আচরণ করছেন। যুবক ছেলেদের প্রতি পরিবারের সদস্যরা এটিও বলে থাকেন যে, “তোমার মুখে এইগুলো কি? তুমি কি শেভ করতে ভুলে গিয়েছো? তোমার কি হয়েছে?” এবং মেয়েরা যখন হিজাব পরা শুরু করেন তখন পরিবারের সদস্যরা আকস্মিক ধাক্কা খায় – আর মনে রাখুন এটি একটি মুসলিম পরিবার – তারা আপনাকে মাথা থেকে এই জিনিসটি খুলে ফেলতে বলবেন, তারা বলবেন – “তোমাকে এখন যেমন লাগছে তুমি কি বিয়ের অনুষ্ঠানে এভাবেই যেতে চাও ? তুমি এভাবে গেলে আমি তোমার সাথে গাড়ীতে বসতে পারবো না । তুমি...

বিয়ের উদ্দেশ্য এবং মূলনীতি

বিয়ে একটি শক্ত প্রতিজ্ঞা। কুরআনেও এই ব্যাপারে খুব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। “আল্মুহসানাত”, “আল্মুহসিনিন”। আরবিতে “ইহসান” মানে হল কাউকে নিরাপদ দুর্গের মধ্যে রাখা। অনেকটা মিলিটারি ক্যাম্পের মত। উদাহরনটা এমন যে, বাইরে শত্রু আছে আর তাই যে মিলিটারি ক্যাম্পের ভিতরে আছে সে নিরাপদ। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে নারীরা যেন নিরাপদ প্রাচীরের মধ্যে আছে, আর কে তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে? তাদের নিজ নিজ স্বামীরা। সবকিছু থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে, দুঃখ কষ্ট, লজ্জাহীনতা, এমনকি অজ্ঞানতা থেকেও, কারন তাকে সঠিক শিক্ষা দেয়াও তার স্বামীর দায়িত্ব। সে তাকে সব দিক থেকে নিরাপদ রাখছে। আর যারা বিয়ে করতে ইচ্ছুক তাদেরকে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, “মুহসিনিন গাইরা মুসাফিহিন”।(সূরা নিসা ২৪) তারা হল সেসব মানুষ যারা নারীদের এরূপ নিরাপত্তায় আনতে আগ্রহী, তাদের নিজেদের পরিচর্যায়, পরিবার গঠনের উদ্দেশ্যে, শুধুমাত্র তাদের নিজেদের কামনা পূরণ করার জন্য নয়। “মুসাফিহ” বলতে এমন কাউকে বুঝায় যে নিজের হরমোনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর একারনেই সে বিয়ে করতে চায়, এটাই একমাত্র কারন। তাই আল্লাহ বিয়ের সম্পর্কে আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করেছেন। যদি আপনি সঠিক কারনে বিয়েতে আবদ্ধ হন, তাহলে আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার একটি সুস্থ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আর যদি আপনি ভুল কারনে বিয়ে করেন, ভুল কারন কি কি হতে পারে? আমার হরমোনের সমস্যা আছে তাই আমি বিয়ে করতে চাই, ব্যাস। তাহলে অবশ্যই আপনার সংসার অশান্তির হবে, আর আপনি কখনই সন্তুষ্ট হবেন না। আর খুব সম্ভবত আপনাদের অনেকেই এটা অনুধাবন করেছেন কঠিন উপায়ে। কারন আপনার নিয়্যতে ভুল ছিল। আপনার নিয়্যত থাকতে হবে একটি পরিবার শুরু করার, আল্লাহকে খুশি করা, সমাজে ভাল কিছু বৃদ্ধি করা। তাই আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীনের অন্যান্য সব কিছুর মত বিয়ের মূলনীতিও হলঃ আপনি নিজের দায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত থাকুন, আর আপনার অধিকার আদায়ের কথা ভুলে যান। আমি জানি যে এটা খুবই রুক্ষ শুনাচ্ছে, কিন্তু...

পৃথিবীতে অন্যায় – অবিচার, পরকালীন বিশ্বাস এবং আমাদের আমল

’’যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।’’ (২:৬২) এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে একেবারে প্রাথমিক কিছু কথা বলেছেন, যা কিনা একটি শিশুর পক্ষেও বোঝা সম্ভব। কিন্তু একই সাথে ঈমান সম্পর্কে অত্যন্ত শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গীও তুলে ধরেছেন। ঈমান — একেবারে প্রাথমিক বিষয়, তাই না? একজন মুসলিমের জন্য ঈমান হলো সবচেয়ে প্রাথমিক বিষয়। কিন্তু এখানে আল্লাহ আমাদেরকে ঈমানের সামগ্রীক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়েছেন যা জীবনকে পরিবতর্ন করে দেয়ার মত বিষয়। আপনাদেরকে আমি এই সম্পর্কেই বলতে চাই। আল্লাহ এই আয়াতে ঈমানের তিনটি দিক সম্পর্কে বলেছেন, তাই না? তিনি বলেছেন, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, এই তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে যা পরকালের সফলতার জন্য প্রয়োজন وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ’’আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।” (২:৬২) এখন খেয়াল করুন, এই আয়াতের আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন বনী ইসরাইলের জঘন্য খারাপ অপরাধগুলোর কথা। আমরা সেগুলো পড়েছি। এখন, তিনি বলছেন, ঈমানের প্রথম অংশ হলো, আল্লাহর প্রতি ঈমান। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অত্যাবশ্যকীয় ফলাফল হলো, আপনি অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই পরকালে বিশ্বাস করবেন। এটা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ফলেই হয়। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস না করেন, তখন আপনার জন্য এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে যে, এই জীবনের পরে আরও একটি জীবন আছে। কিন্তু আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন, তাহলে এই বিশ্বাসেরই যৌক্তিক পরিণতি হলো পরকাল। কিভাবে? আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন, তাহলে আপনি এবং আমি কি এটা বিশ্বাস করি না যে, তিনি সকল কাজই নিখুঁতভাবে করেন? তিনি একদম নির্ভুল, তাই না? আপনি যদি কোন নাস্তিক, দার্শনিক কিংবা অজ্ঞাবাদীর সাথে কথা বলেন, তারা বলবেন,...

পরকালের বন্ধুরা

জানেন, মানুষ যখন খুশিতে থাকে তখন তারা কি চিন্তা করে? তারা বসে বসে ভাবে ইসস.. জীবনটা যদি সব সময় এরকম হত। তারা জানে যে এরকম হবার নয়, জীবনের বাঁকে বাঁকে সমস্যা আছে। কিছু না কিছু সমস্যা হবেই, শারীরিক বা মানসিক, কিছু একটা হবেই। জীবনে আর কোন সমস্যাই আসবে না এটা যদি জানা যেত!! আমার অত্যন্ত অত্যন্ত প্রিয় একটা বর্ণনা জান্নাত সম্পর্কে, এটা সুরা সাফফাত থেকে (আয়াত ৫০-৫৯) এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করলো এবং সে দেখলো সেখানে তার বন্ধুরাও আছে। তারা একজন একজনকে দেখে উচ্ছসিত হয়ে বলল ”আরে তুমিও সফল হয়েছও” তারপর তারা একে অপরকে অভিনন্দিত করলো। তারা একজন আরেকজনকে বলতে থাকবে ও আল্লাহ! তুমি, ও তুমিও। তারা আবার একজন আরেকজনের সাথে পরিচিত হতে থাকবে। আমি তোমাকে ওখানে চিনতাম। এরপর সে চিন্তা করবে আচ্ছা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু যে তার কি হল? তাকে তো দেখছি না। অর্থাৎ সে তার পুরোনো জীবনের কথা স্মরণ করবে আর ভাববে যে তার এক বন্ধু এখানে নেই। তখন সে বাকীদেরকে জিজ্ঞাসা করবে তোমরা কি জান ওর কি হয়েছে? কিন্তু কেউই এই ব্যাপারে জবাব দিতে চাইবে না। কিন্তু সে আসলেই জানতে চায় যে তার পুরাতন বন্ধুর কি হল। ব্যাপারটা এমন হবে যে আল্লাহ জান্নাতে একটা জানালা খুলে দিবেন যাতে সে জাহান্নামে তার বন্ধুকে দেখতে পায়। এই ধরনের একটা চিত্রই ৩৭ নম্বর সুরাটিতে বর্ণিত হয়েছে। সে দেখবে যে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু জাহান্নামে জ্বলছে। হ্যাঁ, আপনি জান্নাত থেকে এটি দেখতে পারবেন, কারণ জান্নাতে আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন। আর সে তার বন্ধুকে দেখতে চাইলো আর তার ইচ্ছাও পূরণ হল। তাই সে জাহান্নামের একটি ঝলক দেখতে পেল এবং সেখানে তার বন্ধুকে দেখলো। তখন সে বলবে إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ তুমিও আমাকে প্রায় ওখানেই নিয়ে যাচ্ছিলে। সে তার বন্ধুকে দেখলো...