Articles |
– নোমান আলী খান আজ আমি আপনাদের সাথে আমাদের প্রিয় নবী (স) সম্পর্কে কিছু কথা এবং আমাদের সাথে তাঁর সম্পর্কের স্বরূপ কেমন হওয়া উচিত তার উপর আলোকপাত করতে চাই। আলোচনার প্রথম দিকে আপনাদের কাছে হয়তো এমনটি মনে হবে না। কিন্তু শেষের দিকে গেলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে উঠবে যে আমি এ বিষয় নিয়েই কথা বলতে চেয়েছি। আমার নিজের জন্যেও, কুরআনে আমি যা কিছু অধ্যয়ন করেছি এটা সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষা। এবং আমি এই শিক্ষা দ্বারা খুবই প্রভাবিত হয়েছি। আমি দোয়া করছি, এই সূরা থেকে যা কিছু আমি অধ্যয়ন করেছি এবং যে সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পেরেছি তার কিছু কিছু যেন আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি। এই পাঠটি সূরা ইয়াসিনের অন্তর্গত। কুরআনের ছত্রিশ তম সূরা। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই সূরায় নবীদের অনন্যসাধারণ একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। সাধারণত দেখা যায় আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা একটি অঞ্চলের জন্য একজন রাসূল প্রেরণ করেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন – إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ – আল্লাহ তাদের জন্য দুইজন রাসূল প্রেরণ করেন।(36:14) فَكَذَّبُوهُمَا – আর সেই জাতি উভয় রাসূলকেই অস্বীকার করে। فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ – “তখন আমি তাদেরকে শক্তিশালী করলাম তৃতীয় একজনের মাধ্যমে।” তাই দেখা যাচ্ছে, এই জাতির ঘটনা অন্য সব জাতির তুলনায় অনন্যসাধারণ। কারণ তিনজন রাসূল একই সময়ে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন। এই রাসূলদের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল…। আলোচনা চালিয়ে যাবার পূর্বে আরেকটি ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। মূসা (আ) কে – কুরআনে বর্ণিত সবচেয়ে ভয়ংকর ভিলেনদের একজন – ফেরাউনের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। আর এই কাজে তিনি কার সাহায্য চান? হারুন (আ) এর। তাহলে তাঁরা ছিলেন দুইজন। এমনকি এই ক্ষেত্রেও আপনি যদি ভালভাবে কুরআন অধ্যয়ন করেন তাহলে দেখবেন, সব কথা মূসা (আ) বলেছিলেন, হারুন (আ) নীরব ছিলেন। সব কাজ মূসা (আ) করেছিলেন। হারুন...
Articles |
— নোমান আলী খান আজ আমি আপনাদের সাথে আল্লাহর একটি নাম নিয়ে আলোচনা করবো যা কুরআনে বহু বার এসেছে। আর সে নামটি হল: আল-আলীম, যিনি সবকিছু জানেন। আল্লাহ কুরআনে বার বার উল্লেখ করেছেন – তিনি সবকিছু জানেন। “وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ” – যে আয়াতটির উদাহরণ দিয়ে আমি আলোচনা শুরু করতে চাই তা হল, কুরআনের ৬৪ তম সূরা, সূরা আত-তাগাবুনের একটি আয়াত। তিনি বলেন – يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ – “নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা আছে, তিনি তা জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা যা গোপনে কর এবং যা প্রকাশ্যে কর।” তাহলে আপনি যা সবার অগোচরে করেন আর যা সবার সম্মুখে করেন – আল্লাহ তার সবই জানেন। وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ – “এছাড়াও আল্লাহ অন্তরের অবস্থা সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।” মানুষের মনের মাঝে যা লুকিয়ে আছে তার প্রকৃতি এবং আসল অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ সবসময় পুরোপুরি জানেন। এটি অসাধারণ একটি আয়াত। নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই আয়াত থেকে স্পষ্টত যা বুঝা যায় তার বাহিরে গিয়ে চিন্তা করুন। আমরা জানি, আল্লাহ সবকিছু জানেন। আমরা জানি, আমাদের বাহ্যিক ব্যাপারগুলো আল্লাহ যেমন জানেন তেমনি তিনি আমাদের গোপন ব্যাপারগুলোও জানেন। আমরা জানি, আল্লাহ সাত আসমানের সবকিছু জানেন। চলুন, এর থেকে কিছু বিষয় সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে দেখি। আল্লাহ কিভাবে আমাদের নিকট তুলে ধরেন যে, আল্লাহ যা জানেন তা কোনদিনও কোনভাবেই আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আল্লাহর নামের মর্ম উপলব্ধি করার একটি সর্বোত্তম পন্থা হল আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারা। তারপর তুলনা করলে বুঝতে পারব আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার ক্ষমতা কতটা ব্যাপক আর আমরা কতটা তুচ্ছ এবং অক্ষম বান্দা। চলুন, ইতিহাসের জ্ঞান দিয়ে শুরু করা যাক। কখন কোন যুদ্ধ হয়েছে, কোন রাজা জয়লাভ করেছে, কোন জাতির উপর বিজয়ী হয়েছে, একটি রাজবংশ...
Articles |
কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। (বাকারা – ২৮) এই আয়াতটি খুবই গভীর দার্শনিক অর্থ বহন করে। এই আয়াত সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে। যে মতামতগুলো আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে সেগুলো এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আমি মরহুম ইসরার আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই আয়াত থেকে সবচেয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। তিনি ১৯৮৬ সালে এই আয়াত নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। ভারত পাকিস্তানের বহু আলেম তার এই প্রবন্ধের প্রশংসা করেন। আমি এখন আপনাদের নিকট তার একটি সারমর্ম তুলে ধরবো। কারণ আমি মনে করি এটি অনেক মূল্যবান। আল্লাহ আজ্জা বলেন, كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا – কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। প্রথম পর্যায় – وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا তোমরা মৃত ছিলে। দ্বিতীয় পর্যায় – فَأَحْيَاكُمْ অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। ৩য় পর্যায় – ثُمَّ يُمِيتُكُمْ তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করবেন; ৪র্থ পর্যায় – ثُمَّ يُحْيِيكُمْ তারপর তিনি তোমাদের আবার জীবিত করবেন। প্রথম পর্যায়টা কী ছিল? তোমরা মৃত ছিলে। আমাদেরকে প্রথম যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হলো – মৃত আর অস্তিত্ব না থাকা একই বিষয় নয়। যেমন, মৃত কাউকে কফিনে রাখা হয়েছে এবং তার জানাজা হচ্ছে – এর মানে এই নয় যে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় মৃত বলতে এমন কাউকে বোঝায় যার পূর্বে জীবন ছিল। সুতরাং এই আয়াতে মনে হয় যেন একটি ইঙ্গিত রয়েছে…(আমরা একটু পর আবার এ বিষয়ে আলোচনা করবো, তার পূর্বে কিছু বিষয় বুঝে নেয়া জরুরি) কুরআন এবং রাসূল (স) এর সুন্নায় – মৃত্যুকে ঘুমের কাছাকাছি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যু এবং ঘুম একে অন্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ঘুমাতে যাওয়ার সময় আমরা কী পড়ি? ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু...
Articles |
—নোমান আলী খান। ইব্রাহিম (আ) আল্লাহর নিকট দুআ করেন- رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ – ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি এ শহরকে নিরাপদস্থল করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান আনে, তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান করুন’। (২:১২৬) এই উম্মাহর ভবিষ্যতের জন্য ইব্রাহিম (আ) এর মূল উদ্বেগ ছিল— নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি। উম্মাহর নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি নিয়েই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে। যারা আল্লাহ এবং শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করে তাদের জন্য তিনি এটাই চেয়েছেন। আমাদেরকে এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ধর্ম এই দুনিয়াতে আপনার জীবনকে সৌন্দর্যময় করে তোলে, একই সাথে এটা আপনাকে এমন এক আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করে যা আরো সৌন্দর্যময়। এটা যেমন আপনাকে দুনিয়ার সামগ্রীর জন্য অতিরিক্ত ভোগ বিলাসী করে তোলে না, একই সাথে এটা আপনার জীবনকে দুর্দশাগ্রস্তও করে তোলে না। আল্লাহ আপনাকে এই দুনিয়াতে সুখী করতে চান এবং পরকালেও তিনি আপনাকে সুখী করতে চান। আল্লাহ বলেন, وَ جَعَلۡنَا لَکُمۡ فِیۡهَا مَعَایِشَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ – “তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।” (৭:১০) তিনি এই পৃথিবীতে এমন সব উপকরণ রেখেছেন যা ব্যবহার করে তোমরা ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। এমনকি আমরা যখন জান্নাতের কথা বলি, তিনি জান্নাতের কোন কোন নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন? গাছপালা, বাগান, ঝর্ণাধারা, সম্পদ, সুন্দর জামাকাপড়, অলংকার, সুন্দর স্বামী স্ত্রী। যদি এগুলোর কোনোটার কোনো আনন্দ এই দুনিয়াতে উপভোগ না করতেন তাহলে কোনোদিন কি জান্নাতের গুলোর জন্য আকৃষ্ট হতেন? কল্পনা করুন, এই দুনিয়াতে কোনো গাছ নেই। আল্লাহ যখন বলেন— জাওয়াতা আফনান (উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট) , মুদহাম্মাতান (কালোমত ঘন সবুজ)। আপনি তখন বুঝতেন? এগুলো কী? আল্লাহ যদি এই দুনিয়াতে আমাদেরকে ঝর্ণাধারা না দেখাতেন এবং কুরআনে বলতেন,...
Articles |
–উস্তাদ নোমান আলী খান। আল্লাহ বলেন – فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِ – ” মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।” আল্লাহ এখানে বলছেন তিনি মানুষকে সম্মান এবং অনুগ্রহ প্রদান করার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। এখানে তিনি ‘আনআমাহু’ বলেন নি, তিনি বলেছেন – نَعَّمَهُ অর্থাৎ তিনি বার বার দিতে থাকেন। তিনি তার জীবনকে ক্রমান্বয়ে উন্নত করতে থাকেন… ফলে আপনি দেখতে পান সমাজে হঠাৎ করেই তার সম্মান বেড়ে যায়। কারো কারো ভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জন করলে সম্মান বেড়ে যায়। আবার কেউ ভালো কোন চাকরি পেলেও সমাজে তার সম্মান বেড়ে যায়। এখন প্রশ্ন হল কেউ সম্মান অর্জন করার পর যদি বলে, “আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন” তাহলে এখানে সমস্যা কোথায়? কিন্তু এই আয়াতে এই কথাটি সমালোচনামূলক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে সমালোচনাটি হলো, “আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন” এই কথা বলে আপনি থেমে যেতে পারেন না। আপনাকে বলতে হবে আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন, আর এই সম্মানিত করার মাধ্যমে তিনি আমাকে পরীক্ষা করছেন। আয়াতের ভাষা ছিল, ” যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন।” আর সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি তাকে সম্মান দান করেন এবং অবিরাম নেয়ামত দান করতে থাকেন। এখন বান্দা কীভাবে সাড়া দেয়? বান্দা শুধু নিজের উন্নতিই দেখতে পায়। আল্লাহ যে তাকে পরীক্ষাও করছেন সেই ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে সে ব্যর্থ হয়। এখানে পার্থক্যটা কোথায়? আপনি যদি এটাকে আপনার প্রতি আল্লাহর সম্মান ও অনুগ্রহ মনে করেন এবং পরীক্ষা মনে না করেন তাহলে আপনি ভাববেন – “আল্লাহর কাছে আমি মনে হয় অনেক ভালো তাই তিনি আমাকে এতোসব নেয়ামত দান করছেন। আল্লাহ আমাকে সম্মান দান করেছেন কারণ আমি নিশ্চয়ই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ অনেক ভালো।” জীবনে...
Articles |
— নোমান আলী খান। মানুষের মাঝে যাদের সবচেয়ে পরিপক্ক ঈমান রয়েছে কুরআনে তাদের জন্য একটি পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, আর তা হলো – উলুল আলবাব বা সবচেয়ে পরিশুদ্ধ বুদ্ধির মানুষ। আল্লাহ এই মানুষদের কথা সূরা আলে-ইমরানে বলেছেন – إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ – “নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত্র ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের (উলুল আলবাবদের) জন্য বহু নিদর্শন আছে।” (৩:১৯০) তারা ঈমানের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানে এবং ঈমানের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে এক ধরণের পরিপক্কতায় পৌঁছে গিয়েছে, এমনকি কুরআনের সংস্পর্শে আসার পূর্বেই। সবচেয়ে পরিণত ঈমানের মানুষেরা ঐশী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাওয়ার পূর্বেই নিজেদের ভেতর বিশ্বাসের ভিত গড়ে তুলেছিলেন। চলুন দেখি, কীভাবে? আল্লাহ বলেন – “ইন্না ফিই খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলী ওয়ান নাহারি…” নিশ্চয়ই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে এবং রাত্র ও দিনের আবর্তনে “লাআ-ইয়াতিন” অলোকিক নিদর্শন রয়েছে, শুধু একটা নয়, বহু বহু নিদর্শন রয়েছে এর প্রত্যেকটাতে। রাতের মাঝে অনেক শিক্ষা আছে, দিনের মাঝে অনেক শিক্ষা আছে, আকাশের মাঝে অনেক শিক্ষা আছে, পৃথিবীর মাঝেও অনেক শিক্ষা আছে। এর প্রত্যেকের মাঝে রয়েছে অনেক অনেক শিক্ষা। কার জন্য? উলুল আলবাব-দের জন্য। সবচেয়ে পরিশুদ্ধ বুদ্ধির মানুষদের জন্য, খাঁটি বুদ্ধিমত্তার অধিকারী মানুষদের জন্য। এখন, খাঁটি বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা কী? আল্লাহ কিভাবে খাঁটি বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন? তিনি পরবর্তী আয়াতে “উলুল আলবাব-দের” পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন – الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ – যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা-গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে…. তাহলে উলুল আলবাবদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, যারা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল, “ওয়া ইয়াতা ফাক্কারুনা ফিই খালিকস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ” এবং তারা আকাশ ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে। তাহলে এখন দেখুন…...