Articles |
এটি নুমান আলী খানের লেকচারের বাংলা অনুবাদ ইনশাআল্লাহ আজকে আমি কুরআনের ১৪ নম্বর সুরা সম্পর্কে আলোচনা করব। এটি হল সুরা ইব্রাহিম। কুরআনে যে জাতি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বলা আছে, যা থেকে মুসলমানরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তা হল মুসা (আ) এবং তার জাতি বনী ইসরাইল। কুরআনে ৭৫ এর বেশি জায়গায় মুসা (আ) এবং তার জাতির কথা আলোচনা করা হয়েছে। তাদের কথা শুধু নবী (সা) মদিনাতে হিজরত করার পরে বলা হয়নি, কারণ এই সুরাটি একটি মাক্কি সুরা। মুসা (আ) এবং তার জাতির উদাহরন দেওয়া হয়েছে একদম প্রথম দিকের মুসলমানদেরকে। এমনকি তাদের কথা আমাদের নবী (সা) এর জন্যও উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছে, যা থেকে তিনি নিজেও শিক্ষা নিয়েছেন। এই সুরাটি শুরু হয়েছে- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ “এটি একটি অসাধারন গ্রন্থ, যা আমি আপনার (মানে নবী(সা) এর) প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। তারা বিভিন্ন গভীরতার অন্ধকারের মধ্যে ডুবে আছে, তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হচ্ছে আপনার দায়িত্ব। এই হল আপনার কাজ”। এর কিছু আয়াত পরে আরও বলা হয়েছে যে মুসা (আ) কেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا “আমি মূসাকে নিদর্শনাবলী সহ প্রেরণ করেছিলাম” أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ “যাতে করে আপনি আপনার জাতিকে বিভিন্ন গভীরতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসেন”। সুতরাং নবী (সা) কে শুরুতেই আল্লাহ বলছেন যে মুসা (আ) কেও ঠিক একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল – তাই আপনি দেখুন সে তার জাতিকে কি বলেছিল। আপনি কেননা সেদিকে মন দেন যাতে করে আপনি শিখতে পারেন আপনি আপনার জাতিকে কি বলবেন। এভাবেই আল্লাহ আমাদেরকে এবং তার শেষ নবীকে (সা) শেখাচ্ছেন। যাহোক, কুরআনে বনী ইসরাইলিদের অনেক ধরনের গল্প রয়েছে। কুরআনে আমরা বনী ইসরাইলিদের সম্পর্কে...
Articles |
লেখাটি পড়ার আগে নিচের ছবিটি নিয়ে একটু ভাবুন। এরপর পড়ুন 🙂 আমার একটা বন্ধু ছিলো যাকে আমি আমার গাইড মনে করতাম। আমরা একবার রাস্তায় হাঁটছিলাম। আমরা রাস্তায় হাঁটছিলাম, ম্যানহাটেন নিউইয়র্ক শহরে। সে হঠাৎ করে আমার হাত ধরল। সে প্রায়ই এইরকম অদ্ভুত কাজকর্ম করে। সে আমাকে বলল, “তোমার চারপাশ দেখ।” আমি চারদিকে তাকালাম। এরপর একটু বিভ্রান্ত মনে বললাম, “দেখলাম।” সে বলল, “এইবার নিচে ঐটা দেখ।” আমি দেখলাম কংক্রিটের মাঝে একটা চারাগাছ বেরিয়ে আছে। ও বলল, তুমি জানো, আমাদের আশপাশে এখন যা কিছু আছে, এই একটি মাত্র জিনিসই প্রাকৃতিক এবং এরপরও এই একটি জিনিসকেই মনে হচ্ছে বেঠিক জায়গায় আছে। এই চারাগাছকেই সবচেয়ে অসামঞ্জস্য মনে হচ্ছে এই জায়গায়, তাই না? আমি বললাম, “হুম ঠিক আছে, তো?” অথচ এটিই একমাত্র প্রাকৃতিক আর সবচেয়ে স্বাভাবিক জিনিস এখানে। এটা ঠিক মুসলিমদের মতো। এটা একেবারে ইসলামের মতো। আমরা মুসলিমরা হচ্ছি খুবই স্বাভাবিক। আমরা হচ্ছি ফিতরা সম্পন্ন মানুষ। এই কুর’আন, এর শিক্ষা সবই স্বাভাবিক আর প্রাকৃতিক। অথচ, আমাদেরকে সমাজে সবচেয়ে অসামঞ্জস্য মনে করা হয়। আমি হতভম্ব হয়ে একটু পিছিয়ে গিয়ে বললাম, “ওওও, বন্ধু তুমি আসলেই চিন্তাশীল।” আমার ঐ বন্ধুর সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার কী জানেন? আমি যতবারই তাকে দেখেছি, ততবারই তার হাতে কুর’আন দেখেছি। আমি যতবারই কোন বিষয় নিয়ে কথা বলি উনার সাথে, সে সাথে সাথে প্রতিউত্তর না দিয়ে একটু চিন্তা করে বলে, আচ্ছা একটা আয়াত আছে কুরআনে এই ব্যাপারে। এরপর সে কথা শুরু করে। সে যেন কুরআনের চশমা পড়ে আছে। যাই কিছু দেখে কুরআনের দৃষ্টিতে দেখে আর চিন্তা করে। বিস্ময়কর! একেই বলে চিন্তা করা। আমাদেরকেও এরকম চিন্তাশীল হতে হবে। এইভাবে কুর’আনের চশমা পড়লে আপনি সবকিছুতেই পদনির্দেশনা পাবেন। —– Quran Cover to Cover সিরিজে সুরা বাকারার ১৬৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় উস্তাদ নুমান আলী...
Articles |
গুনাহ আমাদের সকলেই হয় কিন্তু আমাদের ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ হবে গুনাহের পর আমরা কী আচরণ করবো। ইবলিস আর আদম (আঃ) দু’জনই ভুল করেছিল। ভুলের পর দু’জনের আচরণ কেমন ছিল? ইবলিস ভুল করার পর ভুল স্বীকার না করে যুক্তি তর্ক দিয়ে তার কাজটি (সিজদা না করা) যে ঠিক ছিল তা প্রমাণ করার চেষ্টায় মেতে উঠেছিল। অপর দিকে আদম (আঃ) ভুল করার পর ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমার দরখাস্ত করলেন। এরপর? ভুল স্বীকার করে আদম (আঃ) হলেন নবী আর ভুল স্বীকার না করে ইবলিস হয়ে গেল শয়তান। এই কাহিনী কুরআনে এতবার এসেছে যে আপনি যদি দৈনিক এক পারা করে কুরআন পাঠ করেন প্রতি ৩ দিনে এই কাহিনী পাবেন। আর ৩ দিনের মধ্যে আমাদের কোনো না কোনো ভুল বা গুনাহ হতেই পারে। এই কাহিনী আমাদের স্মরণ করিয়ে দিবে গুনাহের পর আমাদের কী ধরণের আচরণ করতে হবে। এখন ব্যাপারটা আমাদের হাতে। ভুল করার পর আমরা যুক্তি-তর্ক দিয়ে আমাদের ভুলটা প্রতিষ্ঠা করবো না ভুল স্বীকার করে আমরা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাব? — উস্তাদ নুমান আলী খানের How to Extract Guidance from Al-Qur’an এর আলোচনা থেকে...
Articles |
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম [উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে অনুবাদ। এই বক্তব্যটি যদিও আমেরিকার প্রেক্ষাপটে দেয়া তবে বিশ্বায়নের এই যুগে সবার জন্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।] আমাদের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে প্রথম চিন্তার বিষয় হলো তারা কথা বলার জন্য মানুষ খুঁজে পায়না। এটা তাদের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। আপনার সন্তানকে আপনি স্কুলে পাঠান; ধরে নিই তারা পাবলিক স্কুলে যায়। অধিকাংশ মুসলিম অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পাবলিক স্কুলে পাঠিয়ে থাকেন, কারণ যেকোনো কারণেই হোক তাদের সন্তানদেরকে ইসলামিক স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য বা সুযোগ হয়ে ওঠেনা। এজন্য আমরা তাদের দোষারোপ করব না। এটা তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণ। তো আপনি সন্তানদের পাবলিক স্কুলে ভর্তি করান; ক্লাস ফাইভ-সিক্সে উঠতে উঠতেই তারা এ দেশে বিভিন্ন নোংরা শব্দ শিখে ফেলে; আপনি যে শহরেরই হন না কেন। তারা খুব জঘন্য ভাষা আয়ত্ত করে ফেলে; তারা কিছু বাজে ওয়েবসাইটে ঢোকা শিখে যায়; তারা তাদের পিএসপি, আইপড, আইফোনে বিভিন্ন নোংরা জিনিষ ডাউনলোড করা শেখে। তারা কম বয়সেই এসবে পারদর্শী হয়ে যায়। যেসব জিনিস আপনি ২৫ বছর বয়সেও শেখেননি সেগুলো তারা ১২ বছর বয়সেই জানতে পারে। এটাই বাস্তবতা। এগুলোই এখন হচ্ছে। এখানে কোন কোন অভিভাবক জানেন যে ফেসবুক কী? একটু হাত দেখান প্লিজ। আচ্ছা, টুইটার কী জিনিস কেউ বলতে পারবেন? (its not when your eye bugs out, something else) তো আপনার সন্তান এসব সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে যায়, যেখানে অচেনা শিকারিরা আপনার কিশোর মেয়ে বা ছেলের সাথে কথা বলতে পারে। একসময় তারা সম্পর্কে জড়িয়ে যায় আর একে অপরের সাথে দেখাও করে। এরপর বিভিন্ন কিছু ঘটে যায়। এটা বর্তমানে আমাদের মুসলিম ছেলেমেয়েদের বাস্তবতা। এগুলোই ঘটছে। এসবের ব্যাপারে আমাদের চোখ বুজে থাকলে হবেনা, আমাদের চোখ খুলতে হবে। আপনি হয়তো বলতে পারেন, “না না, আমার সন্তানরা এমন না।” প্লিজ জেগে উঠুন! বড় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার আগে এসব ব্যাপারে...
Articles |
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম [উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে…] প্রথম কথা হল হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। মন্দ কাজ থেকে বিরত হবার আগ পর্যন্ত ভালো কথা বলতে যেও না। কারণ তুমি শরীরের ক্ষতস্থানে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় ঔষধ দিলে সেটা ফলপ্রসু হবে না আর মন্দ কাজ বা পাপ থেকে বিরত না হয়ে ভালো কথা বললেও সেটা ফলপ্রসু বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তোমাকে আনন্দের মধ্য দিয়ে যে বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছ তা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুভি দেখা বাদ দিতে হবে, রাস্তায় চলমান অবস্থায় চক্ষুকে অবণত করতে হবে-কারণ নারীর প্রতি তোমার প্রত্যেকটা চাহনির সাথে তোমার মানবিক গুনকে নষ্ট করে ফেলছ। তুমি একজন নারীর দিকে এমনভাবে তাকাও যেন সে একটা খাবারের টুকরা, যেন সে একটা প্রাণী- আর এটাই প্রমাণ করে যে তুমি একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অবস্থানমূলক সম্মানের জায়গাকে অপমানিত করছ। এটাই প্রমাণিত করে যে তুমি নিজেই এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছ। সুতরাং চারিত্রিক উন্নতি করতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে সেই মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তারপর তোমার জীবনকে ভালো কাজ দিয়ে সুশোভিত কর, তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। নিজেকে ভালো করে গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে থাকো – যেমন , সুন্দর ও পারফেকটভাবে সালাত আদায় কর, কিছু প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্ত করা, কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা, পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া। আর এগুলো তেমন কিন্তু তেমন কঠিন কাজ নয় – চাইলেই পারো। আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে এইগুলোই প্রত্যাশা করেন। কেউ প্রশ্ন করতে পারে আল্লাহ কেন আমাদের কাছে এগুলো প্রত্যাশা করেন, এগুলো কি তাঁর কোন উপকারে আসে? এর উত্তরে বলা যায়- আমরা জানি আল্লাহর একটি নাম হল “গনী” যার অর্থ যিনি ধনী, এমন ধনী যে যার আর কোন কিছুরই দরকার নেই কারো কাছে। অর্থাৎ চূড়্রান্ত ধনী। তাহলে কি...
Articles |
কোরআন কেন মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না – ১ম পর্ব পি.এইচ.ডি ছাত্রদের প্রধান উপদেষ্টাঃ সন্দেহ থেকে একনিষ্ঠ দৃঢ় বিশ্বাসের পথে যাত্রা তিনি প্রচন্ড মেধাবী ও ধীশক্তিসম্পন্ন সৃষ্টিশীল ছিলেন। যুবক বয়সে দর্শন (ফিলোসফি) পড়ে প্রভাবিত হন এবং “সকল ধর্ম মনুষ্য-সৃষ্টি” – এই উপসংহারে প্রতিজ্ঞ হন। তার ভাবনা ছিল কেবল কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষরাই স্বর্গ ও নরকে বিশ্বাস করে আর এভাবে তিনি ধর্মে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। তিনি মনে করতে থাকেন তার আশেপাশের অনেক লোকই ধর্মে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে কিন্তু উচ্চারণ করতে ভয় পাচ্ছে। তিনি মনে করেন তারা ধর্মকে চর্চা করে, কারণ এটা পরিবারে চর্চিত হয় এবং তারা এটা নিয়ে চিন্তাও করে না। পরবর্তীতে তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান সেখানে সেকুলার পরিবেশ থাকার কারণে তার অবিশ্বাসের কথা প্রকাশ করেন। ইরাক মুসলিম দেশ হলেও সেখানকার ভার্সিটিগুলো খুবই লিবারেল এবং সেকুলার প্রকৃতির আর সেকারণে সবাই স্বাধীনচেতা হিসেবে থাকত। কিন্তু তিনি চিন্তাশীল ব্যক্তি ছিলেন আর সেজন্য ধর্ম সত্য হতে পারে এরকম একটা “সম্ভাবনা” রাখতেন। “কমপক্ষে সম্ভাবনা থাকতে পারে যে ধর্ম সত্য হতে পারে”, ‘সম্ভাবনা’-কে তো আর প্রত্যাখ্যান করা যায় না। আর সেজন্য তিনি কিছু নোট লিখতে শুরু করেন যেগুলো “ধর্মের পক্ষে” এবং “ধর্মের বিপক্ষে” ছিল। তার সম্মুখে প্রাথমিকভাবে দু’টি উপায়ন্তর রাখেনঃ ১. এটা কি সত্য? ২. নাকি সত্য নয়? কিন্তু দ্বিতীয় ধরণের প্রশ্নও ছিল তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৩. যদি এটা সত্য হয় তবে কী? (তাহলে আমার জীবন কেমন হবে?) ৪. আর যদি সত্য না হয় তবে কী? (তাহলে আমার জীবন কেমন হবে?) বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রথম ধরণের প্রশ্নের কোন প্রধানতম কারণ থাকে না। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় আমি যদি ধর্মগ্রহণ করি অথবা না করি তবে “আমার জীবন কেমন হবে?” বেশিরভাগ মানুষ ধর্মে থাকে কারণ তার পরিবার কষ্ট পাবে যদি ধর্মত্যাগের কথা শুনে। তাই...