বাংলা নোটসমূহ

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা নোটসমূহের আর্কাইভ করছি

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়

তুমি জানো এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস কোনটা আল্লাহর কাছে? সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান? সেটা হচ্ছে প্রচেষ্টা, অধ্যবসায়। অর্থ নয় , প্রভাব নয় , শ্রেষ্ঠত্ব নয় – এ সব কিছুই আসবে, কিন্তু আল্লাহ তোমার কাছ থেকে যেটা দেখতে চান সেটা হচ্ছে প্রচেষ্টা। আমি তোমাদের বলেছি নবী (আঃ) দের কথা যারা শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন… কতজন উম্মাহ নিয়ে? শূণ্য!!! সুতরাং, উনাদের প্রভাব ছিলো শূণ্য। কিন্তু তারপরেও আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আসীন করাবেন…কেনো? কারণ আল্লাহ সম্মান জানাবেন তাদের প্রত্যয়কে, তাদের প্রচেষ্টাকে, তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তাকে। তারা কঠিন সময়ে পড়েছিলেন এবং তারা সেটা মোকাবিলা করেছেন। যদি তুমি নূহ (আঃ) এর প্রতি বছরের একটা ‘প্রোগ্রেস রিপোট’ দেখতে চাও… চল একটা ‘ গ্রোথ চার্ট’ বানিয়ে দেখি কতজন মানুষ মুসলিম হয়েছে প্রতি বছর, যেমনটা করা হয় বার্ষিক প্রতিবেদন এ। কতজন মানুষ মুসলিম হয়েছে প্রতি বছর? … ৯৫০ বছর!!! চার্ট অবশ্যই ঊর্ধ্বমূখী ছিলো না, বরং সেটা ছিলো অপরিবর্তনশীল, এমনকি কখনও হয়তো নিম্নমূখীও ছিলো, হয়তো কেউ ইসলাম এর খুব কাছাকাছি এসেছে কিন্তু তারপর দূরে সরে গেছে… এর মানে কোনো প্রভাব তৈরি হয়নি। সেখানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি, কিন্তু কি জানো? আমরা নূহ (আঃ) এর কোন জিনিসটা কে এতো সম্মান করি? ক্রমাগত ক্রমাগত ক্রমাগত প্রচেষ্টা। আমাদের এটা উপলব্ধি করতে হবে। তোমাদেরকে হতে হবে ক্রমাগত প্রচেষ্টারত এবং প্রত্যয়ী মানুষ। আল্লাহর সামনে দাড়ানোর মতো কিছুই থাকবেনা যদি আমাদের এই প্রচেষ্টা টুকু না থাকে। তরুন প্রজন্ম, দয়া করে মনোযোগ দিয়ে শুনো আমি কি বলছি। দয়া করে একটু চিন্তা করো। তোমার জীবনের সার্থকতা কোথায়? যদি তোমার জীবন মানে হয় শুধু একটা ভিডিও গেম থেকে অন্য ভিডিও গেম, যদি তোমার জীবন মানে হয় শুধু টিভি শো এর একটা পর্ব থেকে অন্য পর্ব- তুমি কিসের জন্য চেষ্টা করছো? কি অর্জন করছো? এতে...

যেভাবে একজন মানুষ ঈমান হারিয়ে ফেলে

খুৎবায় আলোচিত আয়াতসমূহ — “যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল। যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ-ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। আমি পরিস্কারভাবে তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত করেছি, যাতে তোমরা বোঝ।” সূরা হাদীদ : আয়াত:...

পৃথিবী: আমাদের দ্বিতীয় জীবন

কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। (বাকারা – ২৮) এই আয়াতটি খুবই গভীর দার্শনিক অর্থ বহন করে। এই আয়াত সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে। যে মতামতগুলো আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে সেগুলো এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আমি মরহুম ইসরার আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই আয়াত থেকে সবচেয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। তিনি ১৯৮৫ সালে এই আয়াত নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। ভারত পাকিস্তানের বহু আলেম তার এই প্রবন্ধের প্রশংসা করেন। আমি এখন আপনাদের নিকট তার একটি সারমর্ম তুলে ধরবো। কারণ আমি মনে করি এটি অনেক মূল্যবান। আল্লাহ আজ্জা বলেন, كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا – কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। প্রথম পর্যায় – وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا তোমরা মৃত ছিলে। দ্বিতীয় পর্যায় – فَأَحْيَاكُمْ অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। ৩য় পর্যায় – ثُمَّ يُمِيتُكُمْ তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করবেন; ৪র্থ পর্যায় – ثُمَّ يُحْيِيكُمْ তারপর তিনি তোমাদের আবার জীবিত করবেন। প্রথম পর্যায়টা কী ছিল? তোমরা মৃত ছিলে। আমাদেরকে প্রথম যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হলো – মৃত আর অস্তিত্ব না থাকা একই বিষয় নয়। যেমন, মৃত কাউকে কফিনে রাখা হয়েছে এবং তার জানাজা হচ্ছে – এর মানে এই নয় যে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় মৃত বলতে এমন কাউকে বোঝায় যার পূর্বে জীবন ছিল। সুতরাং এই আয়াতে মনে হয় যেন একটি ইঙ্গিত রয়েছে…(আমরা একটু পর আবার এ বিষয়ে আলোচনা করবো, তার পূর্বে কিছু বিষয় বুঝে নেয়া জরুরি) কুরআন এবং রাসূল (স) এর সুন্নায় – মৃত্যুকে ঘুমের কাছাকাছি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যু এবং ঘুম একে অন্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ঘুমাতে যাওয়ার সময় আমরা কী পড়ি? ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু...

আমাদের জীবনের কয়েকটি পর্যায় (২য় পর্ব)

এক সময় আপনি কলেজে ভর্তি হন। হাইস্কুল জীবন শেষ, এখন আপনি কলেজে বা ভার্সিটিতে। কলেজ-ভার্সিটির ছাত্রদের দিকে তাকালে অনেক সময় ‘বাস্তুহারা’ মানুষদের মত মনে হয়। চুলগুলো এলোমেলো, দাঁত ব্রাশ করে না, কোনো রকম একটা গ্যাঞ্জি এবং পেন্ট পরে ক্লাসে হাজির হয়; বিছানা থেকে উঠেই ক্লাসে এসে হাজির হয়। এসব নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের মাথায় সব সময় একটা চিন্তা কাজ করে কখন পাশ করবো। খুব সিরিয়াস ছাত্ররা এভাবে চিন্তা করে। তাদের এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার বিষয় হলো – জি পি এ, ইন্টার্নশিপ ইত্যাদি। কেন তারা এভাবে চিন্তা করে? কারণ নতুন একটি আকাঙ্খার আবির্ভাব ঘটেছে। আর আমি বলছি না যে পূর্বের আকাংখাগুলো হারিয়ে গেছে। পূর্বের আকাংখাগুলো কী ছিল, ক্রমানুসারে কি বলতে পারবেন? এক নাম্বার – খেলা করা। দুই নাম্বারটা কী ছিল? বিনোদন। তিন নাম্বারটা কী ছিল? সৌন্দর্য্য। এখন শুনুন চার নাম্বারটা – ‘ভাব দেখানো’ – وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ – পারস্পরিক অহমিকা। আপনার মূল্য অন্যের কাছে উপস্থাপন করতে চান। কেউ হয়তো এসে আপনাকে জিজ্ঞেস করছে যে, সমাবেশের জায়গাটা কোন দিকে? আপনি তখন এভাবে বলেন – হ্যাঁ, আমি NYU তে পড়ি। – আমি শুধু ডিরেকশন টি জানতে চাচ্ছি। – আমি আসলে মেডিক্যাল কলেজে পড়ি। হা, হা, হা। আপনার মেডিক্যাল কলেজে পড়া নিয়ে কেউ কেয়ার করে না। আপনি হয়তো ওয়ালমার্ট বা কোনো নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন, আর তারা আপনাকে একটি ব্যাজ দিয়েছে। আপনি এটা জামার উপর সব সময় ঝুলিয়ে রাখেন। এমনভাবে রাখেন যেন মানুষ দেখতে পায়। — ”ও, তুমি ওখানে চাকরি পেয়েছো?” — “হ্যাঁ, তারা আমাকে পার্কিং লটেও জায়গা দিয়েছে। এই যে আমি তার ছবি তুলে রেখেছি, দেখুন।” এভাবে আপনার ভেতরে এক ধরণের গর্ববোধ কাজ করে, আপনি মানুষকে দেখতে চান যে কি অর্জন করেছেন। যখন লোকজন ভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হয়, তখন...

মন্দ সামাজিক প্রথা উদ্ভাবনকারীদের থেকে সাবধান

আমি আমার আজকের খুতবা একটা সাধারণ বিষয়ের মাধ্যমে শুরু করতে যাচ্ছি, আমি মনে করি আজকে এখানে যারা রয়েছি তারা সকলেই এই বিষয়টি বুঝি যে আমরা কম বেশি সামাজিক চাপ (সোসাইটাল প্রেশার) অনুভব করি। যখন আমরা সামাজিক চাপের কথা শুনি তখন আমরা সাধারণত মনে করি এটি অত্যন্ত বিরাট একটি বিষয়, কিন্তু এটি আমাদের জীবনের সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ ঘটনার মধ্যেও রয়েছে। আপনাদের যাদের বাচ্চা রয়েছে তারা হয়তো অনেক সময় খেয়াল করেছেন যে আপনাদের বাচ্চাটি একটু বিশেষ রকমের পুতুল চাচ্ছে। অনেক সময় তারা এই পুতুল চায় কারণ হয়তো স্কুলের অন্য কোন বাচ্চার এইরকম একটি পুতুল রয়েছে। তারা ঐ জিনিসটিই কিনতে চায় যা অন্য লোকেদের রয়েছে। এটা হচ্ছে এক ধরনের সামাজিক চাপ। যখন আপনার বাচ্চা একটু বড় হয় তখন তারা বিশেষভাবে (সার্টেইন ওয়েতে) কাপড় পরতে চায় এবং এই বিশেষভাবে কাপড় পরার চিন্তাটা তার নিজস্ব মস্তিষ্ক থেকে আসেনি, এটা এসেছে হয়তো এমন কোন অনুষ্ঠান থেকে যা সে টিভিতে দেখেছে এবং এখান থেকে সে শিখেছে “এভাবেই কাপড় পরতে হবে”। তার মাথায় হয়তো এই জিনিসটি এসেছে এমন কারো কাছ থেকে যাকে সে স্কুলে দেখেছে বিশেষভাবে কাপড় পরে আসতে অথবা এই ধরনের অন্য কোন মাধ্যম হতে যেখান থেকে সে শিখে নিয়েছে এভাবেই কাপড় পরতে হবে। এই ধরণের জিনিসগুলোকে তখন সে নির্দিষ্ট ধরে নেয় (Defined)। তখন সে নির্দিষ্ট সেই পন্থায়ই কাপড় পরতে চায় বা নিজেকে সেইভাবেই উপস্থাপন করতে চায় অথবা সেই সুনির্দিষ্ট খেলনাটিই কিনতে চায়। ছোট ছোট বাচ্চারা মোবাইল ফোন কিনতে চায়, তাই না? “তোমার ফোনের কি প্রয়োজন?’’ আমি জানি না, আমার বন্ধুর একটি ফোন রয়েছে, আমার কেন থাকবেনা?” পিতা-মাতারা হয়তো এই ধরনের কিছু যুক্তি শুনে থাকবেন, ‘’তার এই জিনিসটি রয়েছে, আমার কেন থাকবেনা?” যখন সে আরো কিছু বড় হয় তখন সেই সামাজিক চাপই ভিন্ন রূপে তার সামনে হাজির হয়।...

আমাদের জীবনের কয়েকটি পর্যায় (১ম পর্ব)

আমি যদি পরবর্তী বিশ মিনিট বা তার কম সময়ের মধ্যে আপনাদের সাথে কুরআন শরিফের একটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করতে পারি, আমি মনে করবো আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এই আয়াতটি সূরা হাদিদের অন্তর্ভুক্ত। আচ্ছা আমি যেন কী সম্পর্কে কথা বলছিলাম? কত আয়াত নিয়ে আমি কথা বলবো? একটি আয়াত নিয়ে, যেটি সূরা আল হাদিদের অন্তর্গত। কুরআন মাজিদের ৫৭ তম সূরা, যেটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছিল। যার মানে এই সূরার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় মুসলিম সমাজকে কেন্দ্র করে। এমন অনেক মাদানী সূরা রয়েছে যার মূল আলোচ্য বিষয়টিতে সমগ্র মানব জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ এই ধর্মের আহবান সমগ্র মানব জাতির প্রতি। কিন্তু কুরআনে আবার এমন জায়গা রয়েছে বিশেষ করে মদিনায় অবতীর্ণ কোন কোন সুরাতে যেখানে আলোচ্য বিষয়ের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম সমাজ। তারাই এই সুরাগুলো শুনছে। আপনারা আমার কথা কি শুনতে পাচ্ছেন না? ……। জীবনে আমরা যে সমস্ত বিষয়ের পেছনে ছুটি তার একটা সারাংশ আল্লাহ এই মাদানী সূরায় আমাদের দান করেছেন। তিনি শুরু করেন এভাবে, اعْلَمُوا – ‘’তোমরা ভালোভাবে জেনে রাখ,’’ এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি আদেশ ভালোভাবে কোন কিছু উপলব্ধি করার জন্য। কিন্তু যে বিষয়গুলো তিনি উল্লেখ করেছেন সেগুলো আমাদের নিকট সুস্পষ্ট। সম্ভবত, আমরা আমাদের জীবন পরিচালনা করার সময় এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্যপাত করি না। তিনি বলেছেন, اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ – ‘’পার্থিব জীবন ক্রীড়া ছাড়া আর কিছু নয়….।’’ আমি নিজে পিতা হওয়ার পূর্বে এই আয়াতটি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে সমর্থ হইনি। বাচ্চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের কিছু প্রয়োজন এবং চাহিদা দেখা দেয়। আমরা সবাই এটা জানি। বাচ্চারা যখন জন্ম গ্রহন করে তখন তাদের কোন চাহিদা থাকে না, থাকে প্রয়োজন। তাদের দুধ পান করতে হয়, পেশাব-পায়খানা করতে হয়, ঘুমাতে হয়…এভাবে এই চক্র চলতে থাকে। কিন্তু যখন তারা একটু বড়...

ইসলাম ও আত্ম অহংকার

একদিকে আপনার ঈলম বৃদ্ধি পাচ্ছে, লোকজনের সামনে আপনাকে খুবই ধর্মভীরু বলে মনে হয়, কিন্তু যেসময় একা থাকেন, যখন আর কেউ আপনাকে দেখতে পায়না তখন আপনার ভেতরের খারাপ সত্ত্বাটা বেরিয়ে আসে। যার কিছু আলাদা আচরণ আছে; যে কিছু গোপন কাজ করে। তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরা দেখে কেউ বলতেই পারবে না যে সে এরকম খারাপ কাজ করতে পারে। কিন্তু তারা নির্জনে একদম ভিন্ন এক মানুষে রূপ নেয়, যাকে দেখে আপনি চিনতেও পারবেন না। তো সেই মানুষটার ভেতরে একটা দানব বাস করছে। তার কিছু সাংঘাতিক সমস্যা আছে, কিন্তু তাকে বাহ্যিক দিক থেকে অনেক ভালোই লাগে। কেউ আপনার এই সমস্যা দূর করতে পারবে না কারণ তারা জানেও না যে আপনার ভেতরে এমন সমস্যা বিরাজ...

আল্লাহর সিংহাসন

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি অস্তিত্বশীল সকল কিছুর অস্তিত্বদানকারী এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি সবচেয়ে দয়াবান। আবার তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীও বটে। তিনিই একমাত্র সত্ত্বা যিনি আমাদের উপাসনা পাওয়ার যোগ্য। যার কোন শরিক নেই, অংশীদার নেই, কোন পুত্র নেই, কোন কন্যা নেই। কারো সাথে তিনি পরামর্শ করেন না, কোন ব্যক্তি বা কোন কিছুর সাথে তাঁর কোন তুলনা নেই। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার দাবীদারদের বাদশা। তাঁর সৃষ্টির জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই। তিনি জীবন দানকারী, আবার তিনিই মৃত্যু ঘটান। কিন্তু তাঁর কোন মৃত্যু নেই। কারণ তিনি চিরঞ্জীব, নিজেই অস্তিত্ববান, চিরস্থায়ী এবং অদ্বিতীয়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সব কিছুর উপর যার ক্ষমতা রয়েছে। আর বাস্তবে কারো কোন ক্ষমতা, কোন শক্তি, কোন প্রভাবই কারো কোন উপকার বা ক্ষতি করতে সমর্থ নয় একমাত্র তাঁর হুকুম ছাড়া। তিনিই এই জটিল বিশ্ব ব্যবস্থাপনা তৈরি করেছেন। দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান, স্পষ্ট এবং অস্পষ্ট, এই পৃথিবী – এই পৃথিবীর উপরে যা কিছু আছে এবং এই পৃথিবীর ভেতরে যা কিছু আছে সব কিছুই তাঁর সৃষ্টি। তিনিই সেই সত্ত্বা যিনি তাঁর সকল নবী-রাসুলদের (আঃ) পাঠিয়েছেন একই নির্ভেজাল একত্ববাদের পয়গাম নিয়ে। যার অর্থ হল কেউই আমাদের উপাসনা পাওয়ার যোগ্য নয়, কেউই আমাদের আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য নয় একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া। যিনি এক, অদ্বিতীয় এবং যার কোন অংশীদার নেই। (খালিদ ইয়াসিন) সুদূর অতীতে যে সব ঐশীবাণী পৃথিবীকে পরিবর্তন করেছিল… সে সব অঞ্চলে নবীদের পাঠানো হয়েছিল – আমরা জানি সে ঐশী বাণীগুলো আর অক্ষত নেই, পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এমনকি যে নবীগণ আলাইহিমুস সালাম এ বাণীগুলো নিয়ে এসেছিলেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের নামও হারিয়ে গেছে। আমরা শুধু সাধারণভাবে বিষয়টা জানি। কারণ আল্লাহ কুরআনে আমাদের বলেছেন – “আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং...

চেনা বন্ধুরা যখন জান্নাতি বা জাহান্নামী

জানেন, মানুষ যখন খুশিতে থাকে তখন তারা কি চিন্তা করে? তারা বসে বসে ভাবে ইসস.. জীবনটা যদি সব সময় এরকম হত। তারা জানে যে এরকম হবার নয়, জীবনের বাঁকে বাঁকে সমস্যা আছে। কিছু না কিছু সমস্যা হবেই, শারীরিক বা মানসিক, কিছু একটা হবেই। জীবনে আর কোন সমস্যাই আসবে না এটা যদি জানা যেত!! আমার অত্যন্ত অত্যন্ত প্রিয় একটা বর্ণনা জান্নাত সম্পর্কে, এটা সুরা সাফফাত থেকে (আয়াত ৫০-৫৯) এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করলো এবং সে দেখলো সেখানে তার বন্ধুরাও আছে। তারা একজন একজনকে দেখে উচ্ছসিত হয়ে বলল ”আরে তুমিও সফল হয়েছ!!” তারপর তারা একে অপরকে অভিনন্দিত করবে। তারা একজন আরেকজনকে বলতে থাকবে, ও আল্লাহ! তুমি, ও তুমিও!! তারা আবার একজন আরেকজনের সাথে পরিচিত হতে থাকবে। আমি তোমাকে ওখানে চিনতাম। এরপর সে চিন্তা করবে আচ্ছা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু যে তার কি হল? তাকে তো দেখছি না। অর্থাৎ সে তার পুরোনো জীবনের কথা স্মরণ করবে আর ভাববে যে তার এক বন্ধু এখানে নেই। তখন সে বাকীদেরকে জিজ্ঞাসা করবে তোমরা কি জান ওর কি হয়েছে? কিন্তু কেউই এই ব্যাপারে জবাব দিতে চাইবে না। কিন্তু সে আসলেই জানতে চায় যে তার পুরাতন বন্ধুর কি হল। ব্যাপারটা এমন হবে যে আল্লাহ জান্নাতে একটা জানালা খুলে দিবেন যাতে সে জাহান্নামে তার বন্ধুকে দেখতে পায়। এই ধরনের একটা চিত্রই ৩৭ নম্বর সুরাটিতে বর্ণিত হয়েছে। সে দেখবে যে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু জাহান্নামে জ্বলছে। হ্যাঁ, আপনি জান্নাত থেকে এটি দেখতে পারবেন, কারণ জান্নাতে আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন। আর সে তার বন্ধুকে দেখতে চাইলো আর তার ইচ্ছাও পূরণ হল। তাই সে জাহান্নামের একটি ঝলক দেখতে পেল এবং সেখানে তার বন্ধুকে দেখলো। তখন সে বলবে إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ তুমিও আমাকে প্রায় ওখানেই নিয়ে যাচ্ছিলে। সে তার বন্ধুকে দেখলো...

ভালো কাজের সংজ্ঞা

ভালো কাজের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে? এই পৃথিবীতে দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। এটা একটু মনে রাখবেন। দুই ধরনের ভাল কাজ আছে। নৈতিক ভাল কাজ। আমি প্রতিবেশীর প্রতি ভাল। আমি কর্মক্ষেত্রে সৎ। আমি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করি। আমি চুরি করি না। আমি মানুষকে ঠকাই না। এগুলো হচ্ছে নৈতিক ভাল কাজ। ঠিক আছে? এরপর আছে হলো ধর্মীয় ভাল কাজ। আমি হজ্জে যাই। আমি যাকাত দেই। আমি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। আমি রামাদানে রোজা রাখি। এগুলো নৈতিক অর্থে ভালো কাজ না, এগুলো ধর্মীয় অর্থে ভালো কাজ। অনেক সময় মুসলিমরা এবং নন-মুসলিমরা, বিশেষ করে মুসলিমরা, আমরা এই দুটো জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করে ফেলি। মুসলিম বিশ্বে আপনি এমন মানুষ খুঁজে পাবেন যারা নৈতিকভাবে ভালো। তারা তাদের পরিবারের সাথে ভালো। তাদের সন্তানদের যত্ন নেয়। তারা তাদের বাড়িতে দায়িত্বশীল। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো। কর্মক্ষেত্রে তারা সৎ। ভাল মানুষ। কিন্তু তাদের মধ্যে ধর্ম বলতে কিছু নেই। “ভাল হওয়ার জন্য আমার ধর্ম লাগে না”, তারা বলে। অপর মেরুতে আছে এমন মানুষ যারা নামাজ পড়ে, হজ্জে যায়। যাকাত দেয়। লম্বা দাড়ি আছে। খুব ধার্মিক পোশাক পরে। কিন্তু তারপরও তারা তাদের পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ব্যবসায় মানুষকে ধোঁকা দেয়। অত্যন্ত অনৈতিক মানুষ। তো আমরা ভাল হওয়ার দুইটি মাত্রাকে আলাদা করে ফেলেছি। যা হলো নৈতিকতা এবং ধার্মিকতা। আল্লাহ কুরআনে এই দুটিকে একসঙ্গে করে ফেলেন একটি আয়াতে, যেটাকে বলা হয় আয়াতুল বির। সদগুণের আয়াত। ভাল হওয়ার অর্থ কি ? আপনি যদি এই আয়াতটি নিয়ে পড়েন। তাহলে দেখবেন এটা দুটি জিনিসের সমাহার। এটা হল একটি সমন্বয় নৈতিক নীতির, যেমন কথা রাখা, ধৈর্যশীল হওয়া ইত্যাদি এবং ধর্মীয় নীতির, যেমন নামাজ কায়েম করা, যাকাত দেওয়া। এটা এক জায়গায় এই দুটো জিনিসের সমন্বয়। তো আপনি যদি মনে করেন ভাল হওয়ার সংজ্ঞা আপনি নিজে...

আপনি যখন কুরআন পড়বেন

“আপনি যখন কুরআন পড়বেন দেখবেন যে এটা শুধু নিয়ম নীতির বই নয়, এটা শুধু এমন নয় যে এটা কর, যদি এটা না কর তাহলে এটা হবে, অথবা ওটা হবে। আসলে কুরআনে অল্প কিছু নিয়ম-কানুন আছে, অধিকাংশ অংশ জুড়েই আছে এমন একটি সম্পর্কের কথা যাতে আছে বিশ্বস্ততা, কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা, বন্ধুত্ব, স্মরণ করানো, চাওয়া, আসলেই এটি একটি অসাধারণ সম্পর্ক। এই রব আমাকে এমন একজন আবদ হিসাবে চান, যে তাকে ভালবাসবে, যে তাকে বন্ধু ভাববে, সব সময় তাঁর সাথে কথা বলবে, তাঁর কথা স্মরণ করবে। উনি বলছেন ‘فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ’ ‘ আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাকে স্মরণ করবো’। এভাবে কে কথা বলতে পারে? মনে হচ্ছে না যে একজন রব কথা বলছেন? তাই না? অর্থাৎ রব হিসাবে আল্লাহ নিজেকে কুরআনে যেভাবে চেনাচ্ছেন সেটা আপনার ধারনাটাকেই ভেঙ্গে দিচ্ছে। উনি চান আপনার বন্ধু হতে এবং চান আপনিও উনার বন্ধু হবেন। কিন্তু প্রথমেই বুঝতে হবে উনি আপনার ‘রব’, তারপরে ভাবতে হবে যে উনি আপনার বন্ধু। তিনি আপনাকে উপহার দিতে চান, কিন্তু উনি উপহার দেবার পূর্বে চান যে আপনি এটা বুঝুন উনি আপনার রব, এবং আপনি তাঁর বান্দা। তিনি চান আপনাকে দিতে, তিনি আপানকে তাঁর ভালবাসা দেখাতে চান, তিনি আপনাকে তাঁর দয়া দেখাতে চান, তাঁর ক্ষমা দেখাতে চান, আপনাকে এসব কিছু দিতে চান, তিনি আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে চান, তিনি আপনাকে প্রজ্ঞা দিতে চান, তিনি আপনাকে জ্ঞান দিতে চান, তিনি আপনাকে শেখাতে চান, চান আপনার শিক্ষক হতে। এই যে আপনার সাথে এত সম্পর্ক এটা শুধু একটা সম্পর্ক নয়, অনেকগুলো। আর এই সব কিছুর উপরে তিনি ‘রব’, আপনি তার বান্দা। এর অর্থ হল এই সম্পর্কে যাই ঘটুক না আপনার বিনম্রতা, আনুগত্য কখনই কমতে পারবে না। কারণ দাসের ধারনাটাই তো এরকম; অন্য যেকোন কাজের চেয়ে সবচেয়ে বেশি আনুগত্য দাস ব্যাপারটির...

ইস্তেগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করার সুফল

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا বাংলা ভাবার্থঃ “অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন”। [সূরা নুহ (৭১): ১০-১২] কুর’আনের উনত্রিশতম পারার অন্তর্ভুক্ত সূরা নুহের তিনটি (১০, ১১ এবং ১২) আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। আল্লাহ্‌‘তালা যুগে যুগে বিভিন্ন কাওমের কাছে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। এই আয়াতে নুহ (আঃ) আল্লাহ্‌কে বলছেন, তিনি (আঃ) তাঁর কাওমের জন্য কি কি সম্পন্ন করেছেন বা তাদেরকে কীভাবে আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বান করেছেন। এই ঘটনাটি কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করার আল্লাহ্‌‘তালা মনস্থ করেছেন, কারণ এই আয়াতগুলোতে একটি চমৎকার শিক্ষা আছে। অন্তর থেকে আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করার সুফল এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশুদ্ধ ইস্তেগফার করলে কি পাওয়া যাবে বা লাভ করা যাবে? আপনি আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করছেন, স্বভাবতই বিনিময়ে আপনি আল্লাহ্‌র মার্জনা পাওয়ার আশা করবেন এবং ইন শা আল্লাহ্‌ পাবেন। কিন্তু ক্ষমাপ্রাপ্তি ছাড়াও আর বাড়তি কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে? আল্লাহ্‌ যখন আপনার ইস্তেগফার কবুল করেন, তখন মার্জনা করার সাথে সাথে তিনি বান্দার উপর দয়াপরবশত কিছু দুনিয়াদি সুবিধাও দান করেন। এই আয়াতগুলোতে সেটাই বলা হয়েছে। “ফাকুলতুস্ তাগফিরু রাব্বাকুম; ইন্নাহূ কা-না গাফফা-রা” অর্থাৎ ‘অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল’। একজন প্রকৃত ধর্মপ্রচারকদের যা কিছু করণীয় নূহ (আঃ) তার সব কিছুই প্রয়োগ করেন তার সম্প্রদায়ের হেদায়েতের জন্য। তিনি বারে বারে আল্লাহ্‌র বাণী পুণরুক্তি করেন, শোনান, প্রচারণা করেছেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যক্তিগত ভাবে আহ্বান করেছেন। তিনি তাঁর কাওমকে আল্লাহ্‌র দরবারে অন্তর থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করার আবেদন করেন, এবং...

সুখী বিয়ের উপকরণ: পুরুষদের আত্মউন্নয়নের তিনটি দিক

এখন পুরুষদের ব্যক্তিগত উন্নয়নকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে– প্রথমতঃ আত্মসংযম করা। মৌখিক, মানসিক বা দৈহিকভাবে অভদ্র আচরণ করবেন না। এটা একটা বড় সমস্যা, যেটা নিয়ে অনেক বোন তাদের স্বামীর ব্যাপারে অভিযোগ করেন। আমার স্বামী, তার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকে না তিনি যখন মেজাজ হারান তখন চিত্কার চেঁচামেচি করেন। এবং আমাকে কষ্টদায়ক কথা বলেন এবং কখনও কখনও দুর্ভাগ্যবশত কিছু ভাইয়েরা এতটাই রাগান্বিত হন যে তারা তাদের স্ত্রীর প্রতি দৈহিকভাবে নির্যাতন করেন। আমার এক ক্লায়েন্ট ছিল যারা নবদম্পতি ছিলেন এবং তারা শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন, স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়ির উপরে অনেক হতাশ ছিলেন এবং তিনি ক্রমাগত স্বামীকে অভিযোগ করতেন। স্বামী তাকে বলতেন, বন্ধ করো বন্ধ করো এসব কথা। আমি শুনতে চাই না। কিন্তু স্ত্রী ক্রমাগতভাবে স্বামীকে অভিযোগ করতেই থাকলেন এবং পরিশেষে স্বামী এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে তিনি তার স্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত চড় মেরে বসেন। এরপর স্বামী একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি এরকম করেছিলেন, ”আমি কখনোই ভাবিনি আমি আমার স্ত্রীকে আঘাত করবো”। তিনি সেশনেই কাঁদছিলেন। ”সেটা আমি নই, এটা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর সাথে মেলে না। কিন্তু সে বন্ধ করেনি”। তাই আমাদের আবেগ আমরা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো তা শিখতে হবে। এর কারণ হলো, একবার যদি আপনি কিছু বলে ফেলেন বা খারাপ আচরণ করেন আপনি কখনোই তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন না এবং এটা এমন কিছু যা তাদের সম্পর্কটিকে চিরতরে বদলে দিয়েছিলো। যখন সম্পর্কের কোন পর্যায়ে দৈহিক নির্যাতন হয়, যখন আপনি আপনার সাথীকে কোন আক্রমণাত্মক বা কষ্টদায়ক কথা বলেন, আপনার সম্পর্ক আর আগের মত থাকে না। এবং আপনি তা আর ফিরে পাবেন না। আমার একজন ভাইকে মনে পড়ছে তিনি থেরাপির জন্য এসেছিলেন এবং তিনি আমাকে বলেছিলেন আপনি জানেন, সব আমার দোষ ছিল। আমি তাকে বললাম, আপনি কি রসিকতা করছেন? তিনি বলেন, “এটি সত্যি। সব দোষ আমার...

সুখী বিয়ের উপকরণ: নারীদের আত্মউন্নয়নের তিনটি দিক।

আমি গত বিশ বছর ধরে থেরাপি করি। আমি লক্ষ্য করেছি যে সম্পর্ক উন্নত করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বোনদের মধ্যে আছে যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন এবং সমানভাবে নির্দিষ্ট কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভাইদের মধ্যে আছে যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। নারীদের আত্ম উন্নতির বিষয়গুলোকে আমি তিনটি ভাগে ভাগ করে সংক্ষেপে তুলে ধরবো। প্রথমটা হলো মানসিক স্থিতিশীলতা। আপনার আবেগকে কন্ট্রোল করবেন, পাজি ড্রামাকুইন না হওয়া, বেশি প্রতিক্রিয়া না দেখানো, কান্নাকাটি না করা, বেশি চিৎকার চেঁচামেচি না করা। এর কারণ হলো ভাইরা তাদের স্ত্রীদের সম্পর্কে এইসব ব্যাপার নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেন। তারা মনে করেন যে তারা একটি ডিমের খোসার উপর রয়েছেন। তারা মনে করেন যে তারা এমন একটি টাইম বোমার সঙ্গে আটকে রয়েছেন তারা জানেন না কি তাকে বিস্ফোরিত করবে। এবং তাই এটা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে এবং রিলেশনশিপের মাঝে অনাস্থা তৈরি করে। যেখানে স্বামী জানেন না কি তার স্ত্রীকে বিস্ফোরিত করবে। এবং তাই এরকম মানসিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা যেখানে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় জিনিসটা হচ্ছে নিরাপদ থাকা। (নিজেকে নিরাপদ মনে করা)। আমি দেখেছি নারীরা তাদের সকল সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এটা হতে পারে তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে, তাদের শ্বশুরালয়ের আত্মীয় স্বজনের ক্ষেত্রে, অথবা বন্ধু/বান্ধবের সাথে। এবং সেখানে সে একটি ভয়ভীতি বা অন্যদের সম্পর্কে অনিরাপদ বোধ করেন। তিনি অন্যদের কারণে হুমকির সম্মুখীন বোধ করেন বিশেষ করে অন্য নারী দ্বারা। তাই আমরা আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে পারি। আমরা যদি আমাদের নিজেদের সম্পর্কে সত্যিই ভাল বোধ করি তখন আমরা আমাদের সম্পর্কগুলোতে অন্য নারীদের দ্বারা প্রভাবিত হবো না। এবং নিঃসন্দেহে এতে আমাদের বিবাহ আরও ভালো হবে, বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও ভালো হবে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়তার সম্পর্ক আরও ভালো হবে। তৃতীয় জিনিসটা হলো জ্ঞান বাড়ানো। অনেক বোনরাই মাশাআল্লাহ অত্যন্ত শিক্ষিত এবং...

নতুন বছরটা শুরু হউক খারাপ অভ্যাসগুলো বর্জন আর ভাল কিছু অভ্যাস আত্মস্ত করার মধ্য দিয়ে

আমাদের সবারই চরিত্রের বিভিন্ন দিক রয়েছে যার উন্নতি সাধন প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায়, গভীরভাবে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করা যে, আমি আসলে চরিত্রের কোন ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করতে চাই ? আরো বেশি জ্ঞান অর্জন করার পূর্বে আপনি কি নিজের প্রতি সৎ থেকে একটা লিস্ট বানাতে পারবেন ? ইস ! এই বিষয়গুলো যদি আমি জীবনে না করতাম। ইস ! এই বিষয়গুলো যদি আমি আমার জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারতাম ! এটা হলো এক নাম্বার কাজ। তখন এই লিস্ট এ থাকবে এমন কিছু বিষয় যা আপনি আপনার জীবন থেকে বাদ দিতে পারতেন। আর কিছু বিষয় থাকবে এমন যা আপনি আপনার জীবনে যুক্ত করতে পারতেন। এখন যে বিষয়গুলো আপনি জীবন থেকে বাদ দিতে পারতেন সেগুলোর ব্যাপারে নিজেকে প্রশ্ন করুন যে কিভাবে আমি এগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারি ? উদাহরণ সরূপ কারো কারো হয়ত বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থাকতে পারে। যেমন ..ড্রাগ , মদ্যপান বা পর্নোগ্রাফি যাই হোক কোনো এক ধরনের আসক্তি। এই আসক্তিগুলো সাধারণত ঘটে বিশেষ পরিস্থিতিতে। ধরুন, কোনো এক যুবক বাসায় একা, সে স্কুল থেকে কিছুটা আগেই বাসায় আসে, বাবা -মা এখনো কর্মস্হল থেকে ফেরত আসেনি, তার ঘন্টা দেড়েক বাসায় একা একা থাকার সুযোগ হয়। ঠিক তখনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়। সুতরাং আপনি নিজেই বুঝতে পারেন যে , হ্যাঁ আমি এই খারাপ কাজটা করি। কিন্তু আমি এটা করি একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। তাই আমি যদি এই নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতির মাঝে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারি তাহলে এটা আমাকে সাহায্য করতে পারে। আমি জানি আমি একা একা বাসায় থাকলে আমার সমস্যা হয়। আমি হয়ত এই বিষয়টা আগে চিন্তা করে দেখিনি। মনে হয় আমার আরো বেশি সময় স্কুলে থাকা উচিত। অথবা আমি এই সময়টা ভালো কিছু করে ব্যয় করতে পারি। *****দিনশেষে পাপ কাজগুলো আপনার সময়ের...

নিরাশ

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল বলেছেন – وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ – “আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমরাই জয়ী হবে।” (৩:১৩৯) নিজেদের দুর্বল মনে করো না, শক্তিহীন মনে করো না। আরবি ‘ওহান’ দ্বারা বুঝায় – অবস্থার পরিবর্তন হবে না এমন মনে করা। অন্য কথায় – আপনি যাই করেন না কেন পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না, অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। অথবা আপনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলো। এখন আপনার মনে হচ্ছে যে পরিস্থিতি পরিবর্তন করার সামর্থ্য আপনার নেই। যখন মনের অবস্থা এমন হয় যে আমি এতো সব চেষ্টা করা সত্ত্বেও ব্যর্থ হলাম, সফল হতে পারলাম না, তখন দুঃখ এসে আপনাকে ঘিরে ধরে; এই ব্যর্থতা আপনাকে ‘হুজন’ এর দিকে ধাবিত করে। আর তাই এর পরের অংশে আল্লাহ বলেন -وَلَا تَحْزَنُوا ” এবং দুঃখ করো না”। তিনি আসলে মূল কারণটা নির্ণয় করলেন। কোনো এক ব্যর্থতা, কোনো এক হতাশা আপনাকে একেবারে অক্ষম করে দিলো, মন ভেঙে দিলো, আপনি যে আরো ভালো করতে পারেন এই আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি কেড়ে নিয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি এটা করলেন ওহুদ যদ্ধের সময়। ওহুদ যুদ্ধের সময় মুসলমানরা বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হয়, (আর এই ক্ষতির ফলে দুঃখ এসে তাদের ঘিরে ধরে) কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল সেই ক্ষতিকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। ঠিক এর পরের আয়াতে তিনি বলেন – إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُ – “তোমরা যদি আহত হয়ে থাক, তবে তারাও তো তেমনি আহত হয়েছে।” وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ – “আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি।” কখনো তোমাদের সহজ সময় আসবে আবার কখনো কঠিন সময় আসবে। এই ক্ষতি দ্বারা নিজের মন-মানসকে আচ্ছন্ন করে ফেলো না...

কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। (বাকারা – ২৮)

কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। (বাকারা – ২৮) এই আয়াতটি খুবই গভীর দার্শনিক অর্থ বহন করে। এই আয়াত সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে। যে মতামতগুলো আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে সেগুলো এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আমি মরহুম ইসরার আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই আয়াত থেকে সবচেয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। তিনি ১৯৮৫ সালে এই আয়াত নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন। ভারত পাকিস্তানের বহু আলেম তার এই প্রবন্ধের প্রশংসা করেন। আমি এখন আপনাদের নিকট তার একটি সারমর্ম তুলে ধরবো। কারণ আমি মনে করি এটি অনেক মূল্যবান। আল্লাহ আজ্জা বলেন, كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا – কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত। প্রথম পর্যায় – وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا তোমরা মৃত ছিলে। দ্বিতীয় পর্যায় – فَأَحْيَاكُمْ অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। ৩য় পর্যায় – ثُمَّ يُمِيتُكُمْ তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দান করবেন; ৪র্থ পর্যায় – ثُمَّ يُحْيِيكُمْ তারপর তিনি তোমাদের আবার জীবিত করবেন। প্রথম পর্যায়টা কী ছিল? তোমরা মৃত ছিলে। আমাদেরকে প্রথম যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হলো – মৃত আর অস্তিত্ব না থাকা একই বিষয় নয়। যেমন, মৃত কাউকে কফিনে রাখা হয়েছে এবং তার জানাজা হচ্ছে – এর মানে এই নয় যে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় মৃত বলতে এমন কাউকে বোঝায় যার পূর্বে জীবন ছিল। সুতরাং এই আয়াতে মনে হয় যেন একটি ইঙ্গিত রয়েছে…(আমরা একটু পর আবার এ বিষয়ে আলোচনা করবো, তার পূর্বে কিছু বিষয় বুঝে নেয়া জরুরি) কুরআন এবং রাসূল (স) এর সুন্নায় – মৃত্যুকে ঘুমের কাছাকাছি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যু এবং ঘুম একে অন্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ঘুমাতে যাওয়ার সময় আমরা কী পড়ি? ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু...