উপাসনা না দাসত্ব?

আমি আপনাদেরকে আরবি শব্দ “ইবাদাহ বা এর মাছদার উবুদিয়া” এর অর্থ বোঝাতে চাই। শব্দটি দ্বারা দুটি জিনিস বোঝায়, যদি আমি এর যেকোনো একটি অর্থ ব্যবহার করে অনুবাদ করি তাহলে অনুবাদটি হবে অসম্পূর্ণ। এটা ক্লাসিকাল আরবির বিপরীতে ইংরেজি বা বাংলার সীমাবদ্বতা। ক্লাসিকাল আরবির একটি শব্দ দিয়ে একই সময়ে অনেকগুলো অর্থ প্রকাশ করা হত। যদি আমরা এই ধারনাটি (ইবাদা শব্দটি) আংশিক বাংলা অর্থ দিয়ে অনুবাদ করি, তাহলে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। যে দুটি পদ আরবি শব্দ ইবাদার পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তাহলো – উপাসনা এবং দাসত্ব। অধিকাংশ সময় আমরা যেকোনো একটি অর্থ গ্রহণ করি। বাংলায় দুটি আলাদা বিষয়, কিন্তু আরবি একটি শব্দ ইবাদা দ্বারাই উভয়টি বোঝায়। সুতরাং যখন রাসুল (স) বলেন, ‘লা আ’বুদু মা তা’বুদুন’ – এর অর্থ শুধু এটা নয় যে, আমি উপাসনা করব না, বরং এর অর্থ এটাও যে, আমি গোলাম হব না , আমি দাস হব না। সংক্ষিপ্তভাবে আমি আপনাদেরকে উপাসনা এবং দাসত্বের পার্থক্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। যখন মাগরিবের নামাজের সময় হয়, আমরা আল্লাহর উপাসনা করি। আবার যখন এশার নামাজের সময় হবে, আমরা উপাসনা করব। কিন্তু এই দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আমরা কী? আল্লাহর দাস। যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন আপনি উপাসনা করছেন না, কিন্তু তখনও আপনি আল্লাহর একজন দাস। যখন আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন, গাড়ি চালিয়ে কাজে যাচ্ছেন, দাঁত ব্রাশ করছেন, নাস্তা করছেন, গাড়ি পার্ক করছেন – যদিও এই সময় আপনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন না বা কোনো উপাসনার কাজ করছেন না – কিন্তু এই সময়েও আপনি আল্লাহর একজন দাস। অন্য কথায় উপাসনা হলো – কিছু সুনিদৃষ্ট কাজের নাম। রোজা রাখা, নামাজ পড়া, হজ্জ পালন করা, কুর’আন তিলাওয়াত করা, দান করা – এইসব কাজ হলো উপাসনা। কিন্তু একজন দাস সবসময়-ই একজন দাস। সে এই কাজগুলো পালন করুক আর...

মুসলিম নারীদের আত্মসম্মান

আমার মতে, বর্তমান আমেরিকা সহ সারা বিশ্বে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হল আত্ম-সম্মান এর অভাব। বিশেষত, মুসলিম নারীদের আত্ম-সম্মান। আপনাদের সামনে অমুসলিম নারীদের উদাহরণ আছে যারা যেভাবে খুশি পোশাক পরিধান করে, অথচ আপনাদের পোশাকে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর আপনাদের মনে হয় আমাকে দেখতে কুশ্রী লাগবে আর তাদের সুন্দর লাগবে। অবশ্য কিছু মেয়েরা এমনটাই চিন্তা করে, কেন আমাকে এসব পোশাক পরতে হবে ? অথবা আমি কেন এত খাট কিংবা এত মোটা অথবা এত চর্মসার ? অনেকে ভাবে, কেন আমার চোখগুলোর দূরত্ব এত বেশি বা নাকটা এত বড় কেন ? কিংবা আমার দাঁতগুলো কি সমান হতে পারত না ইত্যাদি। কেন ? কেন আপনারা নিজেকে নিয়ে এত চিন্তিত। আমার গালে এত দাগ কেন ? ওহহ !! আমি অনেক চিন্তা করি, দেখ দেখ, কী অবস্থা ! কী বিশ্রী !! এভাবে আপনারা কমপক্ষে ৩৫ মিনিট আয়নায় দাড়িয়ে থাকেন। না, এটা ঠিক না। আপনি যা, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন। এটাই গুরুত্বপূর্ণ আপনার জন্য। অন্যের কোন কিছুতেই নিজেকে খুঁজবেন না। আল্লাহ্‌ মানুষকে অতি সুন্দর করেই সৃষ্টি করেছেন। وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। (সূরা নিসাঃ আয়াত ৩২) আপনার ইচ্ছা হয়, “আমি যদি ওর মতো লম্বা হতাম, আমার যদি তার মতো সম্পদ থাকত, আমার যদি ঐ পোশাকগুলো থাকত, আমি যদি দেখতে ওর মতো হতাম, আমার এটা...

ঈমান এবং আঁধার প্রান্তরে পথ চলা প্রদীপ – ১ম পর্ব

আজকের খুতবার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের সাথে সূরা হাদিদের একটি আয়াত শেয়ার করা। কিন্তু এই আয়াত থেকে কিছু শিক্ষা বলার আগে আমি প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলতে চাই। সূরা হাদিদের মাঝখানে আল্লাহ বিচার দিবসের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। বিচার দিবস এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আল্লাহ কুরআনের বহু জায়গায় আলোচনা করেছেন। সাধারণত তিনি যখন এ সম্পর্কে বলেন – তিনি বিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জান্নাতের দিকে ধাবমান এবং তিনি অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু আলোচ্য অংশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আল্লাহ বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে তিনি বিশ্বাসীদের মুনাফিকদের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। আল্লাহ বিশ্বাসীদের বিপরীতে অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে বিশ্বাসীদের বিপরীতে এমন লোকদের তুলনা করছেন যারা মনে করতো যে তাদের ঈমান রয়েছে, অথবা ভান করতো যে তারা মুসলিম অথবা তাদের ঈমান রয়েছে কিন্তু বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে এই ঈমানের কোন মূল্য থাকবে না। এরাই হলো মুনাফিক, আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। সুরা হাদিদের এই আলোচ্য অংশটি আমাদের জানা খুবই জরুরী। কারণ এই অংশটি আমাদের জানায় যে বিচার দিবসে কীভাবে এই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কিয়ামতের দিন বিশ্বাসীরা যখন দাঁড়াবে, রাসূল (স) তাদেরকে দেখতে পাবেন। “ইয়াওমা তারা” তিনি দেখতে পাবেন মানে রাসূল (সঃ) দেখতে পাবেন… “আল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাত” বিশ্বাসী নারী পুরুষদেরকে। “ইয়াসআ নুরুহুম বাইনা আইদিহিম ওয়া বি আইমানিহিম” তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে। এর মানে হলো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের হৃদয় থেকে এবং ডান হাত থেকে জ্যোতি বিচ্ছুরিত হবে। এই আলোটি কেন জরুরী? কারণ, আল্লাহর প্রতি আপনার-আমার ঈমান যদি অকৃত্রিম হয় এবং বিশ্বাস দৃঢ় হয়, কিয়ামতের দিন এই বিশ্বাস জ্যোতিতে রূপান্তরিত হয়ে দীপ্তি ছড়াবে।...