রামাদান কর্ম পরিকল্পনা ৩য় পর্ব । (সমাপ্ত)

রামাদান কর্ম পরিকল্পনা ৩য় পর্ব । (সমাপ্ত)

  তারপর আল্লাহ বলেছেন, وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ যাতে তোমরা সেভাবে আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা করতে পার যেভাবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন । এখন, এটি অনেক কিছু বুঝায়, তবে আমি অন্তত একটি ব্যাপার তুলে ধরতে চাই, একটি উদাহরন দ্বারা, আমি যদি কোথাও চাকরি করি, আমি মাত্র একটি চাকরি পেয়েছি, এবং ধরুন, আমার কাজ হচ্ছে দুটা। আমাকে ফোনের উত্তর দিতে হবে এবং ইমেইলের উত্তর দিতে হবে। এটিই আমার কাজ। আমাকে আর কিছু করতে হবে না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজে-নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম, ভাল হবে যদি আমি কিছু ফটোকপির কাজ করি, ফ্রন্ট-ডেস্কে সাহায্য করি, এবং আমি আমার মূল কাজ বাদ দিয়ে এসকল এক্সট্রা কাজকর্ম করি। এবং আমার বস আমায় এসে প্রশ্ন ছুড়েন যে কেন আমি ফোনের উত্তর দিচ্ছি না। আমার উত্তর যদি হয় যে, আমি মনে করেছিলাম ওটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কি মনে করেন আমার চাকরি থাকবে? না। আমাকে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য চাকরি দেয়া হয়েছে। আমার যে সকল কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, সেগুলো আমি ঠিক করি না। সেগুলো অলরেডি আমার বস আমার জন্য ঠিক করে দিয়েছেন। আমার বস আমাকে বলেন, এটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, ওটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, উনি যেটাকে গুরুত্ব দেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ এবং যেটাকে দেন না সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিদ্ধান্ত নেন তিনি, আমি না।  আমি কেন এটি বলছি? কারন আমরা আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা করি। আল্লাহ মহিমান্বিত এবং আল্লাহ আমাদের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন যেভাবে তিনি আমাদের পথনির্দেশ দেন তার উপর ভিত্তি করে। عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ কোন কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেই সিদ্ধান্ত আপনি বা আমি নিই না। কিছু ব্যক্তিদের জন্য রমযানের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে না খেয়ে থাকা, এক মাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ (তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে)। মাঝে মাঝে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় সামাজিকতাকে, ‘আজকে আমরা কার ইফতারে যাচ্ছি?’ এটি একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ(তাদের...
রামাদান কর্মপরিকল্পনা (২য় পর্ব)

রামাদান কর্মপরিকল্পনা (২য় পর্ব)

যারা এখানে বাবা-মা আছেন, আপনাদের বাচ্চাদের আপনারা পুরস্কৃত করুন কুর’আন মুখস্ত করার জন্য এই মাসে। এখন, প্রথম কথা হচ্ছে, আপনাদের উচিৎ সুনির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যখন আপনার বাচ্চারা কুর’আন মুখস্ত করবে। এবং তারপর, মুখস্ত শেষ করার জন্য তাদের পুরস্কৃত করুন। এবং আরও ভিডিও গেমস দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করবেন না। ভাল কিছু দিন। বুঝছেন তো। তাদের ঘুরতে নিয়ে যান। ঈদে বিশেষ কিছু করুন। কিছু তো করুন। তবে আপনার সন্তানদের উৎসাহের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে আপনার। এটি না হয় ছিল শিশুদের জন্য নূন্যতম কিছু। আপনি যদি শেষ করতে পারেন, অলরেডি মুখস্ত করে ফেলেছেন, ব্যাপারটি যদি আপনার জন্য সহজ হয়, আমি একটি বাড়তি সুপারিশ করতে পারি, এটি পুরো পরিবারের জন্য, শুধুমাত্র শিশুদের জন্য নয়, এটি গোটা পরিবারের জন্য, আপনার উচিৎ দৃঢ় সংকল্প করা যে আপনি ২০টি দোয়া মুখস্ত করবেন। এবং, আমি চেষ্টা করব হ্যান্ডআউট তৈরি করতে এই সপ্তাহে যাতে করে তারা আগামি জুমু’ওয়াতে আপনাদের তা পৌঁছে দিতে পারেন, ইন শাা আল্লাহ্‌। ২০টি দোয়া। ঘরে প্রবেশ করা, ঘর থেকে বের হওয়া, মসজিদে প্রবেশ করা, মসজিদ থেকে বের হওয়া, বাথরুমের জন্য, পানাহারের জন্য, কাপড় পরিবর্তনের, শুধু ২০টি দোয়া। রমযান মাসে। জানেন তা আপনার জন্য কি করবে? তা আপনার বাকি জীবনে পরিবর্তন এনে দিবে। তো, আপনি যখন এই কাজগুলো নিয়মিত করবেন, আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আমাদের সবার কাছে দোয়ার বই-পুস্তক আছে, কিন্তু দোয়াগুলো থাকতে হবে আমাদের মাথায় এবং অন্তরে, কাগজে নয়। আপনাকে দোয়াসমূহ মুখস্ত করতে হবে। তো, পরিবারের জন্য কুরআন মুখস্ত করার প্রজেক্ট এবং দোয়াসমূহ মুখস্ত করুন যদি হাতে সময় থাকে। এটি আপনাদের সবার জন্য সত্যিকার অর্থে কল্যাণকর হবে। এখন আমি বোনদের প্রতি একটু মনোনিবেশ করতে চাই। প্রথম উপদেশ যা আপনাদের দেব তা হোল, আপনার সন্তানদের যা করতে দেবেন, আপনি নিজেও...
রামাদান কর্মপরিকল্পনা (১ম পর্ব)

রামাদান কর্মপরিকল্পনা (১ম পর্ব)

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি মনে করি আপনারা সবাই অবহিত যে রমযান মাস খুব দ্রুতই এগিয়ে আসছে। এবং এটাই উপযুক্ত সময়, আমরা যাতে আমাদের প্রত্যেকটি সুযোগকে কাজে লাগাই নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এবং যতটুকু সম্ভব নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিই এই মাসটির সম্পূর্ণ সুযোগ গ্রহণের জন্য। ক্ষমার প্রাপ্তির সুযোগ, আল্লাহ্‌র জান্নাত লাভের সুযোগ, এবং আমাদের ঈমানকে নতুন করে তরতাজা করার সুযোগ — আমরা যেন এই সুযোগগুলো কোন মতে না হারাই। আর তাই আমি মনে করেছিলাম এটি একটি উপযুক্ত সময় আমার নিজের এবং আমার পরিবারের স্মরণের জন্য এবং আপনি এবং আপনার পরিবারের স্মরণের জন্য, যে কী কী উপায়ে আমরা রমযান থেকে সবচাইতে বেশি লাভবান হতে পারি।  সেই কারনেই আমি খুৎবার শুরুতে রমযান সম্পর্কিত আয়াতটি তেলাওয়াত করেছি, এটি কুর’আনে উল্লেখিত রমযান সম্পর্কিত একমাত্র আয়াত। তবে সম্পূর্ণ আয়াতটি বর্ণনা না করে, আমি আয়াতটির শেষাংশের দিকে দৃষ্টিপাত করতে চাই। সাধারনত খুৎবার সময়টুকু হয় আধঘণ্টা বা তার কম, এবং আয়াতের শুরুর অংশ বর্ণনা করতে করতে এত সময় পেরিয়ে যায় শেষের দিকে গেলে আপনি অত মনোযোগ দিতে পারেন না, অথবা খতীবের কাছে খুব কম সময় থাকে রমযান সম্পর্কিত এই আয়াতটির শেষাংশের প্রাচুর্যটা তুলে ধরার। তাই, ইন শাা আল্লাহু তা’য়ালা, আমার আজকের খুৎবা হবে শুধুমাত্র আয়াতটির শেষের অংশ নিয়ে, সুবর্ণ এই রমযান মাস সম্পর্কিত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জালের বাণীগুলো নিয়ে। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ আপনার জন্য সহজ করতে চান, তিনি আপনার জন্য কাঠিন্য চান না”। কাউকে এটা বলাই যথেষ্ট যে ‘আমি চাই তোমার কাজগুলো সহজ হোক’, তার উপরে এটা না বললেও হয় যে ‘আমি চাই না যে তোমার কাজগুলো কঠিন হোক’ । আপনি বলতে পারেন ‘আমি চাই খাবার টা সুস্বাদু হোক’। আপনার বলতে হবে না, ‘আমি চাই না খাবার টা খেতে খারাপ হোক’। ব্যাপারটা বলা হয়ে যায় যখন আপনি বলেন,...
রামাদান প্রস্তুতি

রামাদান প্রস্তুতি

ইতিমধ্যে হয়ত আপনারা রামাদান নিয়ে নিজস্ব পরিসরে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছেন আর হয়ত নিবেন ইনশাল্লাহ। আপনাদের পরিকল্পনার কুর’আনের পার্টটিতে আমরা আপনাদের জন্য নিচের এই ভিডিও কে ভিত্তি করে একটি সহজ প্ল্যান দিচ্ছি। চাইলে অনুসরণ করতে পারেন।  একটি সুরা (সুরা জুমা) আমরা ইনশাল্লাহ মুখস্থ করব আর আর গোটা রামাদান ব্যাপী আমরা এর তাফসীর দিব (উস্তাদ নুমান আলী খানেরই) । মুখস্ত করার অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত, মুখস্থ করার জন্য একটি আয়াত অনেকবার পড়া হয়। যত পড়বেন তত সাওয়াব। আর রামাদানে তো আর বেশী সাওয়াব।  আর দ্বিতীয়ত, কুর’আন মুখস্থ করতে অনেক সময় দিতে হয়। আপনার সময়ও ভাল যাবে রামাদানে ইনশাল্লাহ।  —– —- —– —- —– —- —– —- —– —- —– —- —– —-  আলহামদুলিল্লাহ, রমজান মাস প্রায় চলেই এল। আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পরিবারের তাই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে এই সময় থেকে উপকৃত হওয়ার জন্যে। এ মাসটি হল কুরআনের মাস। আল্লাহ আযযা ওয়াযাল আমাদের এ মাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ “শাহরু রমাদান আল্লাযী উনযিলা ফী হিল কুরআন। রমজান হল সেই মাস যখন কুরআন নাযিল হয়েছে”। রমজান মাস সম্পর্কে প্রথম এটাই বলা হয়েছে। আমি অনেক বারই একথা বলেছি যে এই মাসটিকে আল্লাহ যেভাবে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তা দিয়ে আল্লাহ বুঝিয়ে দিলেন যে রমজানের এত বিশেষত্ব রয়েছে কেননা এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। আমরা ভাবি রমজান মাস মানেই যেন রোযা রাখার মাস। কিন্তু আল্লাহ বললেন এ মাস কুরআনের মাস। রোযা রাখার কথা আসলে আরও অনেক পরে বলা হয়েছে। এই লম্বা আয়তের প্রথম অংশে কেবল কুরআনেরই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। “হুদাল্লিন নাসঃ এটা মানবজাতির জন্যে পথ নির্দেশক”। “ওয়া বায়্যিনাতিম মিনাল হুদা ওয়াল ফুরক্বান…অলৌকিক নিদর্শন…সুস্পষ্ট প্রমাণ…আর সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী হল কুরআন”। কুরআনের প্রাথমিক বর্ণনাই আয়াতের শুরুতে দেওয়া হয়েছে। এই আয়াতের একটা অদ্ভূত...