নুমান আলী খান বাংলা ভিডিও

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা রিসোর্স আর্কাইভ সিরিজ আকারে নিয়ে এসেছি। এখানে বাংলা ভিডিও (ডাবিং ও সাবটাইটেল) এর একটি রিসোর্স সিরিজ পাবেন শিরোনামসহ সিরিয়াল আকারে। যারা মোবাইলে ভিডিও দেখতে বা ডাউনলোড করতে পারেন না, তারা ভিডিও এর সাথে দেওয়া অনুবাদ পড়তে পারেন।

ইসলাম এবং ইগো (আত্ম অহংকার) পর্বঃ ০২

যখন ইগো-ই মুল সমস্যা। #ইগো কোথা থেকে আসে? আপনার মধ্যে ইগো তখনই জন্মায় যখন আপনি প্রকৃতভাবে আল্লাহর মাহাত্ম্যকে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হন। তখন আপনি আল্লাহকে প্রশংসা করার স্থানে নিজের ব্যাপারে উচ্চধারনা পোষণ করতে শুরু করেন। তখনই এটা শুরু হয়; এটাই এই সমস্যার ভিত্তি গড়ে দেয়। তাই প্রথম যে পয়েন্টটা আমি বলবো ইনশাআল্লাহ তা হল অনেক মানুষই ধর্মের বেশ ধরে থাকে। তাদেরকে দেখে ধার্মিক মনে হয়, তারা ধর্মীয় কথা বলে, তাদের জ্ঞানও আছে। আল্লাহ যেন আমাদের এ থেকে রক্ষা করেন। এটা খুবই গুরুতর সমস্যা। এদেরকে যে মানুষটার দাড়ি নেই তাঁর থেকে বেশী প্র্যাকটিসিং মনে হয়। অনেক বোনদের যেসব বোনেরা হিজাব পালন করেন না তাদের তুলনায় বেশী আল্লাহভীরু মনে হতে পারে। তাদেরকে বাইরে থেকে দেখতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু তাদের মনের মধ্যে ইগো আছে। আপনার ভেতরে অন্যের সামনে নিজেকে মহানরূপে উপস্থাপন করার তাড়না কাজ করে। আপনার মনে হয় যে আপনি বেশী ধার্মিক, বেশী যোগ্য, আপনি অন্যদের থেকে ভালো অবস্থানে আছেন। আর আপনি যদি মনের ভেতর আরেকজন মুসলিমকে ছোট করে দেখেন তাঁর অবস্থা যেমনই হোক না কেন, তাহলে আপনার হৃদয়ে যে জিনিসটা বাসা বেধেছে তা হল ‘কিবর’। অহংকার। আর আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উপদেশ থেকে জানতে পারি যে, যাদের হৃদয়ে সরিষাদানার সমান, অর্থাৎ বলতে গেলে কিছুই না, এমন অণু পরিমাণ অহংকার থাকে তাদের জন্য জান্নাতের দরজা খোলা নেই। তাই আমি যেটা বলতে চাচ্ছি তা হলো, ধরুন একজন মুসলিম খারাপ কাজ করে। হয়তো সে মদ্যপান করে বা যেকোনো ধরনের খারাপ কাজ করে। তাঁর কুকর্মগুলো বাহ্যিক, চোখে দেখা যায়। কিন্তু আপনার খারাপ কাজটা কোথায় ঘটছে? অন্তরের মধ্যে। বাইরে থেকে আপনাকে দেখতে ভালোই লাগে। মনে হয় যে আপনি ঠিকঠাকই আছেন। নিঃসন্দেহে সেই লোকটা তাঁর খারাপ কাজগুলোর কারণে শাস্তিযোগ্য। আপনার খারাপ কাজটাও কি নয়? আর যদিও...

ইসলাম এবং ইগো (আত্ম অহংকার) পর্বঃ ০১

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি এবং কিছুটা আশ্চর্যও হয়েছি আপনারা এতক্ষণ অপেক্ষা করেছেন দেখে আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমার কণ্ঠস্বর কিছুটা ক্লান্ত মনে হতে পারে কারণ আমি আসলেই তাই … আট ঘন্টার টানা লেকচার ছিল কিন্তু আমি ইনশাল্লাহ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত কিছু কথা শেয়ার করব। এটা এমন একটা বিষয় যা এখন আর তেমন আলোচনায় আসে না কিন্তু এর প্রতি আমাদের মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। কোন সন্দেহ নেই যে এই বিষয়ের প্রতি আমাদের নজর দেয়া দরকার ইনশাল্লাহ। আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে চাচ্ছি মুসলিম তরুণদের নিয়ে যারা কোন ধর্মীয় পথের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে পশ্চিমা সমাজে। তাদের মাঝে এক সংষ্কৃতি গড়ে উঠেছে। অনেক সময়ই মুসলিম তরুণরা যে জীবন যাপন করে তাকে বলা যেতে পারে … মনে করুন ‘পার্টিইং’ … ঠিক আছে … এবং তারপর জীবনের কোন এক সময় তারা কোন বিশেষ উপলব্ধির মুখোমুখি হয় এবং দ্বীনের পথে চলতে শুরু করে। এমন প্রচুর ভাই-বোন আছে যারা জীবনের কোন এক সময় পরিবর্তিত মানসিকতার ভেতর দিয়ে যায় এবং তারপর ধীরে ধীরে আরও ধার্মিক হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপর যা হয় তা হচ্ছে, যখন সময়ের সাথে সাথে তারা আরও ধার্মিক হয়ে ওঠে, তারা অনেক বেশি কড়া হয়ে যায় এবং নিজেদের জন্য নিজেরাই কোন শিক্ষক খুঁজে নেয়। সেই শিক্ষক হচ্ছে কখনো কোন মানুষ, কখনো কোন লেকচার সিরিজ, কখনো কোন ওয়েবসাইট, কখনো ব্লগ, কখনো অপরিচিত কোন নাম কিন্তু সেটা যাই হোক না কেন, তারা নিজেদের জন্য একটা জ্ঞানের উৎস খুঁজে নেয় যেটাকে তারা “সঠিক” বলে মনে করে। এর প্রতি তারা খুবই অনুরক্ত হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে যা ঘটতে শুরু করে তা হচ্ছে তারা খুব কঠোর ও অনমনীয় হয়ে ওঠে। তারা লক্ষ্য করতে শুরু করে যে তাদের চারপাশের মানুষরা ঠিক তাদের মতো না।...

আয়াতুল কুরসী – আল কুর’আনের এক অসাধারণ সৌন্দর্য

মিডিয়াফায়ার ডাউনলোড লিংক আয়াতুল কুরসী – আল কুর’আনের এক অসাধারণ সৌন্দর্য আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। উস্তাদ নুমান আলী খান এর কাজগুলো বাংলায় অনুবাদ করে বাংলাভাষী সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার নিয়্যাতে আমাদের এই ফেসবুক পেজের যাত্রা শুরু। আলহামদুলিল্লাহ, যাত্রার শুরুতেই আপনাদের সকলের কাছ থেকে যে বিপুল আন্তরিক অভ্যর্থনা ও দু’আ আমরা পেয়েছি সেটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এর পক্ষ থেকে তাঁর রাহমাহ ও বারাকাহ ছাড়া আর কী হতে পারে! আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজকে আরও অনেক সহজ করে দিন। আল্লাহুম্মা আমিন। ইন-শা-আল্লাহ সামনের দিনগুলোতে আমরা আমাদের কাজগুলো নিয়ে আপনাদের সামনে আসছি। প্রত্যাশা রইলো আপনাদের আন্তরিকতা ও দু’আ আমাদের জন্য সবসময় অব্যাহত রাখবেন। জাযাক আল্লাহু খাইরান...

আখিরাতের জন্য পরিকল্পনা করা

  জানেন, আমরা এটা থেকে কি শিখলাম? কোন কিছুকে বড় করে দেখলেই সেটা বড় ব্যাপার হয়ে যায়। কোন কিছুকে ছোট করে দেখ তাহলেই সেটা সামান্য মনে হবে। জানেন, এই আয়াতে আখিরাতকে বড় এবং দুনিয়াকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।পুরো আয়াতটা এটা নিয়েই। দুনিয়াতে আমরা জীবন যাপন করবো। আমাদের ক্যারিয়ার হবে।আমাদের শিক্ষাগত অর্জন থাকবে।আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই সব কিছুই জীবনে থাকবে।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো এই সব কিছু ক্ষণস্থায়ী। সব কিছুই। একদিন আসবে যেদিন এক জমায়েত হবে।এবং সেদিন তারা নামায পড়বে। আর সেদিন তারা একটা ঘোষণা দিবে।যে একটা জানাযা হবে। এবং এই ঘোষণাটা একদিন হবে আমার জন্য এবং একদিন হবে আপনার জন্য। এটা হতে যাচ্ছে এবং একদিন মানুষ আমাদের জন্য জানাজার নামায পড়বে। এবং ততক্ষনে আমরা চিরকালের জন্য চলে গেছি। এবং এটা শীঘ্রই ঘটবে, দেরীতে নয়। আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের জীবনের অনেকখানি তো ইতোমধ্যেই কেটে গেছে। সুতরাং এমন নয় যে সেই দিনটা থেকে আমরা দূরে যাচ্ছি, বরং আমরা সেই দিনের আরো কাছে পৌছাচ্ছি। তাই যত তাড়াতাড়ি আমরা এটা আত্মস্থ করি যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা তুলনামূলক ভাবে ভালো। কারন যে কোন ভাবেই হোকনা কেন আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। তাহলে আমরা নিজেরা নিজেদেরই উপকার করব । যদি আমরা শুধু এটা শিখতে পারি যে কিভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হয়। যেমনটা আমি বললাম যে আমরা ১০ বছরের পরিকল্পনা করি, ১৫ বছরের পরিকল্পনা করি।কিন্তু আমরা আখিরাতের কথা চিন্তাই করিনা। তাহলে আখিরাতের কথা কিভাবে ভাবা উচিত? কিভাবে আখিরাতের জন্য বাস্তবতা ভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়? আখিরাতের জন্য আমরা ১০ বছরব্যাপী, ১৫ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করিনা। আমরা এর জন্য দৈনন্দিন পরিকল্পনা করি। এটা দীর্ঘ সময়ব্যাপী লক্ষ্য নির্ধারণ করা নয়। এটা আজকের দিনটা আপনি কিভাবে ব্যয় করলেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি তার পরে কি করতে যাচ্ছেন এটা তার...

মানসিক শান্তির সন্ধানে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম [উস্তাদ নুমান আলী খানের কুর’আনিক জেমস (Quranic Gems) সিরিজের ঊনত্রিশতম পর্বের বাংলা ভাবার্থ। দ্রুত অনুবাদ করার কারণে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক। আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুল আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যা কিছু কল্যাণকর তার সম্পূর্ণই আল্লাহ্‌র তরফ থেকে, আর যা কিছু ভুল সেটি সম্পূর্ণ আমার। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমার সেই ভুলগুলো মার্জনা করুন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। আল্লাহ্‌তালা আমাদের সকলকে কুর’আনের আয়াতসমূহ বুঝে পড়ার তৌফিক দান করুন এবং সঠিক মর্মার্থ বুঝে সেই ভাবে জীবনকে পরিচালিত করার মত হিকমাহ, সাহস ও ধৈর্য দিক। আমিন।] সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র; যিনি এই বিশ্বগজতের প্রতিপালক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বার্তাবাহক মুহাম্মদ (সাঃ), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের প্রতি। আল্লাহ্‌ বলেনঃ “প্রকৃতপক্ষে তারাই শান্তি ও নিরাপত্তার অধিকারী এবং তারাই সঠিক পথে পরিচালিত, যারা নিজেদের ঈমানকে যুলমের সাথে (শিরক এর সাথে) মিশ্রিত করেনি।” (সূরা ৬: আল-আন’আম, আয়াত:৮২) এই আয়াতটির পূর্বের আয়াতের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে আমরা ঐ সম্প্রদায়ের মাঝে তুলনা করব যে কারা শান্তি অর্জন করবে। আজ আমরা তাদের নিয়ে আলোচনা করব যারা জীবনে শান্তি অর্জন করবে, অভ্যন্তরীণ শান্তি, আত্মার শান্তি। আমাদেরকে জীবনে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয় – আবেগ, ক্লান্তি, অবসাদ, হতাশা, দুঃখ কষ্ট রাগ দুশ্চিন্তা…… এতসবের মাঝে থেকে কীভাবে আমরা শান্তি অর্জন করব? এই আয়াত থেকে তা শিখব। বিশ্বাস এবং শান্তির মাঝে সম্পর্ক রয়েছে, মানসিক এবং শারীরিক শান্তি। যারা সত্যিকার অর্থে ঈমান এনেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাদের সেই ঈমানের ছদ্মবেশে কোন খারাপ কাজ করেনি তাদের জন্যই আছে শান্তি। (ঈমান অর্থ বিশ্বাস স্থাপন, ছোটবেলা থেকে স্কুলের ধর্ম বইয়ে পড়ে আসছি ঈমান আনা মানে আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস স্থাপন এবং যেহেতু আমরা জন্মগত ভাবে মুসলিম এবং আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি তাই আমরা মনে করি আমরা ঈমান এনেছি। ঈমান আনা বলতে এখানে...

ছেলে এবং মেয়েরা কি শুধু বন্ধু হতে পারে?

মিডিয়াফায়ার ডাউনলোড লিংকঃ দা দীন শো হোস্টঃ আমাদের বলুন, নারী এবং পুরুষ, ছেলে এবং মেয়ে কি বন্ধু হতে পারে? একটা মেয়ে কি এই রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে দেখ আমি ওর সাথে শুধু ঘুরতে যাচ্ছি এবং অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত। শুধু শুধু ওরা ভুল কথা বলে। জানো ও আমার সাথে হাঁটবে। ও আমার সাথে খুবই ভালো আচরণ করে, ও আমার আসলে প্রশংসা ও করে, ও সবসময় আমাকে খুব মিষ্টি করে কথা বলে, ও আসলে খুবই ভালো জানো। আমি ওর সাথে কিছুই করবো না; আমরা শুধু একসাথে ঘোরাঘুরি করবো। এটা কি সম্ভব? নুমান আলী খানঃ এটা হতে পারে না, এটা হচ্ছে তো অবশ্যই। এবং এটা হওয়া উচিৎ নয় তাও সত্যি। দা দীন শো হোস্টঃ কিন্তু ওরা বলছে ওরা শুধুই বন্ধু। ওরা বন্ধুই থাকবে। ছেলে এবং মেয়ে কি শুধু বন্ধু হতে পারে? নুমান আলী খানঃ না। ছেলেরা সেটা খুব ভালো করে জানে। তারা স্বীকার করবে না কিন্তু তারা এটা খুব ভালোভাবে জানে। কখনো কখনো মেয়েরা জানে না এবং এটাই আমাকে আমার বোনদের, মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে যে তারা অনেক সময় পুরুষদের এই পরিকল্পিত ফাঁদটা বুঝতে পারে না। দা দীন শো হোস্টঃ পুরুষদের পরিকল্পিত ফাঁদ? নুমান আলী খানঃ হ্যাঁ। তো আমরা দেখা করছি কারণ জানেন তো আমরা ল্যাব পার্টনার অথবা আমরা স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছি, MSA, সম্মেলন, আমরা ইসলাম নিয়ে আলোচনা করছি এবং এইসব বোনেরা অনেক সময় এসবের আড়ালের পুরোটা দেখতে পান না এবং আমাদের বোনদের মধ্যে আসলে সচেতনতার এবং সাবধানতার মাত্রা বাড়াতে হবে। যাতে তারা…আপনাকে পুরুষদের সাথে মতবিনিময় করতে হবে, এটা হবেই, ব্যবসা ক্ষেত্রে, স্কুলে, কর্ম ক্ষেত্রে এটা হবেই। আপনার মতবিনিময় হবেি কিন্তু কিছু গাইডলাইন আপনাকে মানতে হবে যাতে তা অস্বাস্থ্যকর না হয়ে স্বাস্থ্যকর হয়। আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস...

আল্লাহর রাস্তায় অগ্রসর হও

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।” আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি আল্লাহ্‌ সুরা তওবা-র ৩৮ নং আয়াতে বলেছেন “ইয়া আইয়ুহাল্লাজ্বীনা আমানূ” – যারা নিজেদের বিশ্বাসী বলে দাবী কর, “মা লাকুম” -তোমাদের কী সমস্যা? “ই’জা ক্বীলা লাকুমুনফিরূ ফী সাবীলিল্লাহ” তোমাদেরকে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌র পথে এগিয়ে যাও “সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” তোমাদের পা হিঁচড়ে যায়। তোমরা মাটিতে গেঁড়ে যাও। ভাবুন এমন যে কারো পা বালিতে গেঁড়ে গিয়েছে। এবং সে তার পা টেনে হিঁচড়ে চলার চেষ্টা করছে এবং সে এগুতে পারছে না- আল্লাহ্‌ এই দৃশ্যের কথা বলছেন। “ইস সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” আল্লাহ্‌ কেন এই দৃশের কথা বলছেন? আমি এই আয়াতটি বেছে নিয়েছি বিশেষত আমাদের তরুণদের জন্য। রমজান মাসে তোমরা দেখিয়েছ তোমরা রোযা রাখতে সক্ষম, তোমরা অনেক বদ-অভ্যাস থেকে বিরত থাকতে পারো যেসব থেকে তোমরা ভেবেছিলে তোমরা বিরত থাকতে পারবে না, তোমরা সময়মত উঠে নামায পড়তে পারো, তোমরা অ-নে-ক কিছু করতে সক্ষম; এইজন্য নয় যে এটা রমজান মাস এবং এমাসে তোমরা সুপার হিউম্যান হয়ে যাও বরং আল্লাহ্‌ তোমাদের সেই সামর্থ্য দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ্‌ খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করলেন, যখন তোমাদেরকে সামনে আসতে বলা হয় এবং তোমরা তা করতে সক্ষম তখন তোমাদের পা টান দাও, এটা কেন?” “সাকালতুম ই’লাল আ’রদ্ব” এবং এই প্রশ্নটি করা হয়েছে বিশ্বাসীদের, বিশ্বাসীদের প্রশ্ন করা হয়েছে, “আ’রাদ্বীতুম বিল হায়াতিদ দুনিয়া মিনাল আখিরাহ” তোমরা কী আখিরাতের পরিবর্তে এই পার্থিব জীবন নিয়ে পরিতুষ্ট? আল্লাহ্‌ এই প্রশ্ন করেছেন বিশ্বাসীদের। আল্লাহ্‌ যেন বলছেন, যারা বিশ্বাসী নয় তারা তো অবশ্যই এই পার্থিব জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট কারণ তাদের কাছে এর পরবর্তী জীবনের কোন ধারণা নেই। তোমরা বিশ্বাসী, আমি তোমাদের জান্নাতের...

কিভাবে বুঝব শাস্তি না পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা?

যখন কোন একটা বিপদ তোমাদের উপর বর্তায় (উহুদের যুদ্ধকালীন) যদিও তোমরা এর আগে (বদরের যুদ্ধে শত্রুদের মাঝে) এর চেয়ে ও দ্বিগুণের মাঝে পরিবেষ্টিত ছিলে তোমরা বল, “এগুলো কোথা থেকে এলো?” বল, “এগুলো তোমাদের থেকেই এসেছে”। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছু করতে সক্ষম। (৩-১৬৫) আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলী আমি সুরা আল ইমরানের ১৬৫ নাম্বার আয়াত আপনাদের সাথে খুব সুনির্দিষ্ট একটু উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে চাই। অনেক মানুষই প্রশ্ন করেন কেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে কঠিন সময়ে ফেলেছেন এবং এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। ওনারা জানতে চান কি এমন ওনারা করেছেন যে এইরকম কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। এবং কখনো কখনো মানুষ এটাও বলে, যখন খারাপ কিছু হয়, এটা হয়েছে কারণ, “আমি কিছু খারাপ কাজ করেছি, কারণ এটা আমারই ভুল নয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরকম ইচ্ছা করেছেন আমার পরীক্ষা নিতে। আমি কিভাবে বুঝবো কোনটা আসল কারণ?” আবার কিছু মানুষ আছে যারা যখনই তাদের উপর কোন বিপদ আসে, তারা নিজেদেরকে এর জন্য দোষারোপ করে। তারা শুধু বলে, “আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ন্যায়বান… নিশ্চয়ই আমিই কিছু অন্যায় করেছি, আমি নিশ্চয়ই আমার পিতামাতার সাথে খারাপ আচরণ করেছি অথবা অন্য কিছু, এবং এই কারণে আমার গাড়ী এক্সিডেন্ট করেছে অথবা অন্যকিছু”। তারা অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান জগতে মনোযোগী হয়। এখন কিছু আয়াত আছে যা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে, একদিকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, যেমন এই আয়াতে, আওয়া লাম্মা আসাবাকতুম মুসীবাতুনক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা যখন উহুদের যুদ্ধে মুসলমানেরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছিলো, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, “যখন তোমরা কোন বিপর্যয়ে আক্রান্ত হও, যেরকমটি তোমাদের শত্রুদের থেকে আগে ও এসেছে এবং তোমরা পরাহত করেছ” (ক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা) “আগের বছরই এরচেয়ে দ্বিগুণ ক্ষয়-ক্ষতি তোমরা তোমাদের শত্রুদের করেছ”। ক্বুলতুম আন্না হাথা তোমরা বললে, “এটা কীভাবে সম্ভব? আল্লাহ কী করে এরকম...

কুর’আন কি এই যুগে অচল?

●| প্রশ্নঃঐসব লোকদেরকে আপনি কী বলবেন, যারা বলে, কুর’আন একটি আদি আমলের বই যার কিনা আধুনিক যুগে কোনো দরকার নেই ? ●| উত্তর দিচ্ছেন নুমান আলী খানঃ আমি আপনাদের সাধারণ কোন উত্তর দিচ্ছি না বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দিচ্ছি। যখন আমি কলেজে ছিলাম, একটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ২ বছর আমি নাস্তিক ছিলাম, ২ বছর! একদম পরিপূর্ণ, নিখাদ নাস্তিকতা। ফিলোসফি (দর্শন) নিয়ে আমি একদম ডুবে ছিলাম। আর আপনি জানেন কেন তরুনরা ফিলোসফিপড়ে? কারণ তাদের ধর্মের প্রতি এলারজী আছে। এটাই হল ভিতরকার কাহিনী। তারা দর্শন পড়ে যাতে করে তারা আরও হাতিয়ার পায়, যা দিয়ে তারা আক্রমণ করে সেই সব মানুষকে, যারা কোনো একটা ধর্ম অনুসরন করে। ধর্ম নিয়ে আমার নিজের যত দার্শনিক সমালোচনা ছিল, সবগুলোই ধ্বংস করে দিয়েছে কুর’আন। সবগুলোই। আমার আর কিছুই বাকি ছিল না। একটাও না। যখন কেউ বলে কুর’আন হল আদি আমলের, এবং তা আমাদের সময়ের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান দেয় না তাদের প্রতি আমার একমাত্র জবাব হল, আপনি কুর’আন পড়েননি। এটাই আমার একমাত্র জবাব। আপনি পড়েননি। আপনি জানেন না এটি কী বলছে। অথবা, আপনি মনে করছেন যে, আপনি পড়েছেন। যেমন, আমার এক পাদ্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যে আমাকে বলছিল, “আমি কুর’আন পড়েছি।” আমি বললাম, “না আপনি পড়েননি। এটা কি আপনি পড়েছিলেন?” “এই অংশটা কি আপনি পড়েছিলেন? না, আপনি পড়েননি।” সে আমাকে বলছিল, “কুরআনে কোথাও বলা নেই যে গড হল ভালোবাসার প্রতীক। আমাদের কাছে গড হল ভালোবাসা।” তাই?? “ওয়া হুয়া গফুরুল ওয়াদুদ”- সুরাতুল বুরুজ। যে তিনি ক্ষমাশীল, স্নেহময়, যিনি অত্যাধিক ভালোবাসেন। আর সে হেটে চলে গেল… কী পড়েছেন আপনি! সত্যি আমার আর কোনো জবাব নেই যে, আপনি কুরআনকে কোনো সুযোগ দেননি। আপনি অন্যান্য ধর্মের সাথে একে মিশিয়ে ফেলেছেন, যাতে লোকাচার আছে, কল্পনা আছে, আছে কুসংস্কার। আর আপনি...

সততাই তাকওয়ার পথ

আজকের ছোট রিমান্ডারে আপনাদের সাথে আমি সুরা আল-ইমরান ৭৬ নং আয়াত-এর শিক্ষা শেয়ার করতে চাই। আল্লাহ্‌ আজ্ব ওয়া জাল এখানে খুব সুন্দরভাবে আমাদের কাছে তাঁর একটি প্রত্যাশা ও এর সাথে ত্বাকওয়ার ধারণা ও এ দুয়ের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করেছেন। আমরা সবাই শুনেছি, আল্লাহ্‌র স্মরণ, আল্লাহ্‌ ভীতির কথা এবং আল্লাহকে অখুশী করা থেকে নিজেদের রক্ষা করার কথা কোরআনে আল্লাহ্‌ ত্বাকওয়ার কথা বলেছেন বিভিন্নবার। আমি সুনির্দিষ্ট ভাবে এই আয়াতটি শেয়ার করতে চাই কারণ রমজানের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে; আল্লাহ্‌ নিজে বলেছেন, “লা’আল্লাকুম তাত্বাক্বুন” – যাতে তোমরা ত্বাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। যাতে তোমরা আল্লাহ্‌র সম্পর্কে সচেতন হতে পারো। এবং আল্লাহ্‌ যে সীমারেখা অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন সে সীমারেখা অতিক্রম করা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারো। এটা হচ্ছে ত্বাকওয়া এবং এই হচ্ছে রমজানের লক্ষ্য। এই আয়াতটি বিপরীতমুখী। এর আগের আয়াতটি দীর্ঘ এবং এতে আল্লাহ্‌ বলেছেন, কিতাবীদের কিছু মানুষকে(আহলে কিতাবীদের) যদি তুমি এক টাকা বিশ্বাস করে রাখতে দাও তারা তোমাকে তা ফেরত দেবে না, আবার তাদের মধ্যে এমন ও আছে যাদের তুমি যদি পাহাড় সমান সম্পদ রাখতে দাও তারা তোমাকে পুরোটাই ফেরত দেবে, এর মানে হলো তুমি তাদেরকে অনেক বিশাল অর্থ দিয়েও বিশ্বাস করতে পারো, তোমাকে ওসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না, এবং এরা হচ্ছে ইহুদী, খ্রিষ্টান সমাজ এবং এরা প্রতারক ও(Con-Artist)- তো এরা দুটোই। তো এদের সবাইকে একভাবে বিচার করবে না, ওদেরকে অতিরিক্ত বিশ্বাস ও করবে না আবার অতিরিক্ত সন্দেহের চোখে ও দেখবে না, ওগুলো সবই একক আলাদা ঘটনা। এরপর আল্লাহ্‌ বলছেন, “বালা মান আওফা বি’আহদিহী অত্তাক্বা ফাইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুল মুত্তাক্বীন” যারাই প্রতিশ্রুতি পুর্ণ করবে তারাই ত্বাকওয়ার প্রমাণ দেবে। এই আয়াত অনুযায়ী ত্বাকওয়া মানে হলো অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করা। আমরা ভাবি ত্বাকওয়া হলো আধ্যাত্মিক ব্যাপার, যা আল্লাহ্‌র সাথে আরো একাত্ম করে, যত বেশি প্রার্থনা করবেন,...

রাগকে নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم فَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ অতএব, তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে। وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে, সুরা আস শূরা আয়াত ৩৬ ও ৩৭ সকল প্রশংসা আল্লাহর। তার রসুল(স) এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আবারও কুরআন উইকলিতে, একটি ছোট্ট দৃষ্টি আকর্ষনী। গতবার ৪-৫ মিনিট বলেও ৭ মিনিট সময় নিয়েছিলাম। এবার কি করব জানি না। আমি সংক্ষিপ্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আল্লাহর নামে শুরু করছি। আজকে আমি আপনাদের মেজাজ ও রাগ নিয়ন্ত্রন সম্পর্কে বলতে চাই। কিন্তু আমি নিজের কোন মনগড়া বক্তব্য দিতে চাই না। বরং আল্লাহ্‌ কিভাবে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ব্যাপারগুলোকে সংশ্লিষ্ট করেছেন তাই উপস্থাপন করবো। যেন আপনারা একেবারেই ভিন্ন এবং নৈর্ব্যক্তিক আঙ্গিকে ব্যাপারটি চিন্তা করতে পারেন। প্রথমত, আল্লাহ্‌ বলেছেন… “তোমাদের এই দুনিয়াতে যা কিছু দেয়া হয়েছে সবকিছুই পার্থিব জীবনের ব্যবহার্য সামগ্রী,” অন্য কথায়, এগুলো তাৎপর্যহীন, আখিরাতের জীবনে যা আসছে তার কাছে এগুলো কিছুই না। এবং আমরা এ গুলো নিয়েই পড়ে আছি। আমরা মনে করি যখন আমরা কিছু পাই বা হারিয়ে ফেলি অথবা খারাপ কিছু ঘটে, এটাই বুঝি দুনিয়ার সবকিছু। এখানেই দুনিয়ার শেষ নয়। আপনাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে ব্যবহার্য সামগ্রী- “মা-তা’হ”। “মা-তা’হ” অর্থ “এমন কিছু যা আপনি ব্যবহার করেন কিন্তু উপভোগের প্রয়োজন নেই”। প্রাচীন আরবরা “মা-তা’হ” নামে একধরনের ব্রাশ বাসন মাজতে ব্যবহার করতো। এমন জিনিস যা...

যারা আল্লাহ তাআলাকে অপমান করে (নাউযুবিল্লাহ)

আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি। আমরা এখন একাদশ পারায় আছি এবং এটা ১০ম সূরা, সূরা ইউনুস এর ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াত। আমি ৬৫ নং আয়াতটিই বিশেষভাবে আলোচনা করতে চাচ্ছি। আর তাদের কথায় দুঃখ নিয়ো না। আসলে সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহর। তিনিই শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। জেনে রেখো,আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আর যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে (নিজেদের মনগড়া) কিছু শরীকদের ডাকছে তারা নিছক আন্দাজ ও ধারণার অনুগামী এবং তারা শুধু অনুমানই করে। এই ১০ম সূরায় আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূল (সাঃ)-কে বলেছেন-(ওয়া লা-ইয়াহযুনকা কাউলুহুম) অর্থাৎ তারা আপনাকে যা বলে তাতে আপনার দুঃখ পাওয়া উচিত নয়। তাদের কথায় আপনি কষ্ট পাবেননা। আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে এই আয়াতে বলা হয়েছে যে রাসূল (সাঃ) এমন কিছু শুনবেন যাতে তাঁর দুঃখ পাওয়াই স্বাভাবিক। তাই আল্লাহ বলেছেন- ওসব কথায় নিজেকে কষ্ট পেতে দিবেন না ; আপনাকে তাদের কথার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে হবে। কারন আপনি তাদের কথায় নিজেকে আঘাতপ্রাপ্ত হতে দিলে তারা আপনাকে হতাশ করে ফেলবে এবং আপনি আপনার কাজ সঠিকভাবে করতে পারবেন না। আপনাকে তো ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে- যে বাণী আশার, আশাবাদী হওয়ার, যে বাণী পুনরায় মানুষকে তার জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে নিতে দেয়। আপনিই যদি হতাশ হয়ে পড়েন তাহলে মানবতা কি করে তার প্রেরণা খুঁজে পাবে?কিভাবে তারা পাবে কর্মস্পৃহা?সুতরাং তারা কি বলে এতে আপনি প্রভাবিত হবেন না। আর যদি আপনার মনে হয় যে এটা, তার যা বলে তা, অপমানকর- আপনার জন্য বা ইসলামের জন্য বা আল্লাহ্‌র জন্য, তবে জেনে রাখুন (ইন্নাল ইজ্জাতা লিল্লাহি জামিয়া)-কোন সন্দেহ নেই যে কর্তৃত্ব, সম্মান, মর্যাদা আল্লাহ্‌রই, এর সবগুলোই। সকল মর্যাদা, সকল কর্তৃত্ব, সকল সম্মান। কখনো এটা চিন্তা করবেন না যে আল্লাহ্‌কে অসম্মানিত করা যেতে পারে। তা তো অসম্ভব কারণ আল্লাহ্‌ই এর মালিক। যেহেতু আল্লাহ্‌ই এর মালিক তাই...

পর্নোগ্রাফী আপনার আত্মাকে ধ্বংস করে দিবে

HTML Editor – Full Version এরপর আল্লাহ গুরুতর বিষয়টি নিয়ে বলেন। আর এই বিষয় নিয়ে বলেই আসলে আমি আমার কথা শেষ করতে চাচ্ছি। যদিও আরও অনেক কিছু নিয়েই বলা যেত। কিন্তু এই বিষয়টিকে আল্লাহ এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে বলার মত নয়! ঠিক যেভাবে, ৩টি আয়াত রয়েছে, “শেষ-বিচারের দিন” নিয়ে। এখন পাচ্ছি, وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ  إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ (সুরাহ মাআ’রিজঃ আয়াত ২৯-৩১)   ৩টি আয়াত, একই বিষয় নিয়েই, আবারও! একমাত্র অন্য আরেকটি বিষয় যা নিয়ে ৩টি আয়াত এসেছে, কী সেটা? এই তালিকায়, একমাত্র আর কোন বিষয়ে ৩টি আয়াত রয়েছে? –“শেষ-বিচারের দিন”। “শেষ বিচারের দিন এবং শাস্তি”। আর এরপর, পরবর্তী যে বিষয় নিয়ে ৩টি আয়াত এসেছে, জানেন কী সেটা? -“বেহায়াপনা”! আর তাদের কথা, যারা কীনা নিজেদের লজ্জাস্থান কে হেফাজত করে। আমরা বর্তমানে বাস করছি চুড়ান্ত নির্লজ্জ এক পৃথিবীতে। এমন এক পৃথিবী, যেখানে আপনার হাতের মুঠোফোন দিয়েই যেকোন ওয়েবসাইট থেকে যেকোন ভিডিও চালানো যায় অনায়াসেই! পর্নোগ্রাফী ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে একটি মাল্টি-ট্রিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি!যার উদ্দেশ্য এবং কাজই হল আপনাদের প্রত্যেকেই যেন, কোন না কোনভাবে এসব নোংরামীর ভোক্তা হন, সেটা নিশ্চিত করা। এবং প্রতিটা নারী-পুরুষ ও শিশুর সামনে এইগুলো যেন উন্মোচিত হয়। আর তারা আশা করে আপনিও দেখবেন, আসক্ত হবেন এবং পরিণত হবেন আরও একজন ভোক্তায়! এটা…এটাই হল আমাদের সমাজকে দেয়া পর্নোগ্রাফীর উপহার।এটা তৈরী করছে অমানুষ, মানুষকে পরিণত করছে পশুতে, যৌনবিকারগ্রস্ত মানুষে। এবং আপনাদের মধ্যেই দূর্ভাগ্যক্রমে কারও কারও এই আসক্তি রয়েছে এবং আপনারা এসব জঞ্জাল অনলাইনে দেখছেন। আপনারা দেখেন আবার নিজেদের বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইস বা অ্যাপ এ সেইভ করে রাখেন এবং এই নিয়ে আপনাদের ভিতরে আর খারাপও লাগেনা। কেননা আপনারা নিজেরাই মনেমনে নিজেদের জন্য এগুলোকে গ্রহনযোগ্য ধরে নিয়েছেন। হয়ত...

আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী জীবন যাপন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম [উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে অনুবাদ] “আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং যা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, পুরোপুরি পালন করত, তবে তারা উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে (অর্থাৎ আসমানী বরকত এবং ভূ-গর্ভের নেয়ামত) ভক্ষণ করতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোক মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং অবশিষ্ট বেশিরভাগ লোকই মন্দ কাজ করে যাচ্ছে।” আজকের আলোচনায় সূরা মায়িদাহ এর ৬৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “ওয়া লাও আন্নাহুম আক্বামুত তাওরাতা ওয়াল ইঞ্জিল” – যদি ঐ লোকেরা তাওরাত এবং ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করত (পুরোপুরি মেনে চলত)… আল্লাহ এখানে সেই সময়ের ইহুদি এবং খ্রীস্টানদের কথা বলছেন। তাদের উপর তাওরাত এবং ইঞ্জিল নাজিল হয়েছিলো… যদি তারা সেই কিতাব মেনে চলত, “ওয়া মা উনঝিলা ইলাইহিম মিন রাব্বিহিম” – এবং অন্যান্য যেসব কিতাব তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে নাজিল করা হয়েছিলো সেগুলো মেনে চলত, “লাআকালু মিন ফাউক্বিহিম ওয়া মিন তাহতিহিম” – তাহলে তারা তাদের উপর থেকে আর তাদের নিচ থেকে আহার পেতো। আল্লাহ বলছেন, যদি তুমি কিতাব প্রতিষ্টা কর, তাহলে শুধু জান্নাতেই সুখী জীবন পাবে না…যে বিষয়ে আগের আয়াতে ৬৫ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে, বরং এখানেও সুখী জীবন পাবে। তুমি উপর থেকে আর নীচ থেকে আহার পাবে। বিষয়টা এমন না যে আল্লাহর কিতাব মেনে চললে সবকিছু হারাতে হবে। অনেক মানুষ মনে করে যদি তারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী জীবন ধারণ করে তাহলে সে জীবন হবে দুর্বিষহ। জীবনে অনেক কিছু তাদের হারাতে হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, হায় যদি তোমরা জানতে! আমি আসমানের রিযিকের দরজা খুলে দিতাম, জমিনের রিযিকের দরজা খুলে দিতাম। তোমরা শুধু সেসব ভোগ করতে, তোমরা বিলাসী জীবন পেতে… শুধু কী করতে হবে? মাত্র একটা জিনিসই করতে হবে – আল্লাহ’র কিতাব মেনে চলতে হবে। সুবহানাল্লাহ! “মিনহুম উম্মাতুন মুক্বতাসিদাহ ওয়া কাছিরুন মিনহুম সাআ...