উস্তাদ নুমান আলী খান

নুমান আলী খান একজন মুসলিম দা’ঈ। কুর’আন এর জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বাংলাভাষাভাষী অনেক ইসলাম অনুরাগী তরুণ তাঁর অসাধারণ আলোচনা থেকে উপকৃত হচ্ছে নিয়মিত …

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন

বর্তমানে আমরা ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল এ নুমান আলী খানের লেকচার গুলো নিয়মিত প্রকাশ করছি এবং এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে তা শ্রেণীবদ্ধ ভাবে সংরক্ষণ করছি। আপনি আমাদের ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল লাইক /সাবস্ক্রিপশন করে আমাদের সাথে আরো নিবিড় ভাবে সংযুক্ত থাকতে পারেন।

আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন…

সংযুক্ত থাকুন

ভিডিও + প্রতিলিপি

সীরাতুন্নাবী (সাঃ), ১ম – ৩য় পর্ব

১ম পর্ব  অডিও ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/2ffFZWN কল্পনা করুন তো, সবর্োত্তম চরিত্রের অধিকারী মানুষটির সংস্পষর্ আপনি প্রতিনিয়ত অনুভব করছেন। তাঁর চরিত্রের মাধুযর্ ক্ষণে ক্ষণে আপনার মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।… এ ধরণীতে তাঁর সান্নিধ্য লাভের এ সৌভাগ্য অর্জন আর সম্ভব না হলেও পবিত্র সেই জীবন এবং জীবনের রোমাঞ্চকর-চমকপ্রদ ঘটনাপ্রবাহ জানা, তাঁর প্রিয়দের অন্তভর্ুক্ত হবার চেষ্টা করা আর তাঁর প্রতি ভালোবাসাপূণর্ অভিবাদন প্রেরণের অবারিত সুযোগ এখনো উন্মুক্ত ২য় পর্ব অডিও ডাউনলোড লিঙ্কঃ https://www.mediafire.com/?56eesqn7l4823qx ৩য় পর্ব অডিও ডাউনলোড লিঙ্কঃ...

ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় বিষয়সমূহ (২য় পর্ব)

২য় বৃত্তটি হচ্ছে মৌলিক বাধ্যবাধকতা, মূল করণীয় এবং মূল বর্জনীয় কাজসমূহ। উদাহরণসরূপ: আমরা সবাই জানি যে আমাদের ধর্মের ৫ টি মূল স্তম্ভ আছে। সালাত এর মধ্যে একটি। সালাত হচ্ছে মৌলিক করণীয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে, এই বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে (১ম বৃত্তে বর্ণিত) ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় মূলনীতিগুলোর একটিকে পূরণ করা যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে পূর্বে বর্ণিত মূলনীতিগুলোই কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আল্লাহ আমাদেরকে যেসব মৌলিক বাধ্যবাধকতা সেট করে দিয়েছেন এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলনীতিগুলিকে সুদৃঢ় করা। যেমন ধরুন, আল্লাহ বলেছেন: ‘আকিমুসসালাতা লি যিকরি’ – ‘সালাত প্রতিষ্ঠা করো, যাতে করে তোমরা আমাকে স্মরণ করতে পারো’। আল্লাহকে স্মরণ করা কি একটি মৌলিক নীতি নয়? অবশ্যই! আল্লাহর স্মরণকে আমরা কিভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসবো? এমন কি উপায়ে আমরা এটা করতে পারি যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে? এমনটি করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সালাত। সালাত হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যেটা আল্লাহকে স্মরণ করার বিমূর্ত ধারণাটিকে বাস্তবিক সত্যে রূপান্তরিত করে। সিয়াম পালন করার বিষয়ে আল্লাহ বলেন: ‘কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন’ – ‘তোমাদের সিয়াম পালন করতে বলা হয়েছে, যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো’। তাকওয়া হচ্ছে বিমূর্ত ধারণা। বাস্তবে এমন কি করা যেতে পারে যেটা তাকওয়ার এই বিমূর্ত ধারণাকে আমার জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত করবে? কি সেটা? সিয়াম পালন করা এই ধরণের কাজসমূহের একটি। এইভাবে আপনারা দেখবেন যে, আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিটি মৌলিক বাধ্যবাধকতা এক একটি মৌলিক নীতিকে সুদৃঢ় করে। বাধ্যবাধকতাগুলো দেয়া হয়েছে যাতে করে মৌলিক নীতিগুলিকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসতে পারি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা যা করেছি সেটা হচ্ছে, আমরা আল্লাহ প্রদত্ত এইসব বাধ্যবাধকতাগুলোকে সংশ্লিষ্ট নীতিমালগুলো থেকে আলাদা করে ফেলেছি। এর ফলে যেটা হয়েছে, মানুষ ঠিকই সিয়াম পালন করছে কিন্তু তাদের মধ্যে এই বোধটি নেই যে সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া বৃদ্ধি করা। মানুষ সালাত...

জিব্রাইল আঃ এর গল্প (১ম পর্ব)

আপনি কীভাবে জিব্রাইল আঃ এর নাম বলেন, কীভাবে উচ্চারণ করেন তার নাম? জিব্রীল, জিব্রাই–ল, জিব্রাইল, জিব্রাই’ল, জিব্রিইল এই পাঁচ ভাবে তার নাম উচ্চারণ করা হয়। আর এটা বিভিন্ন কিরাতের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বার বার কি শোনা যাচ্ছে? ই-ল। ই-ল মানে আল্লাহ সুব হানাহু ওয়া তায়ালা। এ নিয়ে কোন মতপার্থক্য নেই। জিবরা মানে বান্দাহ, দাস। তাহলে জিব্রাইল অর্থ- আল্লাহর দাস। সুতরাং এটা হলো তার নাম এবং নামের অর্থ। রাসূল সঃ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিভাবে তাঁকে সম্বোধন করতেন? এটা আসলেই একটা মজার বিষয়। যখন আমি এই বিষয়ে গবেষণা করা শুরু করলাম, প্রথম দিন এটা দেখে খুব অবাক হলাম যে- কারণ আমি বুখারি শরীফ থেকে শুরু করেছিলাম। আমি বুখারি শরীফ থেকে জিব্রাইল আঃ সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদিস সংগ্রহ করলাম। প্রথম যে হাদিসে জিব্রাইল আঃ এর নাম উল্লেখ আছে, রাসুল সঃ বলেন, জিব্রিল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমরা সাধারণত জিব্রিলকে আলাইহিস সালাম হিসেবে সম্বোধন করি। যার অর্থ তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হউক। কিন্তু রাসুল সঃ তাঁর উপর সালাওয়াত ও পেশ করলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে। রাসুল সঃ এটা করলেন জিব্রাইল আ এর উচ্চ মর্যাদার কারণে। আরেকটা ব্যাপার, রাসুল সঃ প্রায়ই তাঁর নাম বলে তাঁকে সম্বোধন করতেন না। জানেন, কিভাবে করতেন? তিনি বলতেন, যিনি আমার রবের নিকটে থাকেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিভিন্ন উপায়ে তাঁকে সম্বোধন করতেন। সব গুলো আমার পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এটা আরেকটা বিশাল অধ্যয়নের ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে। তবে সবচেয়ে কমন যে বিষয়টি আপনি পাবেন তা হলো ‘রুহ’ শব্দটি, আত্মা, স্পিরিট। আল্লাহ তাঁকে বলেন আর রুহুল কুদুস(পবিত্র আত্মা), আর রুহুল আমিন(বিশ্বাসী আত্মা), রুহানা(আমাদের আত্মা), আল্লাহ তাঁকে আরও ডাকেন ‘রাসুলুন কারীম (সম্মানিত বার্তাবাহক) বলে। সর্বশেষ আর একটি নাম বলেই আমরা অগ্রসর...

প্রবন্ধ

সুস্থ হৃদয়

—নোমান আলী খান হৃদয়ের জন্য দুটো প্রতিশব্দ আছে, বলুন তো সেগুলো কি কি? ক্বালব আর ফুআদ। ক্বালব হলো হৃদয়ের সাধারণ প্রতিশব্দ। ফুয়াদ ব্যবহৃত হয় যখন…? যখন কোনো ধরণের উত্তেজিত কিংবা আবেগপ্রবণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আপনারা কি জানেন কুরআনে খুবই সুন্দরভাবে আল্লাহ এই ব্যাপারগুলোর হিসেব রাখেন। তাই আপনারা সুরাতুল ক্বাসাসে দেখবেন এই একই জিনিসের জন্য দুটো শব্দ একইসাথে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ বলেন- وَ اَصۡبَحَ فُؤَادُ اُمِّ مُوۡسٰی فٰرِغًا ؕ اِنۡ کَادَتۡ لَتُبۡدِیۡ بِهٖ لَوۡ لَاۤ اَنۡ رَّبَطۡنَا عَلٰی قَلۡبِهَا لِتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (২৮:১০) মূসা (আ) এর মায়ের হৃদয় উড়েই যাচ্ছিল, ধড়ফড় করছিল, খালি হয়ে গেলো। কারণ তিনি তার বাচ্চাকে একটি বক্সে বন্দী করে মাত্রই পানিতে ভাসিয়ে দিলেন। এখন বাচ্চাটি এতো দূরে চলে গেছে যে তিনি আর দেখতে পাচ্ছেন না। তাই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন। একই সময়ে তার ভয়, তার দুঃখ, তার কষ্ট, ধকল, প্রচণ্ড আবেগ-অনুভূতির ব্যাপ্তি এতোই প্রকট ছিল যে তার হৃদয়কে শুধু ক্বালব বলা হয়নি, বরং কী বলা হয়েছে? ফুয়াদ। কারণ তা সম্পূর্ণরূপে অভিভূত হয়ে গিয়েছিল, পুড়ে যাচ্ছিল! তারপর আল্লাহ বলছেন, তিনি গোপন বিষয়টি ফাঁস করেই দিচ্ছিলেন। إِن كَادَتْ لَتُبْدِى بِهِ মানে তিনি প্রায় ঘর থেকে ছুটেই চলে যাচ্ছিলেন বাক্সটির প্রতিঃ আমার বাচ্চা!! তিনি নিজেকে থামাতে পারছিলেন না। কিন্তু তাকে আল্লাহ্‌র টেনে ধরতে হলো। এটা বোঝা জরুরি, কারণ কোনো মায়ের নিজেকে থামানো সম্ভবত মানসিকভাবে অসম্ভব। সম্ভবত একেবারেই অসম্ভব। আমি এমনটা হবার কোনো কারণ দেখি না। অন্য কথায়, কোনো বাচ্চা… ধরুন বাচ্চাকে দোকানে নিয়ে গেছেন। আর সে আপনার আঙ্গুল ধরে আছে, আপনি হাঁটছেন। হঠাৎ করে দুই সেকেন্ডের জন্য আপনি তার হাত আর অনুভব করছেন না। তৎক্ষণাৎ কি করেন আপনি? করিম! করিম! আআআআ! হাহাহা কতক্ষনের মধ্যে কোনো মা পাগল হয়ে যায়? আমি তো মনে করি দশ সেকেন্ড। আর বাবা! বাচ্চাকে...

শোয়াইব (আঃ) এর মেয়ের সাথে মুসা (আঃ) এর বিয়ে থেকে কিছু শিক্ষা

• সৌজন্যতা আর ভদ্রতার সাথে কোন ছেলে অন্য কোন মেয়েদের সাহায্য করতে পারে। (মুসা (আঃ) মাদিয়ানে এসে যখন দুই বোনকে সাহায্য করেন।) • শালীনতা আর সতর্কতার সাথে মেয়েরা প্রয়োজনে বাইরে কাজে যেতে পারে। (দুই বোন তাদের বকরীগুলোকে পানি পান করানোর জন্য বের হতো তাদের বাবা অতি বৃদ্ধ বলে। আর সবার শেষে পানি পান করাতো যাতে পুরুষদের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি না হয়) • শুধু ছেলেরা না, মেয়েরাও ছেলেদের পছন্দ করতে পারে। মেয়েরা যখন বাবার সামনে কোন ছেলের প্রশংসা করে, তখন বাবার বুঝা উচিত মেয়ে কী বুঝাতে চাচ্ছে। ( শোয়াইব আঃ এর মেয়ে বাসায় গিয়ে মুসা (আঃ) এর প্রশংসা করে) • মেয়ের বাবাদের উচিত তার সন্তানের পছন্দকে মূল্যায়ন করা আর গুরুত্ব দেয়া। • অর্থ কড়ি না থাকলেও ছেলে চরিত্রবান, দায়িত্ববান হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। (মুসা (আঃ) ঐ সময় মাদিয়ানে এসেছিলেন একটি খুনের পলাতক আসামী হিসেবে, তাঁর (আঃ) অর্থ, জামা কাপড় কিছুই ছিল না।) • বিয়ের প্রস্তাব মেয়ে পক্ষও পাঠাতে পারে। ( শোয়াইব আঃ এর মেয়ে তার বাবাকে বলেন মুসা (আঃ) কে কাজের জন্য বাসায় রেখে দিতে। শোয়াইব (আঃ) বুঝতে পেরেছেন তার মেয়ে কী বুঝাতে চেয়েছে আর শোয়াইব (আঃ) বিয়ের প্রস্তাব দেন মুসা (আঃ) কে) • বিয়ের পর মেয়েদের দায়িত্ব যেহেতু বাবা থেকে বরের কাছে হস্তান্তর হয়, তাই বিয়ের আগে সবচেয়ে বেশি কথা বলবে ছেলে আর মেয়ের বাবা। • কোন শর্ত দিয়েও বিয়ে করানো যায়। (মুসা (আঃ) কে ৮ বছর কাজ করার শর্ত দেয়া হয়েছিল।) আর সবশেষে— • ছেলেরাও শশুর বাড়ি থাকতে পারে 🙂 —Bayyinah.tv এর Story Night – Against all odd সিরিজ...

আমাদের সবার সাথে ক্বারিন আছে …

নোমান আলী খান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ – প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন ক্বারিন, একজন করে সহযোগী শয়তান বরাদ্দ করা আছে। তারা সারাক্ষনই তোমাদের কুমন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে। এর মানে কি আপনারা বুঝতে পারছেন? এটা কিন্তু টম এন্ড জেরি কার্টুনের মতো না যে এক কাঁধে ত্রিশূল হাতে শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে আর অন্য কাঁধে ফেরেশতা। এমন না কিন্তু। একটি শয়তান সবসময় থাকে। আপনি যা-ই দেখছেন, যা-ই করছেন, জীবনে যত অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন—তার কাজ হলো, এর প্রতিক্রিয়ায় আপনাকে দিয়ে সম্ভাব্য সর্ব নিকৃষ্ট কাজটি করানো।কেউ এসে আপনাকে সালাম জানালো। সে আপনাকে বলবে, “সে সালাম দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু ভেতরে ভেতরে তোমাকে ঘৃণা করে।”আপনিও বলেন, “হ্যাঁ আসলেই!” “হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমুস সালাম। হুহ” (একটু সন্দেহসহ আপনি জবাব দেন)ভালো কিছু দেখলেন, সেটার মধ্যে মন্দ কিছু খুঁজে দেখার ইচ্ছে করবে। আবার খারাপ কিছু দেখলেন। সে বলবে, “এটা অতোটা খারাপ না। এতো খারাপ না। দেখোই না! তুমি তো মাত্র একমাস আগেই উমরাহ করলে। অনেক সোয়াব কামিয়েছো। কোন সমস্যা নেই। আর রামাদান তো এক সপ্তাহ পরেই আসছে! এতো চিন্তা কীসের? আল্লাহ তো তোমাকে ক্ষমা করেই দিচ্ছেন।”আপনি ভাবছেন, “হ্যাঁ! আসলেই তো! আল্লাহ অনেক ক্ষমাশীল!” যেকোনো পরিস্থিতিতে পড়েন না কেন আপনি, একটি চিন্তা মাথায় আসে, “খারাপ কিন্তু অতো খারাপ না। তুমি ভালোই আছো।” আর ভালো জিনিস হলে বলে, “আরে! তুমি আসলেই তা করতে চাও?” কখনও কি এমন হয়েছে যে আপনি বিছানায় শুয়ে আছেন, এখনো ইশা পড়েননি। আর আপনার শরীর যেন চারগুণ ভারী হয়ে গেছে?সে বলে, “শুধু আর পাঁচটা মিনিট শুয়ে থাকো। তারপর উঠে নামায পড়ো। শুধু পাঁচ মিনিট!” আপনিও ভাবলেন, “হ্যাঁ আর মাত্র পাঁচ মিনিট। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটু সময় দরকার।”আর এমন হয় যে কিছু বোঝার আগেই… (ঘুম)এমন হয় কি না?এটাই...

অস্থির মনকে কী দিয়ে শান্ত করবেন?

— নোমান আলী খান মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো, আপনাদের কেউ কেউ হয়তো টেকি(প্রযুক্তিতে খুব আগ্রহী। তাই ডিফল্টের অর্থ বুঝবেন), অনেক মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো, অনেক মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো তাদের মাথায় সবসময় পাগলাটে কোনো চিন্তা-ভাবনার আনাগোনা চলতে থাকে। কিছু একটা সবসময় তাদের মাথায় থাকে, কখনোই এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আর তারা ভাবতে থাকে— কিভাবে এটা থেকে মুক্তি পাবো? এই চিন্তাটা কখনো কখনো খারাপ আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। খারাপ কাজের মাধ্যমে, উদ্বেগ, হতাশা…মাথা থেকে এটা কখনো যায় না। এখন, থেরাপিস্টরা বলবে, এটা একটা ব্যাধি। ঠিক কিনা? আর কুরআন বলছে- “ইন্নাল ইনসানা খুলিকা হালুউ’আ।” অর্থাৎ, “মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে খুবই অস্থির-মনা করে।” (৭০:১৯) তোমাদেরকে এমন করেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এটাই তোমার স্বাভাবিক অবস্থা। আরেকটা কথা বলি— মানুষের শরীরকে মেরু ভালুকের (পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে যাদের বাস। তুষারে ঢাকা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় যারা বাস করে।) শরীরের সাথে তুলনা করে দেখি। খুবই চমৎকার একটা উদাহরণ, তাই না? মানুষের শরীরের তুলনায় মেরু ভালুকের শরীর… আমাদের শরীরকে প্রকৃতিগতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়নি যে, আমরা প্রচন্ড ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে জামা-কাপড় ছাড়া বাঁচতে পারব। আমাদের শরীর নকশাগতভাবেই বৈরী প্রকৃতি মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। আর তাই নিজেদের রক্ষা করতে আমরা বিভিন্নরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি। কারণ, আমাদের চামড়া এবং রক্তের তাপমাত্রা যথেষ্ট নয়। আমরা মারা যাবো। তাই, জামা-কাপড় পরিধান করা শুধু দ্বীনের ব্যাপার নয়, বেঁচে থাকার জন্যেও এর প্রয়োজন। ঠিক একইভাবে, আমাদের মনকেও ইতিবাচকতার দিকে অনুকূল করে তৈরী করা হয়নি। ব্যাপারটা প্রাকৃতিক নয়। তাই, আপনার আমার মন মানসিকতাকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্যেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শেষে গিয়ে আল্লাহ এর প্রতিকার প্রদান করেন। তিনি বলেন— “ইল্লাল মুসল্লিন” মানুষ হালুউ(অস্থির-মনা), খারাপ কিছু ঘটলে তারা হয়ে যায় জাজুউ(অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত), আর ভালো কিছু ঘটলে তারা...

আল্লাহর কাছে যাওয়া পরিশ্রমের কাজ

আল্লাহর কাছাকাছি হওয়াটা একবারেই করে ফেলার কাজ না। এটা একটা প্রক্রিয়া। এটা এমন কিছু যার জন্য প্রত্যহ কাজ করে যেতে হবে। এখন, আপনি ইচ্ছে করলে দৈনিক ভিত্তিতে এই সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারেন অথবা ইচ্ছে করলে দৈনিক ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ক্ষতি সাধন করতে পারেন। একটি ভালো দিন…আপনি সকালে উঠে মসজিদে গেলেন। কিছু কুরআন তিলাওয়াত করলেন। অন্তর বিগলিত করে অকৃত্রিম কিছু দোয়া করলেন। কিছু খারাপ কাজ আপনার অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আজ সেগুলো থেকেও দূরে থাকলেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বললেন না। কোনোভাবে কারো কোনো ক্ষতি করলেন না। এভাবে যোহর পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। এখন, অনুভব করছেন আপনি আগের চেয়ে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি আছেন। অন্তরে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করছেন। নিজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এরপর… কেমন করে যেন মনোবল কমে গেল। ভাবলেন, আমার হাতে কিছুটা ফ্রি সময় আছে। মুভি বা কিছু একটা দেখে একটু বিনোদন করি এবং শুরু করলেন। এখন, আপনি আবার পিছিয়ে যাচ্ছেন। উন্নতি অর্জন করছিলেন কিন্তু এখন আবার নিচের দিকে নামা শুরু করলেন। এমনটা সবসময় ঘটে আসছে। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন। আমাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমরা এমনসব কাজে যুক্ত হয়ে পড়ি যা আমাদেরকে ধীরে ধীরে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর কদাচিৎ আমরা কিছু ভালো কাজ করি যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে। এখন, আপনি যদি অবিরত নীচের দিকে নামতে থাকেন, আর কালেভদ্রে একটুখানি উপরে উঠেন- আপনি কি তখন নিজের উন্নতি অনুভব করেন? না। তখন উন্নতি অনুভূত হয় না। ফলে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মধুরতা কখনো ফিল করেন না, তাই আপনি শুধু নিচের দিকেই নামতে থাকেন। এটি সর্পিল অবনতি। ব্যাপারটা ঠিক এমন, আপনি নিয়মিত জাঙ্ক ফুড আহার করেন, শরীরের স্থানে...

মু’জিযা

কুরআনের মু’জিযা – চাঁদ, সূর্য, লোহা

  <> চাঁদ-সূর্য <> ২৫ নাম্বার সূরা ফুরকানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন – تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُّنِيرًا (আয়াত ৬১) আকাশ এবং পৃথিবীতে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল্লাহ কথা বলেছেন। ”পূন্যময় তিনি যিনি আকাশে নক্ষত্ররাজি স্থাপন করেছেন।” তার পর বলছেন, ”আর আকাশে তিনি প্রদীপ স্থাপন করেছেন।” তিনি এই আয়াতে সূর্যকে প্রদীপ বলেছেন -সিরাজ। ‘’ও কামারাম মুনিরা।’’ ‘কামার’ অর্থ চাঁদ। কিন্তু এর পরের ‘মুনির’ শব্দটি আসলে বৈজ্ঞানিক। যদি আপনি এভাবে বলতে চান। মুনির শব্দের অর্থ যাকে আলো দেয়া হয়েছে। এমনকিছু যাতে প্রতিবিম্বিত আলো আছে। তাহলে দুটি শব্দ। একটি হলো সিরাজ, যা দ্বারা বুঝায় আলোর উৎস। আরেকটি(মুনির) হল আলোর গ্রাহক। যখন সূর্যের কথা আসলো তখন তিনি বললেন সিরাজ বা বাতি। আর যখন চাঁদের কথা আসলো তিনি বললেন- মুনির বা যার উপর আলো প্রতিবিম্বিত হয়। সুতরাং এমন এক সময় যখন এটা সবার জানা ছিল না তখন আল্লাহ বলছেন, চাঁদ নিজের আলো দিচ্ছে না। এখন আমরা সবাই জানি, চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। কিন্তু ১৫০০ বছর আগে এটা এতোটা সুস্পষ্ট ব্যাপার ছিল না। মনে হত এটা নিজের আলোই বিতরণ করছে। <> লোহা <> সুতরাং এই আয়াত বলছে- আমি লোহা প্রেরণ করেছি। এটা ৫৭ নাম্বার সূরা হাদিদে আছে। আল্লাহ এখানে বলেছেন আমি লোহা প্রেরণ করেছি। আল্লাহ কুরআনে বহু কিছু সৃষ্টি করার কথা বলেছেন। আর এর জন্য তিনি ‘খালাকা’ (সৃষ্টি করা) ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছেন। তিনি পৃথিবী এবং মহাকাশ সৃষ্টি করেছেন, তিনি জীবন মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যখন লোহার কথা আসলো তিনি বলেননি যে, তিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন এটা প্রেরণ করেছেন। অতীতের আলেমরা এই আয়াত ব্যাখ্যা করতে হিমশিম খেতেন যে কেন আল্লাহ প্রেরণ করা বললেন। কারণ আল্লাহর কথা খুবই স্পষ্টরূপে নির্দিষ্ট, এটা আমাদের বিশ্বাস।...

কুর’আনের মু’জিজা – বৃত্তাকার গঠন বিন্যাস

কুরআনের গঠন বিন্যাস একটি অন্যতম কারণ যার জন্যে মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে এটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ হতে পারে। আধুনিক গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে কুরআনের একটি বিশেষ গঠন বিন্যাস রয়েছে। এই বিন্যাসের নাম হল “বৃত্তাকার গঠন বিন্যাস”। এটির উদাহরণের জন্য আসুন আমরা কুরআনের দ্বিতীয় সুরাটি নিয়ে পর্যালোচনা করি। এর নাম হল “বাকারা” অর্থাৎ গাভী। এই সুরাটিতে মোট ২৮৬ টি আয়াত আছে। পুরো সুরাটিকে ৯ টি অংশে ভাগ করা যেতে পারে, বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে। প্রথম অংশের আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে বিশ্বাস এবং অবিশ্বাস নিয়ে। এই একি আলোচনার প্রতিফলন হয়েছে ৯ম অংশে। ২য় অংশে আলোচিত হয়েছে সৃষ্টি রহস্য এবং জ্ঞান নিয়ে, যার প্রতিফলন হয়েছে শেষ থেকে ২য় অর্থাৎ ৮ম অংশে। ৩য় অংশে আছে সেইসব আইন যা বনী ইসরাইলকে দেয়া হয়েছিল। যার প্রতিফলন হয়েছে ৭ম অংশে, যেখানে আছে মুসলিমদেরকে দেয়া আইনগুলো। ৪র্থ অংশে আছে ইব্রাহিম (আঃ) এর পরীক্ষাগুলো, যার প্রতিফলন হল মুসলিমদের জন্যও পরীক্ষা, যা হল ষষ্ঠ অংশের বিষয়। আর মাঝের অংশ অর্থাৎ ৫ম অংশটি হল পুরো সুরাটির মুখ্য আলোচনা, সালাতের কিবলার দিক পরিবর্তন। “এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে…. আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়।” (আল কুরআন ২:১৪৩) এই কিবলার পরিবর্তন, যা ছিল জেরুসালেম থেকে মক্কার দিকে, এটি ছিল আসলে বিশ্বাসীদের জন্যও এক বিরাট পরীক্ষা। আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর উল্লেখ আমরা দেখতে পাই সুরাটির ঠিক মধ্যম অংশে। ঠিক ১৪৩তম আয়াতে। আরও উল্লেখ্য হল এই আয়াতেই আছে ”মধ্যপন্থী সম্প্রদায়” শব্দটি। এই ৯ টি অংশ একসাথে একটি বিশাল বৃত্তাকার বিন্যাস গঠন করে। খুব সহজেই দেখা যাচ্ছে যেঁ এই বৃত্তাকার বিন্যাসটি হল একটি পূর্ণ বৃত্ত যার মূল অর্থটি...

সূরা ওয়াকিয়া এবং আর রাহমানের বিস্ময়কর মিল

সূরা ওয়াকিয়া এবং আর রাহমানের বিস্ময়কর মিলঃ উভয় সুরাতেই ৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। <> সূরা আর-রাহমানের বিষয়বস্তুগুলো হলো… ১। কুরআন; করুনাময় আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন কুর’আন। ২। আল্লাহর সৃষ্টি; যেমন সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমতো চলে এবং তৃণলতা ও বৃক্ষাদি সেজদারত অবস্থায় আছে। ৩। বিচার দিবস এবং অপরাধীদেরকে কীভাবে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে; (৩৭ নাম্বার আয়াত থেকে…)। ৪। জান্নাত; (৪৬ নং আয়াত থেকে… যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দুটি উদ্যান…)। এরা ঈমানদারদের সর্বশ্রেষ্ঠ দল নয়, বরং এরা শুধু আল্লাহকে ভয় করতো, তাই এরা দু’টি জান্নাত পাবে। ৫। জান্নাতের সুপার স্পেশাল ডিলাক্স প্যাকেজ (৬২ নাম্বার আয়াত থেকে…)। <> সূরা ওয়াকিয়ার বিষয়বস্তুগুলো হলো… ১। সাবিকুন (জান্নাতের এলিট গ্রুপ)। ২। আসহাবুল ইয়ামিন (তারা হবেন দ্বিতীয় শ্রেণীর জান্নাতী)। ৩। আসহাবুস শিমাল (বাম পাশের মানুষ, যারা হবেন জাহান্নামের অধিবাসী। ৪। আল্লাহর সৃষ্টি। এই পর্যায়ে আল্লাহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। যেমনঃ ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করি, না তোমরা মানুষ সৃষ্টি কর? আমি ফসল উৎপন্ন করি, না তোমরা উৎপন্ন কর? আমি আগুন সৃষ্টি করেছি, না তোমরা সৃষ্টি করেছ? আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, না তোমরা কর?’ এই প্রশ্নগুলোর মানে হলোঃ আল্লাহ মানুষকে বলছেন এই বিষয়ে চিন্তা করার জন্য যে আল্লাহ সৃষ্টি করেন, মানুষ সৃষ্টি করে না । মানুষের সৃষ্টি করার কোন ক্ষমতাই নেই। ৫। আল কুরআন, এই পর্যায়ে আল কুরআনের মাহাত্ম্য এবং বিস্ময়কর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর সূরার শেষে এই পাঁচটি বিষয়ের সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখুন, <> সূরা আর রাহমানের ১ নম্বর বিষয়বস্তু হলো আল কুরআন, আর সূরা ওয়াকিয়ার ৫ নম্বর বিষয়বস্তু হলো আল কুরআন। <> সূরা আর রাহমানের ২ নম্বর বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর সৃষ্টি, আর সূরা ওয়াকিয়ার ৪ নম্বর বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর সৃষ্টি। <>...

রাসূলুল্লাহ (স) এর কয়েকটি মু’জিযা

জড় পদার্থের মাধ্যমে যে সব মিরাকল ঘটেছে। রাসূল (স) এর যে সব মু’জিযা নিষ্প্রাণ কোনো বস্তুর মাধ্যমে ঘটেছে; পাথর, শিলা এরকম পদার্থের মাধ্যমে… এমন কিছু ঘটনা এখন আপনাদের নিকট উপস্থাপন করবো। এরকম অসংখ্য ঘটনার কথা বর্ণিত আছে। যেমন সহীহ বুখারীতে এসেছে – “রাসূল (স) বলেছেন, এখনো আমি এমন একটি পাথরকে শনাক্ত করতে পারি, যেটি নবুয়ত পাওয়ার পূর্বে মক্কায় অবস্থানকালে যখনই আমি এর পাশ দিয়ে গমন করতাম আমাকে সালাম জানাতো।” ইবনে মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন, একদা আমরা রাসূল (স) এর নিকট অবস্থানকালে শুনতে পেলাম যে, খাবার তাসবীহ পাঠ করছে। এটিও বুখারীতে বর্ণিত আছে। রাসূল (স) মুখে খাবার তুলছেন আর সেই খাবার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করছে। আরেকটি হাদিসে আবু যার আল গিফারী (রা) বর্ণনা করেন, আমি একবার একটি জমায়েতে আবু বকর, উমর, উসমান, আলীসহ অন্যান্য সাহাবাদের সঙ্গে ছিলাম। রাসূল (স) কিছু নুড়ি পাথর তাঁর হাতে নিলেন। আর আমরা সবাই শুনতে পেলাম যে, নুড়ি পাথরগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণকীর্তন করছে। রাসূল (স) পাথরগুলো আবু বকরের নিকট হস্তান্তর করলেন, আর তারা আবু বকরের হাতেও আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগলো। রাসূল (স) আবু বকরের হাত থেকে পাথরগুলো নিয়ে ওমরের হাতে দিলেন, জমায়েতের সবাই শুনতে পেল উমরের হাতে গিয়েও পাথরগুলো ‘সুবহানাল্লাহ’ তাসবীহ পাঠ করছে। তারপর রাসূল (স) ওমরের হাত থেকে পাথরগুলো নিয়ে উসমানের (রা) হাতে দিলেন, পাথরগুলো তখনও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলো। আর আমরা সবাই সেই তাসবীহ পাঠ শুনতে পেলাম। এরপর রাসূল (স) ঐ স্থান ত্যাগ করে চলে গেলেন। আমরা তখন পাথরগুলো হাতে নিলাম, কিন্তু কেউ আর কোনো আওয়াজ শুনতে পেলাম না। এই হাদীসটি তাবারানীর আল আওসাতে বর্ণিত আছে। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো -সুবহানাল্লাহ! রাসূল (স) নুড়ি পাথরগুলো হাতে তুলে নিলেন আর শুনতে পেলেন সেই পাথরগুলো আল্লাহর প্রশংসা করছে। পাথরগুলো ইতিমধ্যে আল্লাহর প্রশংসা করছে, তিনি সেগুলো...

অন্তর এবং বুদ্ধির সম্পর্ক

আমাদের ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ হলো অন্তর এবং বুদ্ধির সম্পর্ক। যখন আল্লাহ বলেন – ‘লাআল্লাকুম তা’কিলুন’, যেন তোমরা চিন্তা করতে পারো’… তিনি এখানে ‘আকল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আকল’ এর অবস্থান আপনার মস্তিষ্কে। আরবিতে ‘আকালা’ শব্দের অর্থ হলো – বুঝতে পারা। এর আরেকটি অর্থ হলো – কোনো কিছু বাঁধা। তাহলে ‘আকালা’ দ্বারা দুইটি বিষয় বোঝায় – বুঝতে পারা এবং কোনো কিছুকে শৃঙ্খলিত করা। যখন আমরা কোনো কারণে মানসিকভাবে অভিভূত হয়ে পড়ি, আমরা ভালোভাবে চিন্তা করতে পারি না। যদি আপনি অতিমাত্রায় রাগান্বিত হয়ে পড়েন, আপনি চিন্তা ভাবনা ছাড়াই অনেক কিছু বলে ফেলেন। যদি কোনো কিছুতে চরম খুশি হয়ে পড়েন, তাহলেও চিন্তা ভাবনা ছাড়া কিছু একটা করে ফেলেন। যদি অতিশয় দুঃখিত হয়ে পড়েন, তখনও চিন্তা ভাবনা ছাড়া কাজ করে ফেলেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে কখনো কখনো আবেগ আপনাকে সঠিকভাবে চিন্তা ভাবনা করতে বিরত রাখে। এখন, আকল এর কাজ হলো আপনার আবেগকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেন আপনি সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারেন। তাই, আকল অর্থ শুধু বুঝতে পারা নয়, এর অর্থ হলো – প্রথমে আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তারপর বুঝতে পারা। ঘৃণা, রাগ, ভয় এ ধরণের মানবীয় আবেগের প্রভাবমুক্ত হয়ে চিন্তা ভাবনা করতে পারার নামই হলো আকল। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি যদি কাউকে ঘৃণা করেন সে সঠিক কথা বললেও আপনি তা মানতে চান না। বনী ইসরাইলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের নিকট সকল প্রমান উপস্থাপন করা সত্ত্বেও তারা রাসূল (স) কে মেনে নিচ্ছিলো না। কারণ তাদের অন্তর তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। অহংকার তাদের ‘কলব বা অন্তর’ ঢেকে ফেলেছিলো। তাই তাদের বুদ্ধি সকল প্রমান দেখা সত্ত্বেও রাসূল (স) কে স্বীকার করেনি। “দেখো দেখো তাওরাতেও এ সম্পর্কে বলা হয়েছে…আর কুরআনে বলা হয়েছে ‘মুসাদ্দিকুল লিমা মা’আকুম, এটা তোমাদের নিকট যা নাজিল হয়েছিল তার সত্যতার সাক্ষী দিচ্ছে।’ না, আমি...

ইমেইলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকুন



Created by Webfish.

Facebook Like

সাথেই থাকুন

 

<—-Facebook & YouTube —->

Youtube Subscriber

(Visited 99,705 times, 3 visits today)