কোরআন কেন মানব রচিত হতে পারে না – ৩য় পর্ব

কোরআন কেন মানব রচিত হতে পারে না – ৩য় পর্ব

আমরা কেন কোরআনে বিশ্বাস করি আরবরা ছিল ট্রেডিশনাল মানুষ, তারা যাযাবরদের মত ভ্রমন করত। যেহেতু তাদের ভূমি ছিল অনুর্বর এবং মরুভূমি আর সেকারণে ভূ-রাজনৈকিত ও অর্থনৈতিকভাবে কেউ তাদের উপর আক্রমন করত না-কারণে সেখানে কোন লাভ নেই। আরব ছিল রুমান ও ইরানিয়ান সাম্রাজ্যের মধ্যভাগে আর সেকারণে কেউ তাদের সাথে কোন সমস্যা তৈরি করত না এই ভয়ে যে এতে এই দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে ভয়াভহ যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। তারা অন্যান্য সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতো, কারণ সেখানে সম্পদ ছিল আর এসব আরবে অনুপস্থিত ছিল অনুর্বর, মরুভূমি ও উন্নত সম্পদ না থাকায়। এভাবে আরবদেরকে ততকালীন উন্নত সাম্রাজ্য শত শত বছর বিচ্ছিন্ন রেখেছিল তাদের প্রভাব থেকে। আর এইসব বিচ্ছন্নতার কারণে আরবরা ছিল তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, বাহিরের কোন প্রভাবও ছিল না। আর কেউ যখন বিচ্ছিন্ন থাকে তখন কিন্তু নিজের সাথেই কথা বলে। আর এভাবেই তাদের ভাষায় অন্যদের প্রভাব না থাকার কারণে বিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধতম হতে থাকে এবং বিশুদ্ধই থাকে। আর অন্যরাও এ ভাষা শিক্ষায় আগ্রহী ছিল না কারণ এতে পার্থিব-সম্পদগত কোন লাভ নেই! আপনারা জেনে থাকবেন যে যখন অনেকগুলো কালচার বা শক্তিশালী ক্ষমতা অন্যকে দখল করে নেয় তখন সেই স্বদেশীয় ভাষা কলুষিত হয়(যেমন বাংলা—কত ভাষার সমষ্টি ও বিকৃতি এসেছে এ ভাষায়-সেই ওলন্দাজ থেকে ইংরেজ সাম্রাজ্য পর্যন্ত) অথবা যে কোন দেশ বা অঞ্চল বৈশ্বিক বাজারে বা কসমোপলিটানে রুপান্তরিত হয় সেখানেও ভাষার ভিন্নতা দেখা যায় যেমন প্রাচীনকালের চিটাগাং(সামুদ্রিক ব্যবসায়ী কেন্দ্র ছিল) বা নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের লোকেদের ইংরেজির বেহাল অবস্থা! এভাবে একটি ভাষা যখন কোন প্রভাব ব্যতিত টিকে থাকে, সেটা বিশুদ্ধ থাকে-সেরকম ছিল আরবী ভাষা। আরবের চতুর্পার্শে কিছুই ছিল না, কেবল মরুভূমি ছাড়া। আর এজন্য তাদের কাল্পনিক চিন্তাশিলতা ছিল প্রখর(যেহেতে চতুর্পাশ্বে কিছু ছিল না তাই কল্পনার চিন্তাশক্তিই তাদের শৈল্পিক দিক ছিল)। যখন কারো চতুর্পাশ্বে কিছুই থাকে না,...
কোরআন কেন মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না – ২য় পর্ব

কোরআন কেন মানুষের সৃষ্টি হতে পারে না – ২য় পর্ব

  আমরা কেন কোর’আনে বিশ্বাস করি কোরআনের চ্যালেঞ্জ বলতে কী বুঝায়? কোরআনের চ্যালেঞ্জ ছিল ‘কোরআনের অনুরুপ কিছু নিয়ে আস’। আর এই ‘চ্যালেঞ্জ’ বলতে অনেক কিছু বুঝায়, কেবল কিছু শব্দের সমষ্টিযুক্ত বাক্য নয় যা অনেক সমালোচনাকারীরা মনে করে-এটা নিতান্তই সরল ও অবুঝ উপলব্ধি। এই চ্যালেঞ্জ অনেক কিছুই হতে পারে যেমন ১। কোরআনের সৌন্দর্যের মত সৌন্দর্যময় কিছু তৈরি করা। ২। কোরআনের মত শক্তিশালী জিনিস তৈরি করা। ৩। কোন ব্যক্তির উপর কোরআনের যে প্রভাব সেটা তৈরি করা। ৪। একটা সমাজের উপর কোরআনের যে প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, সেরূপ প্রভাব সৃষ্টি করা। অর্থাৎ এই চ্যালেঞ্জ এক ধরণের নয়, অনেক কিছুর হতে পারে। এর মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ হল– কোরআন কত বছরে অবতীর্ণ হয়েছিল? দীর্ঘ ২৩ বছরে। আর এই ২৩ বছরে কোরআন কী করেছিল আরব সমাজে? কোন ধরণের পরিবর্তন এনেছিল তাদের মাঝে? ঐতিহাসিক দৃষ্টি… কোরআন নাযিল হয়েছিল দীর্ঘ ২৩ বছরে। আর এই কোরআনের প্রভাবে কি হল সেই সমাজ ও তার মানুষের উপর, তা একবার দেখুন… ঐ সমাজ বহু ঈশ্বরবাদী সমাজ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এক আল্লাহতে ইবাদাতকারী সমাজে পরিণত হল। একটা সমাজ পূর্ণরুপে পাল্টে গেল, একেবারে পূর্ণরুপে। তাদের মধ্যে মানুষের মর্যাদায় কোন বৈষম্য রইল না …কালো, সাদা, আফ্রিকান, আরবী, অনারবী সবাই একই কাতারে নামাজ পড়তে শুরু করল। তারা ভাবত নারীরা কিছুই না, কিন্তু সেই পরিবর্তিত সমাজের নারীরাই হল সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে ‘তাকওয়া’(সদা আল্লাহর উপস্থিতির চিন্তা) শব্দটা ব্যবহৃত হয়নি একমাত্র মায়ে’দের ছাড়া। আল্লাহ মায়েদের এত মর্যাদা দিলেন! সকল গোত্র সমান হয়ে গেল।  তাদের ব্যবসা, খাওয়া-পান করার মধ্যে সীমাবদ্ধতা আসল। তারা হালাল ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু ত্যাগ করল। পিতা-মাতার সম্পর্ক কেমন হবে, সন্তানদের সাথে কেমন সম্পর্ক হবে, আত্মীয়দের সাথে কেমন সম্পর্ক হবে, বন্ধুদের সাথে কেমন হবে সম্পর্ক, অমুসলিমদের সাথে কেমন সম্পর্ক ও ব্যবহার হবে, স্বামী-স্ত্রীর...

কুর’আন কি এই যুগে অচল?

●| প্রশ্নঃঐসব লোকদেরকে আপনি কী বলবেন, যারা বলে, কুর’আন একটি আদি আমলের বই যার কিনা আধুনিক যুগে কোনো দরকার নেই ? ●| উত্তর দিচ্ছেন নুমান আলী খানঃ আমি আপনাদের সাধারণ কোন উত্তর দিচ্ছি না বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দিচ্ছি। যখন আমি কলেজে ছিলাম, একটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ২ বছর আমি নাস্তিক ছিলাম, ২ বছর! একদম পরিপূর্ণ, নিখাদ নাস্তিকতা। ফিলোসফি (দর্শন) নিয়ে আমি একদম ডুবে ছিলাম। আর আপনি জানেন কেন তরুনরা ফিলোসফিপড়ে? কারণ তাদের ধর্মের প্রতি এলারজী আছে। এটাই হল ভিতরকার কাহিনী। তারা দর্শন পড়ে যাতে করে তারা আরও হাতিয়ার পায়, যা দিয়ে তারা আক্রমণ করে সেই সব মানুষকে, যারা কোনো একটা ধর্ম অনুসরন করে। ধর্ম নিয়ে আমার নিজের যত দার্শনিক সমালোচনা ছিল, সবগুলোই ধ্বংস করে দিয়েছে কুর’আন। সবগুলোই। আমার আর কিছুই বাকি ছিল না। একটাও না। যখন কেউ বলে কুর’আন হল আদি আমলের, এবং তা আমাদের সময়ের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান দেয় না তাদের প্রতি আমার একমাত্র জবাব হল, আপনি কুর’আন পড়েননি। এটাই আমার একমাত্র জবাব। আপনি পড়েননি। আপনি জানেন না এটি কী বলছে। অথবা, আপনি মনে করছেন যে, আপনি পড়েছেন। যেমন, আমার এক পাদ্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, যে আমাকে বলছিল, “আমি কুর’আন পড়েছি।” আমি বললাম, “না আপনি পড়েননি। এটা কি আপনি পড়েছিলেন?” “এই অংশটা কি আপনি পড়েছিলেন? না, আপনি পড়েননি।” সে আমাকে বলছিল, “কুরআনে কোথাও বলা নেই যে গড হল ভালোবাসার প্রতীক। আমাদের কাছে গড হল ভালোবাসা।” তাই?? “ওয়া হুয়া গফুরুল ওয়াদুদ”- সুরাতুল বুরুজ। যে তিনি ক্ষমাশীল, স্নেহময়, যিনি অত্যাধিক ভালোবাসেন। আর সে হেটে চলে গেল… কী পড়েছেন আপনি! সত্যি আমার আর কোনো জবাব নেই যে, আপনি কুরআনকে কোনো সুযোগ দেননি। আপনি অন্যান্য ধর্মের সাথে একে মিশিয়ে ফেলেছেন, যাতে লোকাচার আছে, কল্পনা আছে, আছে কুসংস্কার। আর আপনি...