উস্তাদ নুমান আলী খান

নুমান আলী খান একজন মুসলিম দা’ঈ। কুর’আন এর জ্ঞানে তার অসাধারণ গভীরতা এবং সুন্দর উপস্থাপনা শৈলীর কারণে সমগ্র বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বাংলাভাষাভাষী অনেক ইসলাম অনুরাগী তরুণ তাঁর অসাধারণ আলোচনা থেকে উপকৃত হচ্ছে নিয়মিত …

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন

বর্তমানে আমরা ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল এ নুমান আলী খানের লেকচার গুলো নিয়মিত প্রকাশ করছি এবং এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে তা শ্রেণীবদ্ধ ভাবে সংরক্ষণ করছি। আপনি আমাদের ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল লাইক /সাবস্ক্রিপশন করে আমাদের সাথে আরো নিবিড় ভাবে সংযুক্ত থাকতে পারেন।

আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন…

সংযুক্ত থাকুন

ভিডিও + প্রতিলিপি

কুর’আন কী? – পর্বঃ ২

কুর’আন কী? – পর্বঃ ২

অন্যের ধর্মের ভাই বোনেরা যদি জিজ্ঞাসা করেন কুর’আন কী? আমরা কী বলব? — ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন উস্তাদ নুমান আলী খান অন্য ধর্মের মানুষদের সামনে। লিখে রাখার যে রীতি ছিল সেগুলোকে একত্রিত করা হয়েছিল অনেক পরে!মুখস্থ করার রীতি সেখানে অনেক কাল ধরেই চলে আসছিল।অনেক অনেক কাল আগে থেকে।যাই হোক,এটা মৌখিক ঐতিহ্য ছিল। আমি আপনাদের বলেছিলাম আমাদের নবীর একটি অপারগতার কথা…সেটি কি বলতে পারবেন?তিনি কি যেন করতে পারতেন না?ওহ্‌, মনে পড়েছে… তিনি লিখতে পারতেন না।তো এখন…একটি সূরা…কতগুলো যেন সূরা আছে কুরআনে? ১১৪ টি!এগুলো বড় কিংবা ছোট। সূরাগুলো বড়ও হতে পারে ছোটও তে পারে।সবচেয়ে বড় সূরাটিতে ২৮৬ টি স্তবক (আয়াত) আছে! আমি স্তবক বলছি আপনাদের জন্যে… আমি একে স্তবক বলি না। আপনাদের জন্যে ২৮৬ টি স্তবক। স্তবক গুলি সব একসাথে নাযিল হয়নি বরং প্রথমে সূরাটির অল্প কিছু অংশ নাযিল হয়, আর ইতোমধ্যেই অন্য সূরার অন্য কিছু স্তবক ও নাযিল হতে থাকে।আবার আর এক সূরার আরও কিছু স্তবক নাযিল হতে থাকে।আমাদের নবী সেসব পড়তেন আর তার সঙ্গীদের বলে দিতেন… আসলে এই স্তবকগুলো এই সূরার অন্তর্ভুক্ত…আর ঐ স্তবক গুলো ঐ সূরার অন্তর্ভুক্ত…আর তিনি সব সময় এভাবে বলে দিতেন।তো তাঁর কাছে ধরুন ২০ টি সূয়া নাযিল হচ্ছে…সবগুলোই আংশিক ভাবে…সব গুলোই অল্প অল্প করে নাযিল হচ্ছে আর তিনি তাঁর সঙ্গীদের বলছেন কোন স্তবক কোথায় বসবে। তাঁর সামনে কোন কাগজে সেসব লিখাও ছিল না…থাকলেও কোন লাভ হত না কারণ তিনি পড়তে জানতেন না।এসব কিছুই ঘটছিল মুখে মুখে।একটা সময়ে সম্পূর্ণটা বলা ও সাজানো শেষ হয়ে গেল।আর আমরা একে একটা বই হিসেবে পেলাম যা কালানুক্রমিক নয়, যার আকারের বা বিষয়ের কোন ধারাবাহিকতা নেই।মনে আছে আমি যে বলেছিলাম?তো কুরআনের যেটি সবচেয়ে বড় সূরা… ইতিহাসবেত্তা গণের মতে এটি নাযিল হতে ১০-১২ বছর সময় লেগেছিল।এই সূরাটি যখন...
কুর’আন কী? – পর্বঃ ১

কুর’আন কী? – পর্বঃ ১

অন্যের ধর্মের ভাই বোনেরা যদি জিজ্ঞাসা করেন কুর’আন কী? আমরা কী বলব? — ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন উস্তাদ নুমান আলী খান অন্য ধর্মের মানুষদের সামনে। আপনারা প্রস্তুত? তাহলে আমরা শুরু করছি। এই পর্বে নিজের ব্যাপারে আমি আপনাদের কিছু বলব। এটা কুরআনের সাথে প্রাথমিক পরিচয় পর্ব হবার কথা ছিল। আর আমি যেভাবে কুরআনকে মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই, সেটা খুবই ব্যক্তিগতভাবে। গতানুগতিক কোনও নিয়মে নয়, যেমন আগে থেকে বানানো কোনও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন সম্পর্কিত কিছু নয়। আসলে আমি আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে কুরআনের সাথে সবাইকে পরিচয় করাতে চাচ্ছি। আমি মুসলিম ঘরেই বড় হয়েছি। কিন্তু আমি এমন কোন পরিবেশে বড় হইনি যেন ছোটবেলা থেকেই কুরআন পড়েছি, অর্থ জেনেছি কিংবা পুরোটা একবার হলেও অর্থ সহকারে পড়েছি। এগুলোর কোনটাই করিনি কখনও। এইজন্য আমি ঠিকভাবে জানতামও না এটা আসলে কি। আর এমনকি নিউইয়র্ক সিটিতে কলেজে যাই যখন তার আগ পর্যন্ত ওইভাবে ধর্মের সাথে আমার যোগাযোগও ছিলনা। নিউইয়র্ক সিটিতেই আমি স্কুলে গিয়েছি। যখন আমি আমার ধর্মকে নতুন করে আবিষ্কার করা শুরু করলাম। তখন আমি আসলে একাই থাকছিলাম নিজের মত করে, আমার বাবা মা ততদিনে এখান থেকে চলে গেছেন। নিজের মত করে ছিলাম, নিজের মত করেই ধর্মকে শিখছিলাম। পরিবারের কোনও হস্থক্ষেপ, কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ছাড়া। খানিকটা নিজের আবিষ্কারের মত। কুরআন পড়ার খুব কম সময়ের মাঝেই এটা বুঝে যাই যে এইরকম সেক্সপিয়রিয় অনুবাদ দিয়ে আমি খুব বেশি কিছু বুঝব না আর সঠিক ভাবটা বুঝব না। লিখনটি আমার জন্য বোঝা খুব কঠিন ছিল। এইরকম বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের আমি সহ আরও অনেকেই সম্মুখীন হয়েছে, কুরআনকে বুঝতে গিয়ে। এদের মাঝে প্রথমটি ছিল, এটা অন্য সব বইয়ের মত পড়া যায়না। এখানে ১১৪ টি ভাগ আছে, আপনারা বলেন চ্যাপ্টার, আমরা বলি সূরা। এগুলো...
কিভাবে বুঝব শাস্তি না পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা?

কিভাবে বুঝব শাস্তি না পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা?

কুরআন উইকলি তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের “Quranic Gems”  সিরিজ থেকে নেয়া।   যখন কোন একটা বিপদ তোমাদের উপর বর্তায় (উহুদের যুদ্ধকালীন) যদিও তোমরা এর আগে (বদরের যুদ্ধে শত্রুদের মাঝে) এর চেয়ে ও দ্বিগুণের মাঝে পরিবেষ্টিত ছিলে তোমরা বল, “এগুলো কোথা থেকে এলো?” বল, “এগুলো তোমাদের থেকেই এসেছে”। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছু করতে সক্ষম। (৩-১৬৫) আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলী আমি সুরা আল ইমরানের ১৬৫ নাম্বার আয়াত আপনাদের সাথে খুব সুনির্দিষ্ট একটু উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে চাই। অনেক মানুষই প্রশ্ন করেন কেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে কঠিন সময়ে ফেলেছেন এবং এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। ওনারা জানতে চান কি এমন ওনারা করেছেন যে এইরকম কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। এবং কখনো কখনো মানুষ এটাও বলে, যখন খারাপ কিছু হয়, এটা হয়েছে কারণ, “আমি কিছু খারাপ কাজ করেছি, কারণ এটা আমারই ভুল নয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরকম ইচ্ছা করেছেন আমার পরীক্ষা নিতে। আমি কিভাবে বুঝবো কোনটা আসল কারণ?” আবার কিছু মানুষ আছে যারা যখনই তাদের উপর কোন বিপদ আসে, তারা নিজেদেরকে এর জন্য দোষারোপ করে। তারা শুধু বলে, “আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ন্যায়বান. নিশ্চয়ই আমিই কিছু অন্যায় করেছি, আমি নিশ্চয়ই আমার পিতামাতার সাথে খারাপ আচরণ করেছি অথবা অন্য কিছু, এবং এই কারণে আমার গাড়ী এক্সিডেন্ট করেছে অথবা অন্যকিছু”। তারা অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান জগতে মনোযোগী হয়। এখন কিছু আয়াত আছে যা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে, একদিকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, যেমন এই আয়াতে, আওয়া লাম্মা আসাবাকতুম মুসীবাতুনক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা যখন উহুদের যুদ্ধে মুসলমানেরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছিলো, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, “যখন তোমরা কোন বিপর্যয়ে আক্রান্ত হও, যেরকমটি তোমাদের শত্রুদের থেকে আগে ও এসেছে এবং তোমরা পরাহত করেছ” (ক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা) “আগের বছরই এরচেয়ে দ্বিগুণ ক্ষয়-ক্ষতি তোমরা তোমাদের...
আল্লাহর রাস্তায় অগ্রসর হও

আল্লাহর রাস্তায় অগ্রসর হও

Quran Weekly তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের Quranic Gems সিরিজ থেকে।   “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।” আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি আল্লাহ্‌ সুরা তওবা-র ৩৮ নং আয়াতে বলেছেন “ইয়া আইয়ুহাল্লাজ্বীনা আমানূ” – যারা নিজেদের বিশ্বাসী বলে দাবী কর, “মা লাকুম” -তোমাদের কী সমস্যা? “ই’জা ক্বীলা লাকুমুনফিরূ ফী সাবীলিল্লাহ” তোমাদেরকে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌র পথে এগিয়ে যাও “সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” তোমাদের পা হিঁচড়ে যায়। তোমরা মাটিতে গেঁড়ে যাও। ভাবুন এমন যে কারো পা বালিতে গেঁড়ে গিয়েছে। এবং সে তার পা টেনে হিঁচড়ে চলার চেষ্টা করছে এবং সে এগুতে পারছে না- আল্লাহ্‌ এই দৃশ্যের কথা বলছেন। “ইস সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” আল্লাহ্‌ কেন এই দৃশ্যের কথা বলছেন? আমি এই আয়াতটি বেছে নিয়েছি বিশেষত আমাদের তরুণদের জন্য। রমজান মাসে তোমরা দেখিয়েছ তোমরা রোযা রাখতে সক্ষম, তোমরা অনেক বদ-অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে পারো যেসব থেকে তোমরা ভেবেছিলে তোমরা বিরত থাকতে পারবে না, তোমরা সময়মত উঠে নামায পড়তে পারো, তোমরা অ-নে-ক কিছু করতে সক্ষম; এইজন্য নয় যে এটা রমজান মাস এবং এমাসে তোমরা সুপার হিউম্যান হয়ে যাও বরং আল্লাহ্‌ তোমাদের সেই সামর্থ্য দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ্‌ খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করলেন, যখন তোমাদেরকে সামনে আসতে বলা হয় এবং তোমরা তা করতে সক্ষম তখন তোমাদের পা টান দাও, এটা কেন?” “সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” এবং এই প্রশ্নটি করা হয়েছে বিশ্বাসীদের, বিশ্বাসীদের প্রশ্ন করা হয়েছে, “আ’রাদ্বীতুম বিল হায়াতিদ দুনিয়া মিনাল আখিরাহ” তোমরা কী আখিরাতের পরিবর্তে এই পার্থিব জীবন নিয়ে পরিতুষ্ট? আল্লাহ্‌ এই প্রশ্ন করেছেন বিশ্বাসীদের।  আল্লাহ্‌ যেন বলছেন, যারা বিশ্বাসী নয় তারা তো অবশ্যই এই পার্থিব জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট কারণ...
অতীতের জাতি থেকে শিক্ষা

অতীতের জাতি থেকে শিক্ষা

Quran Weekly তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের Quranic Gems সিরিজ থেকে। আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আজকে আমি আপনাদের সাথে সূরা বাকারার ৫৭তম আয়াতের কিছু বিষয় বর্ণনা করতে চাই। এবং এই আয়াত আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল বনী ইসরাইলদের সম্বোধন করে বলছেন, ইসরাইলের সন্তানদের। এবং আল্লাহ্‌ তার কিছু অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। যেই কারণে আমি আপনাদের সাথে আয়াতটি শেয়ার করতে চাই তা হল এই আয়াতটির ভেতরে একটি অসাধারণ স্থানান্তরণ ঘটে। সেই পরিবৃত্তি অনুধাবন করার সুবিধার্থে আমি প্রথমে আপনাদের জন্য একটি দৃশ্যপট দাঁড় করছি। ধরুন একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে, এবং ধরা যাক তার ছাত্ররা ৩ ভাগে, না, ২ ভাগে বিভক্ত। বাম পাশে হচ্ছে ছাত্রদের একাংশ, মাঝখানে কিছুটা ফাঁক, এবং ডান পাশে রয়েছে আরেক অংশ। বাম পার্শ্ববর্তী ছাত্ররা আগের দিন পরীক্ষা দিয়ে দিয়েছে, ধরা যাক তারা গ্রুপ A, তারা পরীক্ষা দিয়েছে, এবং ফেল করেছে। আর গ্রুপ B এই পরীক্ষাটি দিবে কালকে। দিনটি হল দুই পরীক্ষার মধ্যখানে। শিক্ষক ক্লাসে ঢুকলেন, এবং গ্রুপ A, যারা কিনা পরীক্ষাটি দিয়েছে, তাদেরকে তীব্র ভাবে বকা দিতে লাগলেন। কারণ তারা পাশ করে নি। এবং তিনি বকা দিয়ে বলছেন, মনে করেন, “ আমি তোমাদের জন্য কি না করেছি!রিভিউ করেছি!সব উত্তর দিয়ে দিয়েছিলাম, এমন কি প্রশ্নপত্রের কপিও পরীক্ষার আগের দিন দিয়ে দিয়েছিলাম!তাও কিভাবে ফেল করলে? তোমাদের জন্য আর বেশি কি করা যাই আমি ভেবে পাই না!” আর এই সময়টুকুতে, যখন তিনি তাদেরকে বকাঝকা করছিলেন, গ্রুপ B বসে বসে দেখছিল। কয়েকজন ওই ছাত্রগুলোকে টিটকারি মারছিল, “হা হা দেখ না ওদের অবস্থা”। তবে তাদের মধ্যেকার অন্যরা,যারা বুদ্ধিমান, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল কারণ তারা জানে কাল তাদের পরীক্ষা, এবং তারা খুব শীঘ্রই একি ধরনের শাস্তির শিকার হতে পারে। এখন শিক্ষক বললেন, “তোমরা, জান? তোমাদের সাথে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না”। তিনি গ্রুপ...

প্রবন্ধ

ঈমান এবং সৎকর্মঃ আঁধার প্রান্তরে পথচলার প্রদীপ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ বাংলা ভাবার্থঃ “যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এবং সেই চূড়ান্ত প্রতারক তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের...
ঈমান, লেভেল, ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ২য় পর্ব

ঈমান, লেভেল, ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ২য় পর্ব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কিছু কিছু মানুষের আধ্যাত্বিক ঈমান দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় জড়িয়ে থাকে। আমি এও বলেছি যে আধ্যাত্বিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে যদি সমস্যায় জড়িয়ে থাকে সেটা বুদ্ধিবৃত্তিক ঈমানেও সমস্যা ঘটায়। এমন সময় অনেকেই তাদেরকে আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধানে আধ্যাত্বিকতা উন্নত করতে বলে। অথচ এতদিনে সে কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায়ও জড়িয়ে গেছে। এজন্য তখন আধ্যাত্বিক উন্নয়ন ও সমাধানের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যারও সমাধান দরকার। আবার কিছু মানুষ কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানের জন্য বলে। এটার সমস্যা হলো একটি আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধান না করতে পারলে এই সমস্যা তাকে আরো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে, সেটি আবার অন্য আরেকটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় ফেলবে…এভাবে চলতেই থাকবে। কারো যদি আধ্যাত্বিক সমস্যা থাকে আর তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধান দিতে থাকেন দর্শন, আকীদা ইত্যাদি দিয়ে, তখন তাঁর আরো নতুন সমস্যা বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে। কারণ হলো তাঁর প্রয়োজন ছিল আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধান আর আপনি তাকে দিয়েছেন বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানের আলোচনা যা তাকে আরো সমস্যায় ফেলেছে। উস্তাদ নুমান আলী খান শাইখ আব্দুর নাসির জাংদার একটা ঘটনা উল্লেখ করেন এখানে(যা তাঁর Prophetic Biography, Podcast এও বলেছেন, qalaminstitute.org)। এক ব্যক্তি হাদীস নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। হাদীস নিয়ে বিভিন্ন সন্দেহ প্রকাশ করতো। এই হাদীসে এমন অথচ অন্য হাদীসে তেমন কেন? এই হাদীস এরকম কেন আর অন্য হাদীসে অন্যভাবে কেন? এভাবে সে এখান থেকে এক হাদীস, আরেক জায়গা থেকে অন্য হাদীস পড়ে মিলাতে না পেরে, সন্দেহে পড়ে যায় এমনকি রাসল কে সমালোচনা করে বসে আর তাকে অস্বীকার করে বসে। তার কথা সে আর মুসলিম থাকবে না। সে কিন্তু মুসলিম। তারপরেও সে রাসূলের সমালোচনা করতো কেন তিনি এই হাদীস বললেন, কেন তার কথায় ইবাদত এই রকম ইত্যাদি। শাইখ আব্দুন নাসির জাংদা তাকে একটা বই দিলো। বললো পুরোটা পড়তে। এবং আরোও নির্দেশনা দিলো যে সে যেন পূর্ণটা...
ঈমান, লেভেল ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ১ম পর্ব

ঈমান, লেভেল ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ১ম পর্ব

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আমরা যখন ঈমানের কথা চিন্তা করি তখন প্রথমত দুই প্রকার ঈমানের কথা বলি। সেগুলো হলো   ১। আইনগত ঈমান (Legal Iman) ২। প্রকৃত ঈমান (Real Iman)   প্রকৃত ঈমান দুই প্রকার   ১। আধ্যাত্বিক ঈমান (Sprititual Iman) ২। বুদ্ধিবৃত্তিক/যৌক্তিক ঈমান (Intellectual/ Rational Iman)   কেউ যখন শাহাদাহ বলে ইসলাম গ্রহণ করে, সেটা লিগাল বা আইনগত ঈমান। অর্থাৎ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলামী আইনগতভাবে বা শরীয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে সে মুসলিম। লিগাল ঈমানের সুবিধা হলো একজন ব্যক্তি যে মুসলিম সেটা বুঝতে পারি। তার ঈমানে অবস্থা কি, কিয়ামাতের দিনে সে কেমন থাকবে এসব বিষয় এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। লিগাল ঈমান আখিরাতে কোনো কাজে আসবে না। আখিরাতে একমাত্র প্রকৃত ঈমান-ই কাজে আসবে। আপনি সালাত আদায় করেন, আমরা আপনাকে সালাম দেই, আপনি দুনিয়াতে ইসলাম গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। আপনি দুনিয়াতে সবার কাছে মুসলিম হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আখিরাতে আল্লাহর কাছে ধর্তব্য বিষয় হবে একমাত্র প্রকৃত ঈমান। লিগাল ঈমান স্থির। এটা কমেও না বাড়েও না। আপনি ঘুমালেও মুসলিম, জেগে থাকলেও মুসলিম, সালাত আদায় করলেও মুসলিম। আল্লাহ যখন ‘হে ইমানদারগণ’ বলে সম্বোধন করেন, এটা ইসলাম যে গ্রহণ করেছে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করে। কিন্তু আমরা তো এও জানি আমাদের ঈমানের কিছু বিষয়াবলি কমে-বাড়ে, ওঠানামা করে। এটাই প্রকৃত ঈমান। অর্থাৎ প্রকৃত ঈমান কমে বাড়ে আমাদের ভালো-মন্দ, পূণ্য বা পাপ কাজ করার কারণে। আর এই প্রকৃত ঈমানের মধ্যে ‘আধ্যাত্বিক ঈমান’-ই ওঠানামা করে বা কমে-বাড়ে। এই ‘আধ্যাত্বিক ঈমান’ যখন অতিরিক্ত ওঠানামা করে তখন এটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ঈমান’ এর সাথে বিশৃংখলা ঘটায়, তালগোল পাকিয়ে ফেলে। এভাবেই ঈমানের বিষয়গুলো কাজ করে। আপনি লিগালি মুসলিম কিন্তু আপনার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক, মানুষের সাথে সম্পর্কে প্রকৃত ঈমান ওঠানামা করে, যা আল্লাহর নিকটে আখিরাতে মূল হিসেবে গণ্য হবে, যার ভিত্তিতে আল্লাহ হিসাব নির্ধারণ করবেন। কুরআনের প্রাথমিক নির্দেশনা...
কীভাবে আমার চরিত্রের উন্নতি করবো?

কীভাবে আমার চরিত্রের উন্নতি করবো?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম প্রথম কথা হল হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। মন্দ কাজ থেকে বিরত হবার আগ পর্যন্ত ভালো কথা বলতে যেও না। কারণ তুমি শরীরের ক্ষতস্থানে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় ঔষধ দিলে সেটা ফলপ্রসু হবে না আর মন্দ কাজ বা পাপ থেকে বিরত না হয়ে ভালো কথা বললেও সেটা ফলপ্রসু বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তোমাকে আনন্দের মধ্য দিয়ে যে বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছ তা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুভি দেখা বাদ দিতে হবে, রাস্তায় চলমান অবস্থায় চক্ষুকে অবণত করতে হবে-কারণ নারীর প্রতি তোমার প্রত্যেকটা চাহনির সাথে তোমার মানবিক গুনকে নষ্ট করে ফেলছ। তুমি একজন নারীর দিকে এমনভাবে তাকাও যেন সে একটা খাবারের টুকরা, যেন সে একটা প্রাণী- আর এটাই প্রমাণ করে যে তুমি একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অবস্থানমূলক সম্মানের জায়গাকে অপমানিত করছ। এটাই প্রমাণিত করে যে তুমি নিজেই এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছ।   সুতরাং চারিত্রিক উন্নতি করতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে সেই মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তারপর তোমার জীবনকে ভালো কাজ দিয়ে সুশোভিত কর, তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। নিজেকে ভালো করে গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে থাকো – যেমন , সুন্দর ও পারফেকটভাবে সালাত আদায় কর, কিছু প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্ত করা, কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা, পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া। আর এগুলো তেমন কিন্তু তেমন কঠিন কাজ নয় – চাইলেই পারো।   আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে এইগুলোই প্রত্যাশা করেন।   কেউ প্রশ্ন করতে পারে আল্লাহ কেন আমাদের কাছে এগুলো প্রত্যাশা করেন, এগুলো কি তাঁর কোন উপকারে আসে?   এর উত্তরে বলা যায়- আমরা জানি আল্লাহর একটি নাম হল “গনী” যার অর্থ যিনি ধনী, এমন ধনী যে যার আর কোন কিছুরই দরকার নেই কারো কাছে। অর্থাৎ চূড়্রান্ত ধনী। তাহলে কি আমরা বলতে...
বিনয়ের সাথে ভদ্রভাবে চলা

বিনয়ের সাথে ভদ্রভাবে চলা

কুরআন উইকলি তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের “Quranic Gems”  সিরিজ থেকে নেয়া। ” আল্লাহ্‌র বান্দারা পৃথিবীতে বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞলোক তাঁদের আক্রমণ করে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মোকাবেলা করে। ”    সুরা ফুরকান-৬৩ আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি, আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা সুরা আল-ফুরক্বান এর শেষে সুরা নম্বর ২৫ এ বর্ণনা করেছেন কারা আর-রাহমান (পরম করুণাময়)-এর বান্দা। আল্লাহ্‌র অনেক নাম আছে জা তিনি এখানে উল্লেখ করতে পারতেন, আল্লাহ্‌র বান্দা, সৃষ্টিকর্তার বান্দা, মহাজ্ঞানীর বান্দা, কিন্তু যখন তিনি বলছেন, পরম করুণাময়ের বান্দা এর মানে যেন উনি বলছেন এই মানুষগুলোর সাথে তাঁর সম্পর্ক তাঁর অভাবনীয় ভালোবাসা, দয়া এবং মমতার ভিত্তিতে। তার মানে এমন এক সত্তার বান্দা যিনি অনেক মমতাময় , যিনি অনেক বেশি ভালোবাসেন, যিনি অভাবনীয় রকম দয়া দেখান তাঁর বান্দা। তার মানে এই মানুষগুলো বিশেষ ধরণের মানুষ। এইখানে আল্লাহ্‌ যাঁদের কথা বলছেন তাঁরা খুবই বিশেষ ধরণের মানুষ। সকল বিশ্বাসীরাই স্পেশাল কিন্তু এঁরা আরো অনেক অনেক বেশি স্পেশাল। এবং এই স্পেশাল মানুষদের যাদেরকে তিনি বলেছেন “ওয়া ই’বাদুর রাহমান”। তাঁদের প্রথম গুণ হচ্ছে, الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا “আল্লাজীনা ইয়ামশূনা আ’লাল আরদি হাওনান” তাঁরা পৃথিবীতে চলে, পৃথিবীতে তাঁরা চলাফেরা করে বিনম্রতার সাথে هَوْنًا ‘হাওনান’ কোমলভাবে এবং তাঁদের নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে। আপনি জানেন যখন আমরা কোন কিছু অর্জন করি, আমরা একধরনের শক্তি, জোড় আর ক্ষমতা অনুভব করি। এবং ঐসব মুহূর্ত আসলে আমাদের নগণ্যতা অনুভব করার কথা। এটা প্রথম কথা, هَوْنًا ‘হাওনান’ মানে এটাও যে আপনি অন্যদের সামনে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করবেন না, আল্লাহ্‌ এ সম্পর্কে কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ্য করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ, পিতামাতার সামনে নম্রভাবে মাথা নত করে দেয়া এর মানে কী? এরমানে হলো আপনি পূর্ণবয়স্ক, আপনি পেশাজীবী, আপনার টাকা আছে, আপনার নিজের গাড়ী আছে, বাড়ী আছে আর আপনার বাবা-মা রিটায়ার্ড, বৃদ্ধ।...

মু’জিযা

“সব কিছুই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে” ও অলৌকিক মু’জিযা

“সব কিছুই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে” ও অলৌকিক মু’জিযা

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ “সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া, আর রজনীর পক্ষে সম্ভব নয় দিবসকে অতিক্রম করা; আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে (Orbit) অতিক্রম করছে (সাঁতার কাটছে)” [সূরা ইয়াসিনঃ ৪০] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা এখানে আসমানের সকল কিছুর বর্ণনা করছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজেদের কক্ষপথে ভাসছে, সাঁতার কাটছে, ঘুরছে। তিনি কী নিয়ে কথা বলছেন? চন্দ্র, সূর্য, গ্যালাক্সি, প্ল্যানেট ইত্যাদি। তিনি বলছেন এগুলোর সবই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। এখানে আল্লাহ কী শব্দ ব্যবহার করেছেন সবার ‘নিজ নিজ কক্ষপথে’ বুঝানোর জন্য? এর জন্য আল্লাহ বলছেনঃ كُلٌّ فِي فَلَك আরবিটা লক্ষ করেছেন? আরো একটু গভীরভাবে লক্ষ করুন তবেই বাক্যাংশটির অলৌকিক মু’জিযাটা বুঝতে পারবেন। আল্লাহ বলছেন, “প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে।” এবার আরবিতে দেখুন – কীভাবে শব্দগুলোও অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, আসমানের প্রত্যেকটি জিনিসের ঘূর্ণনের অর্থের সাথে যেই বাক্যটি দিয়ে, যেই শব্দগুলো দিয়ে, যেই অক্ষরগুলো দিয়ে আল্লাহ বলেছেন এই কথা, সেই অক্ষরগুলোও ঘুরছে নিজ নিজ কক্ষপথে (ছবিটি লক্ষ্য করুন)!!! সুবহানাল্লাহ! কীভাবে ঘুরছে? كُلٌّ فِي فَلَك প্রথম শব্দের প্রথম অক্ষর (ك) শেষ শব্দের শেষ অক্ষর (ك) প্রথম শব্দের দ্বিতীয় অক্ষর (ل) শেষ শব্দের দ্বিতীয় শেষ অক্ষর (ل) প্রথম শব্দের তৃতীয় অক্ষর (فِ) শেষ শব্দের প্রথম অক্ষর (فِ ِ) এখানে বাকি আছে (ي) অক্ষরটি – আর ঘূর্ণন অর্থের জন্য কী শব্দ? يَسْبَحُونَ (ঘুরছে) ঘূর্ণনের অর্থের জন্য যে শব্দটা ব্যবহৃত সেটা শুরু হয়েছে (ي) দিয়ে আর মাঝখানে আছে (ي) অর্থাৎ অক্ষরটা কিন্তু “নিজ নিজ কক্ষপথে” এর মাঝে রয়েছে আর তার চারপাশে অন্যান্য অক্ষর ঘুরছে অর্থাৎ ঘূর্ণন অর্থের জন্য যেই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে সেই শব্দের অক্ষরের চারপাশে সবই ঘুরছে!!! অর্থাৎ আয়াতের অক্ষরসমূহ শব্দের অক্ষরগুলোর ঘূর্ণনের সাথে আসমানের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সব কিছুর নিজ নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণনের সাথে কী অপূর্ব মিলে যাচ্ছে !! সুবহানাল্লাহ !!...
কুরআনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ৩) – মক্কা নাকি বাক্কা?

কুরআনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ৩) – মক্কা নাকি বাক্কা?

আরেকটি চমৎকার তুলনা হতে পারেঃ মক্কা আর বাক্কা। মক্কার এই দুটি নাম কি আগে কখনো শুনেছেন আপনারা? দুটি নামই একবার করে এসেছে কুরআনে। কুরআনে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল মক্কা শব্দটি ব্যবহার করেছেন সূরা মুহাম্মাদে। আবার সূরা আল ইমরানে ব্যবহার করেছেন বাক্কা শব্দটি।ইতিহাসগতভাবে শব্দ দুটি মক্কা শহরটিরই ভিন্ন দুটি নাম মাত্র। অনেকে বলে থাকেন যে বাক্কা ছিল প্রাথমিক সময়ের নাম আর মক্কা পরবর্তী সময়ের। তবে ভাষাতাত্ত্বিকদের মত এই যে, মক্কা হল শহরটির মূলনাম আর বাক্কা হল এর ডাকনাম। বাক্কা শব্দটি এসেছে আরবি ক্রিয়াপদ “বাক” থেকে, যার অর্থ “জনাকীর্ণতা”। প্রচুর লোকের সমাগমে ভিড় সৃষ্টি হওয়া, আধুনিক আরবিতে যাকে বলা হয়ে থাকে “আল-ইজদিহাম”। এখন দেখা যাক, সূরা ইমরানে বাক্কা শব্দটি ব্যবহার হয়েছে, যেখানে শব্দের শুরুতে উপস্থিত “বা” ধাতুটির উৎপত্তি “ভিড়” শব্দটি থেকে। এখানে যেই আয়াতগুলো রয়েছে সেগুলো মূলত হজ্জের আয়াত – “ওয়া লিল্লাহি আলান নাসি হিজ্জুল বায়িত”। হজ্জ শব্দটির সাথে কীসের চিন্তা মাথায় আসে? লোক সমাগম, ভিড়। তাহলে হজ্জের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ কোনটি? বাক্কা। কিন্তু সূরা মুহাম্মাদের উল্লেখিত অংশে হজ্জের কোন কথাই নেই, তাই সেখানে এসেছে মূল শব্দটি – মক্কা। সুবহান আল্লাহ! আমাদের জন্য মক্কা, বাক্কা তো একই শব্দ, একটার জায়গায় আরেকটা তো ব্যবহার করাই যায়। শব্দ দুটি একই জিনিসের দুটি ভিন্ন নাম বটে, তবে কুরআনে শব্দ দুটির ভিন্ন প্রয়োগ এর পুঙ্খানুপুঙ্খতার মানদণ্ডে যে মাত্রা যোগ করেছে তা কুরআনের অপ্রতিদ্বন্দ্বীটার আরেকটি প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ যখন কথা বলে তখন এরকম পরিপূর্ণ সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে পারে না। এভাবে সে চিন্তাই করতে পারে...
কুর’আনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ২) – ইয়াসরিব নাকি মদীনা?

কুর’আনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ২) – ইয়াসরিব নাকি মদীনা?

স্ক্রীনে দেখানো দুটো নামই আপনারা জানেন, ইয়াথরিব এবং মদীনা। দুটোই কি একই শহরের নাম? অবশ্যই। কুরআন মদীনা শহরের কথা বলার সময় “মদীনা” শব্দটি বহুবার ব্যবহার করেছে। স্ক্রীনে আপনাদের জন্য অন্তত সেরকম তিনটি আয়াত দেখানো হয়েছে। কিন্তু কুরআন মাত্র একবার “ইয়াথরিব” শব্দটি ব্যবহার করেছে। শুধুমাত্র সুরা আহযাবে, ব্যস! কুরআনের অন্য কোথাও “ইয়াথরিব” শব্দটি ব্যবহার করা হয় নি। দুটোই কিন্তু মদীনারই নাম। তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যেতে পারে, দুটোই তো একই জিনিস, তাই না? তাহলে আমি কেন ইয়াথরিব শব্দটি বদলে মদীনা লিখতে পারি না? অথবা মদীনার না বলে ইয়াথরিব বলি না? তোমরা বারবার বল, কুরআনের শব্দচয়ন পুরোপুরি পারফেক্ট। তোমরা তো জানই ইয়াথরিব আর মদীনা দুটোই একই জিনিস। তাহলে কেন ইয়াথরিবের বদলে মদীনা কিংবা মদীনার বদলে ইয়াথরিব ব্যবহার করা যাবে না? কতটুকুই আর হেরফের হবে তাতে? এই সামান্য পরিবর্তনে কি আসে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাদের ইতিহাসের দিকে একটু তাকাতে হবে। রাসুল (স) মদীনায় আসার আগে মদীনার নাম কি ছিল? ইয়াথরিব। রাসুল (স) আসার পর তাকে যখন সবাই একবাক্যে নেতা বলে ঘোষণা দিল, তখন শহরটার নাম হল “মদীনাতুন্নাবী” বা “নবীর (স) শহর”। সংক্ষেপে “শহর”। তাহলে মদীনা শব্দটি কিসের সংক্ষিপ্ত রূপ? “নবীর (স) শহর” শব্দটির। আর আসল নাম “ইয়াথরিব”। অথবা আপনারা এভাবেও ভাবতে পারেন যে, রাসুল (স) আসার আগে শহরটির নাম ছিল ইয়াথরিব, আর উনি আসার পর এর নাম হল মদীনা। মজার ব্যাপার হল, সুরাতুল আহযাব, সুরা নম্বর ৩৩ এ আসলে মদীনা এবং ইয়াথরিব, দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে, একই সুরাতে। আরও মজার ব্যাপার হল, সুরাতুল আহযাব একটি মাদানী সুরা। মাদানী সুরার ব্যাপারে আমরা কি জানি? রাসুল (স) সেসময় কোথায় ছিলেন? মদীনাতে। তাহলে তখন শহরটাকে কি বলা হত? মদীনা, কিন্তু এখানে আমরা “ইয়াথরিব” শব্দটি দেখতে পাচ্ছি। ধাঁধাঁটা ধরতে পারছেন তো? ব্যাপারটা হল,...
কুর’আনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ১) – শুয়াইব (আঃ)

কুর’আনের ভাষাগত মু’জিযা (পর্ব ১) – শুয়াইব (আঃ)

শুয়াইব (আঃ), আপনারা জানেন তিনি একজন নবী, ঠিক? এখন নবী (আঃ) হিসেবে তাঁর নাম কুর’আনে বহুবারে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওয়া ইলয়া মাদিয়ানা আখা’খুম শুয়াইবা” মাদিয়ানের নিকট আমি প্রেরণ করেছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে (আঃ)। এখন একটা কথা বলে রাখি, কোন জাতির কাছে শুয়াইব (আঃ) কে প্রেরণ করা হয়েছিল? মাদিয়ান.. ঠিক? এখন মাদিয়ান একই সাথে দুটি জিনিস কে বোঝায়, ঠিক আছে? মাদিয়ান দুইটি অর্থ বহন করে। মাদিয়ান একই সাথে একটা জায়গার নাম আবার একই সাথে এটি একটি জাতির নাম। ঐ জাতিটিকে মাদিয়ান বলা হয়, আবার তাদের জায়গা কেও মাদিয়ান বলা হয়। এবং আল্লাহ বলেন মাদিয়ানের নিকট আমি প্রেরণ করেছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে (আঃ)। সূরা শু’রায়, ২৬তম সূরা, আল্লাহ তায়ালা আমাদের বিভিন্ন নবী-রাসূলদের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “Idh qaala lahum akhuhum Lootun; idh qaala lahum akhuhum Saalihun; idh qaala lahum akhuhum Hoodun; idh qaala lahum akhuhum Noohun”- যখন তাদের ভাই নুহ (আঃ) কে তাদেরকে বললো। এর পরের বর্ণনায় আরেক নবীর কথা বলা হয়। যখন তাদের ভাই সালিহ (আঃ) কে বললো, তার নিজের জাতির কাছে। তারপর আসেন হুদ (আঃ)। যখন তাদের ভাই হুদ (আঃ) তাদেরকে বললো। তারমানে সালিহ, হুদ, নুহ এবং লুত (আঃ) – চারজনের বেলায়ই বলা হলো তাদের ভাই, তাদের ভাই, তাদের ভাই। পঞ্চম স্থানে শুয়ায়ব (আঃ) এর কথা বলা হচ্ছে। আল্লাহ বলেন – যখন শুয়াইব তাদেরকে বললো। এখানে তিনি শুধু বললেন “ইয কালা লাহুম শুয়াইবুন” যখন শুয়াইব তাদেরকে বললো। একই সূরায় আগের সব নবীদের সাথে কী বলা হয়েছিল? তাদের ভাই নুহ, তাদের ভাই সালিহ, তাদের ভাই লুত, তাদের ভাই হুদ। কিন্তু যখন শুয়াইব (আঃ) এর কথা বলা হলো তখন বলা হলো শুধু শুয়াইব – এখানে ভাই কথাটির উল্লেখ নাই। আরো মজার ব্যাপার হলো কুর’আনের অনান্য জায়গায় আল্লাহ বলেন “ওয়া...
“আল্লাহ পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি।”

“আল্লাহ পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি।”

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কুর’আনের ভাষাগত সৌন্দর্য: “আল্লাহ কোন পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি।” ————————————- সূরা আল-আহযাব (সূরা নং ৩৩, মদীনায় অবতীর্ণ), আয়াত ৪: مَّا جَعَلَ اللَّهُ لِرَجُلٍ مِّن قَلْبَيْنِ فِي جَوْفِهِ وَمَا جَعَلَ أَزْوَاجَكُمُ اللَّائِي বাংলা অনুবাদে দেয়া আছে: আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। সঠিক অনুবাদ হবে: আল্লাহ কোন পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। কারন لِرَجُلٍ অর্থ পুরুষ, মানুষ নয় (মানুষ হলে স্ত্রী পুরুষ উভয়কে বুঝাত)। ইংরেজী অনুবাদ সমূহ: By Abdul Daryabadi: Allah hath not placed unto any man two hearts in his inside. By Dr. Mohsin: Allâh has not made for any man two hearts inside his body. By Mufti Taqi Usmani: Allah has not made for any man two hearts in his chest cavity. By Pickthal: Allah hath not assigned unto any man two hearts within his body. By Yusuf Ali: Allah has not made for any man two hearts in his (one) body. এবার আসি মুল বিষয়ে। কুর’আনের এই আয়াতের ভাষার স্বচ্ছতা, সূক্ষ্মতা ও সৌন্দর্য বিষয়ে। আয়াতটি ছিল আল্লাহ কোন পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। দেখুন, আল্লাহ যিনি একমাত্র উপাসনা ও আনুগত্য পাবার যোগ্য তিনি সুন্দরভাবে বলেন যে, তিনি কোন পুরুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। এখানে কাকে বাদ দেয়া হয়েছে? নারীকে, তাই না? তিনি যদি বলতেন তিনি কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি, তবে সেটা স্ত্রী-পুরুষ উভয়কে বুঝাত। মানে সবার ক্ষেত্রে কথাটা বলা হতো। কিন্তু আপনি যদি لِرَجُلٍ অর্থ দেখেন, দেখবেন সেটা পুরুষকে বোঝায়, মানে নারী অর্ন্তভুক্ত নয়। গুগুল ট্রান্সলেটে ইংরেজি থেকে এরাবিক দেখতে পারেন- رجل অর্থ man, male, leg, boy, pin, bloke বা যেকোন ভালো আরবী জানা লোক বা ইমামের কাছ থেকেও জেনে নিতে পারেন। এবং সেই...

ইমেইলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকুন



Created by Webfish.

ফেইসবুকে আমরা

YouTube

Message from server: Gone. Check in YouTube if the id nakbangla belongs to a user. To locate the id of your user check the FAQ of the plugin.

Facebook Like

সাথেই থাকুন

 

<—-Facebook & YouTube —->

Youtube Subscriber