আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের পুরস্কার (৪র্থ পর্ব)

কিন্তু কিছু মানুষের জন্য যাদের ঈমানের অবস্থা একেবারে নড়বড়ে, যখন সময় কঠিন হয়ে যায়…وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَىٰ وَجْهِهِ এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তখন মুখ ঘুরিয়ে নেয়।’’ তার মানে কী? তার মানে, আমি আল্লাহর কাছে কিছু চাই না, কিভাবে তিনি আমাকে ছেড়ে গেলেন? কেন তিনি আমাকে বিপদে ফেললেন? কেন তিনি আমার সাথে এমন করলেন? আমাদের সময়ে এটা উপলব্ধি করা খুবই সহজ। আমরা অস্বাভাবিক এক ভোগবাদী সমাজে বসবাস করি যেখানে সব কিছু, সহজলভ্য এবং দ্রুত লাভ করা যায়। বিনোদিত হতে চান? ফোনে একটা app খুললেই হবে। কিছু কিনতে চান? জাস্ট Amazon থেকে অর্ডার করুন, এটা আপনার ঘরে পৌঁছে যাবে। সবকিছুই কষ্ট ছাড়া পাওয়া যায় এবং সবকিছুই সাথে সাথেই পাওয়া যায়। আপনি কিছু চাইছেন? আপনাকে তার কাছে যেতে হবে না, সেটাই আপনার কাছে আসবে। সবকিছুই দ্রুত হয়। আমাদের এখন আপ্যায়িত হওয়ার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। আপনার একটা অর্ডার যদি দুই থেকে তিনদিন দিনের জন্য দেরি হয় তবে আপনি তাকে 1 star, 2 Star, thumbs down, খারাপ রেটিং দিচ্ছেন। আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এমতাবস্থায়, আপনি যখন আল্লাহ কাছে দোয়া করছেন এবং আপনার সমস্যাগুলোর সমাধান চাইছেন। আপনার সবকিছু দ্রুত এবং তড়িৎ করা দরকার। যখন এটা হয় না তখন আপনি বলেন, বাজে সার্ভিস এবং আমার আরো ভালো ভোক্তা অধিকার চাই। আপনার ভাবখানা তখন এমন হয়ে যায় যে, আমি আল্লাহর কাছে আর কিছু চাইবো না, কোন অর্ডার দিব না। আপনি এখন ক্রেতার মত সুবিধা পেতে চান, মনে করেন যে এগুলো পাওয়ার আপনার অধিকার রয়েছে। আর আপনি আল্লাহর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এবং বলেন, তিনি আমার কথা শুনছেন না, আমার সমস্যার সমাধান করছেন না। বুঝতে চেষ্টা করুন যে, সবার জন্য আল্লাহর পরিকল্পনা রয়েছে। তুলনা করার জন্য আপনাদের দুটি উদাহরণ দিচ্ছি। ইয়াকুব (আঃ) এর ক্ষেত্রে...

সৎ উপার্জনের সম্মান (৩য় পর্ব)

এই চমকপ্রদ আয়াত দিয়েই আমি শেষ করবো, কিন্তু তার পূর্বে আবার দাউদ (আ) সম্পর্কে কথা বলতে চাই। কারণ ঐ আয়াতের সমাপ্তিটা অসম্ভব সুন্দর। এটা করার আগে সূরাতুল কাসাস থেকে একটি আয়াত আলোচনা করতে চাই। আল্লাহ বলেন – تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا – “সেই আখিরাতের ঘর” মানে জান্নাত, আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, আল্লাহ বলেন। যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না। তারা এই দুনিয়ায় অন্যদের কাছে বড়ত্ব দেখাতে চায় না। তাদের আচরণের কারণে অন্যরা নিজেদেরকে ছোট মনে করে না। তাদের জীবন এমন নয়। لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ – প্রসঙ্গত, যখন আপনি এমন একটা সমাজ তৈরি করেন যেখানে কিছু মানুষ নিজেদের ছোট মনে করে, আবার কিছু মানুষ নিজেদের অন্যদের তুলনায় বড় মনে করে, আর এভাবে সমাজ চলতে থাকে। তখন কি হয় জানেন? সমাজের সবাই উঁচু শ্রেণীর মানুষদের মত হওয়ার জন্য জীবন পণ প্রচেষ্টা চালায়। সমাজে এমন মানুষ আছে, যারা গরিব, তেমন টাকা-পয়সা আয় করতে পারে না, কোনোরকম ঘরে বসবাস করে। তারাও বড় বড় ম্যানশনে বসবাস করার স্বপ্ন দেখে, বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর স্বপ্ন দেখে। এটাই ফাসাদ। এই শ্রেণীবৈষম্যমূলক সমাজ, যেখানে এক শ্রেণী অন্য শ্রেণীর মর্যাদার জন্য প্রতিনিয়ত টেক্কা দিয়ে যায়। এটাই ফাসাদ। কারুনের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছিল। এই জন্যই কারুনের ঘটনা বর্ণনা করার পর পরই এই আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। কারুনের ছিল বিশাল সম্পত্তি, আর তার চারপাশে বনী-ইসরাইলের সবাই ছিল দরিদ্র। তারা বলতো – يَا لَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَا أُوتِيَ قَارُونُ – “হায়, কারুন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরকে যদি তা দেয়া হত!” আমরা কত ভালো থাকতাম! ইস! আমার যদি কারুনের মত সম্পত্তি থাকতো। কত মিষ্টি! আমার যদি তার মত সম্পত্তি থাকতো। এর মূলটা দুর্নীতিগ্রস্ত। এটা অন্তরের বিকৃতি। এই আকাঙ্ক্ষা যে কোন উপায়ে মানুষকে...

আল্লাহর প্রতি সুধারনা পোষণ করুন (১ম পর্ব)

আমার প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, সহিহ হাদিসে এসেছে, একদা আয়েশা (রা) রাসূল (স) এর নিকটে এসে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল (স)! আল্লাহর নিকট আমার জন্য দোয়া করুন। ফলে রাসূল (স) কিবলার দিকে ফিরে তাঁর হাত উত্তোলন করলেন এবং বললেন – ইয়া আল্লাহ! আয়েশাকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর সকল পাপ ক্ষমা করে দিন। তাঁর অতীত এবং ভবিষ্যতের সকল গুনাহ, যা সে প্রকাশ্যে করেছে এবং যা সে গোপনে করেছে। এরপর আয়েশা (রা) মুচকি হাসি দিলেন। আর তিনি তাঁর মাথা নামিয়ে রাসূলের (স) কোলে রাখলেন; অত্যান্ত খুশি হলেন রাসূলের (স) দোয়া শুনে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের প্রিয় নবী (স) আয়েশার (রা) দিকে ফিরে বললেন, তুমি কি আমার দোয়ার কারণে খুশি ? তিনি বললেন, হ্যাঁ ও রাসূলুল্লাহ, কেন আমি আপনার দোয়ায় খুশি হবো না ? তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি যাঁর হাতে আমার রূহের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, প্র্রত্যেক নামাজে এটাই আমার দোয়া আমার উম্মার জন্য। আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আ..লি মুহাম্মাদ …… ভাই এবং বোনেরা, আমাদের রাসূলের (স) জন্য দুয়া করতে কখনোই কৃপণতা করবেন না। তিনি আমাদের জন্য তাঁর নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি দুয়া করেছেন। যিনি আমাদেরকে ভালোবেসেছেন, আমাদেরকে স্মরণ করেছেন সম্ভবত তাঁর নিজের সন্তান এবং পরিবারের চেয়েও বেশি। আলহামদু লিল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ… । আমার মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আমরা মুসলিম ভূমিতে এমন নৃসংসতা প্রত্যক্ষ করেছি যার মতো উদাহরণ বহুদিন ধরে আমরা দেখিনি। আমরা দেখেছি একজন ব্যক্তির ক্ষমতা এবং আধিপত্যের লালসার কারণে যেরকম নৃসংসতা সে ঘটিয়েছে আলেপ্পোতে, যুগ-যুগ ধরে যার দৃষ্টান্ত আমরা দেখিনি সুবহানাল্লাহ। যেভাবে সে তার জনগণকে হত্যা করেছে, যেভাবে সে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে, যেভাবে সে ইসলামের শত্রুদের আসার সুযোগ করে দিয়েছে, আল্লাহর শপথ, এটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় ইবনে তাইমিয়া যা বলেছেন। তিনি বলেছেন,…..। তিনি বলেছেন, নুসাইরিয়ারা...

ঈমান হারানোর প্রক্রিয়া

আমাদের আশেপাশে বিভ্রান্ত অবস্থায় অনেক আব্দুল্লাহ, জায়নাব, আলী, ফাতিমা, আব্দুর কারিম, আহমেদ, রুকাইয়া, হামজাহ, আই’শা, মুহাম্মদ — এইসব চমৎকার আরবি নামধারী তরুন-তরুণীদের আমরা দেখতে পাই। তারা খুব নির্ভীকভাবে বলে, “ইসলাম নিয়ে আমার মনে অনেক সন্দেহ আছে। আর এ মানুষগুলো এমন নয় যে তাদের দর্শন শাস্ত্রে পি এইচ ডি রয়েছে বা ইসলামের ইতিহাসে ব্যাপক জ্ঞান রয়েছে এবং এসব বিষয় বহু দিন অধ্যয়নের ফলে তাদের মনে ধীরে ধীরে সংশয়ের জন্ম নিয়েছে। না, না, না, আসল ব্যাপার তা নয়। বরং আসল ব্যাপার হলো এরা নিজেদের জন্য জেনে-বুঝে খারাপ সঙ্গ এবং অসৎ পরিবেশ বেছে নিয়েছিল। তারা নিজেদের পরিবর্তন করেনি। এটাই ঈমান হারানোর প্রক্রিয়া। আমি এমন শত শত মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা আক্ষরিক অর্থে এই আয়াতের ভেতর জীবনযাপন করছে!! (তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। ৫৭ঃ ১৪) তারপর এক সময় তারা ধর্ম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে থাকে। কিন্তু তাদের এই সন্দেহের সাথে যুক্তি বা বুদ্ধির কোন সম্পর্ক নেই। আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষ হতে না হতেই আরেকটা প্রশ্ন করবে। কোন উত্তরেই তারা সন্তুষ্ট হবে না, কোন উত্তরেই তাদের সন্দেহ কাটবে না। কারণ তাদের কোন স্বদিচ্ছাই নাই যেন তাদের বিভ্রান্তি কেটে যায়। আপনি উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে একসময় ভাববেন আসলে এদের সমস্যাটা কি? তখন যদি আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করেন, “কতদিন থেকে তোমরা এই অসৎ পরিমণ্ডল জেনেশুনে বেছে নিয়েছ?” তখন আপনি বুঝতে পারবেন এদের আসল সমস্যা কোথায়। ‘wartabtum’ অর্থাৎ (নানা রকমের) সন্দেহ পোষণ করেছ। জানেন? সন্দেহ কী করে? সন্দেহ প্রথমে তাদের ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিবে। তারা এভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দিবে- “এটা তো আসলে পুরোপুরি সত্য না। সুতরাং এটা না মানার কারণে আমার খারাপ অনুভব করার দরকার নেই।”...

আপনার মাতা পিতা আপনার জান্নাত জাহান্নাম

আমাদের রাসূল (সঃ) বলেনঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায় মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে। আর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন মাতা-পিতার অসন্তুষ্টিতে। সুতরাং যে কেউ চায় যে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হউক, তার উচিত তার মাতা পিতাকে সন্তুষ্ট করা। আর যে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করে, তার উচিত স্বীয় মাতা পিতার অসন্তুষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়া। মুসনাদে ইমাম আহমাদ ও সুনান আবু দাউদে বর্ণিত আছে… এক সাহাবী ইয়েমেন থেকে আসলেন এবং রাসূল (সঃ) কে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ), আমি ইয়েমেন থেকে আপনার নিকট এসেছি, যাতে আমি আপনাকে আমার বাইয়াত দিতে পারি, যেন আমি একজন সাহাবী হতে পারি, আপনার সহযোগী হয়ে যুদ্ধ করতে পারি। আমি আমার পিতা মাতাকে ছেড়ে এসেছি আর তাঁরা কান্না করছিলেন। আমি পিতা মাতাকে ছেড়ে আপনার নিকট এসেছি। আমাদের রাসূল (সঃ) বললেনঃ যদি তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি চাও, তাদের কাছে ফেরত যাও। যাও তাদের মুখে হাসি ফোটাও, যেহেতু তুমি তাদের কাঁদিয়েছ। এটাই বলেছেন আমাদের রাসূল (সঃ)। তুমি মনে করেছ তোমার মাতা পিতাকে কাঁদিয়ে আমার কাছে এসে তুমি জান্নাত পাবে? এ অবস্থায় কিভাবে তুমি জান্নাত পেতে পার? তিনি এসেছিলেন একজন সাহাবী হতে। তিনি এসেছিলেন আল্লাহর রাসূলের পেছনে যুদ্ধ করতে। কিন্তু তিনি তার পিতামাতাকে কাঁদিয়ে এসেছিলেন। আর রাসূল (সঃ) বলেন তুমি মনে করেছ এটা করে তুমি জান্নাত পাবে? তাদের নিকট ফেরত যাও। এবং যাও তাদের মুখে হাসি ফোটাও, যেহেতু তুমি তাদের কাঁদিয়েছ। এটাই জান্নাতে যাওয়ার পথ। পিতা মাতাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে। যাও তাদের মুখে হাসি ফোটাও, যেহেতু তুমি তাদের কাঁদিয়েছ। আমাদের রাসূল (সঃ) আমাদের বলেছেনঃ জান্নাতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ রাস্তা হলো পিতা মাতার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাঃ এর ছেলে যখন তার পিতা শহীদ হয়ে গেলেন, বলেনঃ আমার পিতা মারা গেছেন বলে আমি কাঁদছি না। আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার জান্নাতে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ দরজাটি বন্ধ...

সৎ উপার্জনের সম্মান (দ্বিতীয় পর্ব)

আমি শুরু করেছিলাম, لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ দিয়ে। আপনার আচরণ দ্বারা কাউকে ছোট করবেন না। এক গ্রুপকে অন্য গ্রুপের তুলনায় ছোট করবেন না। ধরুন, আপনারা কয়েকজন বন্ধু একত্রে থাকেন, সবাই কলেজ পাশ করেছেন, কিন্তু একজন পাশ করতে পারেন নি। তার অর্থনৈতিক সমস্যা আছে, তার বাবা ব্যবসায় লস করেছে বা যাইহোক, তাই তাকে স্কুল ত্যাগ করে একটি গ্যাস স্টেশনে চাকরি নিতে হয়েছে। আপনারা সবাই পাশ করেছেন কিন্তু সে পাশ করতে পারেনি। এখন আপনারা সবাই চাকরি করেন, একত্রে ঘুরেন, আর সে বন্ধুর দিকে নিচু দৃষ্টিতে তাকান, তাকে মনে করিয়ে দেন যে সে কীভাবে স্কুল পরিত্যাগ করলো। এটাই لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ (কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।) তার গ্যাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা, গ্যাস পাম্প করা আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান এবং সম্মানিত। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহর এই আয়াতটি মনে রেখে উপার্জন বিষয়ে আমরা একে অন্যকে যেন ছোট চোখে না দেখি। জানেন, আল্লাহ কীভাবে অর্থ উপার্জনের বিষয়টা কুরআনে উল্লেখ করেছেন? যে কাজই আপনি করেন না কেন, সেটা ব্যবসা হউক, অফিসে কাজ করেন, হাসপাতালে চাকরি করেন বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ যেটাই হউক – সব ধরণের হালাল কাজের একটাই নাম আছে। বিশেষত, শুক্রবারে জুমুয়ার পর তিনি কী করতে বলেন- فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ – নামাজ সমাপ্ত হওয়ার পর জমিনে ছড়িয়ে পড়, যেখানে যাওয়ার সেখানে যাও এবং ‘আল্লাহর অনুগ্রহ’ অনুসন্ধান কর। সেই উপার্জন, সেটা যে কাজই হউক না কেন আল্লাহ সেটাকে আপনার প্রতি ‘আল্লাহর অনুগ্রহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেটা আপনার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ। আর যখন আল্লাহ কারো প্রতি অনুগ্রহ করেন, তার মানে তাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। কারো উপর আল্লাহর অনুগ্রহ থাকলে সেখানে অসম্মানের কোন বিষয় নেই। এই দুইটা একত্রিত হওয়া সম্ভব নয়। চলুন এই ধারনাটি...