বাংলা নোটসমূহ

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা নোটসমূহের আর্কাইভ করছি

আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের পুরস্কার – ৩য় পর্ব

পরবর্তী প্রসঙ্গে আসতে পারি, যাতে করে এই আয়াত শেষ করতে পারি। প্রতিবন্ধকতার উদ্দেশ্য। আমরা আমাদের জীবনে কিছু জিনিস চাই। একজন যুবক হয়তো বিয়ে করতে ইচ্ছুক বা একজন যুবতী বিয়ে করতে ইচ্ছুক। আপনি একটা ভালো চাকরি বা বাড়ি চান। আপনি চান আপনার পরিবার ভালো থাকুক। আপনি সন্তানদের ভালোভাবে লালন-পালন করতে চান, তাদের জন্য ভালো শিক্ষা, তাদের ভাল বিয়ে দিতে চান। আমাদের জীবনে বিভিন্ন জিনিসের অগ্রাধিকার রয়েছে। এমন জিনিস যা আপনি চাচ্ছেন গত মাস থেকে, গত বছর বা দুই বছর ধরে। আপনি বিভিন্ন জিনিস এই জীবনে অর্জন করতে চান। আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের শিক্ষা দেন যে, এমন একটা জিনিস আছে তা যদি তোমরা অর্জন করতে পারো সেটা হবে তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সব ঠিক হয়ে যাবে যদি তোমরা এই জিনিস পাও। এবং সেই একটি জিনিস হলো- আল্লাহ নিকটবর্তী হওয়া। আল্লাহর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা, তাঁর সাথে সত্যিকারের সম্পর্ক এবং বন্ধন তৈরি করা। কিন্তু সমস্যা হল জীবন যখন সত্যিই ভালো থাকে তখন তারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। আপনি তখন ভিডিও গেম থেকে চলচ্চিত্র, তা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার হালচাল, তা থেকে রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি, দিনশেষে ঘুমিয়ে পড়েন। আল্লাহকে ভুলে যান। আল্লাহকে মনে রাখেন না। নিজেকে নিয়ে থাকেন আর আনন্দে মেতে আছেন। এরপর যখন কঠিন সময় আসে তখন বন্ধুরা আর সাথে থাকে না, খেলাধুলা ভাল লাগে না, গাড়িটাও ভাল লাগে না; কারণ স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর যখন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, এই কোন কিছুই আর ভালো লাগে না। খালি তখন মনে হয় যে, আমি কখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাব। ‘ইস! আমি যদি আবার হাঁটতে পারতাম!’ মানুষজন আপনার পছন্দের খাবার আনবে আপনি খেতে চাচ্ছেন না, আপনার পছন্দের মুভি দেখাবে, আপনি দেখতে চান না। আপনি সারাক্ষণ যেসব বিষয় নিয়ে মেতে থাকতেন, একটার পর...

কুর’আনের সাথে গভীর সম্পর্ক

রআন তিলাওয়াত, কুরআন তিলাওয়াত প্রতিদিনের একটা অবশ্য কাজ। আমি আপনাকে গোটা পারা খতম দিতে বলছি না, এখন আর আমি এতটা আশা করিনা । কিন্তু এক পাতা করে পড়ুন, আরবীতে, আপনার তিলাওয়াত যত খারাপই হোক না কেন …আপনার তিলাওয়াত যতই খারাপ হোক না, কিছুই আসে যায় না। যদি আপনি আপনার তিলাওয়াত নিয়ে লজ্জ্বা পান তাহলে একটা রুমে যেয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। কিন্তু জোরে জোরে তিলাওয়াত করবেন, মনে মনে না, সজোরে । এবং তিলাওয়াতের আগে, যদি আপনার আরবি পড়তে সমস্যা থাকে তাহলে আল্লাহ কাছে দুয়া করবেন ‘’ইয়া আল্লাহ – আমি তোমার বাণী তিলাওয়াত করছি, শুধু তোমারই জন্যে … এবং একমাত্র তুমিই পার আমার জন্যে একে সহজ করে দিতে । একমাত্র তুমিই পার আমার জন্যে কুরআনের তিলাওয়াতকে সহজ করে দিতে, এটির হিফজ সহজ করে দিতে, এটির বুঝ সহজ করে দিতে .. এর প্রতি আমার ভালবাসাকে বাড়িয়ে দিতে এবং এটি দিয়ে আমার নামাজকে সহজ করে দিতে । একমাত্র তুমিই পার আমাকে সাহায্য করতে। ইয়া আল্লাহ, আমার এই তিলাওয়াত শুধু তোমারই জন্য। ‘’ এটি হবে আল্লাহর সাথে আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সময় (নামাজ ব্যতিত) । মাত্র ১০ মিনিট লাগবে । কিন্তু আপনাকে এই সময়টা বের করে নিতে হবে । আপনার জীবনের মাঝ থেকে এই সময়টা বের করে নিতে হবে । এবং যখন কুরআনের প্রতি আপনার ভালবাসা তৈরী হয়ে যাবে, আমাকে আর আপনাকে এভাবে বলে বোঝাতে হবেনা ১০ মিনিট সময় দেবার জন্যে, আপনি নিজে থেকে ২০, ৩০, ৪০ ৫০ মিনিট, এক ঘন্টা ধরে কুরআন নিয়ে বসে থাকবেন। সময়টা বাড়তেই থাকবে। সময়টা বাড়বে, কিন্তু এটা নিজে থেকে হতে হবে । আপনি যদি নিজেকে একটা রুটিনে নিয়ে আসতে না পারেন, এটা কখনই হবে না।এসব কিছুই আপনার কাজে লাগবে না যতক্ষণ পর্যন্ত এটিকে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে আসবেন। আপনি সত্যিই...

আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের পুরস্কার (২য় পর্ব) – দোয়া করার আদব

পবিত্র কোরআন শরীফের এবং নবীজি (সঃ) এর সুন্নতের অধিকাংশ দুআতে, আপনি খুব সাধারন একটি ব্যাপার খেয়াল করবেন যে, কোন না কোনভাবে আপনি আল্লাহর কাছে নিজের জন্য আরও বেশি শক্তি, সামর্থ্য প্রার্থনা করছেন। আপনি আল্লাহর কাছে পথ প্রদর্শন, ক্ষমাশীলতা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার দোয়া করছেন। أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ – সূরা আন নামল, আয়াত ১৯। আমাকে ক্ষমতা প্রদান করুন যাতে আমি আপনার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আমি আপনাদের একটি উদাহরণ দিব যা দ্বারা আপনাদের বুঝতে সহায়ক হবে যে আমি কি বুঝাতে চাই। যেমন ধরুন, একজন মানুষ সমুদ্রে ছিল এবং তাদের জাহাজের সাথে পাথরের সংঘর্ষ হয়ে জাহাজটি ডুবে গেলো। তিনি একটি কাঠের টুকরায় সমুদ্রে ভেসে আছেন। এবং আল্লাহর কাছে দুআ করছেন। এমতাবস্থায় আল্লাহর কাছে তিনি দুই ভাবে দুআ় করতে পারেন। ‘হে আল্লাহ আমাকে এখনই একটি দ্বীপে স্থানান্তর করুন এবং এই ঝড় বৃষ্টি বন্ধ করে দিন।’ অথবা আপনি চাইতে পারেন ‘হে আল্লাহ আমাকে এই কঠিন সময় মোকাবেলা করার শক্তি দিন। এখন তিনি দুআ করলেন, আমাকে এখনই একটি হেলিকপ্টার পাঠান, এবং আমাকে একটি দ্বীপে নিয়ে যান। এবং তিনি হেলিকপ্টারের জন্য দুআ করতে থাকলেন। কিন্তু কোন হেলিকপ্টার আসলো না। তিনি বললেন, ”আল্লাহ আমাকে হেলিকপ্টারও পাঠালেন না। আমি তো অনেক দুআ করলাম। এইটা ঠিক না। বাদ দাও আমি আর দুআ করব না।” অথবা মনে করুন, উনি দুআ করছেন সমুদ্র শুকিয়ে সমতলভূমি হয়ে যাক। বলছেন হে আল্লাহ, আপনার তো সেই ক্ষমতা আছে যেকোনো অবস্থা পরিবর্তনের। আপনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, সুতরাং আপনি এই সমুদ্রকে সমতলভূমিতে পরিণত করতেই পারেন। আপনি যেহেতু ইব্রাহিম (আঃ) কে নিক্ষেপ করা আগুন ঠান্ডা করে দিয়েছিলেন, সুতরাং আপনি আমার জন্যও এটা করতে পারেন। কিন্তু তারপরও সেটা ভূমিতে পরিণত হয় না, সমুদ্রই থেকে যায় এবং লোকটি ধীরে ধীরে ডুবে...

সত্য প্রত্যাখ্যানের কৌশল

সত্য-মিথ্যার চিরকালীন দ্বন্দ্বে মিথ্যাবাদীরা কৌশল খাটিয়ে কিছুদিনের জন্য টিকতে পারে – তা নিয়ে এক খুৎবাতে উস্তাদ নুমান আলী খান কুর’আন হাদীস থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাদের ৫টি কৌশলের। মিথ্যাবাদীদের কৌশলগুলো বলার আগে দেখি আল্লাহ সুবহানাল্লাহি ও তাআলা সত্যকে কীভাবে চিত্রায়িত করেছেন কুরআনে। সত্য সবসময় আগ্রাসী আর মিথ্যাকে সামনে পেলেই চুরমার করে ফেলে: “আমরা সত্যের দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি, ফলে তার মগজ চুরমার হয়ে যায়, তখন দেখো! তা অন্তর্হিত হয়। আর ধিক তোমাদের প্রতি! তোমরা যা আরোপ কর সেজন্য।“ [সূরা আম্বিয়া: ১৭] সত্যের নিজের কোন অস্ত্র লাগেনা। মিথ্যাকে মারার জন্য সত্য নিজেই এক অস্ত্র। কোন বিষয়ের সত্য মিথ্যা একসাথে রাখলে সত্য একদম নিঃশেষ করে দেয় মিথ্যা কে। সত্য খুবই আগ্রাসী এ ব্যাপারে। সত্যের আগমনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই হয় যারা এতদিন মিথ্যা কিছু তথ্য আর বিশ্বাসের উপর ভর করে বিশাল বিশাল ইমারত তৈরি করে নিয়েছে আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধভাবে তা মেনে চলছে। এইসব অহংকারী মিথ্যাবাদীরা কিভাবে সত্যকে নিশ্চিতভাবে জানার পরও প্রথম যে কৌশল এর আশ্রয় নেয় তা হল By Force বা পেশী শক্তি আর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে। যেমন: ছোট একটা ছেলে তার এক বড় ভাইকে বিরবির করে বলল: ২+২=৪ বড়ভাই বলে উঠল ভারী গলায় “না, ২+২ =৫” “কিন্তুদেখুন ২ হচ্ছে ১ যোগ ১ আর…” “থাম, আমি বলছি ৫ , তাই ৫ এখন অফ যাও” ইব্রাহীম (আঃ) যখন তার গোত্রদের বললেন তোমরা ভুল ইলাহদের প্রার্থনা করছো আর জবাবে ওরা বলল: তাই না? ওকে জীবন্ত পুড়াও। শুধু জোর খাটিয়ে পেশী শক্তি আর হুংকার দিয়ে সত্যকে দূরে ঠেলে দেয়। দ্বিতীয় কৌশল হল চরিত্র হনন। আগের উদাহরণে আসি। – “জান ভাইয়া ২+২=৪” – “তাই না? তুমি তো বাইট্টা, ঠিকমত হাটতেও পারোনা আর আমারে আইসো শিখাইতে, না?” মুসা (আঃ) যখন সত্যের দাওয়াত নিয়ে আসলেন তখন...

আপনি কি সত্যিই কুর’আনকে ভালোবাসেন

কিয়ামতের দিন স্বয়ং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহকে সরাসরি বলবেন, وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَٰذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا (রাসূল (সাঃ) বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার জাতির লোকেরা এ কুরআনকে পরিত্যক্ত গণ্য করেছিল।’) এই আমার জাতি, নিঃসন্দেহে তারা এই কোরআনকে –এমনকি ‘হাজা’ শব্দটির ব‍্যবহারেও সৌন্দর্য‍্য লক্ষ‍্য করা যায়, যেটা ‘‘জালিকা’’ শব্দটির বিপরীত। (হাজা অর্থ এই, আর জালিকা অর্থ ঐ)। যেমনটি আপনি কোরআনের শুরুতে পড়ে থাকেন, (জালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফিইহি)। এখানে আল্লাহ বলেন নি ‘‘জালিকাল কোরআন’’ আল্লাহ বলেন, ‘‘হাজাল কোরআন’’– এই কোরআনটা এখানেই ছিল, তোমার সামনেই ছিল, তবুও তুমি তার প্রতি মনযোগ প্রদর্শন কর নি। এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেয়ামতের দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার এই জাতি ‘‘এই’’ কোরআনকে, ‘‘ঐ’’ কোরআনকে নয়, এই কোরআনকে…। এই আয়াতে ‘‘হাজা’’ শব্দটির একটি অন‍্যতম পারিভাষিক বৈশিষ্ট‍্য হচ্ছে এরকম যে, যেন শেষ বিচারের দিন কোরআনকে সাক্ষী হিসেবে আনা হবে। জানেন, আদালতে কিভাবে সাক্ষীদের হাজির করা হয়, তারপর সাক্ষী বা প্রামাণিক বস্তুকে সামনে রাখা হয় এবং প্রমানটিকে চিহ্নিত করে বলা হয় এই হচ্ছে তার প্রমান যে, ওই লোকটি আসামী। তাই শেষ বিচারের দিন স্বয়ং কোরআনই হবে প্রমান স্বরূপ। আপনার মামলার অবস্থা এমনিতেই যথেষ্ট খারাপ ছিল এবং তার উপর কোরআনকে আনা হল সাক্ষী হিসাবে এবং সে সাক্ষী আনার ব‍্যাপারে উকিল হচ্ছেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)। এবং তিনি কোরআনকে চিহ্নিত করছেন এবং বলছেন এই লোকগুলো…আমার এই জাতিগুলো তারা এই কোরআনকে নিয়েছে ‘‘মাহজুরা’’ হিসাবে। আরবীতে মাহজুরা বলতে বুঝায়, আপনি কোনকিছু পুরোপুরি ভুলে গেছেন, আপনি কোনকিছুকে সম্পুর্ণরূপে অবহেলা করেছেন, আপনি তা অনেক পিছনে ফেলে রেখে এসেছেন। এখানে উর্দুভাষীরা হয়ত ‘‘হিজরা’’ শব্দটি চেনেন। সবাই চেনেন ‘‘হিজরা’’ শব্দটি কোনকিছুকে স্থানান্তর করা। আয়াতটি এমনকি ‘‘মাতরুকান’’ও বলে নি, ‘‘মাতরুকান’’ মানে পেছনে ফেলে রেখে আসা। আর ‘‘মাহজুরা’’ মানে বহুদূর পর্যন্ত...

নাস্তিক হবার ৩টি কারণ

অনেক মুসলিমের মাঝে একটি আচরণ আমি খেয়াল করেছি, সেই মনোভাবটি সর্বপ্রথম আমি নিজের মাঝেই খুজে পেয়েছিলাম। তাই আমি জানি এমনটা হয়। কারণ এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—যে কুরআন বর্তমান সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। কুরআন আমার জীবনের ব্যপারে কিছু বলছে না। এটা এমন কিছু নিয়ে বলছে যা অনেক আগেই ঘটে গেছে। আমি যাদেরকে চিনি যারা কুরআন নিয়ে কথা বলে, তাদেরকে দেখলে মনে হয় তারা ৫০০ বছর আগেই পড়ে আছে। তারা আধুনিক মানুষের মত নয়। তারা যখন কথা বলে, এমনভাবে কথা বলে যেভাবে আর কেউই কথা বলে না। আমার বন্ধুরা, সহকর্মীরা, শিক্ষকরা কেউই এইভাবে কথা বলেনা। আপনি একজন খাতিবের বন্ধু হতে পারেন। তারা এমনভাবে কথা বলে যেন তারা ভিন্ন কোন যুগের মানুষ যাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ধর্মীয় আলোচনার পর আমার প্রথম মনোভাব ছিল যে এটি এই সময়ের জন্য নয়। এটি একটি পুরাতন কিছু, প্রাচীন কিছু মানুষের জন্য। এই ধর্ম পালন করে এই যুগে বেচে থাকা সম্ভব নয়। অসম্ভব। আর আমি যত লেকচার শুনেছি সব সময়ই তারা এই কথাই বলত যে এখনকার সময়টা কতটা খারাপ। এখন বেশ খারাপ সময়, আগে কতই না ভালো সময় ছিল। তো আমি নিজেকে বলতাম যে কিন্তু ঐ সময় তো চলে গেছে। আর এখন খারাপ সময় চলছে। তো কি আর করার? এটি প্রথম সমস্যা। দ্বিতীয় যে সমস্যা আমি দেখেছি। আবারও, আগে নিজের মাঝেই দেখেছি এরপর আরও লাখ লাখ মানুষের মাঝে যে এই ধর্ম, এই বইটি খুবই কঠোর। আর কঠিন। যেই নিয়ম কানুন আছে তা পালন করা সহজ নয়। এই নিয়ম নীতি গুল কিছু জিনিস থেকে দূরে থাকতে বলে, কিছু করতে বলে। কিন্তু এগুলোর সংখ্যা অতি মাত্রায় বেশি, বেশ কঠিন এবং প্রাসঙ্গিক নয়। পালন করা সম্ভব নয়। আর যদি পালন করতেই হয়, তবে আমাকে চরমপন্থি হতে হবে। সাধারন-সুখী কেউ...

অভাবীদের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার বিষয়ে সতর্ক হোন

সুরা আল কালাম, কুর’আনের ৬৮ নাম্বার সুরাতে একটা গল্প আছে। কয়েকজন কৃষক, পরবর্তি দিন সকালে তারা ফসল কাটতে যাবে। এবং এটা বেশ লাভজনক হতে যাচ্ছে। আর, তারা চাচ্ছে খুব, খুব সকালে যেতে। গরীব লোকেরা জেগে উঠার আগেই। কারণ ঐ গ্রামের গরীব লোকেরাও জানতো যে এটা ছিল ফসল তোলার দিন। তাই তারা উপস্থিত হবে ক্ষেত আর বাগানের বাইরে এই আশায় যে তারা কিছু ফল-ফসল পথে ফেলে যাবে, কিছু তাদেরকে দেবে আর, ফলে তারা কিছু দান গ্রহন করবে। তাই তারা পরিকল্পনা করল, তারা ক্ষেতে চলে যাবে কোন গরীব লোক উপস্থিত হওয়ার আগেই ভাষাটা হচ্ছে- নিশ্চিত করা যে কোন একজন গরীব কিংবা দেওলিয়া লোকও যেন তোমার কাছে ভিড়তে না পারে, চেষ্টা কর আস্তে কথা বলতে যেন কাউকে না জাগিয়ে ফেল এবং নিঃশব্দে যাবে আর ফিরে আসবে। দেখুন, তারা কিন্তু (তাদেরকে) ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় নি। যেভাবে কুরআনের অন্যত্র পাবেন। সে ইয়াতিমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং মিসকীনকে খাবার দিতে উৎসাহ দেয় না। অন্য জায়গায় দেখবেন মানুষ মন্দ কথা বা কর্কশ স্বরে কথা বলছে গরীবদের সাথে। তাই না? অথবা তাদের(গরীবদের) মনে করিয়ে দিচ্ছে সে তাদেরকে দয়া করছে। এই আয়াতে সেরকম কোন কথাবার্তাই গরীবদের সাথে বলা হয় নি। বলা হয় নি। তারা কাউকে অপমান করেনি, কারো প্রতি উঁচু গলায় কথা বলেনি। তারা শুধু নিজেরা নিজেরা কথা বলেছে, তাদেরকে এড়িয়ে যাও। নিয়ত রাখ যে তাদেরকে সাহায্য করব না, এটুকুই, অর্থাৎ তাদের কথা এরচেয়ে বেশি কিছুই না। শুধুমাত্র তাদেরকে সাহায্য না করার মানসিকতা এটাই, এটাই তাদের অপরাধ এবং যখন তারা বাগানে গেলেন, দেখলেন সেখানে কিছুই নেই। আল্লাহ তাদের বাগানের উপর আকাশ থেকে আযাব পাঠালেন আর যখন তারা সেখানে পৌছালো তারা বলে ফেললো জায়গাটা চিনতেই পারছি না। আমরা কি ঠিক জায়গায় এসেছি? এটা সেই জায়গা হতে পারে...

জাহান্নামীদের একটি বিতর্ক

সূরা গাফিরে আল্লাহ বিচার দিবসের একটি চিত্র তুলে ধরেন। এটা সাধারণ কোন চিত্র নয়। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِّنَ النَّارِ – قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ – মনোযোগ দিয়ে এটা শুনুন, আপনাদের যা আমি বোঝাতে চাচ্ছি। জাহান্নামে যখন তারা একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে… জাহান্নামে এমনসব মানুষ থাকবে (আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করুন) যারা একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। কে কার সাথে বিতর্ক করবে? আল্লাহ বলেন – দুর্বলরা পৃথিবীতে যাদের ক্ষমতা ছিল তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। দুর্বল, নির্যাতিত, যারা মুখ খুলতে ভয় পেত, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারতো, কিন্তু তারা যদি মুখ খুলতো তাহলে তাদেরকে বিপদে পড়তে হতো, যারা মুখ বুঝে সব মেনে নিয়েছিল…। তারাই এখন ক্ষমতাশালীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। খেয়াল করে দেখুন, উভয় দলই কিন্তু আগুনে। তো, দুর্বলরা বলবে, আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম। إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। অতএব তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিয়দংশ বহন করবে’? তখন অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন। এমনকি সেই কুফফাররাই এখন বলবে – প্রভু ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ কোন সন্দেহ নেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করে দিয়েছেন। এ কথা বলার মাধ্যমে এই লোকগুলো আসলে কী বলতে চাইছে? আপনারা হয়তো মনে মনে ভাবছেন, দুর্বলরা কেন জাহান্নামে যাবে? তারাতো পরিস্থিতির শিকার। হ্যাঁ, তারা পরিস্থিতির শিকার। কিন্তু জানেন? তাদের অপরাধ কী? সত্য না বলা। আপনার হাতে কোন অস্ত্র নেই, আপনি দুর্বল। আপনার কোন অস্ত্র নেই, সামরিক শক্তি নেই, সামাজিক সম্পদ নেই। কিন্তু একটা সম্পদ আপনার ছিল আর তাহলো আপনার...

পবিত্র জুমুয়ার দিনে সূরা কাহাফ উপলব্ধি ও তিলাওয়াত

বেশ পরিচিত একটি সুরা। হাদীসে এসেছে এই যে ব্যক্তি এই সুরার প্রথম ১০ আয়াত আত্মস্ত করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ। আবার অন্য এক হাদীসে এসেছে যে ব্যক্তি শুক্রবার দিন এই সুরা তিলাওয়াত করবে তার উপর একটি আলোক রশ্মি পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত ছায়া হয়ে থাকবে। কী আছে এই সুরাতে এমন যে এটি নিয়ে এত এত হাদীস এসেছে? বলা হচ্ছে এটি দাজ্জালের ফিতনার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অস্ত্র? সাধারণভাবে এই সুরাকে সবাই ৪টি গল্পের সমষ্টি হিসাবেই বলে থাকে। হ্যাঁ, বেশ উল্লেখ্যযোগ্য ৪টি কাহিনী এখানে আছে কিন্তু আসলে তার সাথে সাথে আরো ৪টি অংশ রয়েছে যাতে রয়েছে আমাদের জন্য আল্লাহর কিছু উপদেশ বা দিক নির্দেশনা। তাই সুরাটাকে আসলে মোটামুটি ৮ টি ভাগে ভাগ করা যায়। আল্লাহর উপদেশ/ দিক নির্দেশনা আয়াত ১-৯ এই পার্থিব দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ীত্ব বিষয়ে, আমরা যেন এই দুনিয়ার সৌন্দর্যে আসল সত্যটা ভুলে না যাই যে আল্লাহ্‌ তায়ালা একসময় এই দুনিয়াকে ধু ধু প্রান্তরে পরিণত করবেন, তিনি দুনিয়া বানিয়েছেন যাতে আমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন, কে আমাদের মাঝে কর্মে শ্রেষ্ঠ। কাহিনী আয়াত ১০-২৬ গুহাবাসী যুবকদের গল্প, যাদের আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন সহায় ছিল না, শুধু ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান, আর সেটার উপর ভরসা করে তারা অত্যাচারী শাসকের জায়গা থেকে পালিয়ে গেল, আর আল্লাহ্‌ তাদেরকে নিদর্শন হিসাবে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন তিনশ নয় বছরের জন্য। আল্লাহর উপদেশ/ দিক নির্দেশনা আয়াত ২৭-৩১ এই জায়গায় প্রথমেই আবার সেই দুনিয়াবি মোহে যেন বিশ্বাসীরা আসক্ত না হয়ে পড়ে সেই কথা এসেছে। তারপর বলা হচ্ছে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পরীক্ষায় যারা সফল হবে তাদের জন্য কি থাকবে আর যারা ব্যর্থ হবে তাদের জন্য কি শাস্তি রয়েছে। কাহিনী আয়াত ৩২-৪৩ এরপর আসছে দুইটি সমৃদ্ধ বাগানের মালিকের কথা যে কিনা তার প্রতিবেশী, তুলনামূলক ভাবে দুর্বল্‌ এর সাথে বড়াই করছিল তার সম্পদ নিয়ে। কিন্তু...

আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের পুরস্কার (১ম পর্ব)

আজকের খুতবাহ প্রধানত সূরা হাজ্জ-এর একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে। এই আয়াত নিয়ে আমি বেশ কয়েক দিন থেকেই চিন্তা করছিলাম, কিন্তু এটা নিয়ে খুতবাহ দেওয়ার বা এটাকে নিয়ে আমার চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ হয় নাই। বেশ কিছু দিন ধরেই আমি এই আয়াত নিয়ে চিন্তা করছিলাম কারণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ জনের সাথে সরাসরি দেখা সাক্ষাতের মাধ্যমে আমার অনেক মানুষের সাথে আলাপ হয়েছে। মানুষজন তাদের চ্যালেঞ্জ, প্রশ্ন নিয়ে আসে। আপনাদেরকে আমি প্রথমে কি ধরণের আলাপচারিতার কথা বলছি সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়ে তারপরে কেন আমি এই আয়াতটা আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত সেটা জানাতে চাই। আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি যখন আমরা অনেক বিভ্রান্তির ধাঁধায় পড়ে আছি। আমাদের সকল প্রকারের অনেক প্রশ্ন আছে। উদাহরণস্বরূপ মানুষ অনেক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে। যখন একজন বিশ্বাসী তার দ্বীন সম্বন্ধে খুব ভালোভাবে জানে এবং তারা আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে জানে, এবং তারা অনুধাবন করে সেই প্রশান্তি, মওই’যা- আন্তরিক পরামর্শ এবং আল্লাহর কিতার যে উপশম প্রদান করে, তাঁর প্রেরিত নবী সাঃ এর সুন্নত থাকে যা পাওয়া যায়। তখন তারা আল্লাহর দ্বীনে প্রশান্তি পায়। কিন্তু এখন আমরা এক অদ্ভুত সময়ে বাস করছি। আমরা এটাকে তথ্যের যুগ বলি কিন্তু আমাদের বেশির ভাগই আমাদের নিজের ধর্ম সম্বন্ধে বেশি কিছু জানি না। আমরা সত্যিই জানিনা কিভাবে আমাদের কিতাব এবং আমাদের বিশ্বাস এবং আমাদের ধর্মগ্রন্থ আমাদের উপশম দিতে পারে। এটা কিভাবে আমাদের কঠিন সময়ে সাহায্য করতে পারে। যখন এমনটা ঘটে তখন আমরা শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হয়ে যাই। যখন মানুষ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যায় তখন শয়তান তাদের কাছে সকল প্রকারের চিন্তা নিয়ে আসে। ধরুন কেউ অসুস্থ, সে হাসপাতালে এবং সে সব ধরণের ওয়াসওয়াসা পাচ্ছে- বিশ্বাসের ব্যাপারে, আল্লাহকে প্রশ্ন করছে, কদর...

সবার আগে বড় বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকুন

আমরা সবাই জানি, কিছু পাপ ছোট আর কিছু পাপ বড়। ছোট পাপের উদাহরণ হলো – যেমন দ্রত নামাজ পড়া, ভালভাবে অজু না করা, খুব দ্রুত চক্ষু সংযত না করা, কারো সাথে মজা করতে গিয়ে অজান্তে সীমা অতিক্রম করা, এটাও একটা পাপ, এটা ভালো নয়। ছোট গুনাহের আরও উদাহরণ হলো – ভালোভাবে কুরআন তিলাওয়াত না করা বা এমন কোন ছোট গুনাহ যা নিজের অজান্তেই করছেন। কিন্তু তারপর রয়েছে ভয়ংকর বড় ধরনের পাপ। হারাম ভোগ করা যেমন বিয়ার পান করা, চোখের জিনা করা এগুলো খুবই জঘন্য প্রকৃতির গুনাহ। বড় গুনাহের আরও উদাহরণ হলো – ব্যভিচার করা, কাউকে খুন করা, সুদ খাওয়া, সুদ উপার্জন করা, এটাকে বৈধতা দেয়া, আল্লাহ কোন কিছুকে হারাম করেছেন তারপরও এভাবে বলা যে – “আরে এটা তেমন কোন ব্যাপার না, আল্লাহ বুঝবেন”, এগুলো কবিরা গুনাহ। আল্লাহ বলছেন তুমি যদি পরকালে সফল হতে চাও, এক নাম্বার যেটা করবে তা হলো – বড় ধরনের পাপ কর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখো। কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকো। ছোট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আপনি সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করতে পারবেন এবং ক্রমান্বয়ে ভালো থেকে আরও ভালো মুসলিমে পরিণত হতে পারবেন। কিন্তু সবার আগে যা অগ্রাধিকার পাবে তা হলো – বড় বড় গুনাহ, কবিরা গুনাহ। আপনি যদি কোন মেয়ের সাথে ডেটিং করছেন, আপনি বড় পাপে লিপ্ত আছেন। (মেয়েদের উদ্দেশ্যে) আপনি যদি কোন ছেলের সাথে ডেটিং করছেন, আপনি বড় পাপে লিপ্ত আছেন। আপনাকে এটা বন্ধ করতে হবে, ইসলামের অন্য কোন ব্যাপারে চিন্তা করার আগে। আপনি যদি পর্ণ দেখায় আসক্ত হয়ে পড়েন, আপনি গভীর সমস্যায় আছেন, খুবই খারাপ সমস্যা এটা। এটা ভয়ংকর সমস্যা, ভয়ংকর, ভয়ংকর আধ্যাত্মিক সমস্যা। আপনাকে এটা থেকে বিরত থাকতেই হবে, কারণ চোখের জিনা অন্য ধরনের জিনার পথ উন্মুক্ত করে। আপনাকে এটা বন্ধ করতে...

অন্যদের দোষ দেয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, ‘বিস্ময়কর কুরআন’ সিরিজে আপনাদের স্বাগতম। কুরআন অধ্যয়নের সময় বিস্ময়কর কিছু পেলে আমি এই সিরিজের মাধ্যমে আপনাদের সাথে তা শেয়ার করি। আজকে ইউসুফ (আ) এর ভাইদের একটি বক্তব্য নিয়ে কথা বলবো। وَتَكُونُوا مِن بَعْدِهِ قَوْمًا صَالِحِينَ তোমরা তাকে কুপে ফেলে দেয়ার পর অথবা এমনকি হত্যা করার পর, এটা করার পর তোমরা তোমাদের পিতার একান্ত মনোযোগ পাবে। এরপর, কিছু সময় পার হওয়ার পর তোমরা ভালো মানুষ হয়ে যাবে। وَتَكُونُوا مِن بَعْدِهِ قَوْمًا صَالِحِينَ তারা মনে মনে নিজেদের ভালো মানুষ গণ্য করতো না। তারা বলছে না যে, তারা ভালো মানুষ। কারণ তারা বলছে – এই কাজ করার পর আমরা ভালো মানুষ হয়ে যাবো। “তো, হ্যাঁ, আমার একটি সমস্যা আছে, কিন্তু আমার সমস্যার কারণ ঐ যে সে। যখন সে সরে যাবে তখন আমি আসলে ভালো মানুষ হয়ে যেতে পারবো।” এই দুনিয়াতে এমন মানুষ রয়েছে যারা নিজেদের সাধু মনে করে। শয়তান তাদের কাজ কর্মকে তাদের নিকট সৌন্দর্যমণ্ডিত করে উপস্থাপন করে। তাই তারা মনে করে তারা ভালোই আছে। وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا “ অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।” তারপর এমন ধরনের মানুষও পাওয়া যায়, যারা মনে করে যে তারা ভালো মানুষ নয়। তারা জানে তারা খারাপ। কিন্তু তারা স্বীকার করে না যে তাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। তারা এর জন্য অন্য কিছুকে দোষারোপ করবে বা বেশিরভাগ সময় অন্য এক মানুষকে দোষারোপ করে। তারা এভাবে বলে- “যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমার জীবনে থাকবে বা যতক্ষণ পর্যন্ত সে এই এই … কাজ করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমিও ভালো হতে পারবো না।” যখন আমি তাদের থেকে মুক্ত হতে পারবো বা তাদের ক্ষতি করতে পারবো … অথবা এই ঘটনার ক্ষেত্রে তাকে হত্যা করতে পারবো বা তার থেকে মুক্ত হতে...

ঈমান এবং আঁধার প্রান্তরে পথ চলা প্রদীপ – ২য় পর্ব

দ্বিতীয় সমস্যাটি কী ছিল? দ্বিতীয় সমস্যাটি ‘ওয়া তারাব্বাস্তুম’। “তোমরা (সব সময় সুযোগের) প্রতীক্ষা করেছ/দীর্ঘসূত্রতা করেছ”। এখানে দীর্ঘসূত্রতা বলতে কি বুঝানো হয়েছে? আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটা খারাপ, আপনার নিজের বিবেকের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আমার নিজেকে পরিবর্তন করা উচিত; কিন্তু নিজেকে বুঝিয়েছেন “ইনশাআল্লাহ আমি দ্রুত নিজেকে পরিবর্তন করবো’, আমি জানি নিজেকে পাল্টাতে হবে, আমি জানি এটা খারাপ, শুধু এই সপ্তাহ পরেই আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষে পরিণত হবো।” “বেশী না, আর একটা সেমিস্টার/দুটো মাস এই ‘বখে যাওয়া’ বন্ধুদের সাথে থাকবো, তারপর আমি অন্য কোর্স নিব। এখন ওদেরকে রাগানো ঠিক হবে না”। “শুধু এই এক মাস আমি এসব করবো, এই আর এক সপ্তাহ, এই আর একটা বা দুইটা পার্টি, একটা দুইটা ড্রিঙ্কস… এভাবে আপনি নিজেকে বলতে থাকেন আর সামান্য একটু, সামান্য একটু। “এই নয়/দশ মাস পরেই তো রামাদান। রামাদানে সব ছেড়ে দিব। পুরাই চেইঞ্জ হয়ে যাবো। আমার প্ল্যান আছে হজ্জে যাওয়ার, হজ্জ থেকে আসার পর দেখবেন আমি কেমন ভালো মানুষে পরিণত হয়ে যাই“। কিন্তু সে পর্যন্ত … আমার জন্য দোয়া করতে থাকেন। এটাই ‘ওয়া তারাব্বাস্তুম’। আপনি এই মুহূর্ত থেকে নিজেকে পরিবর্তন করতে চান না, আপনি শুধু নিজেকে খারাপ পরিবেশে ফেলে রাখছেন না, আপনি এখনো নিজেকে পরিবর্তনের জন্য কোন পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুন নন। মনে হচ্ছে আপনার কাছ থেকে অনেক বেশী কিছু চাওয়া হচ্ছে। আপনি যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকতে চান, আরও কিছু খারাপ উপভোগ করতে চান। এটাই ‘ওয়া তারাব্বাস্তুম’। আপনি ধারণা করে আছেন … আপনার প্রথম ধারণা ছিল – খারাপ পরিবেশে থাকলেও এটা আমার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না, কিন্তু প্রভাব পড়েই। সময়ের সাথে সাথে ভয়ঙ্কর খারাপ কিছু আপনার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন তারাব্বুস বা অপেক্ষা করতে থাকা, দীর্ঘসূত্রতা করার প্রভাব কী? আপনি ভাবছিলেন আপনি যেকোনো সময় এই খারাপ কর্ম...

স্বামীদেরকে বলছি, “সবাইকে খুশি রাখা অসম্ভব

আপনার মা-বাবা আপনার জন্য যা যা করেছেন তার মূল্য আপনি কখনোই পরিশোধ করতে পারবেন না। আপনার মা তার দেহের মধ্যে আপনাকে নিয়ে বেড়িয়েছেন। তাঁর রক্ত বিসর্জনের কারণেই আপনি পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছেন। আপনাকে জন্ম দিতে গিয়ে তাঁরই মৃত্যু হতে পারতো। আপনি যখন নিজের যত্ন নিতে পারতেন না তখন বাবাই আপনার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করেছেন। আপনার থাকার জায়গা ছিলোনা, তিনিই সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। আপনার পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। আবার আপনার মায়ের দেখভাল করার মাধ্যমেও আপনার বাবা আসলে আপনার প্রতিই ইহসান করেছেন। কেন এমনটা বলছি? কারণ আল্লাহ যখন মুসা (আঃ) এর প্রতি বর্ণনা করছিলেন وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَىٰ সূরা ত্বহাতে… “আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।” আর তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের একটা অংশ ছিলো… “আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।” ..… “যাতে সে চোখের পানি না ফেলে।” যাতে তাঁর চোখ শীতল হয়ে যায়। যাতে সে আর কষ্ট না পায়। যখন আল্লাহ তাঁর মায়ের যত্ন নিচ্ছিলেন, আল্লাহ বলছেন, “আমি আসলে তোমাকেই অনুগ্রহ করছিলাম।” তাই যখন আপনার মায়ের প্রতি ভালো কিছু করা হচ্ছে, তখন আসলে আপনার প্রতিও অনুগ্রহ করা হচ্ছে। আপনি হয়তো বলবেন “আমি জানি আম্মু আমার যত্ন নিয়েছে, কিন্তু আব্বু তো কিছুই করেনি।” তিনি যে স্বামী হিসেবে আপনার মায়ের দেখাশোনা করে যাচ্ছেন, আপনাদের দুজনেরই, এটাই একটা অনুগ্রহ যা আপনি শোধ করতে পারবেন না। তিনি যদি আর কিছু না-ও করে থাকেন। তাই বাকি সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি হয়তো অন্যদের ভালো করছেন। কিন্তু মা-বাবার বেলায় আপনি আসলে এমন ঋণ পরিশোধ করছেন যা আসলে শোধ হওয়ার ঊর্ধ্বে। এটা অসম্ভব। আর আমরা সারা জীবনই এর জন্য ঋণী থেকে যাবো। তাই আপনার সর্বোচ্চটা দিলেও তা যথেষ্ট হবেনা। তবুও আপনি আপনার সেরা চেষ্টাই দিয়ে যাবেন। সেজন্যই এটা “ওয়াবিল ওয়ালিদাইনি ইহসানা।” এটা হলো আপনার দায়িত্বের প্রথম...

পার্থিব জীবনের সাজ-সজ্জা ও ক্রীড়া-কৌতুক

“আপনি নতুন বিয়ে করেছেন, রাস্তা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। আপনি দ্রুত গিয়ে তুললেন, সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “আমি কখনই তোমার কিছুই হতে দেব না, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি! নতুন বিবাহের মধ্যে এরকম ভালোবাসাই থাকে… এরকম আবেগের মধ্য দিয়েই আমরা যাই… এভাবে আমাদের জীবনের অনেকগুলো স্তর থাকে… বিবাহের প্রাথমিক অবস্থা থেকে সন্তান-নাতি-নাতকুর বয়স পর্যন্ত। আমাদের জীবনের অবস্থা কেমন? ছোটবেলার খেলা নিয়েই পড়ে থাকি, কিছুটা বড় হলে পড়ালেখা ধরি, আর কিছুটা বড় হলে আমাদের মধ্যে স্মার্টনেস আসা শুরু করে, মেয়ে বা ছেলে দেখলেই একটু সাজুগুজু করার চেষ্টা করি, ভাব নেই। আরো একটু বড় হলে পড়ালেখা কখন শেষ হবে, একটা সার্টিফিকেট পাবো এই চিন্তা করি। চাকরি এবং এরপরে বিয়ে, স্বামী-স্ত্রীর আনন্দ… এভাবে আর কিছু দিন, সন্তান-সন্তুতি… এরপর নাতী-নাতকু… এভাবে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হাজির হই। আমাদের সেই ছোট্ট জীবন থেকে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হাজির হই। শেষে আর কিছুতেই মজা পাই না, আমাদের জীবনের রঙ শেষ হয়ে আসে, জীবনের রঙ পাল্টাতে শুরু করে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যদি আবার সেই একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান এবং আপনার স্ত্রী হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তখন বলেন, “কী সমস্যা তোমার, তোমাকে নিয়ে কি রাস্তায়ও বেড়োনো যাবে না?” সেই প্রাথমিক বিবাহিত অবস্থার ভালোবাসা আজ নেই, জীবনে ভালোবাসা আজ পীতবর্ণ ধারণ করেছে, ধূসর রঙ ধারণ করেছে। এভাবেই আমাদের জীবনও একই অবস্থা দিয়ে যায়। ছোট্ট শিশু, কৈশর, যৌবন, বৃদ্ধাবস্থা… এভাবে আমাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এই ক্ষণস্থায়ী জীবন থেকে চিরস্থায়ী জীবনের দিকে। ঠিক আল্লাহ এই উপমাকেই এখানে চিত্রায়িত করেছেন এভাবে… আমাদের ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবন, যেন আমরা এখানে এভাবে পড়ে না থাকি, আমরা যেন ধোঁকায় পড়ে শাস্তিযোগ্য না হই। আমাদের সফলতার জন্য আল্লাহ আমাদের সতর্ক করে দিলেন আমাদের চোখের সম্মুখে দেখা একটি...

দাম্ভিকতা এবং ঔদ্ধত্য

আপনি যদি কখনো হতাশায় ভোগেন, আপনি বুঝতে পারছেন যে আপনার অন্তর আসলেই কঠিন হয়ে গেছে – আর আপনি নিজেই এই সমস্যাটা আপনার মধ্যে বাড়তে দিয়েছেন। কখনো কখনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি খুবই ভীতিকর মনে হয়। তাদের সাথে কথা বলা কঠিন, তাদের আশে পাশে যাওয়া আতংকজনক কারণ তারা হয়ত আমাকে অপমান করতে পারেন। আপনি তাদের ভয়ে ভীত থাকেন। অনেক সময় যেসব বোন্ হিজাব পরেন না তারা হিজাব পরা একজনকে আসতে দেখলে রাস্তা ক্রস করে অন্য দিকে চলে যান। তারা মনে করেন – ঐ যে হিজাব পুলিশ আসছে!! সে নিশ্চয়ই আমাকে কিছু বলবে, আমার মন খারাপ করে দিবে। এখন- একদিকে এটা একটা অমূলক ভয়ের কারণ, অন্যদিকে কখনো কখনো এটা সত্য যে, কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যদের নিচু চোখে দেখে, তারা অন্যদের প্রতি উদ্ধত। আমাকে বলেন – “কয়েকদিন আগে না আপনি পার্টি মাতিয়ে রাখতেন! যারা আপনার সাথে এভাবে কথা বলতো তাদেরকে আপনি কিভাবে জবাব দিতেন? আপনি কি ভুলে গেছেন যে, আপনি কোথা থেকে এসেছেন? আল্লাহ আপনাকে কোথায় এনেছেন।” কারণ মানুষ ভুলে যায়, মানুষ ভুলে যায় যে তারা কি ছিল আর আল্লাহ তাদের কোথায় এনেছেন। তারপর কয়েক বছর অতিক্রান্ত হওযার পর, যখন তারা এমন কাউকে দেখে যে পার্টি এনিম্যাল – তারা তখন বলে উঠে , আস্তাগফিরুল্লাহ, সে এমন হলো কিভাবে? আপনি কোথায় ছিলেন? এই লোককে দেখেতো আপনার নিজের কথা মনে হওয়া উচিত। আপনিতো ঠিক তার মতই ছিলেন। আল্লাহর যে রহমত আপনার উপর বর্ষিত হয়েছে তা আপনার স্মরণ করা উচিত। وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ আপনি অগ্নিকুন্ডের একেবারে প্রান্তসীমায় ছিলেন। فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا তিনিই আপনাকে রক্ষা করেছেন। আর সেই আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন, فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ তিনি তোমাদের অন্তরে ভালবাসা সৃষ্টি করেছেন। (৩:১০৩) আপনারা আপনাদের অন্তরসমূহের মাঝে যদি ভালবাসা পেতে চান, তাহলে আপনাকে মনে রাখতে হবে...

আমি ভালো হলে কি আমার নামাজ পড়া লাগবে?

ভালো কাজের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? এই পৃথিবীতে দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। এটা একটু মনে রাখবেন। দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। নৈতিক ভাল কাজ। আমি প্রতিবেশীর প্রতি ভাল। আমি কর্মক্ষেত্রে সৎ। আমি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করি। আমি চুরি করি না। আমি মানুষকে ঠকাই না। এগুলো হচ্ছে নৈতিক ভাল কাজ। ঠিক আছে? এরপর আছে হলো ধর্মীয় ভাল কাজ। আমি হজ্জে যাই। আমি যাকাত দেই। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমি রামাদানে রোজা রাখি। এগুলো নৈতিক অর্থে ভালো কাজ না, এগুলো ধর্মীয় অর্থে ভালো কাজ। অনেক সময় মুসলিমরা এবং নন-মুসলিমরা, বিশেষ করে মুসলিমরা, আমরা এই দুটো জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করে ফেলি। মুসলিম বিশ্বে আপনি এমন মানুষ খুঁজে পাবেন যারা নৈতিকভাবে ভালো। তারা তাদের পরিবারের সাথে ভালো। তাদের সন্তানদের যত্ন নেয়। তারা তাদের বাড়িতে দায়িত্বশীল। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো। কর্মক্ষেত্রে তারা সৎ। ভাল মানুষ। কিন্তু তাদের মধ্যে ধর্ম বলতে কিছু নেই। “ভাল হওয়ার জন্য আমার ধর্ম লাগে না”, তারা বলে। অপর মেরুতে আছে এমন মানুষ যারা নামাজ পড়ে, হজ্জে যায়। যাকাত দেয়। লম্বা দাড়ি আছে। খুব ধার্মিক পোশাক পরে। কিন্তু তারপরও তারা তাদের পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ব্যবসায় মানুষকে ধোঁকা দেয়। অত্যন্ত অনৈতিক মানুষ। তো আমরা ভাল হওয়ার দুইটি মাত্রাকে আলাদা করে ফেলেছি। যা হলো নৈতিকতা এবং ধার্মিকতা। আল্লাহ কুরআনে এই দুটিকে একসঙ্গে করে ফেলেন একটি আয়াতে, যেটাকে বলা হয় আয়াতুল বির। সদগুণের আয়াত। ভাল হওয়ার অর্থ কি ? আপনি যদি এই আয়াতটি নিয়ে পড়েন। তাহলে দেখবেন এটা দুটি জিনিসের সমাহার। এটা হল একটি সমন্বয় নৈতিক নীতির, যেমন কথা রাখা, ধৈর্যশীল হওয়া ইত্যাদি এবং ধর্মীয় নীতির, যেমন নামাজ কায়েম করা, যাকাত দেওয়া। এটা এক জায়গায় এই দুটো জিনিসের সমন্বয়। তো আপনি যদি মনে করেন ভাল হওয়ার সংজ্ঞা আপনি নিজে...

জুম্মাবারের স্মরণিকা – ২ (জুমুআর দিনঃ করণীয়, বর্ণনা ও ফজিলত)

উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এটি একটি মহান দিন। এ জুম’আর দিনটিকে সম্মান করার জন্য ইহুদী-নাসারাদের উপর ফরজ করা হয়েছিল; কিন্তু তারা মতবিরোধ করে এই দিনটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতঃপর ইহুদীরা শনিবারকে আর খ্রিষ্টানরা রবিবারকে তাদের ইবাদতের দিন বানিয়েছিল। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য শুক্রবারকে মহান দিবস ও ফযীলতের দিন হিসেবে দান করেছেন। আর উম্মতে মুহাম্মদী তা গ্রহন করে নিল। [বুখারী ৮৭৬, ইফা ৮৩২, আধুনিক ৮২৫; মুসলিমঃ ৮৫৫] জুম’আর দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনের চেয়েও শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটি আল্লাহর কাছে অতি মর্যাদা সম্পন্ন। (মুসনাদে আহমদঃ৩/৪৩০; ইবনে মাজাহঃ১০৮৪) জুম’আর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন। [ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮] জুম’আর দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হল জুম’আর দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। [বুখারীঃ৯৩৫, ইফা ৮৮৮, আধুনিক ৮৮২; মুসলিমঃ৮৫২] জুম’আর রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি মারা যায় আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন। [তিরমিযীঃ১০৭৮] জান্নাতে প্রতি জুম’আর দিনে জান্নাতীদের হাট বসবে। জান্নাতী লোকেরা সেখানে প্রতি সপ্তাহে একত্রিত হবেন। তখন সেখানে এমন মনমুগ্ধকর হাওয়া বইবে, যে হাওয়ায় জান্নাতীদের সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে এবং তাদের স্ত্রীরা তা দেখে অভিভূত হবে। অনুরূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি স্ত্রীদের বেলায়ও হবে। [মুসলিমঃ২৮৩৩, ৭১/৭৫৩] যে ব্যক্তি জুম’আর দিনে সুরা কাহফ পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেবেন। [জামেউস সাগীরঃ৬৪৭০] যে ব্যক্তি জুম’আর দিনে সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে। [মুসলিম] “যে ব্যাক্তি জু’আর দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানী করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে...