বাংলা নোটসমূহ

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা নোটসমূহের আর্কাইভ করছি

জুম্মাবারের স্মরণিকা – ১ (দরুদ শরিফ পাঠের ফজিলত)

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাকুল সালাত পাঠায় নবীর ওপর। কাজেই হে ঈমানদাররা! তোমরাও তার ওপর যথাযোগ্য মর্যাদায় সালাত পাঠাও, আর সালাম জানাও”। (সূরা আহজাব : ৫৬)। “আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি দরূদের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ নবীর প্রতি সীমাহীন করুণার অধিকারী। তিনি তার প্রশংসা করেন। তার কাজে বরকত দেন। তার নাম বুলন্দ করেন। তার প্রতি নিজের রহমতের বারি বর্ষণ করেন। ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তার প্রতি দরূদের অর্থ হচ্ছে, তারা তাকে চরমভাবে ভালোবাসেন এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাকে সর্বাধিক উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তার শরীয়াতকে প্রসার ও বিস্তৃতি দান করেন এবং তাকে একমাত্র মাহমুদ তথা সবোর্চ্চ প্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দেন”। আল্লাহ তায়ালা দরুদ ও সালাম পাঠাচ্ছেন নবীর ওপর, সেই কাজটি কত বড় মাহাত্ত্বের হতে পারে একবার চিন্তা করুন। আল্লাহ নিজেও চাচ্ছেন যেন আমরাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা এবং তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে দরুদ ও সালাম প্রেরণ করে এই গুরুত্বপুর্ণ, মাহাত্ত্বের কাজে আমরাও অংশ নেই। সহীহ বুখারীর হাদীস অনুযায়ী, আল্লাহর দরুদ হলো ফেরশতাদের নিকট রাসূলের প্রশংসা ও গূণাবলীর বর্ণনা দেওয়া। সুবহানাল্লাহ, আল্লাহর রাসূলের এতই গূনাবলী যে সেগুলোর প্রশংসা আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে কুরআন নাযিলের সময় থেকে করতেছেন আর কিয়ামাত পর্যন্ত করতেই থাকবেন!! সুবহানাল্লাহ, কত বিশাল গূণাবলী সম্পন্ন লোক ছিলেন তিনি। আমরাও কি এই সুযোগ নেবো না? আল্লাহর আদেশ মেনে তাঁর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করবো না? “আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো তাঁর উচ্চতর পরিষদবর্গের (ফেরেশতাগণ) সামনে তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। আর তাঁর ফেরেশতাদের দরুদ পাঠ করার যে উল্লেখ করা হয়েছে তার অর্থ হলো, তারা তাঁর জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ভাবতে অবাক লাগে, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদা কত উঁচূ যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ...

কোথায় আপনার লজ্জাবোধ?

আপনার যদি কোন সমস্যা না থাকে কোন মেয়ের দিকে তাকানোর প্রতি, অশালীনভাবে তাকানোতে, অর্থাৎ আপনি তারদিকে সম্মানের সাথে তাকাচ্ছেন না, আপনি যেন তাকে পশু বা মাংসপিণ্ড মনে করছেন, যদি এই আপনার মনোভাব হয়, তার মানে এই যে, আপনার নিজের মায়ের প্রতি, নিজের বোনের প্রতি, নিজের স্ত্রীর প্রতি, নিজের কন্যার প্রতি আপনার কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। তারাও নারী। আপনি কখনই চাইবেন না যে মানুষ তাদের দিকে অশোভন ভাবে তাকাক। আর আপনি যার দিকে তাকাচ্ছেন তিনিও কারো কন্যা, কারো বোন বা কারো মা। তাই সাবধান হউন। এমনকি উনাদের যদি নিজেদের জন্য শ্রদ্ধা নাও থাকে, কখনও অমুসলিম নারীদের নিজেদের প্রতি সম্মানবোধ থাকেনা, তাই তারা কখনো কখনো #অশালীন পোশাক পরে, এমনকি মুসলিমরাও অশোভন পোশাক পরে থাকে। কিন্তু আপনারতো নিজের প্রতি এবং আপনার পরিবারের নারীদের প্রতি সম্মানবোধ আছে, তাই আপনি নিজের দৃষ্টিকে নত করুন। অবশ্যই করুন। আর এটা খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার যে, পুরো পরিবারে সবাই একসাথে বসে মুভি দেখে, আর যখন কোন আপত্তিকর দৃশ্য আসে, তখন মা আর মেয়ে তাদের স্বামী আর ভাইদের সাথে একসাথে তা দেখে – “ওহ, এইটা মাত্র একটা খারাপ দৃশ্য, এইটা এমন কিছু না”। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক, এটা কোন মুসলিম পরিবারের আচরণ হতে পারেনা। এই ধরণের অশ্লিলতায় আমাদের বিরক্তি হওয়া উচিৎ। আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এটা আমাদের সমাজের একটা বিশাল সমস্যা, আমাদের সমাজে অনেক ভাল ব্যাপার আছে, অনেক অনেক ভাল দিক আছে। কিন্তু এটা এমন একটা ব্যাপার যা আমাদের তরুণদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। অশ্লিলতার অতিরিক্ত প্রকাশ। কোন এক মেয়ে যদি আপনাকে মেসেজ পাঠায়, “আমি তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে চাই”। ঠিক আছে। কিন্তু আমি চাইনা। না। যাও তোমার ভাইয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ কর। তোমার কি বাবা নেই? সে কি তোমার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন নয়? তোমার কেন অন্য বন্ধু দরকার? আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে...

রোগাক্রান্ত অন্তর

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ “তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত……” [সূরা আল-বাকারাঃ ১০] এই আয়াতের আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো: আল্লাহ তা’আলা এখানে ‘ফি সুদূরিহিম মারাদুন’ বলেননি, তিনি বলেছেন ‘ফি কুলুবিহীম মারাদুন’। ‘সুদুর’ এবং ‘কুলুব’ এই দুটি শব্দের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। আমরা সবাই কম বেশি ‘সূরা নাস’ জানি। যেখানে বলা হয়েছে ”الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ আল্লাজি ইউওয়াস বিসু ফি সুদুরিন নাস — যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের বুকের মধ্যে”। আমরা কিন্তু সেখানে ‘কুলুবিন নাস’ বলি না। যদি ‘কুলুবিন নাস’ বলা হতো তাহলে সূরা নাসের এই আয়াতের অর্থ হতো ‘সে, যে মানুষের (হার্ট) হৃদয়ের মধ্যে কুমন্ত্রণা দেয়।’ কিন্তু ‘সুদূরিন নাস’ বলার কারণে এইখানে অর্থ হয়ে যাচ্ছে ‘সে, যে মানুষের বুকের মধ্যে কুমন্ত্রণা দেয়।’ এখন আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখবো যে হার্ট এবং বুক এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বুক হচ্ছে একটা ভল্ট এর মত, একটা সুরুক্ষিত জায়গা। আর হার্ট হচ্ছে এই সুরুক্ষিত জায়গার মধ্যে রাখা মূল্যবান বস্তু। এখন, শয়তানের ক্ষমতা হচ্ছে আপনার বুকের মধ্যে প্রবেশ পর্যন্ত। নিজের ক্ষমতাবলে সে আপনার বুকের ভিতরে ঢুকতে পারে। কিন্তু নিজের ক্ষমতাবলে আপনার হৃদয়ের মধ্যে প্রবেশের ক্ষমতা তার নেই। ব্যাপারটা পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য আপনার হৃদয়কে তুলনা করুন আপনার ঘর এর সাথে, আর বুক হচ্ছে সেই ঘর এর চারপাশে সীমানা প্রাচীর। শয়তান আপনার সেই সীমানা প্রাচীর এর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু যেই পর্যন্ত না আপনি তাকে ঘর এর দরজা খুলে ভিতরে আসতে দিচ্ছেন, ততক্ষণ সে আপনার ঘরের ভিতরে ঢুকতে পারবে না। অর্থাৎ আপনার হৃদয়ের বাইরে শয়তান বসে আছে, এবং আপনার হৃদয়ের বন্ধ দরজায় সে অবিরাম করাঘাত করে যাচ্ছে, বিভিন্ন উপায়ে আপনাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে (লোভনীয় অফার এর কথা বলে) দরজা খোলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমাদেরকে শয়তানের এই কুমন্ত্রণা অনুভব করে সাবধানে থাকতে হবে...

কুর’আন সান্ত্বনা দান করে, কুরআন প্রশান্তি দান করে

তৃতীয়টিঃ জীবনের পরীক্ষার মোকাবেলায় মানসিক শক্তির অন্বেষণ করা। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। প্রতিদিনই আমাদের পরীক্ষা করা হয়। কখনো এই পরীক্ষা হয় ছোট, কখনো বড়। চলুন, বড় পরীক্ষা নিয়ে কথা বলি। জীবনে কোন কোন ধরণের বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়? জোরে বলুন। মৃত্যু বড় পরীক্ষা। পরিবারে কারো মৃত্যু, প্রিয় কারো মৃত্যু, কোন বন্ধুর মৃত্যু। অন্য কোন পরীক্ষা? টাকা-পয়সা সংক্রান্ত, অর্থনৈতিক সমস্যা। হুম… অসুস্থতা, ব্যর্থতা, হতাশা। বায়্যিনাহ এক্সাম? না, বায়্যিনাহ এক্সাম নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শুক্রবারের বায়্যিনাহ পরীক্ষাও একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ 🙂 । পরিবার এবং সন্তান-সন্ততিও পরীক্ষা হতে পারে। আমাদের সম্পর্কগুলোও পরীক্ষা হতে পারে। কখনো কখনো আমরা পিতা-মাতার সাথে সমস্যায় জড়িয়ে পড়ি। কোন কোন সময় স্বামী/স্ত্রীর সাথে, ভাইবোনের সাথে, বন্ধু- বান্ধবের সাথে সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারি। বিচ্ছিন্নতাও পরীক্ষা হতে পারে; আপনি একাকীত্ব অনুভব করেন, আপনি মনে করেন কেউ আপনাকে বুঝতে পারে না, আপনি মনে করেন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। আসক্তিও পরীক্ষা হতে পারে। এখন ব্যাপারটা হলো, মানুষ যখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তাদের কোন জিনিসটি বেশি প্রয়োজন? আবার জোরে বলুন। সান্ত্বনা, সমর্থন, কারো সাথে মন খুলে আলোচনা করা। জানেন? কত মানুষ আমার কাছে আসে আর বলে – আমি জাস্ট দুই মিনিট আপনার সাথে কথা বলবো। কিন্তু পরে আসলে তা দুই ঘণ্টায় পরিণত হয়। আমি একটা সমস্যায় ভুগছি, আর এ ব্যাপারে শুধু আপনার সাথেই কথা বলা যাবে। এই গ্রহে আর কেউ আমার সমস্যা বুঝতে পারবে না। একমাত্র আপনি ছাড়া কারণ আপনি ইউটিউবে…হা হা। মানুষের সমস্যাগুলোকে বাতিল করে নয়… বাস্তবিক অর্থেই মানুষ কারো কাছে নিজের সমস্যার কথা বলতে চায়। মানুষ সবচেয়ে বেশি চায় কেউ যেন তাদেরকে আশার বাণী শোনায়, হতাশার অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আশার আলো দেখায়, তাদের মাঝে যেন এই বিশ্বাস তৈরি করে যে তারা এই সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবে, তাদের পরীক্ষার...

উপাসনা না দাসত্ব?

আমি আপনাদেরকে আরবি শব্দ “ইবাদাহ বা এর মাছদার উবুদিয়া” এর অর্থ বোঝাতে চাই। শব্দটি দ্বারা দুটি জিনিস বোঝায়, যদি আমি এর যেকোনো একটি অর্থ ব্যবহার করে অনুবাদ করি তাহলে অনুবাদটি হবে অসম্পূর্ণ। এটা ক্লাসিকাল আরবির বিপরীতে ইংরেজি বা বাংলার সীমাবদ্বতা। ক্লাসিকাল আরবির একটি শব্দ দিয়ে একই সময়ে অনেকগুলো অর্থ প্রকাশ করা হত। যদি আমরা এই ধারনাটি (ইবাদা শব্দটি) আংশিক বাংলা অর্থ দিয়ে অনুবাদ করি, তাহলে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। যে দুটি পদ আরবি শব্দ ইবাদার পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তাহলো – উপাসনা এবং দাসত্ব। অধিকাংশ সময় আমরা যেকোনো একটি অর্থ গ্রহণ করি। বাংলায় দুটি আলাদা বিষয়, কিন্তু আরবি একটি শব্দ ইবাদা দ্বারাই উভয়টি বোঝায়। সুতরাং যখন রাসুল (স) বলেন, ‘লা আ’বুদু মা তা’বুদুন’ – এর অর্থ শুধু এটা নয় যে, আমি উপাসনা করব না, বরং এর অর্থ এটাও যে, আমি গোলাম হব না , আমি দাস হব না। সংক্ষিপ্তভাবে আমি আপনাদেরকে উপাসনা এবং দাসত্বের পার্থক্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। যখন মাগরিবের নামাজের সময় হয়, আমরা আল্লাহর উপাসনা করি। আবার যখন এশার নামাজের সময় হবে, আমরা উপাসনা করব। কিন্তু এই দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আমরা কী? আল্লাহর দাস। যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন আপনি উপাসনা করছেন না, কিন্তু তখনও আপনি আল্লাহর একজন দাস। যখন আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন, গাড়ি চালিয়ে কাজে যাচ্ছেন, দাঁত ব্রাশ করছেন, নাস্তা করছেন, গাড়ি পার্ক করছেন – যদিও এই সময় আপনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন না বা কোনো উপাসনার কাজ করছেন না – কিন্তু এই সময়েও আপনি আল্লাহর একজন দাস। অন্য কথায় উপাসনা হলো – কিছু সুনিদৃষ্ট কাজের নাম। রোজা রাখা, নামাজ পড়া, হজ্জ পালন করা, কুর’আন তিলাওয়াত করা, দান করা – এইসব কাজ হলো উপাসনা। কিন্তু একজন দাস সবসময়-ই একজন দাস। সে এই কাজগুলো পালন করুক আর...

মুসলিম নারীদের আত্মসম্মান

আমার মতে, বর্তমান আমেরিকা সহ সারা বিশ্বে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হল আত্ম-সম্মান এর অভাব। বিশেষত, মুসলিম নারীদের আত্ম-সম্মান। আপনাদের সামনে অমুসলিম নারীদের উদাহরণ আছে যারা যেভাবে খুশি পোশাক পরিধান করে, অথচ আপনাদের পোশাকে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর আপনাদের মনে হয় আমাকে দেখতে কুশ্রী লাগবে আর তাদের সুন্দর লাগবে। অবশ্য কিছু মেয়েরা এমনটাই চিন্তা করে, কেন আমাকে এসব পোশাক পরতে হবে ? অথবা আমি কেন এত খাট কিংবা এত মোটা অথবা এত চর্মসার ? অনেকে ভাবে, কেন আমার চোখগুলোর দূরত্ব এত বেশি বা নাকটা এত বড় কেন ? কিংবা আমার দাঁতগুলো কি সমান হতে পারত না ইত্যাদি। কেন ? কেন আপনারা নিজেকে নিয়ে এত চিন্তিত। আমার গালে এত দাগ কেন ? ওহহ !! আমি অনেক চিন্তা করি, দেখ দেখ, কী অবস্থা ! কী বিশ্রী !! এভাবে আপনারা কমপক্ষে ৩৫ মিনিট আয়নায় দাড়িয়ে থাকেন। না, এটা ঠিক না। আপনি যা, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন। এটাই গুরুত্বপূর্ণ আপনার জন্য। অন্যের কোন কিছুতেই নিজেকে খুঁজবেন না। আল্লাহ্‌ মানুষকে অতি সুন্দর করেই সৃষ্টি করেছেন। وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। (সূরা নিসাঃ আয়াত ৩২) আপনার ইচ্ছা হয়, “আমি যদি ওর মতো লম্বা হতাম, আমার যদি তার মতো সম্পদ থাকত, আমার যদি ঐ পোশাকগুলো থাকত, আমি যদি দেখতে ওর মতো হতাম, আমার এটা...

ঈমান এবং আঁধার প্রান্তরে পথ চলা প্রদীপ – ১ম পর্ব

আজকের খুতবার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের সাথে সূরা হাদিদের একটি আয়াত শেয়ার করা। কিন্তু এই আয়াত থেকে কিছু শিক্ষা বলার আগে আমি প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলতে চাই। সূরা হাদিদের মাঝখানে আল্লাহ বিচার দিবসের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। বিচার দিবস এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আল্লাহ কুরআনের বহু জায়গায় আলোচনা করেছেন। সাধারণত তিনি যখন এ সম্পর্কে বলেন – তিনি বিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জান্নাতের দিকে ধাবমান এবং তিনি অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু আলোচ্য অংশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আল্লাহ বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে তিনি বিশ্বাসীদের মুনাফিকদের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। আল্লাহ বিশ্বাসীদের বিপরীতে অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে বিশ্বাসীদের বিপরীতে এমন লোকদের তুলনা করছেন যারা মনে করতো যে তাদের ঈমান রয়েছে, অথবা ভান করতো যে তারা মুসলিম অথবা তাদের ঈমান রয়েছে কিন্তু বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে এই ঈমানের কোন মূল্য থাকবে না। এরাই হলো মুনাফিক, আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। সুরা হাদিদের এই আলোচ্য অংশটি আমাদের জানা খুবই জরুরী। কারণ এই অংশটি আমাদের জানায় যে বিচার দিবসে কীভাবে এই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, কিয়ামতের দিন বিশ্বাসীরা যখন দাঁড়াবে, রাসূল (স) তাদেরকে দেখতে পাবেন। “ইয়াওমা তারা” তিনি দেখতে পাবেন মানে রাসূল (সঃ) দেখতে পাবেন… “আল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাত” বিশ্বাসী নারী পুরুষদেরকে। “ইয়াসআ নুরুহুম বাইনা আইদিহিম ওয়া বি আইমানিহিম” তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে। এর মানে হলো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের হৃদয় থেকে এবং ডান হাত থেকে জ্যোতি বিচ্ছুরিত হবে। এই আলোটি কেন জরুরী? কারণ, আল্লাহর প্রতি আপনার-আমার ঈমান যদি অকৃত্রিম হয় এবং বিশ্বাস দৃঢ় হয়, কিয়ামতের দিন এই বিশ্বাস জ্যোতিতে রূপান্তরিত হয়ে দীপ্তি ছড়াবে।...

ঈমান এবং সৎকর্মঃ আঁধার প্রান্তরে পথচলার প্রদীপ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ বাংলা ভাবার্থঃ “যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এবং সেই চূড়ান্ত প্রতারক তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের...

ঈমান, লেভেল, ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ২য় পর্ব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কিছু কিছু মানুষের আধ্যাত্বিক ঈমান দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যায় জড়িয়ে থাকে। আমি এও বলেছি যে আধ্যাত্বিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে যদি সমস্যায় জড়িয়ে থাকে সেটা বুদ্ধিবৃত্তিক ঈমানেও সমস্যা ঘটায়। এমন সময় অনেকেই তাদেরকে আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধানে আধ্যাত্বিকতা উন্নত করতে বলে। অথচ এতদিনে সে কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায়ও জড়িয়ে গেছে। এজন্য তখন আধ্যাত্বিক উন্নয়ন ও সমাধানের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যারও সমাধান দরকার। আবার কিছু মানুষ কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানের জন্য বলে। এটার সমস্যা হলো একটি আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধান না করতে পারলে এই সমস্যা তাকে আরো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে, সেটি আবার অন্য আরেকটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় ফেলবে…এভাবে চলতেই থাকবে। কারো যদি আধ্যাত্বিক সমস্যা থাকে আর তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধান দিতে থাকেন দর্শন, আকীদা ইত্যাদি দিয়ে, তখন তাঁর আরো নতুন সমস্যা বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে। কারণ হলো তাঁর প্রয়োজন ছিল আধ্যাত্বিক সমস্যার সমাধান আর আপনি তাকে দিয়েছেন বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানের আলোচনা যা তাকে আরো সমস্যায় ফেলেছে। উস্তাদ নুমান আলী খান শাইখ আব্দুর নাসির জাংদার একটা ঘটনা উল্লেখ করেন এখানে(যা তাঁর Prophetic Biography, Podcast এও বলেছেন, qalaminstitute.org)। এক ব্যক্তি হাদীস নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। হাদীস নিয়ে বিভিন্ন সন্দেহ প্রকাশ করতো। এই হাদীসে এমন অথচ অন্য হাদীসে তেমন কেন? এই হাদীস এরকম কেন আর অন্য হাদীসে অন্যভাবে কেন? এভাবে সে এখান থেকে এক হাদীস, আরেক জায়গা থেকে অন্য হাদীস পড়ে মিলাতে না পেরে, সন্দেহে পড়ে যায় এমনকি রাসল কে সমালোচনা করে বসে আর তাকে অস্বীকার করে বসে। তার কথা সে আর মুসলিম থাকবে না। সে কিন্তু মুসলিম। তারপরেও সে রাসূলের সমালোচনা করতো কেন তিনি এই হাদীস বললেন, কেন তার কথায় ইবাদত এই রকম ইত্যাদি। শাইখ আব্দুন নাসির জাংদা তাকে একটা বই দিলো। বললো পুরোটা পড়তে। এবং আরোও নির্দেশনা দিলো যে সে যেন পূর্ণটা...

ঈমান, লেভেল ও আমাদের জাজমেন্টাল মানসিকতা – ১ম পর্ব

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আমরা যখন ঈমানের কথা চিন্তা করি তখন প্রথমত দুই প্রকার ঈমানের কথা বলি। সেগুলো হলো   ১। আইনগত ঈমান (Legal Iman) ২। প্রকৃত ঈমান (Real Iman)   প্রকৃত ঈমান দুই প্রকার   ১। আধ্যাত্বিক ঈমান (Sprititual Iman) ২। বুদ্ধিবৃত্তিক/যৌক্তিক ঈমান (Intellectual/ Rational Iman)   কেউ যখন শাহাদাহ বলে ইসলাম গ্রহণ করে, সেটা লিগাল বা আইনগত ঈমান। অর্থাৎ তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইসলামী আইনগতভাবে বা শরীয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে সে মুসলিম। লিগাল ঈমানের সুবিধা হলো একজন ব্যক্তি যে মুসলিম সেটা বুঝতে পারি। তার ঈমানে অবস্থা কি, কিয়ামাতের দিনে সে কেমন থাকবে এসব বিষয় এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। লিগাল ঈমান আখিরাতে কোনো কাজে আসবে না। আখিরাতে একমাত্র প্রকৃত ঈমান-ই কাজে আসবে। আপনি সালাত আদায় করেন, আমরা আপনাকে সালাম দেই, আপনি দুনিয়াতে ইসলাম গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। আপনি দুনিয়াতে সবার কাছে মুসলিম হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আখিরাতে আল্লাহর কাছে ধর্তব্য বিষয় হবে একমাত্র প্রকৃত ঈমান। লিগাল ঈমান স্থির। এটা কমেও না বাড়েও না। আপনি ঘুমালেও মুসলিম, জেগে থাকলেও মুসলিম, সালাত আদায় করলেও মুসলিম। আল্লাহ যখন ‘হে ইমানদারগণ’ বলে সম্বোধন করেন, এটা ইসলাম যে গ্রহণ করেছে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করে। কিন্তু আমরা তো এও জানি আমাদের ঈমানের কিছু বিষয়াবলি কমে-বাড়ে, ওঠানামা করে। এটাই প্রকৃত ঈমান। অর্থাৎ প্রকৃত ঈমান কমে বাড়ে আমাদের ভালো-মন্দ, পূণ্য বা পাপ কাজ করার কারণে। আর এই প্রকৃত ঈমানের মধ্যে ‘আধ্যাত্বিক ঈমান’-ই ওঠানামা করে বা কমে-বাড়ে। এই ‘আধ্যাত্বিক ঈমান’ যখন অতিরিক্ত ওঠানামা করে তখন এটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ঈমান’ এর সাথে বিশৃংখলা ঘটায়, তালগোল পাকিয়ে ফেলে। এভাবেই ঈমানের বিষয়গুলো কাজ করে। আপনি লিগালি মুসলিম কিন্তু আপনার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক, মানুষের সাথে সম্পর্কে প্রকৃত ঈমান ওঠানামা করে, যা আল্লাহর নিকটে আখিরাতে মূল হিসেবে গণ্য হবে, যার ভিত্তিতে আল্লাহ হিসাব নির্ধারণ করবেন। কুরআনের প্রাথমিক নির্দেশনা...

কীভাবে আমার চরিত্রের উন্নতি করবো?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম প্রথম কথা হল হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। মন্দ কাজ থেকে বিরত হবার আগ পর্যন্ত ভালো কথা বলতে যেও না। কারণ তুমি শরীরের ক্ষতস্থানে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় ঔষধ দিলে সেটা ফলপ্রসু হবে না আর মন্দ কাজ বা পাপ থেকে বিরত না হয়ে ভালো কথা বললেও সেটা ফলপ্রসু বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তোমাকে আনন্দের মধ্য দিয়ে যে বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছ তা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুভি দেখা বাদ দিতে হবে, রাস্তায় চলমান অবস্থায় চক্ষুকে অবণত করতে হবে-কারণ নারীর প্রতি তোমার প্রত্যেকটা চাহনির সাথে তোমার মানবিক গুনকে নষ্ট করে ফেলছ। তুমি একজন নারীর দিকে এমনভাবে তাকাও যেন সে একটা খাবারের টুকরা, যেন সে একটা প্রাণী- আর এটাই প্রমাণ করে যে তুমি একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অবস্থানমূলক সম্মানের জায়গাকে অপমানিত করছ। এটাই প্রমাণিত করে যে তুমি নিজেই এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছ।   সুতরাং চারিত্রিক উন্নতি করতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে সেই মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তারপর তোমার জীবনকে ভালো কাজ দিয়ে সুশোভিত কর, তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর। নিজেকে ভালো করে গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে থাকো – যেমন , সুন্দর ও পারফেকটভাবে সালাত আদায় কর, কিছু প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্ত করা, কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা, পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া। আর এগুলো তেমন কিন্তু তেমন কঠিন কাজ নয় – চাইলেই পারো।   আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে এইগুলোই প্রত্যাশা করেন।   কেউ প্রশ্ন করতে পারে আল্লাহ কেন আমাদের কাছে এগুলো প্রত্যাশা করেন, এগুলো কি তাঁর কোন উপকারে আসে?   এর উত্তরে বলা যায়- আমরা জানি আল্লাহর একটি নাম হল “গনী” যার অর্থ যিনি ধনী, এমন ধনী যে যার আর কোন কিছুরই দরকার নেই কারো কাছে। অর্থাৎ চূড়্রান্ত ধনী। তাহলে কি আমরা বলতে...

বিনয়ের সাথে ভদ্রভাবে চলা

কুরআন উইকলি তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের “Quranic Gems”  সিরিজ থেকে নেয়া। ” আল্লাহ্‌র বান্দারা পৃথিবীতে বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞলোক তাঁদের আক্রমণ করে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মোকাবেলা করে। ”    সুরা ফুরকান-৬৩ আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি, আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা সুরা আল-ফুরক্বান এর শেষে সুরা নম্বর ২৫ এ বর্ণনা করেছেন কারা আর-রাহমান (পরম করুণাময়)-এর বান্দা। আল্লাহ্‌র অনেক নাম আছে জা তিনি এখানে উল্লেখ করতে পারতেন, আল্লাহ্‌র বান্দা, সৃষ্টিকর্তার বান্দা, মহাজ্ঞানীর বান্দা, কিন্তু যখন তিনি বলছেন, পরম করুণাময়ের বান্দা এর মানে যেন উনি বলছেন এই মানুষগুলোর সাথে তাঁর সম্পর্ক তাঁর অভাবনীয় ভালোবাসা, দয়া এবং মমতার ভিত্তিতে। তার মানে এমন এক সত্তার বান্দা যিনি অনেক মমতাময় , যিনি অনেক বেশি ভালোবাসেন, যিনি অভাবনীয় রকম দয়া দেখান তাঁর বান্দা। তার মানে এই মানুষগুলো বিশেষ ধরণের মানুষ। এইখানে আল্লাহ্‌ যাঁদের কথা বলছেন তাঁরা খুবই বিশেষ ধরণের মানুষ। সকল বিশ্বাসীরাই স্পেশাল কিন্তু এঁরা আরো অনেক অনেক বেশি স্পেশাল। এবং এই স্পেশাল মানুষদের যাদেরকে তিনি বলেছেন “ওয়া ই’বাদুর রাহমান”। তাঁদের প্রথম গুণ হচ্ছে, الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا “আল্লাজীনা ইয়ামশূনা আ’লাল আরদি হাওনান” তাঁরা পৃথিবীতে চলে, পৃথিবীতে তাঁরা চলাফেরা করে বিনম্রতার সাথে هَوْنًا ‘হাওনান’ কোমলভাবে এবং তাঁদের নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে। আপনি জানেন যখন আমরা কোন কিছু অর্জন করি, আমরা একধরনের শক্তি, জোড় আর ক্ষমতা অনুভব করি। এবং ঐসব মুহূর্ত আসলে আমাদের নগণ্যতা অনুভব করার কথা। এটা প্রথম কথা, هَوْنًا ‘হাওনান’ মানে এটাও যে আপনি অন্যদের সামনে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করবেন না, আল্লাহ্‌ এ সম্পর্কে কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ্য করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ, পিতামাতার সামনে নম্রভাবে মাথা নত করে দেয়া এর মানে কী? এরমানে হলো আপনি পূর্ণবয়স্ক, আপনি পেশাজীবী, আপনার টাকা আছে, আপনার নিজের গাড়ী আছে, বাড়ী আছে আর আপনার বাবা-মা রিটায়ার্ড, বৃদ্ধ।...

কিভাবে বুঝব শাস্তি না পরীক্ষা নিচ্ছেন আল্লাহ তাআলা?

কুরআন উইকলি তে দেয়া উস্তাদ নুমান আলী খানের “Quranic Gems”  সিরিজ থেকে নেয়া।   যখন কোন একটা বিপদ তোমাদের উপর বর্তায় (উহুদের যুদ্ধকালীন) যদিও তোমরা এর আগে (বদরের যুদ্ধে শত্রুদের মাঝে) এর চেয়ে ও দ্বিগুণের মাঝে পরিবেষ্টিত ছিলে তোমরা বল, “এগুলো কোথা থেকে এলো?” বল, “এগুলো তোমাদের থেকেই এসেছে”। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছু করতে সক্ষম। (৩-১৬৫) আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলী আমি সুরা আল ইমরানের ১৬৫ নাম্বার আয়াত আপনাদের সাথে খুব সুনির্দিষ্ট একটু উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে চাই। অনেক মানুষই প্রশ্ন করেন কেন আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদেরকে কঠিন সময়ে ফেলেছেন এবং এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। ওনারা জানতে চান কি এমন ওনারা করেছেন যে এইরকম কষ্টের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। এবং কখনো কখনো মানুষ এটাও বলে, যখন খারাপ কিছু হয়, এটা হয়েছে কারণ, “আমি কিছু খারাপ কাজ করেছি, কারণ এটা আমারই ভুল নয়তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরকম ইচ্ছা করেছেন আমার পরীক্ষা নিতে। আমি কিভাবে বুঝবো কোনটা আসল কারণ?” আবার কিছু মানুষ আছে যারা যখনই তাদের উপর কোন বিপদ আসে, তারা নিজেদেরকে এর জন্য দোষারোপ করে। তারা শুধু বলে, “আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ন্যায়বান. নিশ্চয়ই আমিই কিছু অন্যায় করেছি, আমি নিশ্চয়ই আমার পিতামাতার সাথে খারাপ আচরণ করেছি অথবা অন্য কিছু, এবং এই কারণে আমার গাড়ী এক্সিডেন্ট করেছে অথবা অন্যকিছু”। তারা অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান জগতে মনোযোগী হয়। এখন কিছু আয়াত আছে যা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে, একদিকে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, যেমন এই আয়াতে, আওয়া লাম্মা আসাবাকতুম মুসীবাতুনক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা যখন উহুদের যুদ্ধে মুসলমানেরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছিলো, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলছেন, “যখন তোমরা কোন বিপর্যয়ে আক্রান্ত হও, যেরকমটি তোমাদের শত্রুদের থেকে আগে ও এসেছে এবং তোমরা পরাহত করেছ” (ক্বাদ আসাবতুম মিছলায়হা) “আগের বছরই এরচেয়ে দ্বিগুণ ক্ষয়-ক্ষতি তোমরা তোমাদের...

কু’রআনের কথাঃ বাংলা ভাষায় কু’রআনের আধুনিক আলোচনা

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহীম আমাদের অনেকেরই কু’রআন এবং কু’রআনের তাফসীর পড়ার সময় মনে প্রশ্ন আসে, “এই আয়াতে আমার শেখার কী আছে?”, “এর সাথে আজকের যুগের সম্পর্ক কী?”, “কু’রআনে আধুনিক মানুষের জীবনের সমস্যাগুলোর কোনো উত্তর আছে কি?” ইত্যাদি। অনেকেই কু’রআন পড়ে বুঝতে পারেন না; কু’রআনের আয়াতগুলোগুলো কীভাবে তার জীবনে কাজে লাগবে।   বিশেষত কোরআনকে আমাদের পড়তে অনীহা লাগার অনেকগুলো কারণ রয়েছে- এর   মাঝে রয়েছে কোরআনের প্রাসঙ্গিকতা, এটিকে সুশৃঙ্খল মনে না হওয়া এবং পাশাপাশি কোরআনকে বুঝতে হলে শুধু কোরআনই নয় বরং অন্যান্ন জ্ঞানের শাখাও যে সমানভাবে লাগে সেগুলোর জ্ঞান না থাকায় আমরা একে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি না এবং এটা পড়তেও ইচ্ছা করে না।   এসব কিছুই মধ্য দিয়েই কোরআনের এই অসাধারণ আলোচনাসমূহ-যার কারণে আপনার কাছে কোরআনকে আর নিরস মনে হবে না, কোরআনের আবেদন নতুনভাবে উন্মোচিত হবে, নতুনভাবে পরিচিত পাবে কোরআনের চিরন্তন ও সমকালীন জীবন পথের প্রাসঙ্গিক আলোচনাসমূহ।   আধুনিক মানুষ ইসলামকে নিয়ে যে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন এবং অমুসলিম মিডিয়ার ব্যাপক অপপ্রভাবের কারণে ইসলামকে মনে-প্রাণে মেনে নিতে পারেন না, তাদের কাছে ইসলামের সঠিক ভাবমূর্তি এবং কু’রআনের অসাধারণ বাণী পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ লেখাগুলোর সূচনা। এটি কোনো তাফসীর নয়, বরং প্রসিদ্ধ তাফসীরগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য এবং আজকের যুগের জন্য প্রাসঙ্গিক আলোচনার সংকলন। এখানে কু’রআনের আয়াতের বাণীকে অল্প কথায়, সমসাময়িক জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে, সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক আলোচনাসহ যথাসম্ভব আধুনিক বাংলায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি সমকালীন মানুষেরা তাদের জীবনের সাথে কুর’আনকে মেলাতে পারবেন। কু’রআনের আয়াতগুলোর সরাসরি বাংলা অনুবাদ পড়ে আয়াতের বাণীর খুব কমই বোঝা যায়, কারণ আরবি থেকে বাংলা অনুবাদ করার সময় অনেক আরবি শব্দের প্রকৃত অর্থ, অর্থের ব্যাপকতা এবং প্রেক্ষাপট হারিয়ে যায়। আবার অনেকেই তাফসির পড়ে ঠিক কিন্তু উপলব্ধি করতে পারেন না, আয়াতগুলো কীভাবে তার জীবনে কাজে লাগবে, কীভাবে তা একবিংশ...

স্বামী-স্ত্রীঃ সুখী ও ভালোবাসাময় দাম্পত্য জীবনের কিছু পাথেয়

বিসমিল্লাহির রাহমানীর রাহিম বোন, আপনি আপনার স্বামীর সাথে দীর্ঘ জীবনের জন্য জড়িয়ে গেছেন। সুতরাং  তাদের প্রতি রাগান্বিত হবেন না, তাদেরকে ভালোবাসুন। বিশ্বাস করুন, আপনার ভালোবাসায় যদি তিনি সুখী হন তবে আপনি প্রকৃতপক্ষেই সুখী হবেন। আপনি হয়তো ভাববেন, “আমি যেহেতু রাগান্বিত, তাহলে সে সুখে থাকবে কেন? সে আমাকে কেয়ার করে না, আমি কেন তাকে কেয়ার করবো?” আপনার স্বামীও কিন্তু একই রকম চিন্তা করেন, “আমার স্ত্রী আমার ব্যাপারে কেয়ার নেয় না আমি কেন তার ব্যাপারে কেয়ার নেবো?” বোন, আপনিই প্রথমে শুরু করুন। তার প্রতি যত্নবান হোন, সুন্দর হোন। তার দিকে তাকিয়ে হাসুন। দেখুন তার আগ্রহ বেড়ে যাবে! তিনি বলবেন, “তুমি হাসছো কেন? কেন হাসছো? সব কিছু ঠিক আছে তো? তোমার মা আসছেন নাকি বাড়িতে?” আপনিই শুরু করুন। বাইরে যাওয়ার জন্য সাজবেন না, আপনার স্বামীর জন্য সাজুন। আপনার চার-পাঁচজন সন্তান আছে, সেটা কোন ব্যাপার না, তবুও স্বামীর জন্য সাজুন। বাইরে চারপাশে শয়তান আর ফিতনা ছড়িয়ে আছে। আপনার স্বামীর আপনার মাঝেই সৌন্দর্য দেখা উচিৎ, বাইরের কোন কিছুর মাঝে নয়। আর স্বামীদের উচিৎ স্ত্রীদের কর্মের কৃতিত্ব দেওয়া, প্রশংসা করা, তাদের ভালোবাসার কথা বলা। সব সময় অভিযোগ করবেন না এই বলে যে, “বাচ্চারা কোথায়?”, “খাবার রেডি হয়েছে?”, “এটা করেছো?”, “সেটা করেছো?”… এতো অভিযোগের রেশে স্ত্রী হয়তো বলে বসবেন, “আমি কিছুই করিনি।” আর আপনি সে সুযোগে বলবেন, “তুমি আমার কোন কথাই শুনো না!” বন্ধ করুন ভাই, এতো অভিযোগ করবেন না, “খাবারে লবণ বেশি কেন?”, “খাবার ঠান্ডা কেন?”, “বেশি গরম কেন?” … বন্ধ করুন ভাই, বন্ধ করুন। স্ত্রীর উদ্দেশ্যে ভালো কিছু বলুন, সুন্দর কিছু বলুন। আমি জানি আমাদের কালচারে, বিশেষত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্ডিয়াতে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে ভালো কিছু বলাটা খুবই কঠিন, ভালো কিছু বললেই যেন বুকের বামপাশে ব্যাথায় চিনচিন করে উঠে! তাই ভালো কিছু বলার পর সেটাকে ব্যালান্স করার...

হিকমাহ কী? এবং ইসলামী সফলতার ধারাবাহিক শর্ত

আরবীতে হিকমাহ হলো – উপকারী জ্ঞান এবং এর উপর কাজ করা। হিকমাহ খুব সহজে বলতে গেলে বলা যায় – ১। একজন ব্যক্তি জানে যে আগুন পুড়ায় তবুও সে এটাকে স্পর্শ করল—এই ব্যক্তির জ্ঞান আছে কিন্তু হিকমাহ নেই। ২। আর যে ব্যক্তি জানে যে আগুন পুড়ায় এবং সে এটা স্পর্শ করে না—এই ব্যক্তির জ্ঞান এবং হিকমাহ উভয়ই আছে।   এ কারণে কারো জ্ঞান থাকতে পারে কিন্তু হিকমাহ বা জ্ঞান থেকে কাজ করে উপকৃত নাও হতে পারে। অর্থাৎ জ্ঞান থাকলেও হিকমাহ না-ও থাকতে পারে।   একজন ব্যক্তি জানে আগুন পুড়ায় এবং জানা সত্বেও সে এটা থেকে উপকার নিতে পারলো না, তার মানে তার জ্ঞান আছে কিন্তু হিকমাহ বা প্রজ্ঞা নেই।   আর যে ব্যক্তি আগুন পুড়ায় জানে এবং এর অপকারিতা থেকে দূরে থেকে উপকার নেয়, সেই ব্যক্তির জ্ঞান (আগুন পুড়ায়) এবং হিকমাহ (পুড়ানো থেকে দূরে থাকা, রান্না করা) আছে। কেউ নেশা করে, সে জানে নেশা খারাপ জিনিস। এটা জ্ঞান। তবুও সে নেশা করে। তার জ্ঞান আছে কিন্তু এই জ্ঞান থেকে যেহেতু উপকার পায় না, উপকৃত হতে পারছে না, তাই এই ব্যক্তির হিকমাহ নেই।   অর্থাৎ হিকমাহর সম্পর্ক জ্ঞানের সাথে, যে জ্ঞান থেকে উপকার নেওয়া হয়।   সুতরাং হিকমাহ খুবই শক্তিশালী জিনিস।   এ কারণে আমরা দেখি অনেকেই কেবল পড়তেই থাকে, শিখতেই থাকে, জানতেই থাকে…তারা কেবলই জ্ঞানার্জন করে, হিকমাহ শিক্ষা করে না। তারা কেবল নিয়ম-কানুন শেখে, শেখে না হিকমাহ।   কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল আইন বা নিয়ম-কানুনই শেখাতেন না, কীভাবে এটা প্রয়োগ করতে হবে (সুন্নাহ), ধরে থাকতে হবে এবং উপকৃত হতে হবে, সেটাও শিক্ষা দিতেন। অর্থাৎ জ্ঞানের প্রায়োগিক দিক (Practical Dimension) হলো হিকমাহ বা প্রজ্ঞা।   হিকমাহ বলতে এটা বুঝায় না যে উচ্চতর, গভীর ও তাত্ত্বিক আলোচনা, বরং (জ্ঞানের...

জান্নাতের দরজা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি আপনাদের সাথে এই সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে সুরা সোয়াদ এর কিছু ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব। এটি কুরআনের ৩৮ তম সুরা। আর এর পরের সুরা হচ্ছে সুরা জুমার। এই দুই সুরার শেষেই আল্লাহ বেহেশত সম্পর্কে খুব সুন্দর কিছু উল্লেখ করেছেন, যা এখন আমি আলোচনা করব। আল্লাহ আজ ওয়াজাল সুরা সোয়াদে বলেছেন, “জান্নাতের বাগান সমূহ ( যা আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) এর দরজাগুলো তাদের জন্যে খোলা রাখা হয়েছে”(আরবিতে মুফাত্তাহা মানে এমন কিছু যা খোলে ধরে রাখা হয়েছে এবং কেউ একজন এর ধরে রাখার দায়িত্বে আছে)। এবং যেভাবে আল্লাহ এটি বর্ণনা করেছেন যে, জান্নাতের দরজা ইতিমধ্যে খুলে ধরে রাখা হয়েছে। এটি কিয়ামতের দিন খোলা হবে না। এটি ইতিমধ্যে খোলে ধরে রাখা হয়েছে। মুফাত্তাহা আর মাফতুহা এ দুটি আলাদা শব্দ। আরবিতে মাফতুহা মানে দরজা খোলা। আর মুফাত্তাহা মানে, দরজা প্রশস্তভাবে খোলে ধরে রাখা। এখন চিন্তা করুন, আপনার অনুমান শক্তিকে কাজে লাগান। যখন দরজা বন্ধ থাকে, তাদেরকে দরজার বাইরে দাড়াতে হবে, ঘণ্টা বাজাতে হবে, দরজায় কড়া নাড়তে হবে, অপেক্ষা করতে হবে দরজা খোলার জন্যে এবং তারপরেই তারা ঢুকতে পারে। যখন আপনি আপনার অতিথির সুবিধার জন্যে খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকবেন, তখন আপনি কি করবেন? আপনি দরজা খোলে রাখবেন। এরপরেও আপনার অতিথি দরজা অর্ধেক খোলা দেখে হয়তো ভাবতে পারে যে, আমি জানি না আমাকে হয়তো ঘণ্টা বাজাতে হবে, ঘরে ঢোকার জন্যে অনুমতি নিতে হবে যেরকম আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা যারা বিশ্বাস কর, তারা অন্যের ঘরে ঢুকো না যতক্ষণ না অনুমতি পাও”। (সুরা আন-নুর:২৭) এখন, তৃতীয় আরেকটি অবস্থার কথা চিন্তা করুন। ধরুন, আপনি কাউকে দায়িত্ব দিলেন যেমন কোন বাচ্চা অথবা যে কেউ। আপনি দায়িত্ব দিলেন আপনার বাসার দরজা খোলে ধরে থাকার জন্যে এবং আপনার অতিথিদেরকে স্বাগতম জানানোর জন্যে যখন তারা আপনার বাসায়...

চিন্তাশীল হওয়ার গুরুত্ব

যখন কোন কম বয়সী কেউ আমাকে এসে প্রশ্ন করে, এমনকি পূর্ণ বয়ষ্ক কেউ, আমি আমার সহকর্মীদের কীভাবে ব্যাখ্যা করে বোঝাবো যে আমি রোযা রেখেছি? কীভাবে ওদের বোঝাবো? যেহেতু ওরা মুসলিম নয়, ওরা ভাবে এটা অদ্ভূত। আপনি কি আমাকে এর একটা সুন্দর উত্তর দিতে পারেন যাতে আমি আমার সহকর্মীদের বোঝাতে পারি? অথবা আমি কীভাবে ওদেরকে বোঝাবো যে, আমি অযু করছি? আমি বাথরুমে ঢুকে অযু করছি, আমি অফিসে ছিলাম বা আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম, আমি ওদের কে কীভাবে বোঝাবো? ওরা আমাকে অযু করতে দেখেছে এবং ওদের মনে হয়েছে ব্যাপারটা অদ্ভুত- আপনি কি আমাকে এর একটা ভালো জবাব দিতে পারেন যাতে আমি ওদের বলতে পারি, আর বিব্রত না হই? অথবা ওরা যখন দেখে যে আমি নামায পড়ছি, ওরা জিজ্ঞেস করে এটা আবার কী ধরণের শারীরিক ব্যায়াম? এটা কী ধরণের যোগব্যায়াম আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবে? ওদেরকে আমি কী বলবো? আমরা ওদের কী উত্তর দিতে পারি? এ ধরণের প্রচুর প্রশ্ন আছে, আপনি হয়তো এর উত্তর খুঁজছেন,  যাতে অন্যদের বোঝাতে সাহায্য করতে পারেন, এবং এই প্রশ্ন আপনি করছেন ভালো উদ্দেশ্যে। আমাদের দ্বীন আসলে এমন যে…ও… এই তালিকায় আমার আরেকটু যোগ করার আছে, আমার সব বন্ধুরা যাচ্ছে হ্যালোইন পার্টিতে, অথবা আমার সব সহকর্মীরা যাচ্ছে খ্রিস্টমাস পার্টিতে – আমি কীভাবে ওদের বলবো আমি যেতে পারছি না? কীভাবে আমি ব্যাখ্যা করবো যে আমি এসব কিছুতে যোগ দেই না? আপনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন, কিন্তু এই প্রশ্নগুলো আমাকে কী বলছে জানেন? এ প্রশ্নগুলো বলছে যে আমরা কীভাবে ভাবতে হয়,  কীভাবে চিন্তা করতে হয় তা শিখিনি, এই বই (কুরআন)-এর আলোকে তো নয়ই।  দেখুন, আপনি যদি জানতেন কীভাবে চিন্তা করতে হয়, যখন কেউ আপনাকে বলে যে চলো হেলোইন পার্টিতে যাই, আপনি উল্টো ঘুরে তাঁকে প্রশ্ন করতেন, হ্যালোইন কী? তুমি এটা কেন উদযাপন...