মৌমাছির মত হও।

— নোমান আলী খান  আল্লাহ তায়ালা বলেন – وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ – আর তোমার রব মৌমাছিকে আদেশ দিলেনঃ ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’  ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ – “অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শিখানো) সহজ পদ্ধতি অনুসরণ কর। এর পেট থেকে রং-বেরং এর পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য আছে আরোগ্য। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে।” (16:68-70)   একজন মুসলিমের চিন্তাপদ্ধতি অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। এর কারণ হল আল্লাহর বই। এটা আমাদের চিন্তা ধারাকে রূপদান করে। বস্তুত, আজ আমি আলোচনা শুরু করতে চাই সূরা মূলকের একটি আয়াত দিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে –  লোকেরা জাহান্নামে প্রবেশ করছে, আর প্রবেশ করা কালে তাদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। তখন, তারা উত্তরে বলবে,  وَ قَالُوۡا لَوۡ کُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا کُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ  – বিখ্যাত একটি আয়াত –  “এবং তারা বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম…চলুন, এখানে একটু থামি। এখানে কী শুনার কথা বলা হচ্ছে? যদি কুরআন শুনতাম! যদি ইসলামের বার্তা শুনতাম! যদি উপদেশগুলো শুনতাম! এই অংশটি সবাই বুঝে। কিন্তু এরপর আয়াতে ‘ও না’কিলু’ বলা হয়নি, বলা হয়েছেঃ ‘আও না’কিলু’, লাও কুন্না নাস্মাউ’ আও না’কিলু। আর আরবিতে ‘আও’ অর্থঃ অথবা। যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম। অর্থাৎ, যদি শুনতাম অথবা অন্ততপক্ষে চিন্তাভাবনা করতাম।  কথাগুলো এভাবে উপস্থাপনের পেছনে শক্তিশালী উদ্দেশ্য রয়েছে। একদিকে, মুসলমানরা কিছু শুনলে সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করবে। আমরা খুৎবা শুনি, রিমাইন্ডার শুনি, লেকচার শুনি, কিছু পড়লেও আমরা ঐখান থেকে শিখি। এগুলো থেকে আমরা...

ছেলেরা কিভাবে মেয়েদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে?

إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴾ নিশ্চয় তারা যা পরিকল্পনা তৈরি করে আল্লাহ তা খুব ভালোভাবে খবর রাখেন।﴿ [সূরা নূর: ৩০] “এবং তিনি জানেন যা তোমরা ম্যানুফ্যাকচার (Manufacture) করো”। আল্লাহ এখানে ছেলেদের একটা উদ্দেশ্যের কথা বলছেন। সেটা হলো ছেলেরা যে কৌশল অবলম্বন করে একটা মেয়েকে নিজের ফাঁদে টানে; প্রেম, যিনা বা মেলামেশার দিকে টানে। এই কৌশলী পরিকল্পনার ইংরেজি প্রতিশব্দ Manufacture (ম্যানুফ্যাকচার)। এই ‘ম্যানুফ্যাকচার’ মানে কী? ‘ম্যানুফ্যাকচার’ মানে উৎপাদন করা, উদ্ভাবন করা। উৎপাদনে কী থাকে? একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা! হ্যাঁ, একটা ছেলে যেকোনো মেয়েকে কৌশলে নিজের আয়ত্বে আনতে পরিকল্পনা অনুযায়ীই আগাতে থাকে। ধরুন, একটা গাড়ি তৈরি করতে কতগুলো অংশ (পার্টস) লাগবে, কী কী রঙ লাগবে, কোন অংশ আগে জোড়া দিতে হবে, কোন অংশ শক্ত হতে হবে, কোন অংশ নরম হবে, কোনটিকে কত বছরের জন্য টেকসই হিসেবে দিতে হবে, গাড়িটি তৈরি করতে কত সময় লাগবে, মার্কেটিং কীভাবে করবো, বিক্রি করবো কোথায়, কীভাবে ইত্যাদি সবই পূর্ব-পরিকল্পনা করা থাকে। এই প্ল্যান (পরিকল্পনা) আশাপূর্ণ ফল লাভের জন্য খুবই কার্যকরী আর সুপরিকল্পিত কাজ না থাকলে কোম্পানির জিনিসটি ভালো চলে না। এভাবে একটা ছেলে যখন মেয়েকে নিয়ে গেমের মতো বিস্তারিত প্ল্যান করে, সেটাও আল্লাহ জানেন বলে এই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। প্রথমে ছেলেটা মেয়ের দিকে তাকায়। এরপর পিটপিট করে করে তাকানো, মিটমিট করে হাসা চলতে থাকে। তারপর একটু কৌশলে জিজ্ঞেস করে তোমার ফেইসবুকে আইডি আছে? কী নামে? এভাবে কৌশলে একটু কাছে এসে বলে, ‘আমি আসলে তোমাকে ইসলাম বিষয়ে জানতে আরো সহযোগিতা করতে চাই’। ‘ঐ জায়গায় কিন্তু ইসলামী আলোচনা হয়, চলো না যাই একদিন’। ‘ঐ ফেইসবুক গ্রুপে অনেক সুন্দর আলোচনা হয়, ঐখানে জয়েন করাই?’ আর মেয়েটিও এভাবে বলে, ‘হ্যা, অবশ্যই, এই যে আমার ফেইসবুক একাউন্ট, আমাকে ভালো ভালো গ্রুপে এড করে দিবেন দয়া করে’। এভাবে ছেলের সাথেও ফেইসবুকে বন্ধু...

জেলখানা থেকে এক ভাইয়ের চিঠি।

— নোমান আলী খান সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আজকে আলোচনা করার প্ল্যান ছিল না। আমি একটা চিঠি পেয়েছি। এরপর আর নিজেকে থামাতে পারিনি। আপনাদের চিঠিটি পড়ে শুনাচ্ছি। আমি আমার ভাইয়ের নাম গোপন রাখবো। “আমার নাম …(আমি তাকে আমার প্রিয় ভাই বলবো।) চিঠির পোস্ট মার্ক থেকে আপনি বুঝবেন, আমি বর্তমানে জেলে বন্দী আছি। জীবনে এমন কিছু ভুল কাজ করেছি, যা নিয়ে আমি গর্বিত নই। কিন্তু এই রামাদানে, আমার মন বলছে আল্লাহ্‌ আমাকে পরিবর্তন করে দিবেন, আমার জানার চেয়েও বেশি উপায়ে। আপনাদের সবার মত ইসলাম সম্পর্কে আমি অতটা জ্ঞানী নই। দেখুন, আল্লাহর রহমতে আমি অনেকটা স্বশিক্ষিত, আমার প্রতিনিয়ত অনুসন্ধান এবং অধ্যয়নের মাধ্যেম। আমার অন্তরে ইসলাম আমার ধর্ম এবং মুহাম্মাদ (স) আমার নবী, শেষ নবী হিসেবে। আমি গত বছর থেকে কুরআন এবং হাদিস অধ্যয়ন করার চেষ্টা করছি। আমি অন্য ভাইদের কাছে সাহায্যের আবেদন করিনি। কারণ, আমি ভয় পাচ্ছি সমাজের লোকজন আমাকে অপমান করে থামিয়ে দিবে। সত্যি বলতে, আমার সাহায্য দরকার আরও শিখার ক্ষেত্রে। কারণ, আমি একা একা ভালভাবে শিখতে পারবো না। যে কারণে আমি আপনাকে এই চিঠি পাঠিয়েছি, আমি জেলে থেকে আমার ট্যাবলেটে নোমান আলী খানের অডিও পডকাস্ট শুনছি। এই খুৎবাগুলো প্রতিদিন আমাকে শক্তি এবং অনুপ্রেরণা যোগায়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমি এগুলোর জন্য অনেক বেশি বাধিত এবং কৃতজ্ঞ। কারণ, আল্লাহ আমাকে আমার এই ভ্রমণে এতো বেশি সাহায্য করেছেন যে, আমি নিজের ভেতরে পরিবর্তন অনুভব করছি। আর আমার ঈমান দিন দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে। এমনকি এমন দিনগুলোতেও যখন মুসলিম থাকা খুবই কঠিন। যাইহোক, আগামী কাল রামাদান। (চিঠিটি রামাদান শুরু হওয়ার পূর্বে লিখা হয়।) আমার কাছে পড়ার উপকরণ খুবই কম। এবং ভালোভাবে শেখানোর জন্য তেমন কোনো ভাইও নেই। তাই, আমি আমার বোনকে বলেছি গুগুলে আপনার ঠিকানা খুঁজতে। যাইহোক, ভাই প্লিজ, আমি কি...

দো’আ ও আল্লাহর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া

— নোমান আলী খান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল বলেন – وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ – “আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে।” আল্লাহ এখানে বলেন নি, যদি আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করে, তিনি বলেছেন, যখন আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করে। কারণ তিনি আশা করেন যে, এটা অবশ্যই ঘটবে। তিনি আপনার সম্পর্কে আশাবাদী। আপনি হয়তো আপনার সম্পর্কে আশাবাদী নাও হতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি রাসূল (স) কে বলেন, যখন তারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে….. সাধারণভাবে আয়াতটি তো এমন হওয়ার কথা ছিল, যখন তারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি তাদের বলে দিন আমি নিকটে। কিন্তু আয়াতের বক্তব্য এটা নয়, আয়াতের বক্তব্য হলো – যখন তারা আপনার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে… এটা বলার পর তিনি তাঁর রাসূলের সাথে কথা বলা বন্ধ করে আমার আপনার সাথে সরাসরি কথা বলা শুরু করলেন এবং বলেন – নিশ্চিতভাবেই আমি সন্নিকটে। আয়াতের মাঝখানে এসে বক্তব্যটি আর আল্লাহ এবং রাসূল (স) এর সাথে না হয়ে আল্লাহ এবং আমার আপনার সাথে সরাসরি হয়ে গেলো। বহুদিন যাবৎ আপনি হয়তো আল্লাহর সাথে কথা বলেন না। আপনি যদি কারো সাথে অনেক দিন কথা না বলেন, আপনার মনে হতে পারে সেও হয়তো আপনার সাথে কথা বলতে চায় না। “এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?” আপনি অন্য একজনের মাধ্যমে তার সাথে কথা বলতে চান। সে কি এখনো আমার প্রতি রাগান্বিত?আপনি তার সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করতে চান না। কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল সেই দেয়ালটি ভেঙে সরাসরি আপনার কাছে আসেন এবং আপনাকে বলেন – নিশ্চয় আমি নিকটে। ‘ফা-ইন্নি ক্বারীব।’ তারপর আপনার হয়তো মনে হতে পারে, আমি তাঁর নিকট থেকে এতো দূরে…. তিনি কেন আমার দোয়ার জবাব দিতে যাবেন? কিন্তু আল্লাহ বলেন – ……أُجِيبُ...

বৃষ্টি ও কুর’আন: জীবন ও ঈমান

আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারীদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন। [নাহল: ৬৫] এখানে আসলে বৃষ্টির কথা বলা মুখ্য উদ্দেশ্য না৷ উদ্দেশ্য পূর্বের আয়াত। আগের আয়াতে যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে: আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই কিতাব নাযিল করেছি। (নাযিলের উদ্দেশ্য) যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদেরকে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন (ঐসব বিষয়ে) যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং(এই কিতাব) ঈমানদারকে হেদায়াত ও তাদের জন্যে ক্ষমা (নিয়ে আসবে)। [সূরা নাহল: ৬৪] পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ তা’আলা আসমান থেকে কিতাব নাযিল করেন। পরের আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। সুতরাং আপনি যদি পৃথিবীতে আল্লাহর কিতাবের গুরুত্ব বুঝতে চান, তাহলে আপনাকে পৃথিবীতে পানির ভূমিকা বুঝতে হবে। বলুন তো পানির কাজ কী? পানি পৃথিবীতে জীবন তৈরি করে৷ পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য। ঠিক তেমনি জগতের যেসব জায়গা নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে মৃত, সেখানে আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা অনিবার্য৷ আধ্যাত্মিকভাবে মৃত জগতকে জাগাতে চাই কুর’আনের শিক্ষা৷ হাজার বছরের মৃতপুরীকে জাগিয়ে তুলতে পারে পানি৷ পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, পৃথিবীর নৈতিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, দিন রাতে যেকোনো অবস্থাতেই মিডিয়া যতই খারাপ হোক না কেন, মুসলিমরা যতই নীচে নামুক না কেন — এই কিতাব (মহিমান্বিত কুর’আন) সেই মৃত লোকদের মধ্যে জীবন আনার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু পানি যখন বর্ষিত হয় তখন দুই ধরনের উদ্ভিদ জন্মায় পানি বর্ষণের ফলে। এক ধরনের উদ্ভিদ যা নিজে নিজে জন্মায়। আরেক ধরনের উদ্ভিদ হচ্ছে ফসল৷ এর জন্য শ্রম দিতে হয়৷ পৃথিবীতে কি এমন লোক নেই যাদেরকে কোনো প্রকার সরাসরি দাওয়াত ছাড়া ইসলাম গ্রহণ করেছে? অনেকে করেছে। যাদের সাথে কোনো অবস্থাতেই আমার দেখা হয়নি। আমি শুধু একটি ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেছি...

আল্লাহ সর্বশক্তিমান

– উস্তাদ নোমান আলী খান ইনশাআল্লাহ, আজ আমি আপনাদের নিকট আল্লাহর একটি নাম القوي – এর উপকারিতা বর্ণনা করবো। القوي অর্থ – শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী। এই অসাধারণ শব্দটি দ্বারা আল্লাহর একটি নাম প্রকাশ করা হয়। শব্দটি শুনলেই আপনি বুঝতে পারেন এর মানে হল আল্লাহ সর্বশক্তিমান। কিন্তু সুরাতুল হাজ্জের শেষের দিকে আল্লাহ যেভাবে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন তা অসাধারণ চমকপ্রদ। আমি যুক্তি দেখাবো, একজন বিশ্বাসীর জন্য আল্লাহর ‘القوي’ হওয়ার মানে কী তা উপলব্ধি করার জন্য আল কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি হল সুরাতুল হাজ্জের এই অংশটি। আমরা তাঁর সকল নামে বিশ্বাস করি কিন্তু তাঁর প্রত্যেকটি নাম কোন না কোনভাবে আমাদের উপকার করে। কোন না কোনভাবে আমাদের সাহায্য করে। القوي কীভাবে আমাদের সাহায্য করে? এটা শেখার অন্যতম একটি সেরা জায়গা হল ২২তম সূরা, সুরাতুল হাজ্জের শেষের অংশ। এই সূরায় আল্লাহ একটি উপমা পেশ করেন যেন মানুষ তাঁর সম্পর্কে একটি ব্যাপার উপলব্ধি করতে পারে। তিনি বলেন – يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ – “হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন;” এভাবেই তিনি শুরু করেছেন, একটি উপমা দেয়া হল মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো। তিনি সাধারণত এভাবে বলেন – আল্লাহ একটি উপমা বর্ণনা করলেন। কিন্তু এখানে বলেছেন, একটি উপমা প্রদান করা হলো। ‘আমি একটি উপমা দিচ্ছি’ বলার পরিবর্তে। তিনি এখানে বক্তাকে আলোচনা থেকে গোপন করে ফেললেন। এটি একটি সাইড নোট – কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি – যা আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন। আমি এখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার একটি নির্দিষ্ট রূপ আছে, আমার দাঁড়ি আছে, আমার পোশাক এইরকম, আমার মাথায় টুপি আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনারা সরাসরি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন। আমি কুরআন থেকে কিছু তিলাওয়াত করলে বা কোন আলোচনা করলে সেটাও আপনারা দেখতে পান। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতির...