বাংলা নোটসমূহ

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা নোটসমূহের আর্কাইভ করছি

আমাদের ধর্ম কি অন্ধ অনুসরণ করতে বলে?

একটা বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা হয়তো শুনেছেন – কুরআন বলেছে – মানুষের মাঝে এমন অনেকে রয়েছে যারা নবীদের প্রতি বিশ্বাস আনেনি কারণ তারা বলেছে – আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করবো। আপনাদের মনে আছে সেটা? আমরা নবীদের মেনে নিব না কারণ আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করি। তাই আমাদের কোন চিন্তা ভাবনা করার দরকার নেই। আমাদের পূর্বপুরুষরাই সব চিন্তা ভাবনা করে ফেলেছে। তারা যা-ই করেছে, তারা ছিলেন আমাদের চেয়ে বয়স্ক, আমাদের চেয়ে বিজ্ঞ তাই তারা যা করেছে তা অবশ্যই সঠিক ছিল। তাই আমরা কেন তাদের কাজ কর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করবো? এটাই কি তাদের চিন্তা পদ্ধতি ছিল না? এখন আপনি যদি এমন ভাবেন যে, আমার পিতা মাতা কী করতো, আমার দাদা-দাদী কী করতো বা আমার প্রপিতামহ কী করতো তাহলে এটা তো খুবি অসম্মানজনক। এটা অসম্মানজনক। তাদের কার্যকলাপকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়। আমার দায়িত্ব হলো শুধু অনুস্মরণ করা। কিন্তু আপনি যদি ইব্রাহিম (আ) এর প্রতি বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি কখনো এমন হতে পারেন না। কারণ তাঁর গোটা জিন্দেগী ধরে তিনি শুধু প্রশ্ন করার কারণেই ঝামেলায় পড়েছেন। তিনি কখনোই প্রশ্ন করা বন্ধ করেন নি। তিনি কি তাঁর পিতাকে প্রশ্ন করেছিলেন? হ্যাঁ। তিনি কি রাজাকে প্রশ্ন করেছিলেন? “ইব্রাহীম যখন বললেন, আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি। ইব্রাহীম বললেন, নিশ্চয়ই তিনি সুর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” তিনি রাজাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি তাঁর পিতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি তাঁর সমাজকে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি এমনসব প্রশ্ন করাতে বিপদে জড়িয়ে পড়েন। ইব্রাহিম (আ) কোন জবাব গ্রহণ করেননি যতক্ষণ পর্যন্ত না জবাবের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, যতক্ষণ না কারণ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না এটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।...

প্রাইভেট সেক্টর এবং একাডেমিয়ার গুরুত্ব

[বক্তব্যটি আমেরিকার প্রেক্ষাপটে দেয়া হয়েছে] আপনার দৈনন্দিন জীবনে সরকারের প্রভাব কতটুকু? আমি জানি, আপনি সরকারকে প্রতি বছর ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারটি আপাতত একপাশে রেখে যদি আপনার প্রাত্যাহিক জীবনের কথা ভাবেন, তাহলে আপনার উপর সরকারের প্রভাব কতটুকু? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এই দেশে মানুষের মূল ভাবনা হলো ফ্যাশন সচেতনতা, জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা, মন-মানসিকতা ইত্যাদি। আপনারা জানেন, এসবের পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। প্রাইভেট সেক্টরের প্রভাবেই এসব বিষয়ে মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে। এগুলোর পেছনে আছে বিনোদন জগত, একাডেমিয়া এবং বড় বড় করপোরেশনগুলো, যারা আমাদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করছে, বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এমনকি মেডিক্যাল রিসার্চসহ বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অর্থায়নকৃত সকল ধরনের গবেষণা প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, আপনার দৈনন্দিন জীবনকে যেসব বিষয় প্রভাবিত করে তার বেশিরভাগই সরকারী নয়, বেসরকারী খাতের উদ্যোগ। এই ব্যাপারটি বুঝতে পারলে আমাদের এখন কী নিয়ে চিন্তা করার কথা? আমরা যদি সত্যিই এই সমাজকে আমাদের আদর্শে পরিচালনা করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে কীসের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে? বেসরকারী খাতের। এটি একটি অবাধ ক্ষেত্র। অথচ মুসলমানরা এখনো এই সেক্টরে কাজ শুরুই করতে পারেনি। মিডিয়াতে কয়জন মুসলমান আছে? বর্তমানে মিডিয়া সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে মিডিয়া। মিডিয়া প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মুখে পর্যন্ত ঠেলে দিতে পারে। মিডিয়া জনমানসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ‘ওমাবা একজন মুসলিম’ – এ ধরনের চটকদার ও বিপজ্জনক গুজব মিডিয়াই ছড়াতে পারে পারে। এসব করেও তারা পার পেয়ে যায়। কারণ, মিডিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী। তারপর একাডেমিয়ার কথা ধরুন। এই সমাজের যারা নেতা, তাদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। একাডেমিয়া জগতে কয়জন মুসলমান আছে? কয়জন মুসলিম নৃবিজ্ঞানী, রাজনীতি বিজ্ঞানী কিংবা ইতিহাসবিদ রয়েছে? এসব ক্ষেত্রে আমাদের পদচারণা নেই বললেই চলে। আমরা এ দেশে আসছি এবং ভাবছি, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই বুঝি জীবনের সফলতা। তা...

একজন বিশ্বাসীর রাত্রিযাপন (১ম পর্ব)

মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্য রাতের সময়টা স্পেশাল। একটা বিষয় মনোবিজ্ঞানীরা প্রায় বলে থাকেন – রাতের সময়টা হলো আধ্যাত্মিক সময়। এই সময়টাতে মানুষ তার নিজের মনের অনেক কিছু শেয়ার করতে চায়। তারা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ থাকে। ইসলাম কী করে, ইসলাম এই সময়টার সুযোগ গ্রহণ করতে বলে। অন্যরা যখন বিভিন্ন পাপ কর্ম করে এই সময়টা কাটায়, বিশ্বাসীরা তখন এই আধ্যাত্মিক, এই আবেগময় সময়টা তাদের রবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত করে। স্কলাররা প্রায় বলে থাকেন, রাতের কাজ একজন ব্যক্তির ভালোবাসার সাক্ষ্য দেয়। সুতরাং, মানুষ যে বিষয়টা বেশি ভালোবাসে, সাধারণত সে বিষয়টা রাতের জন্য উৎসর্গ করে। যাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো, মৌজ মাস্তি করা, যতবেশি সম্ভব আনন্দ লাভ করা, তারা তাদের রাতের সময়টা এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যয় করে। অন্যদিকে, যদি একজন ব্যক্তির একমাত্র লক্ষ্য হয় আখেরাত এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, তাহলে তিনি তার রাতের সময়টা এই আখেরাত পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ব্যয় করবেন। এবং তার রাতের সময়টা আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ ۗ – “কিন্তু যারা মু’মিন আল্লাহর সঙ্গে তাদের ভালবাসা প্রগাঢ়।” ইমাম হাসান আল বসরী (র)…. আমি প্রায়শ ইমাম হাসান আল বসরী (র) এর উদৃতি দিয়ে থাকি। কারণ তিনি ইসলামের দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষ, একজন তাবেয়ী। তিনি আমাদের আধ্যাত্মিক দিকের উপর বেশ গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি মনে করি, তাঁর কথাগুলো যদি আমাদের সময়ে আমরা পালন করি, তাহলে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারবো। তো, এই মহান ইমাম হাসান আল বসরী (র) কে কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করেন – ” কেন আমরা ক্বিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারি না? তারা আরো বলেন – ” আমরা রাতে নামাজ পড়তে উঠার জন্য অনেক চেষ্টা করি, কিন্তু আমাদের জন্য এটা অনেক কঠিন মনে হয়।” তখন তিনি জবাবে বলেন – ” তোমাদের পাপের কারণে এবং...

দুঃখ শোকে হতাশ হয়ে পড়বেন না ; আল্লাহ আপনার কষ্টের কথা জানেন

ই পৃথিবীতে আপনি কখনই পরিপূর্ণ সুখী হতে পারবেন না। আল্লাহ সুব হানাহু ওয়া তায়ালা আপনাকে যত কিছুই দান করুক না কেন? আপনি কখনই সত্যিকার অর্থে পরিতৃপ্ত হবেন না। এই দুনিয়াকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে এটা আপনার হৃদয়কে ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে। এটাকে নকশা করা হয়েছে এভাবেই। আপনি যদি দুনিয়ায় সুখী হওয়ার প্রত্যাশায় থাকেন, আপনি আসলে ভুল জায়গায় আছেন। আমার প্রিয় ভাইয়েরা, কিভাবে নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে পারেন? আমার প্রিয় বোনেরা, কিভাবে নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে পারেন? আপনি তো লাত, ওজ্জার দাস নন। অথবা ঈসা (আঃ), কৃষ্ণ বা গণেশ এর দাস নন। আপনি তো ফ্যাশন বা অর্থের দাস নন। অথবা খ্যাতি, সৌন্দর্য, ক্ষমতা বা পদবির দাস নন। আপনি আল্লাহর দাস, আল্লাহর গোলাম। বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের মাঝে আল্লাহ আপনাকে পছন্দ করেছেন। আল্লাহ আপনাকে পছন্দ করেছেন আর ইসলামের মাধ্যমে মহিমান্বিত করেছেন। দুঃখ-বেদনা একমাত্র তখনি নেতিবাচক হয়, যদি এটা আপনার এবং আল্লাহ সুব হা নাহু ওয়া তায়ালার মাঝে বাধার দেয়াল তৈরি করে। আর দুঃখ-বেদনা তখন ইতিবাচক হয়ে উঠে, একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠে যখন এটি আপনাকে আল্লাহ সুব হানাহু ওয়া তায়ালার নিকটবর্তী করে তোলে। ”ও আমার প্রিয় বান্দাহ! তোমার প্রভুর নিকট ফিরে আস।” ও আমার প্রিয় দাস! এটি তোমার জন্য একটি স্মরণিকা এজন্য যে আমি তোমাকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনতে চাই। ‘’তাদের উপর কোন ভয় নেই আর তারা দুঃখ ভারাক্রান্তও হবে না।” এখনো ঘটেনি এমন কিছুতে মানসিকভাবে আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়বেন না, এটা হল ভয়। আবার ঘটে যাওয়া কোন দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গেও পড়বেন না। সবকিছুই আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত। মুসলমানদের জন্য দ্বীনের যে বিষয়টি মেনে নেয়া সবচেয়ে কঠিন – আমাদের দ্বীনের ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদ – তা হল ”আল্লাহর কদর”। আমরা এটা স্বীকার করতে চাই না। আমরা আল্লাহর ক্ষমতার কথা ভুলে যাই। আমরা আল্লাহর উপস্থিতির কথা ভুলে যাই। আমরা ভুলে...

ইসলামের অত্যাবশ্যকীয় উপাদানসমূহ

আমরা কাউকে অপছন্দ করি, কাউকে ভালোবাসি। ঠিক বিপরীত বিষয় এদুটি। এভাবে আপনি যে আল্লাহর প্রিয়, আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসে কিনা সেটা বুঝতে পারলেই উপলব্ধি করতে পারবেন। ইসলাম কেবল হানাফি-সালাফি নিয়মনীতি না – এজন্য আপনার ফিকহের সাথে না মিললেই আরেকজনের মসজিদ ধ্বংস করে দিবেন যেখানে আল্লাহর জন্য সিজদা করা হয় – না এইটা ইসলাম না। ফিকহটা আপনার, কিন্তু সেই মসজিদে যে সিজদা করা হয় সেইটা আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য। আবার আপনি বিশুদ্ধ জিনিসের দাওয়াত দিবেন কিন্তু বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে দিবেন না সেইটাও ইসলাম না। আপনি সারা জীবন নামাজ পড়বেন, কিন্তু কোনো এক বা দুইজনের প্রতি জুলুম করেছেন, আল্লাহর অন্য সৃষ্টির উপর জুলুম করেছেন সেজন্য আপনার সমস্ত জীবনের ইবাদাতই শেষ হয়ে যেতে পারে। কারণ আপনি আল্লাহর ভালোবাসার ঠিক বিপরীত একটা দুইটা চরম কাজ করেছেন। আপনি প্রচুর ইসলামী কাজ করেন, কিন্তু সাথে আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দিলেও আপনার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যেতে পারে। এক মহিলা অনেক নামাজ পড়তো, সাদাকাও করতো অনেক কিন্তু সে একটি বিড়ালকে না খাইয়ে রেখেছিলো রেখেছিলো, সেজন্য তার সমস্ত আমল শেষ, জাহান্নামে গিয়েছিলো। কারণ সে আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়েছিলো, যেটা আপনার সমস্ত আমলের বিপরীত, ভালোবাসার বিপরীত। আবার আরেকজন কেবল ফরজগুলো মানতো, কিন্তু কাউকে কষ্ট দিতো না, সে জান্নাতে গিয়েছিলো। বোঝা গেছে? ইসলামের মৌলিক বিষয় বুঝবেন কোনগুলো? আল্লাহকে ভালোবাসার জায়গাগুলো বুঝুন। সিজদায় বেশি বেশি থাকুন, আল্লাহকে ভালোবাসার কাজগুলো দেখুন। পোস্টের পাশাপাশি নিচের উস্তাদের লেকচারটি দেখুন, এই বিষয়েই পূর্বে আমাদের ডাবিং...

আল্লাহর উপর ভরসা ধরে রাখা

সর্বশেষ যে বিষয়টি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই তা হলো – আল্লাহর উপর ভরসা ধরে রাখা। অনেকের জন্য এই বিষয়টা মেনে নেয়া বেশ কঠিন যে, আল্লাহ তার কথা শুনবেন। তারা হয়তো লম্বা সময় ধরে কোনো খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তারপর তারা মনে মনে ধরে নেন যে, আল্লাহ আমার কথায় কোনো মনোযোগ দিবেন না, আমার দোয়া তাঁর নিকট গুরুত্বহীন, আমি দোআ করার কোনো অর্থ দেখি না। আপনাদের একটা কথা বলে রাখি, আল্লাহর নিকট থেকে আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ যে উপহারটি পাবেন, তা কী জানেন? ক্ষমা। এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। আপনি এটার মূল্য উপলব্ধি করুন আর নাই করুন। আর যা কিছু আল্লাহ আপনাকে দিবেন বলেছেন, এর সবই অতিরিক্ত। আপনাদেরকে একটা উদাহরণ দেই। আমার অনেকগুলো সন্তান আছে। ধরুন, আমার এক সন্তানের উপর আমি খুবই অসন্তুষ্ট। সে কোনো একটা অন্যায় করেছে, তাই আমি খুবই রাগান্বিত হয়ে আছি। “তোমার এটা বলা উচিত হয়নি। তোমার এটা করা উচিত হয়নি। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, তুমি এটা করেছো।” এভাবে আমি তাকে কিছুটা বকা-ঝকা করলাম। তারপর দিনের অন্য এক সময় আমার জন্য তার কিছু একটা করার কথা। যেমন, আমার জন্য একটা কার্ড আঁকার কথা যাতে লেখা থাকবে “বাবা, আমি আপনাকে ভালোবাসি”। সে জিনিসটা আঁকলো। কিন্তু পরে কি মনে করে কাগজটা টুকরা টুকরা করে ময়লার বাক্সে ফেলে দিলো। এটা দেখে তার অন্য ভাই বললো – “কী! তুমি এটা ফেলে দিলে কেন? তোমার না এটা বাবাকে দেখানোর কথা।” জবাবে সে বললো – ” বাবা আমার উপর খুবই রাগান্বিত। তিনি এটার প্রতি কোনো গুরুত্ব দিবেন বলে মনে হয় না। তিনি আমাকে আর ভালোবাসেন না।” আমি যদি জানতাম যে, সে বিষয়টাকে এভাবে দেখছে তাহলে আমি কী করতাম? আমি কি এভাবে বলতাম যে, “হ্যাঁ, ফেলে দাও। আমার এসবের কোনো দরকার নেই?” না,...

ধৈর্যশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক শয়তানের পথভ্রষ্টতার পলিসি…এবং আমরা

“শয়তান বলল(আল্লাহর উপর অভিযোগ দিয়ে)যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, একারণে আমি অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই তাদের(পথভ্রষ্ট করার)জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব”… এখানে শয়তান এরাবিক যে শব্দ ব্যবহার করেছে -তা খুবই গভীর, তা কোন সাধারণ শব্দ নয়। এই একটি শব্দ ভালো করে উপলব্ধি করতে পারলে আমরা শয়তানের পথভ্রষ্টতার পলিসি ধরতে পারব…এবং আমরা এ থেকে বেঁচে থাকব কি না সেটা আমাদের ইচ্ছা আর আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভর করবে। আরবীতে জুলুস অর্থ বসে থাকা, কিন্তু কুয়ুদ অর্থ শুধু বসে থাকা নয়, বরং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, চিন্তাশিলতা নিয়ে বসে থাকা(সূরা আলে ইমরান-১৯১ দেখুন)। এখানে শয়তান শিকার ধরার জন্য বিস্তারিত ও বড়সড় পরিকল্পনা নিয়ে বসে থাকে…কিভাবে? আসুন তবে বসে থাকা(কুয়ুদ) এর একটি উদাহরণ দেখি… একটি বক কিভাবে মাছ ধরার জন্য বসে থাকে(কুয়ুদ)? – সে দেখে তাঁর শিকারের সময় ছায়া পড়বে কি না…যাতে মাছ টের পায়, সে দেখে কখন তীব্র রোধ উঠবে ও মাছ উপরে উঠে আসবে, সে চিন্তা করে এই খাবার এখন না পেলে সে অভূক্ত থাকবে, কষ্টে থাকবে, সে চিন্তা করে কোন এংগেলে গেলে মাছ তাকে দেখবে না, মাছ কোন দিকে মাথা দিয়ে রাখবে এবং সেখানে থাবা দিবে যাতে শক্তি করতে না পারে, —এভাবে বহু চিন্তার পর সে মাছ শিকার করে। এটা কি শুধু বসে থাকলে হবে? …না, কক্ষনই না…বরং দীর্ঘক্ষণ বসে, চিন্তা করে, পরিকল্পনা করে, এর পরেই না তার কাজ সমাধা করতে হয়। তাহলে চিন্তা করুন কত দীর্ঘ সময় তাকে বসে থাকতে হয় একটি শিকার ধরার জন্য। যারা ক্রিমিনলজি পড়েছেন তারা হয়ত জানেন একটি ক্রিমিনালকে ধরতে বা কোন অপারেশন চালাতে কত প্রস্তুতি নিতে হয়, কত মাস, কত দিন ধরে সময় নিয়ে অবস্থান ঠিক করে, লোকজন ঠিক করে, অপরাধীর অবস্থান ভাল মত পর্যবেক্ষণ করে, কোথায়, কিভাবে, কোন পদ্ধতিতে, কত সময় ধরে, কোন অস্ত্র...

ধর্ম সম্পর্কে না জেনে কথা বলা

আল্লাহ তায়ালা বলেন – وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ – – “তাদের মাঝে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞানই নেই, তারা কেবল অলীক ধারণা পোষণ করে।” 2:78 এখানে ‘উম্মি বা অশিক্ষিত’ বলতে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝানো হয়েছে? ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের হয়তো ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্ৰী রয়েছে। তারা হয়তো সি ++ জানে, কিন্তু আরবি তাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন। কুরআন তাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন। “আমি যদি চাই চোখ বন্ধ করেও কোড লিখতে পারবো। আমি পুরো একটা রোবটের কোডিং একা একাই লিখে ফেলতে পারবো। কিন্তু কুরআনের ভাষা?? কার এতো সময় আছে?” তারা ইচ্ছা করেই অশিক্ষিত থেকে যায়। لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ – তারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জানে না। এর আরেকটি অর্থ হলো, তারা আল্লাহর বিধান জানে না। কিতাব শব্দের দুইটি অর্থ, বই এবং আইন। لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ – “তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না।” إِلَّا أَمَانِيَّ তারা নিজেদের কল্পনাপ্রসূত অনুমান ছাড়া আর কিছু জানে না। তারা এভাবে বলে – “আমি মনে করি, বিষয়টা এটা এভাবে না, ঐভাবে। আমি মনে করি না যে, শাস্তি এতো কঠোর হবে, আল্লাহ এর চেয়ে অনেক কোমল। হুজুররা ঐ জিনিসটাকে শুধু শুধু হারাম হারাম বলে আসছে। ঐ জিনিসটাকে হারাম বলা পুরাই অবাস্তব। বিষয়টা এতো খারাপ না। আমরা বড় জোর এটাকে অপ্রয়োজনীয় বলতে পারি।” অর্থাৎ, নিজেরা যা কামনা করে তা ধর্মের কথা বলে চালিয়ে দেয়। আমাদের সময়ে এই রোগটা অনেক জটিল আকার ধারণ করেছে। তারা ধর্ম সম্পর্কে এমনভাবে কথা বলে যেন বাজারের কোনো পণ্য সম্পর্কে কথা বলছে। “আমি ধর্মটাকে এমনভাবে চাই যেন আমি নিজের সম্পর্কে ভালো ফিল করতে পারি। কিন্তু এই এই বিধানগুলো আমার জন্য অনেক কঠোর। আমি যদি এগুলো পালন না...

সবর

সবর’ শব্দের অর্থ শুধু ধৈর্য নয়; এর অর্থ – অটল থাকো, পিছু হটো না, সন্দেহে পতিত হয়ো না, তোমার বিশ্বাসে অটুট থাকো, ভীত হয়ো না, কঠোরতার মোকাবেলা কর। আবার ‘সবর’ মানে এটাও নয় যে, আপনি আতঙ্কিত হবেন না। ‘সবর’ মানে আপনি আতঙ্কিত হবেন, আর তাইতো আপনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছেন যেন আপনি ভয়কে মোকাবেলা করতে পারেন। ভয় একটি মানবীয় আবেগ। আল্লাহ এটা আমাদের ভেতরে দিয়েছেন, আমরা কখনই এটা থেকে মুক্ত হতে পারবো না। এটা সবসময় থাকবে। আপনি একজন ভাল বিশ্বাসী এর মানে এটা নয় যে আপনি আর ভয় পান না; এর মানে হল- এ অবস্থায় আল্লাহ আপনাকে ‘সবর’ দান করবেন, আপনি এই সবরের মাধ্যমে সাহায্য চাইবেন, তারপর আল্লাহ কী করবেন? আল্লাহ আপনাকে এমন মানসিক শক্তি দান করবেন যার মাধ্যমে আপনি ভয়কে মোকাবেলা করতে পারবেন। ফলে আপনি ভয় এবং উদ্বেগ সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন। ‘সবর’ বলতে আরও কিছু বুঝায়। সবর বলতে বুঝায় আপনি বিভ্রান্ত হন না। অধ্যবসায় বা আরবিতে দাওয়াম ইঙ্গিত করে যে আপনি বিভ্রান্ত হন না। আপনার একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে, আপনাকে আপনার সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। যাত্রাপথে বিভিন্ন জিনিস আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, বিভ্রান্ত হবেন না; আপনার লক্ষ্য পানে অটুট থাকুন। উদাহরণ স্বরূপ- আমি আপনাদের একটি তুলনা দিচ্ছি। একজন যুবক কলেজ বা ভার্সিটিতে যায় আর তার লক্ষ্য হল গ্র্যাজুয়েট হওয়া। কিন্তু প্রথম সেমিস্টার শেষ না হতেই সে বিভিন্ন জিনিস দ্বারা বিভ্রান্ত হতে শুরু করে। যেমন বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিকতা, আড্ডা, ক্লাস ফাঁকি দেয়ার আকাঙ্ক্ষা, সাবজেক্ট পরিবর্তন করার ইচ্ছা কারণ সাবজেক্টটা খুব কঠিন মনে হয় বা আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড এই সাবজেক্টে পড়ে না, সেই মেয়েটি এই সাবজেক্টে পড়ে না বা যাই হোক এ রকম কোন কারণে- আপনি ভার্সিটি শুরু করেন একভাবে তারপর আপনি রাস্তা পরিবর্তন করে অন্যদিকে...

একটি সাংঘর্ষিক অনুভূতি

আমরা সবাই বলে থাকি, আমি জাহান্নামকে ভয় করি, আল্লাহকে ভয় করি। কিন্তু চারদিকে তাকিয়ে দেখুন মনে হয় যেন সবাই ছুটির দিন উদযাপন করছে। কোথায় সে ভয়, কোথায় সে আতঙ্ক? আপনার জীবনে কখনো, কোনো দিন কি এমন হয়েছে যে, আপনি সারা রাত ঘুমাতে পারেন নি – মুভি দেখে নয়, বা কোনো আড্ডা দিয়ে নয় – বরং জাহান্নামের ভয়ে আপনি সারা রাত ঘুমাতে পারেন নি। আমি এমন মানুষের কথা জানি, যারা ঘুমাতে পারেন নি, কারণ পরের দিন সকালে তাদের পরীক্ষা ছিল। কেউ হয়তো ভালোবাসার কারণে ঘুমাতে পারেন নি। কোনো যুবক যদি প্রেমে পড়ে সে ঘুমাতে পারে না। আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলছি না। কোনো বোনও যদি এভাবে প্রেমে পড়ে ঘুমাতে পারে না। তারা সারা রাত মোবাইলে কথা বলে কাটিয়ে দেয়। যদি কথা না বলে তবুও একে অন্যের কথা মনে করে ঘুমাতে পারে না। কারো হয়তো কোর্টে হাজিরা দিতে হবে, তাই দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। সর্বশেষ কখন আপনার অন্তরে আল্লাহর ভয়ের কারণে সারা রাত ঘুমাতে পারেন নি। আপনি কি কখনো এমন কারো সাক্ষাৎ পেয়েছেন? যার মুখ মলিন হয়ে আছে, চোখ লাল হয়ে আছে – তারপর আপনি জিজ্ঞেস করলেন: “কী হয়েছে?” সে জবাব দিলো: “আল্লাহর কসম! ভাই আমি জাহান্নামের ভয়ে ভীত।” এটা শুনলে আপনি হয়তো হেসে দিতেন। সত্যিই! বেশি ওয়াজ শোনার কারণে মনে হয় তার এ অবস্থা হয়েছে। কেউ একজন তাকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাও। তাকে কিছু মজা করতে দাও। আমাদের সময়ে জাহান্নামের ভয়ে ভীত হওয়া স্বাভাবিক নয়। আমাদের জীবনে সবকিছুকে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহর ভয় হয়ে পড়েছে অস্বাভাবিক। আর আজকে আমার আলোচনার উদ্দেশ্য এটাই। আমরা চাই মানুষ আল্লাহকে ভয় করুক। আমরা চাই মানুষ জাহান্নামের ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ুক। আল্লাহ বিশ্বাসীদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন…. আপনাদের চোখ কান খোলা রেখে মনোযোগ...

সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করুন

প্রথমেই আপনি নিজেকে নিয়মানুবর্তী করে গড়ে তুলুন। আমাকে এবং আপনাকে এ ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। আচ্ছা নিয়মানুবর্তিতা বলতে আপনি কি বুঝেন? সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ুন। এশার সালাতের পর আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। রাত ১২.৩০ এ আপনি আড্ডা জমিয়ে বসবেন না, সিনেমা দেখতে বসে পড়বেন না, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হবেন না, রাতভর ইসলামী লেকচার শোনাকে জরুরী মনে করবেন না। কখনও করবেন না। এগুলো আপনার জন্য মোটেও কল্যাণ বয়ে আনবে না। এশার পর শুয়ে পড়ুন এবং ফজরের আগে উঠে পড়ুন। নিজের জন্য ১৫, ২০ অথবা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখুন। ভাবছেন এটা একদম অসম্ভব। রাত জেগে নেটফ্লিক্স দেখার কারনেই আপনার কাছে এটা অসম্ভব মনে হচ্ছে। শুধু এ কারনেই আপনার কাছে এটা অসম্ভব মনে হচ্ছে। আপনার রাতযাপন উন্নত করুন। রাতযাপন ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট করুন কারণ এতে করে অন্তত প্রতি রাতে আপনি গুনাহের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছেন না। অন্তত আপনি নিজের অন্তরকে গুনাহের মাধ্যমে কলুষিত করার হাত থেকে রক্ষা করলেন। অন্তত আপনি ঘুমাচ্ছেন এবং সে সময়টাতে পাপ করা থেকে মুক্ত। ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ুন। অন্তত প্রতিদিন সময়মত ফজর সালাত আদায় করার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন। আর ছেলেরা এখানে যারা আছেন অন্তত সপ্তাহে একদিন মাসজিদে ফজরের সালাত আদায় করুন। আমি প্রতিদিন বলছি না অন্তত সপ্তাহে একদিনের কথা বলছি। অন্তত সপ্তাহে একদিন। আর দ্বিতীয় রাকাতে সালাম ফিরানোর আগে জামাতে যেয়ে উপস্থিত হবেন না। তারপর নামায শেষে বললেন, “ও যাক আজ মসজিদে আসতে পারলাম!” তারপর ডান কাঁধের ফেরেশতার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, “আপনি এটা লিখেছেন তো ? আজকের ফজর!!” মসজিদে নামায শুরু হওয়ার আগেই উপস্থিত হন। আপনাদের মসজিদে ফজর নামায পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলছি… এটার এমন এক আধ্যাত্মিক প্রভাব রয়েছে যে একমাত্র যারা যায় তারাই তা অনুভব করতে পারে। এটা বক্তৃতা দিয়ে বোঝানো যাবে না। যখন আপনি...

সময়

আল্লাহ সময়কে বাস্তবতার এক সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আর বাস্তবতাটি হলো মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। এর মানে হলো ইতিহাস জুড়ে মানুষ যে ক্ষতির মাঝে নিমজ্জিত ছিল তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলো সময় নিজেই। যেসব মানুষ মনে করে যে তারা বিশ্ব সেরা কারণ তাদের অনেক টাকা আছে, বা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, বা তারা দেখতে অনেক সুন্দর, অথবা তাদের সামাজিক মর্যাদা অনেক উপরে বা তারা অনেক জনপ্রিয়। যা কিছুই তাদের থাকুক না কেন যার কারণে তারা নিজেদের অন্যদের চেয়ে উপরে মনে করে….। আপনি আপনার এসব জিনিস যতদিন পারেন ধরে রাখতে পারেন কিন্তু যে জিনিসটি আপনি ধরে রাখতে পারবেন না তা হলো সময়। তাই যদি আপনি দেখতে অনেক সুন্দর হয়ে থাকেন, আজ থেকে চল্লিশ বছর পর আপনার চেহারায় ভাঁজ পড়তে শুরু করবে, মাথায় টাক গজাবে, মোটা গ্লাসের চশমা পরতে হবে। আর সত্তর বছর পর হয়তো ঠিক মত সোজা হয়ে হাঁটতেও পারবেন না, চেহারার মাঝে জায়গায় জায়গায় চামড়া জমাট বেঁধে যাবে। এটা ঘটতে যাচ্ছে। সারা দুনিয়ার সকল সম্পদ আপনার থাকতে পারে, কিন্ত সময় আপনার নিকট থেকে এতো কিছু নিয়ে যাবে যে …. আমি নিজ চোখে এমন মানুষদের দেখেছি যারা অস্বাভাবিক রকমের ধনী, অগণিত টাকা পয়সা যাদের রয়েছে…কিন্তু তারা এতো বৃদ্ধ এবং এতো দুর্বল যে এমনকি সিঁড়ি বেয়ে উপরের তলায়ও যেতে পারে না। তাদের বেলকনি থেকে বাইরের দৃশ্য অসম্ভব সুন্দর, কিন্তু তারা সে বেলকনিতেও যেতে পারে না কারণ বাতাসের ফলে হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। বাসার পেছনে রয়েছে ঝাঁকজমকপূর্ন সুইমিং পুল, তারা শুধু তাকিয়ে থাকতে পারে কিন্তু নামতে পারে না। বিশাল স্ক্রিনের টিভি রয়েছে কিন্তু চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেছে, দেখতে পায় না। সময় সব কেড়ে নিয়ে গেছে। আমি আপনি যদি তাদের ম্যানসনে যাই, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবো। ‘মারাত্মক সুন্দর জায়গা, এটা দেখো, ঐটা দেখো।’ তারা এক...

বিয়ের পথ সহজ করে দিন

আল্লাহ যখন বলেন – তোমাদের মাঝে অবিবাহিতদের বিয়ে দিয়ে দাও, তাদেরকে বিয়ে করার সুযোগ করে দাও; এই নির্দেশনাটি ব্যাপকতা বুঝায়। এই নির্দেশনাটি কাদের জন্য প্রযোজ্য? আপনি হয়তো চিন্তা করবেন ছেলেটা যখন লেখাপড়া শেষ করবে, তারপর যখন ভাল একটা চাকরি পাবে, যখন সে অনেক টাকা জমাবে, যখন সে তার পিতামাতাকেও তাদের খরচের কিছু টাকা ফেরত দিতে পারবে, যখন সে এটা করবে সেটা করবে ইত্যাদি… এবং পরিবারের অন্য সবার যত্ন নেয়া হবে – তারপর আমরা তার বিয়ের কথা চিন্তা করবো। কারণ এখন যদি আমরা তাকে বিয়ে করাই তাহলে তার সকল মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে তার স্ত্রী। আমরা কিছুই পাবো না। এটা আমাদের সন্তান, আমাদের বিনিয়োগ, তাকে বিয়ে করানোর আগে আমরা আমাদের টাকার মূল্য চাই। আর এমনকি যখন আমরা তাকে বিয়ে করাবো তখন ব্যাপারটা শুধু আমাদের পার্থিব অর্জনের বিষয় না, এটা আমাদের পারিবারিক গৌরব এবং প্রদর্শনের বিষয়ও। এমন একজনকে বিয়ে করাতে হবে যাকে আমরা প্রদর্শন করতে পারবো। যাকে নিয়ে আমরা গর্বিত হব, অনেক ছবি তুলতে পারবো। তাই বিশাল এক অনুষ্ঠানের আয়োজন কর এবং মানুষকে দেখাও যে আমরা একটা উচ্চ শ্রেণীর পরিবারে আত্মীয়তা করেছি…ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই কাউকে বিয়ে করানোর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আপনি বিবেচনা করেন তা হল – নারী পুরুষ উভয়ের জন্য আপনি বয়সের একটা মাত্রা ঠিক করে দেন। নারীদের ক্ষেত্রে একদম বিপরীত কাণ্ডটাই ঘটে, কোন কোন পরিবারে সে টিনএজ বয়সে পৌঁছার সাথে সাথে এমন ভাবা হয়- আমাকে দ্রুত এর দায়দায়িত্ব পালন থেকে বাঁচতে হবে। মনে হয় যেন এটা আপনার ঘরের একটা ব্যাধি, যত দ্রুত এর থেকে বাঁচা যায় ততই মঙ্গল। আপনি মেয়েটাকে যেন তেন কোন পাত্রের কাছে তুলে দিতে পারলেই বাঁচেন। বহু মেয়েরা হতাশায় ভোগেন, কারণ তাদের বাবা মা সবসময় বলতে থাকেন; তুমি এখনো এখানে পড়ে আছ, তুমি বিয়ে করছ না, তুমি বাসায়...

আল্লাহর কাছে কীভাবে ক্ষমা চাইবেন?

এখন এই ক্ষমা চাওয়াটা দুইভাবে হয়ে থাকে। জিহবার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া এবং অন্তরের মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া। মানুষ সাধারণত নিজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে থাকে। আমি যদি কোনো কারণে আপনার সমালোচনা করি…যেমন আমি কাউকে বললাম – ”এই যে, আমি আপনাকে অমুক কথা বলতে শুনেছি। কেন আপনি এটা বলেছেন?” সে তৎক্ষণাৎ হয়তো বলে উঠবে – ”আমি এমনটা বোঝাতে চাই নি, আপনি জানেন না আমি কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি! এক্সকিউজ মি, আপনি তো পুরো ঘটনাটা জানেনই না।” সুতরাং কেউ আপনাকে যদি বলে, ভাই আমি আপনাকে এটা এটা করতে দেখেছি। আপনি সাথে সাথে নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে শুরু করেন, আত্মরক্ষামূলক হয়ে উঠেন। بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ – وَلَوْ أَلْقَىٰ مَعَاذِيرَهُ – মানুষ নিজের সম্পর্কে সু ধারণা পোষণ করে। তারা প্রচুর অজুহাত দেখায়। আপনি যদি আসলেই আল্লাহর ক্ষমা চান। আপনাকে নিরিবিলি একটা সময় খুঁজে পেতে হবে … যদি আরবিতে দোয়া করতে না পারেন কোনো সমস্যা নেই। আপনি শুধু পাঞ্জাবি, বাংলা, বাহাসা, বা উর্দু জানেন, কোনো ব্যাপার না, আপনি আপনার নিজস্ব ভাষাতেই আল্লাহর সাথে কথা বলুন। আন্তরিকতার সাথে আপনার অপরাধগুলো স্বীকার করে নিন। কোনো অজুহাত দেখবেন না। এইরকম করতে পারা আসলেই অনেক কঠিন। কারণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও আমরা নিজের সাথে মিথ্যা বলি। নিজেকে এভাবে প্রবোধ দেই – ”আমি আসলে অতো খারাপ না। আমি যা করেছি তার কারণ আছে। আমি অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।” যখন আপনি আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন, নিজের কাজের বৈধতা দেয়ার কথা ভুলে যান। কারণ যেসব অজুহাতের মাধ্যমে আপনি আপনার কাজের বৈধতা দিতে চান, তিনি ইতিমধ্যে তার সবগুলোই জানেন। আল্লাহ জানেন আপনি কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তিনি জানেন এটা কঠিন সময় ছিল, তিনি জানেন অমুক অমুক বিষয় আপনাকে সম্পূর্নরুপে গ্রাস করে ফেলেছিলো। ” ইয়া রব, আমি অনেক চাপের মধ্যে ছিলাম তাই...

রমজান শেষ হওয়ার পর

রামাদানের ত্রিশ দিন আমরা অনেক কিছু থেকে নিজেদের বিরত রেখেছি। আমার শরীর, আমার গলা, আমার পাকস্থলী…এদের কিছু চাহিদা আছে। আর ত্রিশ দিন ধরে আমি আমার শরীরের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করা থেকে বিরত থেকেছি। আপনাদের কেউ কেউ অফিসে চাকরি করেন …. ”ভাই, আমার তো কফি পান করতে হবে, আমি জানিনা কফি পান না করলে আমি কাজ করতে পারবো কিনা। আমার একটা ব্রেক দরকার।” কেউ কেউ ধুম পানে আসক্ত। আপনার সিগারেট ব্রেক দরকার হয়। কেউ হয়তো অতিরিক্ত চুইং গাম খান, বা চকোলেট সমস্যা আছে। যে সমস্যাই হউক না কেন। এটার সমাধান না করা পর্যন্ত আপনি কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। কিন্তু গত ত্রিশ দিন ধরে আপনি কোনো ধরণের আসক্তিতে সাড়া না দিয়েই ঠিক ঠাক আপনার কাজগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছেন। আপনি পেরেছেন। অন্য কথায়, আপনি যে মনে করতেন শরীরের নির্দিষ্ট চাহিদাটি পূরণ করা ছাড়া আপনি কিছুই করতে পারেন না, আপনার ব্রেইন কাজ করে না…কিন্তু এই কয়েক দিনে আপনি প্রমান করলেন এসব না করেই আপনি দিব্যি ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। আর এটা পেরেছেন কারণ আপনি আল্লাহর আনুগত্য করছেন। আপনি ভেবেছিলেন এটা অসম্ভব, কিন্তু আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন। এখন এই অনুশীলন করার পর আপনি আরেকটু অগ্রসর হয়ে ভাবতে লাগলেন, আমি বা আপনি এমন কিছুতে জড়িত হয়ে আছি, যা সরাসরি আল্লাহর অবাধ্যতার মধ্যে পড়ে যায়। আর সব সময় আপনি নিজেকে এভাবে বুঝিয়েছেন, ‘’না, আমার পক্ষে এটা বাদ দেয়া সম্ভব নয়। আমাকে এটা করতেই হবে। আমি যদি এটা করতে না পারি, তাহলে মারা যাবো। কিভাবে আমি এটা ছাড়া বাঁচবো?’’ আর আল্লাহ ত্রিশ দিন ধরে আপনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, হ্যাঁ, তুমি পারবে। হ্যাঁ, তুমি আসলেই এটা ছাড়া বাঁচতে পারবে। আর আমি রামাদানের মতো এটা তোমার জন্য সহজ করে দিবো। এটাই রামাদানের প্রথম শিক্ষা যে কিভাবে রামাদানের বাহিরে...

নিজেকে নিয়ে হতাশ থেকো না

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা তাগাবুনের তৃতীয় আয়াতে বলেছেনঃ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন। তিনি বলেছেনঃ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি। কি অসাধারন পরিবর্তন, উনি আপনার আকৃতি দিয়েছেন, আল্লাহ বলেছেন যে উনি বাকী সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন, উনি তার সাথে যোগ করতে পারতেন যে তিনি আপনাকেও সৃষ্টি করেছেন। উনি আগেই এটা বলে ফেলেছেন, উনি এবার সেটা পরিবর্তন করেছেন, وَصَوَّرَكُمْ, তিনি আপনাকে আকৃতি দান করেছেন, আরবীতে এই শব্দের অর্থ হলঃ কোন কিছুকে নিঁখুত, সুন্দর আকৃতিতে গড়া। আল্লাহ নিজে বলছেন, আমি তোমাকে খুব সুন্দর আকৃতিতে তৈরি করেছি। উনি নিজে সেটা আমাদেরকে বলছেন। উনি যেভাবে আমাদেরকে তৈরি করছেন তাতে উনি গর্ববোধ করছেন। জানেন, যারা অকৃতজ্ঞ তারা কি বলবে? বলবে, কেন আমি এত মোটা? কেন আমি এত চিকন? কেন আমি এত বেঁটে? কেন আমার মুখে এত দাগ। কেন আমার এরকম কেন ওইরকম। কেন আমি আমার ভাইয়ের মত স্মার্ট না? কেন আমি গরীব আর সে ধনী। কেন তার এটা আছে আর আমার নেই? আর জানেন, আজকালকার আধুনিক সমাজে কি হয়? এবং শুধু আমেরিকাতেই নয় সারা বিশ্বে? মানুষের বয়স বাড়তে থাকে, চুল পাকা শুরু হয়, চামড়ায় ভাঁজ পড়তে শুরু করে, পুরো মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে যাতে বলা হয় যে মানুষ সেইরকম দেখাবে যেমন সে তার বিশ বছর বয়সে দেখাতো, আসলে তাকে দেখায় একটা কিম্ভূত প্রাণীর মত। তারা আপনার চুল গজিয়ে দিবে, আপনার চামড়া টেনে ভাঁজ দূর করার চেষ্টা করবে, আপনার ভূড়িটাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা করবে, এরকম আরো অনেক কিছু করবে। যেন আপনি ভাব ধরতে পারেন যে এখনো আপনার বয়স ২৫। আল্লাহ বলছেন,...

আপনার পাপগুলোকে পুণ্যে রূপান্তরিত করুন

“এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে ফিরে আসার স্থান আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।” [সূরা আল-ফুরকানঃ আয়াত...