বাংলা নোটসমূহ

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন উস্তাদ নুমান আলী খানের সকল বাংলা নোটসমূহের আর্কাইভ করছি

মৌমাছির মত হও।

— নোমান আলী খান  আল্লাহ তায়ালা বলেন – وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ – আর তোমার রব মৌমাছিকে আদেশ দিলেনঃ ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’  ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ – “অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শিখানো) সহজ পদ্ধতি অনুসরণ কর। এর পেট থেকে রং-বেরং এর পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য আছে আরোগ্য। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে।” (16:68-70)   একজন মুসলিমের চিন্তাপদ্ধতি অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। এর কারণ হল আল্লাহর বই। এটা আমাদের চিন্তা ধারাকে রূপদান করে। বস্তুত, আজ আমি আলোচনা শুরু করতে চাই সূরা মূলকের একটি আয়াত দিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে –  লোকেরা জাহান্নামে প্রবেশ করছে, আর প্রবেশ করা কালে তাদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। তখন, তারা উত্তরে বলবে,  وَ قَالُوۡا لَوۡ کُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا کُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ  – বিখ্যাত একটি আয়াত –  “এবং তারা বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম…চলুন, এখানে একটু থামি। এখানে কী শুনার কথা বলা হচ্ছে? যদি কুরআন শুনতাম! যদি ইসলামের বার্তা শুনতাম! যদি উপদেশগুলো শুনতাম! এই অংশটি সবাই বুঝে। কিন্তু এরপর আয়াতে ‘ও না’কিলু’ বলা হয়নি, বলা হয়েছেঃ ‘আও না’কিলু’, লাও কুন্না নাস্মাউ’ আও না’কিলু। আর আরবিতে ‘আও’ অর্থঃ অথবা। যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম। অর্থাৎ, যদি শুনতাম অথবা অন্ততপক্ষে চিন্তাভাবনা করতাম।  কথাগুলো এভাবে উপস্থাপনের পেছনে শক্তিশালী উদ্দেশ্য রয়েছে। একদিকে, মুসলমানরা কিছু শুনলে সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করবে। আমরা খুৎবা শুনি, রিমাইন্ডার শুনি, লেকচার শুনি, কিছু পড়লেও আমরা ঐখান থেকে শিখি। এগুলো থেকে আমরা...

ছেলেরা কিভাবে মেয়েদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে?

إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴾ নিশ্চয় তারা যা পরিকল্পনা তৈরি করে আল্লাহ তা খুব ভালোভাবে খবর রাখেন।﴿ [সূরা নূর: ৩০] “এবং তিনি জানেন যা তোমরা ম্যানুফ্যাকচার (Manufacture) করো”। আল্লাহ এখানে ছেলেদের একটা উদ্দেশ্যের কথা বলছেন। সেটা হলো ছেলেরা যে কৌশল অবলম্বন করে একটা মেয়েকে নিজের ফাঁদে টানে; প্রেম, যিনা বা মেলামেশার দিকে টানে। এই কৌশলী পরিকল্পনার ইংরেজি প্রতিশব্দ Manufacture (ম্যানুফ্যাকচার)। এই ‘ম্যানুফ্যাকচার’ মানে কী? ‘ম্যানুফ্যাকচার’ মানে উৎপাদন করা, উদ্ভাবন করা। উৎপাদনে কী থাকে? একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা! হ্যাঁ, একটা ছেলে যেকোনো মেয়েকে কৌশলে নিজের আয়ত্বে আনতে পরিকল্পনা অনুযায়ীই আগাতে থাকে। ধরুন, একটা গাড়ি তৈরি করতে কতগুলো অংশ (পার্টস) লাগবে, কী কী রঙ লাগবে, কোন অংশ আগে জোড়া দিতে হবে, কোন অংশ শক্ত হতে হবে, কোন অংশ নরম হবে, কোনটিকে কত বছরের জন্য টেকসই হিসেবে দিতে হবে, গাড়িটি তৈরি করতে কত সময় লাগবে, মার্কেটিং কীভাবে করবো, বিক্রি করবো কোথায়, কীভাবে ইত্যাদি সবই পূর্ব-পরিকল্পনা করা থাকে। এই প্ল্যান (পরিকল্পনা) আশাপূর্ণ ফল লাভের জন্য খুবই কার্যকরী আর সুপরিকল্পিত কাজ না থাকলে কোম্পানির জিনিসটি ভালো চলে না। এভাবে একটা ছেলে যখন মেয়েকে নিয়ে গেমের মতো বিস্তারিত প্ল্যান করে, সেটাও আল্লাহ জানেন বলে এই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। প্রথমে ছেলেটা মেয়ের দিকে তাকায়। এরপর পিটপিট করে করে তাকানো, মিটমিট করে হাসা চলতে থাকে। তারপর একটু কৌশলে জিজ্ঞেস করে তোমার ফেইসবুকে আইডি আছে? কী নামে? এভাবে কৌশলে একটু কাছে এসে বলে, ‘আমি আসলে তোমাকে ইসলাম বিষয়ে জানতে আরো সহযোগিতা করতে চাই’। ‘ঐ জায়গায় কিন্তু ইসলামী আলোচনা হয়, চলো না যাই একদিন’। ‘ঐ ফেইসবুক গ্রুপে অনেক সুন্দর আলোচনা হয়, ঐখানে জয়েন করাই?’ আর মেয়েটিও এভাবে বলে, ‘হ্যা, অবশ্যই, এই যে আমার ফেইসবুক একাউন্ট, আমাকে ভালো ভালো গ্রুপে এড করে দিবেন দয়া করে’। এভাবে ছেলের সাথেও ফেইসবুকে বন্ধু...

জেলখানা থেকে এক ভাইয়ের চিঠি।

— নোমান আলী খান সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আজকে আলোচনা করার প্ল্যান ছিল না। আমি একটা চিঠি পেয়েছি। এরপর আর নিজেকে থামাতে পারিনি। আপনাদের চিঠিটি পড়ে শুনাচ্ছি। আমি আমার ভাইয়ের নাম গোপন রাখবো। “আমার নাম …(আমি তাকে আমার প্রিয় ভাই বলবো।) চিঠির পোস্ট মার্ক থেকে আপনি বুঝবেন, আমি বর্তমানে জেলে বন্দী আছি। জীবনে এমন কিছু ভুল কাজ করেছি, যা নিয়ে আমি গর্বিত নই। কিন্তু এই রামাদানে, আমার মন বলছে আল্লাহ্‌ আমাকে পরিবর্তন করে দিবেন, আমার জানার চেয়েও বেশি উপায়ে। আপনাদের সবার মত ইসলাম সম্পর্কে আমি অতটা জ্ঞানী নই। দেখুন, আল্লাহর রহমতে আমি অনেকটা স্বশিক্ষিত, আমার প্রতিনিয়ত অনুসন্ধান এবং অধ্যয়নের মাধ্যেম। আমার অন্তরে ইসলাম আমার ধর্ম এবং মুহাম্মাদ (স) আমার নবী, শেষ নবী হিসেবে। আমি গত বছর থেকে কুরআন এবং হাদিস অধ্যয়ন করার চেষ্টা করছি। আমি অন্য ভাইদের কাছে সাহায্যের আবেদন করিনি। কারণ, আমি ভয় পাচ্ছি সমাজের লোকজন আমাকে অপমান করে থামিয়ে দিবে। সত্যি বলতে, আমার সাহায্য দরকার আরও শিখার ক্ষেত্রে। কারণ, আমি একা একা ভালভাবে শিখতে পারবো না। যে কারণে আমি আপনাকে এই চিঠি পাঠিয়েছি, আমি জেলে থেকে আমার ট্যাবলেটে নোমান আলী খানের অডিও পডকাস্ট শুনছি। এই খুৎবাগুলো প্রতিদিন আমাকে শক্তি এবং অনুপ্রেরণা যোগায়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমি এগুলোর জন্য অনেক বেশি বাধিত এবং কৃতজ্ঞ। কারণ, আল্লাহ আমাকে আমার এই ভ্রমণে এতো বেশি সাহায্য করেছেন যে, আমি নিজের ভেতরে পরিবর্তন অনুভব করছি। আর আমার ঈমান দিন দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে। এমনকি এমন দিনগুলোতেও যখন মুসলিম থাকা খুবই কঠিন। যাইহোক, আগামী কাল রামাদান। (চিঠিটি রামাদান শুরু হওয়ার পূর্বে লিখা হয়।) আমার কাছে পড়ার উপকরণ খুবই কম। এবং ভালোভাবে শেখানোর জন্য তেমন কোনো ভাইও নেই। তাই, আমি আমার বোনকে বলেছি গুগুলে আপনার ঠিকানা খুঁজতে। যাইহোক, ভাই প্লিজ, আমি কি...

দো’আ ও আল্লাহর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া

— নোমান আলী খান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল বলেন – وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ – “আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে।” আল্লাহ এখানে বলেন নি, যদি আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করে, তিনি বলেছেন, যখন আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করে। কারণ তিনি আশা করেন যে, এটা অবশ্যই ঘটবে। তিনি আপনার সম্পর্কে আশাবাদী। আপনি হয়তো আপনার সম্পর্কে আশাবাদী নাও হতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে নিয়ে আশাবাদী। তিনি রাসূল (স) কে বলেন, যখন তারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে….. সাধারণভাবে আয়াতটি তো এমন হওয়ার কথা ছিল, যখন তারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি তাদের বলে দিন আমি নিকটে। কিন্তু আয়াতের বক্তব্য এটা নয়, আয়াতের বক্তব্য হলো – যখন তারা আপনার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে… এটা বলার পর তিনি তাঁর রাসূলের সাথে কথা বলা বন্ধ করে আমার আপনার সাথে সরাসরি কথা বলা শুরু করলেন এবং বলেন – নিশ্চিতভাবেই আমি সন্নিকটে। আয়াতের মাঝখানে এসে বক্তব্যটি আর আল্লাহ এবং রাসূল (স) এর সাথে না হয়ে আল্লাহ এবং আমার আপনার সাথে সরাসরি হয়ে গেলো। বহুদিন যাবৎ আপনি হয়তো আল্লাহর সাথে কথা বলেন না। আপনি যদি কারো সাথে অনেক দিন কথা না বলেন, আপনার মনে হতে পারে সেও হয়তো আপনার সাথে কথা বলতে চায় না। “এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?” আপনি অন্য একজনের মাধ্যমে তার সাথে কথা বলতে চান। সে কি এখনো আমার প্রতি রাগান্বিত?আপনি তার সাথে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করতে চান না। কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল সেই দেয়ালটি ভেঙে সরাসরি আপনার কাছে আসেন এবং আপনাকে বলেন – নিশ্চয় আমি নিকটে। ‘ফা-ইন্নি ক্বারীব।’ তারপর আপনার হয়তো মনে হতে পারে, আমি তাঁর নিকট থেকে এতো দূরে…. তিনি কেন আমার দোয়ার জবাব দিতে যাবেন? কিন্তু আল্লাহ বলেন – ……أُجِيبُ...

বৃষ্টি ও কুর’আন: জীবন ও ঈমান

আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারীদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন। [নাহল: ৬৫] এখানে আসলে বৃষ্টির কথা বলা মুখ্য উদ্দেশ্য না৷ উদ্দেশ্য পূর্বের আয়াত। আগের আয়াতে যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে: আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই কিতাব নাযিল করেছি। (নাযিলের উদ্দেশ্য) যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদেরকে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন (ঐসব বিষয়ে) যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং(এই কিতাব) ঈমানদারকে হেদায়াত ও তাদের জন্যে ক্ষমা (নিয়ে আসবে)। [সূরা নাহল: ৬৪] পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ তা’আলা আসমান থেকে কিতাব নাযিল করেন। পরের আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। সুতরাং আপনি যদি পৃথিবীতে আল্লাহর কিতাবের গুরুত্ব বুঝতে চান, তাহলে আপনাকে পৃথিবীতে পানির ভূমিকা বুঝতে হবে। বলুন তো পানির কাজ কী? পানি পৃথিবীতে জীবন তৈরি করে৷ পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য। ঠিক তেমনি জগতের যেসব জায়গা নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে মৃত, সেখানে আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা অনিবার্য৷ আধ্যাত্মিকভাবে মৃত জগতকে জাগাতে চাই কুর’আনের শিক্ষা৷ হাজার বছরের মৃতপুরীকে জাগিয়ে তুলতে পারে পানি৷ পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, পৃথিবীর নৈতিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, দিন রাতে যেকোনো অবস্থাতেই মিডিয়া যতই খারাপ হোক না কেন, মুসলিমরা যতই নীচে নামুক না কেন — এই কিতাব (মহিমান্বিত কুর’আন) সেই মৃত লোকদের মধ্যে জীবন আনার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু পানি যখন বর্ষিত হয় তখন দুই ধরনের উদ্ভিদ জন্মায় পানি বর্ষণের ফলে। এক ধরনের উদ্ভিদ যা নিজে নিজে জন্মায়। আরেক ধরনের উদ্ভিদ হচ্ছে ফসল৷ এর জন্য শ্রম দিতে হয়৷ পৃথিবীতে কি এমন লোক নেই যাদেরকে কোনো প্রকার সরাসরি দাওয়াত ছাড়া ইসলাম গ্রহণ করেছে? অনেকে করেছে। যাদের সাথে কোনো অবস্থাতেই আমার দেখা হয়নি। আমি শুধু একটি ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেছি...

আল্লাহ সর্বশক্তিমান

– উস্তাদ নোমান আলী খান ইনশাআল্লাহ, আজ আমি আপনাদের নিকট আল্লাহর একটি নাম القوي – এর উপকারিতা বর্ণনা করবো। القوي অর্থ – শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী। এই অসাধারণ শব্দটি দ্বারা আল্লাহর একটি নাম প্রকাশ করা হয়। শব্দটি শুনলেই আপনি বুঝতে পারেন এর মানে হল আল্লাহ সর্বশক্তিমান। কিন্তু সুরাতুল হাজ্জের শেষের দিকে আল্লাহ যেভাবে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন তা অসাধারণ চমকপ্রদ। আমি যুক্তি দেখাবো, একজন বিশ্বাসীর জন্য আল্লাহর ‘القوي’ হওয়ার মানে কী তা উপলব্ধি করার জন্য আল কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি হল সুরাতুল হাজ্জের এই অংশটি। আমরা তাঁর সকল নামে বিশ্বাস করি কিন্তু তাঁর প্রত্যেকটি নাম কোন না কোনভাবে আমাদের উপকার করে। কোন না কোনভাবে আমাদের সাহায্য করে। القوي কীভাবে আমাদের সাহায্য করে? এটা শেখার অন্যতম একটি সেরা জায়গা হল ২২তম সূরা, সুরাতুল হাজ্জের শেষের অংশ। এই সূরায় আল্লাহ একটি উপমা পেশ করেন যেন মানুষ তাঁর সম্পর্কে একটি ব্যাপার উপলব্ধি করতে পারে। তিনি বলেন – يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ – “হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন;” এভাবেই তিনি শুরু করেছেন, একটি উপমা দেয়া হল মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো। তিনি সাধারণত এভাবে বলেন – আল্লাহ একটি উপমা বর্ণনা করলেন। কিন্তু এখানে বলেছেন, একটি উপমা প্রদান করা হলো। ‘আমি একটি উপমা দিচ্ছি’ বলার পরিবর্তে। তিনি এখানে বক্তাকে আলোচনা থেকে গোপন করে ফেললেন। এটি একটি সাইড নোট – কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি – যা আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন। আমি এখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার একটি নির্দিষ্ট রূপ আছে, আমার দাঁড়ি আছে, আমার পোশাক এইরকম, আমার মাথায় টুপি আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনারা সরাসরি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন। আমি কুরআন থেকে কিছু তিলাওয়াত করলে বা কোন আলোচনা করলে সেটাও আপনারা দেখতে পান। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতির...

আমাকে বলুন সর্বনিম্ন কতটুকু করতে হবে

রাসূলুল্লাহ (স) এর নবুয়তী জিন্দেগীর তেইশ বছরে যখনই কেউ ইসলামে প্রবেশ করেছে তার জন্য শুধু সাধারণ মুসলিম হিসেবে বসে থাকার সুযোগ ছিল না। তাকে ইসলামের মিশনকে তার নিজের জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণ করে নিতে হয়েছিল। তুমি এই মিশনে যোগ দিয়েছ। এই মিশন সফল হউক বা ব্যর্থ হউক তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু তোমাকে এই মিশনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে যেতে হবে। তোমাকে এই মিশনের জন্য জীবনও দেয়া লাগতে পারে। তুমি এই উদ্দেশ্যে অবদান রেখেছ, মারা যাচ্ছ। যতদিন তুমি অবদান রেখে যাবে ততদিন তোমার জীবনের মূল্য আছে। এই উদ্দেশ্যে কুরবানী করার ক্ষেত্রে তুমি কখনো পিছপা হওনা। কারণ তুমি এটাকে কুরবানী হিসেবে দেখো না, তুমি এটাকে দেখো – إِنْ أَحْسَنتُمْ أَحْسَنتُمْ لِأَنفُسِكُمْ – “তোমরা ভাল কাজ করলে নিজেদের কল্যাণের জন্যই তা করবে।” (১৭:৭) এখন মাইন্ডসেটটি বোঝার চেষ্টা করুন। একজন সাধারণ মুসলিম এবং আল্লাহর পথে প্রচেষ্টারত সংগ্রামী ব্যক্তির মনোভঙ্গীর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আমি এখন এই ধরণের লোকদের ‘সংগ্রামী’ বলছি কিন্তু আসলে এদের মু’মিন বলা উচিত। একজন মুসলিম উদ্বিগ্ন থাকে ‘আমাকে সর্বনিম্ন কতটুকু করতে হবে, তা নিয়ে। ”আমি কি এটা খেতে পারবো? এটা কি হালাল? কত ওয়াক্ত নামাজ আমাকে আদায় করতে হবে? ৫ ওয়াক্ত, ঠিক? তাহাজ্জুদ পড়া কি বাধ্যতামূলক? ঠিকাছে, আমি তাহলে পাঁচ ওয়াক্তই পড়বো। আমাকে কি সব নফল পালন করতে হবে? আচ্ছা ঠিকাছে আমাকে শুধু মিনিমামটুকু দিন। আমি কি অমুক অমুক কাজগুলো করতে পারবো? আমাকে জাস্ট বলুন, কোনটা হালাল কোনটা হারাম। আমার তাহলে আর কোনো সমস্যা নেই। আমাকে কয়টি হজ্জ্ব করতে হবে? একটা? ঠিকাছে। যখন আমার হজ্জে যাওয়ার সামর্থ্য থাকবে, ঠিক না? হ্যাঁ। ঠিকাছে , আমি এগুলো করবো। ” এটাই মুসলিমের সংজ্ঞা। যে ইসলামের মিশনে যোগদান করে সে কখনো জিজ্ঞেস করে না ‘আমাকে সর্বনিম্ন কতটুকু করতে হবে।’ প্রকৃতপক্ষে তারা সবসময়...

সুস্থ হৃদয়

—নোমান আলী খান হৃদয়ের জন্য দুটো প্রতিশব্দ আছে, বলুন তো সেগুলো কি কি? ক্বালব আর ফুআদ। ক্বালব হলো হৃদয়ের সাধারণ প্রতিশব্দ। ফুয়াদ ব্যবহৃত হয় যখন…? যখন কোনো ধরণের উত্তেজিত কিংবা আবেগপ্রবণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আপনারা কি জানেন কুরআনে খুবই সুন্দরভাবে আল্লাহ এই ব্যাপারগুলোর হিসেব রাখেন। তাই আপনারা সুরাতুল ক্বাসাসে দেখবেন এই একই জিনিসের জন্য দুটো শব্দ একইসাথে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ বলেন- وَ اَصۡبَحَ فُؤَادُ اُمِّ مُوۡسٰی فٰرِغًا ؕ اِنۡ کَادَتۡ لَتُبۡدِیۡ بِهٖ لَوۡ لَاۤ اَنۡ رَّبَطۡنَا عَلٰی قَلۡبِهَا لِتَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ (২৮:১০) মূসা (আ) এর মায়ের হৃদয় উড়েই যাচ্ছিল, ধড়ফড় করছিল, খালি হয়ে গেলো। কারণ তিনি তার বাচ্চাকে একটি বক্সে বন্দী করে মাত্রই পানিতে ভাসিয়ে দিলেন। এখন বাচ্চাটি এতো দূরে চলে গেছে যে তিনি আর দেখতে পাচ্ছেন না। তাই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন। একই সময়ে তার ভয়, তার দুঃখ, তার কষ্ট, ধকল, প্রচণ্ড আবেগ-অনুভূতির ব্যাপ্তি এতোই প্রকট ছিল যে তার হৃদয়কে শুধু ক্বালব বলা হয়নি, বরং কী বলা হয়েছে? ফুয়াদ। কারণ তা সম্পূর্ণরূপে অভিভূত হয়ে গিয়েছিল, পুড়ে যাচ্ছিল! তারপর আল্লাহ বলছেন, তিনি গোপন বিষয়টি ফাঁস করেই দিচ্ছিলেন। إِن كَادَتْ لَتُبْدِى بِهِ মানে তিনি প্রায় ঘর থেকে ছুটেই চলে যাচ্ছিলেন বাক্সটির প্রতিঃ আমার বাচ্চা!! তিনি নিজেকে থামাতে পারছিলেন না। কিন্তু তাকে আল্লাহ্‌র টেনে ধরতে হলো। এটা বোঝা জরুরি, কারণ কোনো মায়ের নিজেকে থামানো সম্ভবত মানসিকভাবে অসম্ভব। সম্ভবত একেবারেই অসম্ভব। আমি এমনটা হবার কোনো কারণ দেখি না। অন্য কথায়, কোনো বাচ্চা… ধরুন বাচ্চাকে দোকানে নিয়ে গেছেন। আর সে আপনার আঙ্গুল ধরে আছে, আপনি হাঁটছেন। হঠাৎ করে দুই সেকেন্ডের জন্য আপনি তার হাত আর অনুভব করছেন না। তৎক্ষণাৎ কি করেন আপনি? করিম! করিম! আআআআ! হাহাহা কতক্ষনের মধ্যে কোনো মা পাগল হয়ে যায়? আমি তো মনে করি দশ সেকেন্ড। আর বাবা! বাচ্চাকে...

শোয়াইব (আঃ) এর মেয়ের সাথে মুসা (আঃ) এর বিয়ে থেকে কিছু শিক্ষা

• সৌজন্যতা আর ভদ্রতার সাথে কোন ছেলে অন্য কোন মেয়েদের সাহায্য করতে পারে। (মুসা (আঃ) মাদিয়ানে এসে যখন দুই বোনকে সাহায্য করেন।) • শালীনতা আর সতর্কতার সাথে মেয়েরা প্রয়োজনে বাইরে কাজে যেতে পারে। (দুই বোন তাদের বকরীগুলোকে পানি পান করানোর জন্য বের হতো তাদের বাবা অতি বৃদ্ধ বলে। আর সবার শেষে পানি পান করাতো যাতে পুরুষদের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি না হয়) • শুধু ছেলেরা না, মেয়েরাও ছেলেদের পছন্দ করতে পারে। মেয়েরা যখন বাবার সামনে কোন ছেলের প্রশংসা করে, তখন বাবার বুঝা উচিত মেয়ে কী বুঝাতে চাচ্ছে। ( শোয়াইব আঃ এর মেয়ে বাসায় গিয়ে মুসা (আঃ) এর প্রশংসা করে) • মেয়ের বাবাদের উচিত তার সন্তানের পছন্দকে মূল্যায়ন করা আর গুরুত্ব দেয়া। • অর্থ কড়ি না থাকলেও ছেলে চরিত্রবান, দায়িত্ববান হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। (মুসা (আঃ) ঐ সময় মাদিয়ানে এসেছিলেন একটি খুনের পলাতক আসামী হিসেবে, তাঁর (আঃ) অর্থ, জামা কাপড় কিছুই ছিল না।) • বিয়ের প্রস্তাব মেয়ে পক্ষও পাঠাতে পারে। ( শোয়াইব আঃ এর মেয়ে তার বাবাকে বলেন মুসা (আঃ) কে কাজের জন্য বাসায় রেখে দিতে। শোয়াইব (আঃ) বুঝতে পেরেছেন তার মেয়ে কী বুঝাতে চেয়েছে আর শোয়াইব (আঃ) বিয়ের প্রস্তাব দেন মুসা (আঃ) কে) • বিয়ের পর মেয়েদের দায়িত্ব যেহেতু বাবা থেকে বরের কাছে হস্তান্তর হয়, তাই বিয়ের আগে সবচেয়ে বেশি কথা বলবে ছেলে আর মেয়ের বাবা। • কোন শর্ত দিয়েও বিয়ে করানো যায়। (মুসা (আঃ) কে ৮ বছর কাজ করার শর্ত দেয়া হয়েছিল।) আর সবশেষে— • ছেলেরাও শশুর বাড়ি থাকতে পারে 🙂 —Bayyinah.tv এর Story Night – Against all odd সিরিজ...

আমাদের সবার সাথে ক্বারিন আছে …

নোমান আলী খান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ – প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন ক্বারিন, একজন করে সহযোগী শয়তান বরাদ্দ করা আছে। তারা সারাক্ষনই তোমাদের কুমন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে। এর মানে কি আপনারা বুঝতে পারছেন? এটা কিন্তু টম এন্ড জেরি কার্টুনের মতো না যে এক কাঁধে ত্রিশূল হাতে শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে আর অন্য কাঁধে ফেরেশতা। এমন না কিন্তু। একটি শয়তান সবসময় থাকে। আপনি যা-ই দেখছেন, যা-ই করছেন, জীবনে যত অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন—তার কাজ হলো, এর প্রতিক্রিয়ায় আপনাকে দিয়ে সম্ভাব্য সর্ব নিকৃষ্ট কাজটি করানো।কেউ এসে আপনাকে সালাম জানালো। সে আপনাকে বলবে, “সে সালাম দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু ভেতরে ভেতরে তোমাকে ঘৃণা করে।”আপনিও বলেন, “হ্যাঁ আসলেই!” “হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমুস সালাম। হুহ” (একটু সন্দেহসহ আপনি জবাব দেন)ভালো কিছু দেখলেন, সেটার মধ্যে মন্দ কিছু খুঁজে দেখার ইচ্ছে করবে। আবার খারাপ কিছু দেখলেন। সে বলবে, “এটা অতোটা খারাপ না। এতো খারাপ না। দেখোই না! তুমি তো মাত্র একমাস আগেই উমরাহ করলে। অনেক সোয়াব কামিয়েছো। কোন সমস্যা নেই। আর রামাদান তো এক সপ্তাহ পরেই আসছে! এতো চিন্তা কীসের? আল্লাহ তো তোমাকে ক্ষমা করেই দিচ্ছেন।”আপনি ভাবছেন, “হ্যাঁ! আসলেই তো! আল্লাহ অনেক ক্ষমাশীল!” যেকোনো পরিস্থিতিতে পড়েন না কেন আপনি, একটি চিন্তা মাথায় আসে, “খারাপ কিন্তু অতো খারাপ না। তুমি ভালোই আছো।” আর ভালো জিনিস হলে বলে, “আরে! তুমি আসলেই তা করতে চাও?” কখনও কি এমন হয়েছে যে আপনি বিছানায় শুয়ে আছেন, এখনো ইশা পড়েননি। আর আপনার শরীর যেন চারগুণ ভারী হয়ে গেছে?সে বলে, “শুধু আর পাঁচটা মিনিট শুয়ে থাকো। তারপর উঠে নামায পড়ো। শুধু পাঁচ মিনিট!” আপনিও ভাবলেন, “হ্যাঁ আর মাত্র পাঁচ মিনিট। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটু সময় দরকার।”আর এমন হয় যে কিছু বোঝার আগেই… (ঘুম)এমন হয় কি না?এটাই...

অস্থির মনকে কী দিয়ে শান্ত করবেন?

— নোমান আলী খান মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো, আপনাদের কেউ কেউ হয়তো টেকি(প্রযুক্তিতে খুব আগ্রহী। তাই ডিফল্টের অর্থ বুঝবেন), অনেক মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো, অনেক মানুষের ডিফল্ট অবস্থা হলো তাদের মাথায় সবসময় পাগলাটে কোনো চিন্তা-ভাবনার আনাগোনা চলতে থাকে। কিছু একটা সবসময় তাদের মাথায় থাকে, কখনোই এটা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আর তারা ভাবতে থাকে— কিভাবে এটা থেকে মুক্তি পাবো? এই চিন্তাটা কখনো কখনো খারাপ আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। খারাপ কাজের মাধ্যমে, উদ্বেগ, হতাশা…মাথা থেকে এটা কখনো যায় না। এখন, থেরাপিস্টরা বলবে, এটা একটা ব্যাধি। ঠিক কিনা? আর কুরআন বলছে- “ইন্নাল ইনসানা খুলিকা হালুউ’আ।” অর্থাৎ, “মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে খুবই অস্থির-মনা করে।” (৭০:১৯) তোমাদেরকে এমন করেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এটাই তোমার স্বাভাবিক অবস্থা। আরেকটা কথা বলি— মানুষের শরীরকে মেরু ভালুকের (পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে যাদের বাস। তুষারে ঢাকা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় যারা বাস করে।) শরীরের সাথে তুলনা করে দেখি। খুবই চমৎকার একটা উদাহরণ, তাই না? মানুষের শরীরের তুলনায় মেরু ভালুকের শরীর… আমাদের শরীরকে প্রকৃতিগতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়নি যে, আমরা প্রচন্ড ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে জামা-কাপড় ছাড়া বাঁচতে পারব। আমাদের শরীর নকশাগতভাবেই বৈরী প্রকৃতি মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। আর তাই নিজেদের রক্ষা করতে আমরা বিভিন্নরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি। কারণ, আমাদের চামড়া এবং রক্তের তাপমাত্রা যথেষ্ট নয়। আমরা মারা যাবো। তাই, জামা-কাপড় পরিধান করা শুধু দ্বীনের ব্যাপার নয়, বেঁচে থাকার জন্যেও এর প্রয়োজন। ঠিক একইভাবে, আমাদের মনকেও ইতিবাচকতার দিকে অনুকূল করে তৈরী করা হয়নি। ব্যাপারটা প্রাকৃতিক নয়। তাই, আপনার আমার মন মানসিকতাকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্যেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শেষে গিয়ে আল্লাহ এর প্রতিকার প্রদান করেন। তিনি বলেন— “ইল্লাল মুসল্লিন” মানুষ হালুউ(অস্থির-মনা), খারাপ কিছু ঘটলে তারা হয়ে যায় জাজুউ(অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত), আর ভালো কিছু ঘটলে তারা...

আল্লাহর কাছে যাওয়া পরিশ্রমের কাজ

আল্লাহর কাছাকাছি হওয়াটা একবারেই করে ফেলার কাজ না। এটা একটা প্রক্রিয়া। এটা এমন কিছু যার জন্য প্রত্যহ কাজ করে যেতে হবে। এখন, আপনি ইচ্ছে করলে দৈনিক ভিত্তিতে এই সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারেন অথবা ইচ্ছে করলে দৈনিক ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ক্ষতি সাধন করতে পারেন। একটি ভালো দিন…আপনি সকালে উঠে মসজিদে গেলেন। কিছু কুরআন তিলাওয়াত করলেন। অন্তর বিগলিত করে অকৃত্রিম কিছু দোয়া করলেন। কিছু খারাপ কাজ আপনার অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আজ সেগুলো থেকেও দূরে থাকলেন। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো কথা বললেন না। কোনোভাবে কারো কোনো ক্ষতি করলেন না। এভাবে যোহর পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। এখন, অনুভব করছেন আপনি আগের চেয়ে আল্লাহর অনেক কাছাকাছি আছেন। অন্তরে এক ধরণের স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করছেন। নিজের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। এরপর… কেমন করে যেন মনোবল কমে গেল। ভাবলেন, আমার হাতে কিছুটা ফ্রি সময় আছে। মুভি বা কিছু একটা দেখে একটু বিনোদন করি এবং শুরু করলেন। এখন, আপনি আবার পিছিয়ে যাচ্ছেন। উন্নতি অর্জন করছিলেন কিন্তু এখন আবার নিচের দিকে নামা শুরু করলেন। এমনটা সবসময় ঘটে আসছে। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন। কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেন এরপর আবার পিছিয়ে পড়েন। আমাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমরা এমনসব কাজে যুক্ত হয়ে পড়ি যা আমাদেরকে ধীরে ধীরে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর কদাচিৎ আমরা কিছু ভালো কাজ করি যা আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসে। এখন, আপনি যদি অবিরত নীচের দিকে নামতে থাকেন, আর কালেভদ্রে একটুখানি উপরে উঠেন- আপনি কি তখন নিজের উন্নতি অনুভব করেন? না। তখন উন্নতি অনুভূত হয় না। ফলে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার মধুরতা কখনো ফিল করেন না, তাই আপনি শুধু নিচের দিকেই নামতে থাকেন। এটি সর্পিল অবনতি। ব্যাপারটা ঠিক এমন, আপনি নিয়মিত জাঙ্ক ফুড আহার করেন, শরীরের স্থানে...

সূরাতুন নাসে আল্লাহর তিনটি নামের যৌক্তিক অগ্রগতি

সূরাতুন নাসে আল্লাহর তিনটি নামের যৌক্তিক অগ্রগতি[রাব্বিন নাস, মালিকিন নাস, ইলাহিন নাস] নোমান আলী খান চলুন, প্রথমে নিজেদের অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আলাদা করে দেখি। আমার একটি ছাগল থাকতে পারে, কিংবা গরু বা উট। আমি এর প্রয়োজনগুলোর খেয়াল রাখি। এরপর একটা বেড়া তৈরি করে দেই। কখনো বেড়াটি বেশ বড় হয়। এরপর একে বলি— মুখে বলি না— কিন্তু সে জানে যে, যতক্ষণ এই সীমার মধ্যে থাকবো ইচ্ছেমত ঘুরাঘুরি করা যাবে। প্রাণীটি নিজের পুরো জীবন সেই সীমানার মধ্যেই কাটাতে পারে, সমস্যা ছাড়াই। সে খুশি। কোন অসুবিধা নেই। কারণ— এক, সে সুরক্ষিত আর তার খেয়াল রাখা হচ্ছে। দুই, সে আমার দেয়া সীমানা মেনে নিয়েছে।এরকম যখন হয়, তার জীবন সুন্দর। কোন চাহিদা নেই।কিন্তু অন্যদিকে, মানুষ এমন হতে পারে না। আমরা এভাবে কাজ করি না। আমাদের মানসিকতা এমন না। আমাদের মানসিকতা প্রানীদের থেকে একদমই ভিন্ন। আপনি একজন মানুষকে একটি বাড়ি দিলেন অথবা একটি এপার্টমেন্ট। সেই মানুষটিকে আপনি চাকরিও দিলেন যেন সে নিজে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে। এটাকি তার জন্য যথেষ্ট? নাকি সে আরও বেশী কিছু চাইবে? সে আরও বেশী কিছু চাইবে। সে আরও ভালো কিছু চাইবে। আমি কিন্তু লোভের কথা বলছি না। বুঝে নিন কি বলছি আমি। আল্লাহ মানুষের মধ্যে এমন কিছু দিয়েছেন যা অন্য কোন প্রাণীকে দেননি— নিজের চাইতে বড় কিছু অর্জন করার আকাঙ্ক্ষা। নিজের চাইতে বড় কিছুতে পৌছানোর আকাঙ্ক্ষা। মানবজাতি… এমনকি নাস্তিক, ইহুদি, খৃষ্টান মুসলিম যে-ই হোক না কেন। যদি আপনার কোন শিক্ষাগত ডিগ্রী না-ও থাকে, যদি কোন ভালো চাকরি নাও থাকে, যদি কোন সম্মানজনক পেশাতেও না থাকেন আপনি, আপনার মাথার মধ্যে কিন্তু এই চিন্তাটা থাকে— যদি কিছু অর্জন করতে পারতাম ! জীবনে যদি আরো বেশী কিছু করতে পারতাম। পৃথিবীতে যদি স্মরণীয় কিছু করে যেতে পারতাম। পৃথিবীর জন্য যদি কোনো অবদান রাখতে পারতাম।...

মানুষের ওয়াসওয়াসা থেকেও আশ্রয় চাই

নোমান আলী খান – সুরা নাসের তাফসীর এর অংশ বিশেষ সুরাতুন নাসে আল্লাহর কাছে আমরা শুধু শয়তানের ওয়াসওসা (কুমন্ত্রণা) থেকে নয়, বরং মানুষের ওয়াসওয়াসা থেকেও আশ্রয় চাই। এটা পরিষ্কার যে শুধু মানুষের কথা বা পরামর্শ দ্বারা নয় বরং তাদের চাহুনির দ্বারাও ওয়াসওসা হয়ে থাকে।আপনার আত্মসম্মান যদি দুর্বল হয়… আমার মেয়ে আছে। তাই এটা নিয়ে অনেক ভাবি। কারণ, মেয়েদের জন্য আত্মসম্মান বিশাল এক সমস্যা। তাই না? কোনো মেয়ে মনে করে সে কুৎসিত। সে কোনো বিয়েতে গেলো। সেখানে তার চোখে সুন্দরী এক মেয়ে তার দিকে মুখ বাঁকা করে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকাল। এটুকুই… সাময়িক একটু ইঙ্গিত। এই মেয়েটি এখন মায়ের সাথে ঝগড়া করবে। “আমি মেকআপ করতে চাই, এরকম কাপড় পড়তে চাই, এটা করতে চাই, ওটা করতে চাই…” এ সবকিছুই শুরু হয়ে কোত্থেকে? একটি বিয়েতে, একটি মাত্র মেয়ে তাকে দেখে মুখ ভেংচি দিলো। এটুকুই হয়েছিল! আর তার জীবন বদলে গেলো!বুঝতে কি পারছেন ওয়াসওয়াসা কতোটা শক্তিশালী? কীভাবে আল্লাহ্‌র কাছে আপনার আশ্রয় চাওয়া উচিত মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে?কখনো কখনো আমাদের খুব কাছের মানুষও এমন কিছু বলতে পারে যা সারাজীবনের জন্য ক্ষত তৈরি করে! সারাজীবনের জন্য! আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাকে অসাধারণ পিতামাতা দিয়েছেন। কিন্তু আমি ঘটনা শুনি এমন সব পিতামাতার যাদের কিনা সন্তানকে সবচাইতে বেশী ভালোবাসার কথা তারাই সন্তানদের কথা শুনিয়েছে। এমন কথা বলেছে যে, “আমি জানি, তোমাকে দিয়ে জীবনে কিচ্ছু হবে না।”আপনি এই একটা কথা বলে বিরিয়ানি খেতে লাগলেন। কিন্তু এই ছেলেটি কলেজে যাওয়া বাদ দিলো, চাকরি ছেড়ে দিলো, বিষণ্ণতায় ডুবে গেলো, নেশা শুরু করলো, মদপান শুরু করলো। তার জীবনটা আপনি ধ্বংস করে দিলেন কারণ তার মাথায় বদ্ধমূল হয়ে গেছে, “আমাকে দিয়ে তো এমনিতেই কিছু হবে না”। আর এটা সেই পিতার কাছ থেকেই এলো যার কাছ থেকে তার সাহস পাবার কথা ছিল!এমনটা করে আপনি নিজেই...

আলেমরা হচ্ছে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান

আলেমরা হচ্ছে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান। আম্বিয়া কিরামের উত্তরসূরী ।স্থানীয় আলেমেদ্বীনদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা আমাদের ঈমানী দ্বায়িত্ব। অনলাইনে যত যাই হোক, দিন শেষে বাস্তব জগতে একাধিক ভাল আলেমের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা উচিত। তাদের সম্মান ও খেদমত করাও আমাদের দ্বায়িত্ব। অনেক সময় আলেমদের কিছু ছাত্র উস্তাদ নুমান আলী খান সম্পর্কে আংশিক তথ্য দিয়ে এমন ভাবে উপস্থাপন করে যা বাস্তবতা থেকে ভিন্ন। এই আংশিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে অনেক সময় তারা নানা কথা বলেন। উনারা যে উদ্দেশ্যে নিয়ে কথা বলে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা যারা এই পেইজে আছি, তাদের অনেকের লেকচার শুধু শুনিই নি তাদের অনেকের ক্লাসে এ সরাসরি অংশগ্রহনও করেছি। অনেক সিরিজ যেমন কিতাবুত তাওহীদ, ফিকহুস সালাহ, সিয়াম, যাকাত, আকীদা সহ অনেক ক্লাস করেছি। সত্যিকারের দ্বীন শিখতে আপনাকে আমাকে আলেমের শরণাপন্ন হতেই হবে। দ্বীনের কোন বিষয়ে গভীরভাবে জানতে আমরাও তাদের কাছেই যাই। নোমান আলী খান বহুবার তার লেকচারে বলেছেন আর আমরাও বলি, তিনি আলেম নন বরং দ্বা’য়ী ইলাল্লাহ অর্থাৎ যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে। আলেমরা গভীর একাডেমিক গবেষণায় যেহেতু মগ্ন থাকেন তাদের কথা অনেক সময় সাধারণ মানুষ বুঝে না। আর অনেক আলেমের পক্ষে সাধারন মানুষদের চাহিদা কি, তারা কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাও জানা সম্ভব হয় না। এই সেতু বন্ধনে দ্বা’ইয়ী ইলাল্লাহ কাজ করে। ইসলাম প্রচারে দ্বা’ইয়ী ইলাল্লাহর ও দরকার আছে। আলেম যেখানে পৌঁছাতে পারেনা, সেখানে দ্বায়ী ইল্লাল্লাহ গিয়ে মানুষদের আল্লাহর পথে টেনে আনে। আমরা হাতে নাতে দেখেছি বিষয়টি পেইজটি চালাতে গিয়ে। আরও আমরা দেখেছি আরিফ আজাদের মত দ্বা’ইয়ী থেকে। মানুষ যখন আল্লাহর পথে আসে আমরা তাদের বলি আলেমের কাছে চলে যেতে আরও গভীরভাবে দ্বীন শিখতে। আমরা পেইজ থেকে আগেও বলেছিলাম, আর উস্তাদ নোমান আলী খান নিজেও বলেছেন, শুধু আমাকে নিয়ে পরে থাকবেন না। অর্থাৎ শুধু একজন আলেম,...

বইঃ প্রশান্তির খোঁজেঃ উস্তাদ নোমান আলী খান

“কুর’আন তার সৌন্দর্যে চিত্তবিমোহনকারী; শব্দের দিক থেকে সম্মোহ সৃষ্টিকারী; বাণীর দিক থেকে প্রবলতর শক্তিশালী; সঙ্গতি ও ঐকতানের দিক থেকে মন্ত্রমুগ্ধকারী এবং সূক্ষাতিসূক্ষের দিক থেকে আশ্চর্যতর।” – উস্তাদ নোমান আলী খান উস্তাদ নোমান আলী খান, যিনি স্বপ্ন দেখেন আল-কুরআন দিয়ে বিশ্বকে পরিবর্তনের, মুসলিম বিশ্বের উন্নয়নের, মুসলিম মানসের কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীবনকে দ্বীনের আলোয় গড়ার। তার আল-কুরআনের গভীর অথচ সহজে বিশ্লেষিত বিষয়গুলো নিয়েই জীবনঘনিষ্ঠ ও বর্তমান বিশ্বের আলোকে সাজানো বই “প্রশান্তির খোঁজে”। – আল-কুরআনের বাণী কতটা গভীর হতে পারে? – কতোটা জীবনঘনিষ্ঠ হতে পারে? – কতোটা কাছে টানতে পারে আল্লাহর বাণীগুলো? – আমার জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ে কীভাবে কথা বলে? – আমার সমস্যাগুলোকে কীভাবে চিহ্নিত করে সমাধান দেন প্রশান্তির পথে? এগুলো জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ইসলামের প্রথম উৎস আল-কুরআনের কাছে। সেসব কথাগুলো আমরা জানবো উস্তাদ নোমান আলী খানের আসন্ন বই “প্রশান্তির খোঁজে” থেকে ইন শাআ আল্লাহ। মোট ৭টি প্রধান ক্যাটেগরিতে ৪০টি আর্টিকেলে সমৃদ্ধ বইটি। আধ্যাত্বিক ও যৌক্তিক জ্ঞানের সমন্বেয় প্রতিটি আর্টিকেলে রয়েছে হেদায়াতের বাস্তবজীবনের আলো। – মোট পেইজঃ ২৭২ (ঈষৎ ক্রিম কালার) – মূল্যঃ ২৩০ টাকা (নির্ধারিত)। প্রকাশনায়ঃ Bookish Publisher (বুকিশ পাবলিশার) যোগাযোগঃ +8801645261821 বুক রিভিউ দেখতে পারেনঃ বুক রিভিউ – ২ খানিক পিডিএফঃ ৫২ পেইজ...

রাগ গিলে ফেলুন আর ক্ষমা করুন

আমরা রাগান্বিত হই। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে, বাসায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সহজেই স্ত্রী স্বামীর উপর, স্বামী স্ত্রীর উপর রাগ করেন। নগণ্য বিষয় আপনার ছেলেমেয়েদের উপর রাগ তৈরি করে। রাগ দমন করতে শিখুন। এমন একজন মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন, যে এসব কাজ করতে ভয় পায়। ছোট ছোট বিষয় যদি আমাদের রাগান্বিত, বিপর্যস্ত করে, তাহলে কিভাবে আমরা আল্লাহ আজ্জা ওয়াজালের কাছে আমাদের বড় বড় পাপের জন্যে ক্ষমা আশা করব? আমরা আল্লাহর কাছ থেকে আশা করি, তিনি যেন রাগান্বিত না হন। আর আমরাই কিনা ছোট ছোট বিষয়ে রাগ করি! এটা আত্মসংযম এর ঘাটতি প্রকাশ করে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জ্বাল বলেন – وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ – “যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে”। (৩:১৩৪) আর দ্বিতীয়, মুত্তাকী লোকদের পরের লক্ষণ হচ্ছে, وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ – “মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে”। খুবই কঠিন! তারা ভালোবেসে মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। গাফিরিন না! গাফিরিন না! আ’ফিন। গাফিরিন হচ্ছে যে ক্ষমা করে দেয়। কিন্তু আ’ফ মানে হচ্ছে, যে ভালোবেসে ক্ষমা করে দেয়। যখন কেউ আপনাকে কষ্ট দেয় এবং আপনি তাঁকে ক্ষমা করে দেন…. প্রথমত, বেশির ভাগ লোকই বলে যে, আমি জানি এটা অনেক সুন্দর খুতবা। আমি জানি আমার ক্ষমা করা উচিত কিন্তু আমার অবস্থা অন্যদের থেকে আলাদা। আপনি বুঝতে পারছেন না। এই লোকটি সব গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছে। সে ক্ষমার যোগ্য নয়। প্রসঙ্গক্রমে, যে ক্ষমার যোগ্য তাঁকে আপনি কখনো ক্ষমা করেন না। সংজ্ঞানুযায়ী, ক্ষমাশীলতা মানে হচ্ছে এমন কাউকে ক্ষমা করা যে এর যোগ্য নয়। এবং আপনি কাউকে তার জন্য ক্ষমা করবেন না। কেউ আপনার কাছে ক্ষমা চাইছে বা কেউ ক্ষমার যোগ্য এই জন্য আপনি কাউকে ক্ষমা করবেন না। আপনি ক্ষমা করবেন আপনার নিজের জন্য। কারণ, আপনি এই তালিকায় থাকতে চান। আপনি এমন মানুষদের মধ্যে থাকতে চান যাদেরকে মুত্তাকীন বলা...

কেন মানুষ ভালো বা মন্দ কাজ করে

যখন কেউ বলে – ‘আমি চোখ দিয়ে দেখতে পেলাম – এটা সত্য, কারণ চোখ দেখার যন্ত্র। আবার কেউ যখন বলে – ‘আমি অন্তর দিয়ে দেখতে পেলাম’ – এটাও সত্য, কারণ অন্তর হলো কমান্ডার, অন্তরই আপনাকে কোনো কিছু করতে বা না করতে আদেশ দান করে। অন্তর যদি দেখার আদেশ না দিতো আপনি দেখতে পেতেন না। উভয়টাই সত্য। কুরআন দেখার ব্যাপারটাকে কখনো চোখের সাথে আবার কখনো অন্তরের সাথে সম্বদ্ধযুক্ত করে। যেহেতু চোখ হলো দেখার যন্ত্র আর হৃদয় হলো কমান্ডার তাই আপনি দেখার বিষয়টাকে চোখ বা অন্তর যে কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারেন। এখন আসে ‘নফসের বা প্রবৃত্তির’ ব্যাপারটা। আল্লাহ মানুষের অন্তরে কিছু জিনিসের চাহিদা তৈরী করে দিয়েছেন। এই চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষাগুলো মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এই আকাঙ্ক্ষাগুলো ছাড়া আপনার জীবন অচল। যেমন – খাওয়ার ইচ্ছা, পান করার ইচ্ছা, নারী-পুরুষের মাঝে সম্পর্কের ইচ্ছা, রাগ ইত্যাদি। এই আকাঙ্ক্ষাগুলো আপনার অন্তরে স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। কেন দেয়া হয়েছে? এইগুলো দেয়ারও উদ্দেশ্য আছে। আপনার অন্তর এবং মন যেন এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারে। বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে খেতে হবে, পান করতে হবে, নারী-পুরুষের মাঝে সম্পর্ক তৈরী হতে হবে, কখনো কখনো আপনাকে রাগান্বিতও হতে হবে। মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাগুলো দরকার। কিন্তু এগুলো অন্তর এবং বুদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। সমস্যা তখনই তৈরী হয় যখন এইআকাঙ্ক্ষাগুলো এতো শক্তিশালী হয়ে উঠে যে অন্তর এগুলোর সামনে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ‘নফস’ আপনাকে আদেশ দিতে শুরু করে। যেমন কুরআনে এসেছে – إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ – ”নফস খারাপ কাজের আদেশ দান করে। ” নফস শক্তিশালী হয়ে উঠলো আর অন্তরকে দুর্বল করে ফেললো তাই আপনি খারাপ কামনা বাসনা চরিতার্থ করার পেছনে লেগে পড়েন। কামনা-বাসনা ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ছিল যতক্ষণ এগুলো অন্তরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন যেহেতু এই...
(Visited 13,743 times, 1 visits today)