সূরা ফাতিহা – ৬ষ্ঠ-৯ম পর্ব

এখন আল-আলামিন শব্দটি নিয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা বলব।

এর অনুবাদ কিভাবে হবে? রব্বিল আলামিন? কেউ কি জানেন? জোরে বলুন। জগৎসমূহের প্রভু। এই জগৎ সমূহ শব্দের সমস্যাটা হচ্ছে- এটা আল-আলামিনের খুব একটা ভালো অনুবাদ নয়। জগৎ সমূহ বো্ঝাতে যে আরবি শব্দ ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে আল আওয়ালিম। আল আওয়ালিম। কিন্তু শব্দটা এখানে, আল-আলামিন। আপনাদের সাথে আমি খুব বেশি টেকনিক্যাল হচ্ছি না। কারণ, আমি যদি আপনাদের সাথে টেকনিক্যাল হই, তাহলে পালাতে গিয়ে পার্কিং-এ এক্সিডেন্ট ঘটবে তাই, আমি ব্যাপারটাকে খুব সহজ রাখব। আলামিন মানে হচ্ছে মানুষ আছে এমন পৃথিবী/ জগৎ। মানুষের জগৎ। আল্লাহ এখানে যা বোঝাচ্ছেন তা হচ্ছে, ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্ম ও জাতি। এটাই আলামিন। একারণেই আল্লাহ বানী ইসরাঈলদের বলেছেন, আন্নি ফাদ্দালতুকুম আলা….. আল-আলামিন। আমি তোমাদেরকে সম্মানিত করেছি অন্য সকল জাতির উপর। প্রতিটি জাতিকেই একটা পৃথিবী বলা হয়েছে ব্যাপারটা সত্যিই চমৎকার! প্রতিটা প্রজন্মকেও আলাদা আলাদা জগৎ বলা হয়েছে। যদি আপনি কখনো প্রবীন কারো সাথে কথা বলেন, যার বয়স ধরুণ ৭০ কিংবা ৮০ “আপনি যখন ছোট ছিলেন, তখন মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?” আর তখন তিনি বলা শুরু করবেন, “ওহ! সেটা এক ভিন্ন জগৎ” এমনটা শুনেছেন না? তখন এটা এক ভিন্ন জগৎ ছিল। আমরা এখানে এসেছি মাত্র। আমরা মালয়েশিয়া এসেছি। আমরা সিংগাপুরে এসেছি। আমরা তাকাই আর মনে হয়, “এ এক অন্য দুনিয়া”। এমন একটা দুনিয়া যার ব্যাপারে আমরা জানতাম না। এমন একটা দুনিয়া যা আমাদের চেনা নয়। আমরা এটাকে অন্য একটা দেশ মনে করছি না। আমরা মনে করছি যেন তা এক অন্য জগৎ যেমন ধরুন যুক্তরাষ্ট্রের কথা। আমি বেশিরভাগ সময় নিউইয়র্কেই থেকেছি। আর, নিউইয়র্কে আপনি মানুষজনকে হাই বলেন না। একটা কথা, যদি কখনো নিউইয়র্কে যান, কাউকে হাই বলতে যাবেন না। ঠিক আছে… ব্যাপারটা খুব একটা ভালো হবে না। কেউ আপনার কাছে এসে বলল, “হেই! কেমন চলছে?” আপনার উচিৎ একটা পেপার স্প্রে বের করা অথবা দৌড়ে পালানো। হ্যালো বলতে যাবেন না। কিন্তু আবার, আমি যখন জর্জিয়ার এটলান্টাতে আমার বোনের কাছে গিয়েছিলাম। তখন সবাই বলছিল, “হেই! কেমন চলছে? শুভ সকাল।” কিন্তু ব্যাপারটা হল, তারা এমনই। এ এক অন্য দুনিয়া। আমি ক্যালিফোর্নিয়াতে গেলাম, আর দেখলাম রাস্তাঘাট খুব পরিষ্কার। আমি এতে অভ্যস্ত নই। আমি নিউ ইয়র্কে থাকি। সেখানের পাম গাছ আর হাস্যজ্জোল মানুষগুলো। সবই অন্য রকম। সেই জায়গার সবকিছুই এলোমেলো লাগছিল। আমি আমার স্ত্রীকে কল করলাম আর বললাম, এ এক অন্য দুনিয়া! আমি এর কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। এই “জগৎসমূহ”- ধারণাটার অর্থ হচ্ছে ভিন্ন সংস্কৃতি। তারা ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা। আর আল্লাহ বলছেন, “যে সভ্যতারই হোক, যে সংস্কৃতিরই হোক, আমি তাদের সকলের প্রভু” আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। এই আয়াতে আল্লাহ আরও বোঝাচ্ছেন, আল্লাহই হচ্ছেন এসব বিচিত্র সংস্কৃতির স্রষ্টা। আল্লাহই হচ্ছেন এসব বিচিত্র সভ্যতার স্রষ্টা। আল্লাহ হচ্ছেন এই বিচিত্র ভাষার সৃষ্টিকর্তা। আর তিনিই হচ্ছেন এসব কিছুর প্রভু। তাই, আপনাকে বাকিদের মত হতে হবে না। আপনি আপনার স্বকীয়তা বজায় রাখুন, তাতেই হবে। ইসলাম আমাদের বলে না যে আরবদের মত হতে বা আরব হতে। ইসলাম এমনটা চায় না। ইসলাম প্রতিটা সংস্কৃতির প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। কারণ আল্লাহ বলছেন, তিনি কেবলই একটা আলাম এর রব নন। বরং তিনি রব— আল আলামিনের। (জগত সমূহের)। আল্লাহ আমাদের সত্যপথের সন্ধান দিয়েছেন। তাই, যতক্ষণ আপনি সত্যপথের উপর থাকছেন, ততক্ষন আপনি সুখী হতে পারবেন ,তা যে সংস্কৃতিই হোক। যে সমাজই হোক কিংবা যে ভাষারই হন না কেন। তারা সকলই আল্লাহর কাছে সম্মানিত। চমৎকার ব্যাপার। রব্বিল আলামিন।

রব্বিল আলামিনের আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমরা সবাই তাঁর দাস। তার মানে আমাদের সকলের মর্যাদা একই। আর এর অর্থ দাঁড়ায়, কোন জাতিই অন্য জাতির উপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার নয়। যদি সবাই তা জানতো, আমাদের আন্তর্জাতিক রাজনীতি ভিন্ন রকম হত। যদি বিশ্ব রব্বিল আলামিনকে জানতো। যে, সম্মান প্রত্যেক জাতিরই প্রাপ্য সম্মান প্রত্যেক মানুষেরই প্রাপ্য। এই সকল কারণেই, যিনি এসব কিছুকে একত্রিত করেন, তিনিই রব। যিনি সব কিছুর দেখাশোনা করেন, তাদের সবাইকে পুরষ্কৃত করেন আবার সকলের উপর কর্তৃত্ব তাঁরই। তাহলে কেন তাদেরকে একে অন্যের সাথে ক্ষমতার জন্য লড়াই করতে হবে? এটাই তো… কি চমৎকার! শুধু আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। শুধু এটুকুই। এখন, তিনি যেহেতু নিজেকে রব্বিল আলামিন বলেছেন– পরবর্তী অংশটা কি আসছে? পরেরটা কি? আর রাহমানির রাহিম ওহ! প্রস্তুত থাকেন, এই অংশ শেষে আমি আপনাদের ২ মিনিটের বিরতি দেব কারণ আপনাদের এগুলো প্রসেস করতে হবে। হয়ত আপনার আরও প্রয়োজন পড়বে একটু আড়মোড়া ভাঙ্গার এবং কাউকে ঘুষি মারার। আমি ঠিক জানি না। কিন্তু আমি ১০-১৫ মিনিট বলব এবং এরপর আপনাদের একটা শর্ট ব্রেক দিব। পালিয়ে যাবার জন্য নয়। আপনি আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে কান্না করবেন আর বিদেশে কয়েকটা কল করবেন। যা খুশি করবেন, তারপর আমি আবার শুরু করব।

কিন্তু, আর রহমান আর রাহিম এর প্রতি মনোনিবেশ করুন। এর অনুবাদ কি করা হয়? সবাই জোরে বলুন প্লিজ। জোরে বলুন। এর অনুবাদ কি? দয়ালু, দয়ালু? পরম করুনাময়, অতি দয়ালু? কল্যানময় ও দয়ালু? পরম করুনাময় ও স্নেহশীল? করুণাময় ও কল্যাণময়? এই শব্দগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করা খুবই কঠিন। ইংরেজীতে ইংরেজীতে। কল্যাণময় কথা বার্তায় আমরা কখন কল্যাণময় শব্দটা ব্যবহার করি? আপনি কি আসলেই কখনো কারো সাথে কথা বলার সময় এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন? ধরুণ কেউ আপনাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করলো। (আপনি বললেন,) “তুমি খুবই কল্যানময়” বলেছেন কখনো এমন? আপনারা এমনটা করেন না। যদি কেউ স্বভাবতই এমন করে থাকেন, তবে অনুষ্ঠান শেষে আমার সাথে দেখা করবেন। আমার কিছু পরিচিত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হল অনুবাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা যেন কথাটা বুঝতে পারি। কিন্তু, আমরা যদি অনুবাদে এমন কিছু ব্যবহার করে বসি যা আমরা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারই করি না যা আমাদের বোধগম্য নয়, তবে তাতে অনুবাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। আপনার প্রয়োজন নেই অবাস্তব শব্দে অনুবাদ করার। আপনার এমনভাবে অনুবাদ করতে হবে যা মূল কথার সাথে প্রাসঙ্গিক এবং আপনার জন্যেও বোধগম্য হয়। তখনই অনুবাদ অর্থবহ হবে। যা হোক, আর রাহমান আর রাহিম নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। শব্দ দুটিই রাহম শব্দের সাথে সম্পর্কিত। শব্দগুলো রাহম শব্দের সাথে সম্পর্কিত। এগুলোই ছিল আমার মালয়শিয়ায় আলোচনার বিষয়। কিন্তু, আমি শুধু ২-১টা বিষয় নিয়ে পূনরায় বলব। রাহম কথাটার অর্থ হচ্ছে… যার অর্থ দাঁড়ায়, গভীরতম ভালোবাসা। যত্ন, উদ্বেগ, ও দয়া। দয়া হচ্ছে এর সবশেষ অংশ। প্রথম অংশ না। ভালোবাসা হচ্ছে প্রথম অংশ। প্রথমে যত্ন। উদ্বেগ। আর তার পর হচ্ছে দয়া। এটাই আর-রাহমান। এটাই হচ্ছে রাহমা। যখন আমরা আল্লাহকে আর-রাহমান ডাকি, আমরা তখন স্বীকার করি যে, আল্লাহ আমাদেরকে ভালোবাসেন। আল্লাহ আমাদের যত্ন করেন। আমাদের ব্যাপারে তিনি উদ্বিগ্ন। এবং তিনি আমাদের প্রতি দয়া দেখাবেন। এই স্বীকৃতিটা রা-হা-মীম সম্বলিত যে কোন শব্দের ভেতরেই আছে। আল্লাহ হচ্ছেন রাহীম। আল্লাহ রাহমান। আল্লাহ রাহীম।

কিন্তু এই আর রাহমান এবং আর রাহীমের পার্থক্য কি? এই পার্থক্যের মধ্যেই একটা সৌন্দর্য্যমন্ডিত দিক রয়েছে। আপনি আল্লাহকে এক অসাধারণ রূপে চিনবেন। আল্লাহ নিজেকে প্রভু বলেছেন, বলেন নি? রাব্ব, প্রভু? এবং আমি আপনাদেরকে এর ভিন্ন ভিন্ন অর্থ জানালাম। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে প্রভু। এখন, আপনার যখন একজন প্রভু আছেন, তাঁর আপনার উপর কর্তৃত্বও রয়েছে। আর যখনই আপনি কর্তৃত্বের কথা ভাবেন, আপনি কখনোই ভালোবাসার কথা ভাবেন না। আপনি ভাবেন না। আল্লাহ আমাদেরকে সরাসরি বলছেন, “আমি অন্য ধরণের প্রভু।” আপনি আর কোন প্রভু পাবেন না, যাদেরকে বর্ণনা করা যাবে আর রাহমান এবং আর রাহিম দিয়ে। আপনি আর কোন ধরণের প্রভু খুঁজে পাবেন না, যারা আপনাকে ভালোবাসা দেবে। কি করতে হবে তারা সেটা বলবে। আপনাকে শাস্তি দিবে। কাজ করতে বাধ্য করবে। তারা হয়ত মাঝে মধ্যে আপনার দেখাশোনা করবে। কিন্তু, তারা কখনোই আপনাকে ভালোবাসা দিবে না। তারা নিজেরা নিজেদের ভালোবাসবে। সব প্রভুরা এমনই করে। কিন্তু এই প্রভু শুরুই করেন ভালোবাসা দিয়ে। এখন, ২টি নাম আছে। দুটোই ভালোবাসা ও দয়ার কথা বলে। আর রহমান এবং? আর রাহিম। কিন্তু, এই দুয়ের মাঝে পার্থক্য কি? আবার। আমি খুব বেশি টেকনিক্যাললি বলবো না। কিন্তু আশা করবো আপনারা মনে রাখবেন। পরে আমি আপনাদের পরীক্ষা নিব। আর আপনারা যদি ভালো উত্তর না করতে পারেন, আমি ধরবো না। আর রাহমান ৩টি জিনিস করেন। আমি চাইবো আপনারা মনে রাখবেন, আর রহমানের মধ্যে থাকা এই ৩টা মূলভাব যা এর বানানের কারণে প্রকাশিত হচ্ছে। প্রথমটা হচ্ছে, এটা চরম। এটা চরম পরিমাণ। এটা ধারণার বাইরে। এটাই প্রথম। চরম পরিমাণ এবং ধারণার বাইরে। এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ শুধু প্রেমময়ই নন, তিনি কি? চরম পরিমাণ স্নেহশীল, যা ধারণার বাইরে। তাই, আল্লাহর কাছে যাই আশা করবেন, তাঁর ভালোবাসা আর দয়া থেকে, মনে রাখবেন (তাঁর ভালোবাসা ও দয়া) আপনার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। এটাই প্রথম অর্থ। আর-রহমানের দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে এমন কিছু যা সাথে খুব তাড়াতাড়ি ঘটে। আপনাকে এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এটা সাথে সাথেই ঘটে। যদি ইংরেজীর কথা চিন্তা করেন, এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য কি?– কেউ ধৈর্য্যশীল এবং কেউ ধৈর্য্য ধরছেন? আমি আবার বলবো, ধৈর্য্যশীল এবং ধৈর্য্য ধরছেন এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটা এই মূহুর্তের ধৈর্য্যকে প্রকাশ করছে? ধৈর্য্য ধরছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমি আমার স্ত্রীর কথাই বলি, সে ধৈর্য্যশীল। সে ধৈর্য্যশীল। আমি জানিনা সে এখন খেপে যাচ্ছে কি না। আমি জানি না। কিন্তু যদি আমি বলি, সে এখন ধৈর্য্য ধরছে, আমি তার কোন সময়টার কথা বলছি? এই মুহূর্তের। বুঝতে পারছেন? আর রাহমান সাধারণভাবে হচ্ছে এমন কিছু না। কিন্তু…? এক্ষুণি। অন্যভাবে, আর রাহমান এর মাধ্যমে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহর ভালোবাসা দেখার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না। কিংবা তাঁর যত্ন, অথবা দয়া। এটা আসলে এখনই প্রকাশ পাচ্ছে এর চূড়ান্ত রুপে, কখন? এখনই। আর তৃতীয় অংশ। তাহলে প্রথম অংশ হচ্ছে চরম এবং দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে এখনই।

এখন বলা যাক এর অর্থের তৃতীয় অংশ। ইয়া আল্লাহ। এই অর্থের তৃতীয় অংশ আপনার জন্যে গ্রহণ করা কঠিন, যখন আপনি এটা প্রথম শুনবেন। শুনতে ভুল শোনায়। কিন্তু এটা আসলে সঠিক। এটা অস্থায়ী। অস্থায়ী। আরবি ভাষায় এই ঘরানার প্রতিটি শব্দ অস্থায়ী। ‘গদবান’ মানে চূড়ান্ত রকমের রাগান্বিত। কিন্তু আপনার এই রাগ অবশেষে শান্ত হয়ে যায়। কিছু বোনেরা বলে থাকেন, “না, আমার স্বামী না।” এটা সবসময় একই। কিন্তু গদবান মানে আপনি চরম রাগান্বিত এবং অবশেষে শান্ত হয়ে যান। ‘আতশান’ মানে আপনি চরম তৃষ্ণার্ত কিন্তু অবশেষে আপনি পানি পান করেন এবং আপনি স্বাভাবিক হয়ে যান। জাও’আন মানে আপনি চরম ক্ষুধার্ত কিন্তু আপনি খান এবং ঠিক হয়ে যান। বুঝতে পেরেছেন? তাই যখন আপনি আরবিতে শেষে আন যোগ করেন, এটা চরম/প্রচণ্ড বোঝায়, ঠিক এই মুহূর্তে। কিন্তু এটা নয়–কী? এটা স্থায়ী নয়। কিন্তু শুধু এটুকুই বলা যথেষ্ট না যে এটা অস্থায়ী। আরও একটা জিনিস আছে। এটা অস্থায়ী কারণ কোনো একটা কিছু এটাকে দূরে সরিয়ে নেয়। কী তৃষ্ণা দূর করে? পানীয়। কী ক্ষুধা দূর করে? খাবার। কী রাগ দূর করে? একটা থাপ্পড়। অর্থাৎ, কিছু একটা এটা দূর করে। বুঝতে পেরেছেন? কিন্তু তারপর আপনি জানেন আমরা কী বলছি? আমরা বলছি, আল্লাহর ভালোবাসা প্রচণ্ড, এটা প্রত্যাশাতীত। আল্লাহর ভালোবাসা এবং দয়া ঠিক এই মুহূর্তেও আসছে, কিন্তু গুলিয়ে ফেলবেন না। কারণ আপনি যদি খুবই খারাপ একটা কিছু করেন, তবে আপনি এই ভালোবাসা থেকে বিচ্যুতও হয়ে যেতে পারেন। কারণ এটা সরিয়ে নেয়া হতে পারে। আমরা বলব কীভাবে এটা সরিয়ে নেয়া হতে পারে, কিন্তু আমরা এটা এখনকার মত বাদ দেব। এটাই হচ্ছে আর-রহমান। আল্লাহর পরবর্তী নাম কী? আর-রহীম। আর-রহীম সম্পর্কে আপনার দুটো জিনিস মনে রাখতে হবে। কিন্তু আমি আর-রহীমে যাবার আগে, এখন একটা পরীক্ষা নেয়া হবে। আর-রহমানের প্রথম গুণ কী ছিল? এটা চরম/ প্রচণ্ড। খুব ভালো। দুই নাম্বারটা? ঠিক এই মুহূর্তে। তিন নাম্বারটা? অস্থায়ী।

এখন দুটো গুণ। এ ক্ষেত্রে আর রাহমানের তুলনায় কম সংখ্যক বিষয় মনে রাখতে হবে। ইসমে সিফাহ। আর-রহীম। প্রথম গুণটি হচ্ছে: তা হচ্ছে স্থায়ী। আর-রহীমের প্রথম গুণটি হল, যেকোনো কিছু যেটা রহীমের মতো শোনায়, তা স্থায়ী। এটা কি আর-রহমানের থেকে আলাদা? হ্যাঁ এটা, হুহ? আর-রহীমের দ্বিতীয় গুণটি হচ্ছে ” ঠিক এই মুহূর্তেই হতে হবে তা আবশ্যকীয় নয়।” আর-রহীমের দুটো গুণ আছে। ১: এটা স্থায়ী ২: ঠিক এই মুহূর্তেই হতে হবে তা আবশ্যকীয় নয়। উদাহরণস্বরূপ। যখন আমি বলি আমার শিক্ষক দয়ালু। আমার শিক্ষক হচ্ছেন –? দয়ালু। অথবা আপনি যদি বলেন, “আমার মা স্নেহময়ী।” এটা একটা দীর্ঘকালীন গুণ, তাই না? কিন্তু এটা কি তা বোঝাচ্ছে যে তিনি ঠিক এ মুহূর্তেই স্নেহময়ী? ঠিক এই মুহূর্তেই তা আবশ্যকীয় নয়। বুঝতে পেরছেন? ঠিক আছে। এখন এটা সম্পর্কে ভাবুন। যদি আল্লাহ শুধু আর-রহমান বলতেন, তাহলে আল্লাহর ভালোবাসা আর দয়া হতো প্রচণ্ড/চরম আর এটা হতো ঠিক এ মুহূর্তেই, কিন্তু এটা হতো না–? এটা স্থায়ী হতো না। যদি আল্লাহ শুধু আর-রহীম বলতেন, আল্লাহর ভালোবাসা এবং দয়া স্থায়ী হতো। কিন্তু এটা হতো না চরম/প্রচণ্ড, এবং এটা ঠিক এ মুহূর্তেই হতে হবে তাও আবশ্যকীয় নয়। কীভাবে আমি বলতে পারি আমি আল্লাহর ভালোবাসা আর দয়া সম্পর্কে যা চরম/প্রচণ্ড যা ঠিক এই মুহূর্তেই হচ্ছে এবং যা স্থায়ী সবগুলো ঠিক একই সময়ে। তার কেবলমাত্র একটাই উপায় হচ্ছে আর-রহমান আর-রহীম। সুবহানআল্লাহ! এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দে আপনি আল্লাহর ভালোবাসা এবং দয়া সম্পর্কে বলতে পারবেন না। আর-রাহমান আর রাহিম ছাড়া। কিন্তু এটা এখন পর্যন্ত এই প্রশ্নটির উত্তর দেয় না, কেন আর-রহমান প্রথমে? কেন আর-রহীম দ্বিতীয়? দয়া করে এটা সতর্কতার সাথে শুনুন। আপনি কাজে আছেন। আপনি সপ্তাহের কোনদিন বেতন পান? আপনি কোনদিন আপনার বেতনের চেক পান এখন এখানে? হুহ? মাসের শুরুতে? ঠিক আছে, তো এখন মাসের শুরু। এবং আপনার বস অফিসে নেই, আর আপনার অফিস ত্যাগ করার কথা ৫টায়। ইতোমধ্যে ৪:৪৫ বেজে গেছে, আর আপনি এখনও বেতনের চেক পাননি। আর আপনার বেতনের চেকটা দরকার, কারণ আপনি যে জুতোগুলো দেখে এসেছিলেন তা আপনার কিনতে হবে। তো আপনার বেতনের চেকটা দরকার। আর আপনি মরিয়া হয়ে উঠছেন। ইতোমধ্যে ৪:৪৫ বেজে গেছে। আর আপনার বস সেখানে নেই। আর আপনার সহকর্মী বলছেন, “দুশ্চিন্তা করো না, তিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি আসবেন এখানে। শান্ত হও।” এখন ৪:৪৮ বাজে। আর আপনার সহকর্মী বলছে, “দুশ্চিন্তা কোরো না, তিনি আসবেন এখানে। তিনি নির্ভরযোগ্য তিনি নির্ভরযোগ্য। ” আর আপনি অনেকটা এরকম, “আমি জানি তিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি যদি ঠিক এ মুহুর্তে নির্ভরযোগ্য হতেন! আমাকে বোলো না তিনি দায়িত্ববান, নির্ভরযোগ্য, ভালো। আমি এটা শুনতে চাই না! কারণ এটা তার গুণ। কিন্তু এটা প্রয়োজনীয়ভাবে এখন হচ্ছে না।” যখন আমি বিপদে পড়ি, আমার সাহায্য দরকার হয়-কখন? ঠিক সেই মুহূর্তেই। তো আপনি আল্লাহর সেই নামটি চান যা আপনাকে সাহায্য দেবে, কখন? প্রথমে ঠিক এই মুহূর্তে, আর তারপর আপনি অন্য নামটি চান। অন্য নামটি যা আপনার ভবিষ্যতের তত্ত্বাবধান করবে। যখন আল্লাহ বলেন আর-রহীম, এটা স্থায়ী, ঠিক? যা ভবিষ্যতের একটা নিশ্চয়তা।

কিন্তু আল্লাহ যখন বলেন আর-রহমান, এটা তাৎক্ষণিক। এটা আপনার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের তত্ত্বাবধান করছে। আমি আপনাকে আরেকটা উদাহরণ দেব। আপনি বাসায় যাবেন, আপনি সত্যিই অনেক ক্ষুধার্ত। স্বামীরা ক্ষুধার্ত, তাদের অনেক ক্ষুধা পায়। আপনি জানেন, আপনি ট্রাফিক জ্যামে আটকা পরবেন। কেউ আপনার গাড়িকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল, আপনি জানেন, রাস্তায়। আপনি সত্যিকার অর্থেই হতাশ। শেষমেশ আপনি অবশ্য বাসায় ফিরলেন। আপনার স্ত্রী কোনোভাবে, আমি জানি না কীভাবে, তিনি সব ট্যাফিক জ্যাম এড়িয়ে বাসায় আগে এসেছেন। তিনি আপনার জন্যে একটা চমৎকার নৈশভোজ এবং সবকিছুর আয়োজন করেছেন আগে এসে। আর আপনি জানেন, তিনি নৈশভোজ তৈরি করেছেন, কিন্তু এখনও তিনি সেটা বেড়ে দেননি। কিন্তু আপনি খুব, খুবই ক্ষুধার্ত আর আপনি বাসায় ফিরেছেন। আর আপনার স্ত্রী বললেন, ” তো আগামী সপ্তাহে তুমি কী খেতে চাও?” এটা হলে আপনি কি বলবেন? “মহিলা! আমি পরবর্তী সপ্তাহের আমি পরোয়া করি না! আমাকে এখন খেতে দাও!” যখন আপনি ক্ষুধার্ত, একমাত্র জিনিস আপনি কী ভাবতে পারেন? ঠিক এখন। প্রসঙ্গত, যখন আপনার ঠিক এখনকার চাহিদাটা পূরণ হয়ে যাবে, যখন আপনার খাওয়া-দাওয়া শেষ হবে, ঢেঁকুর তুলবেন আর বলবেন আহ। “তো পরবর্তী সপ্তাহে আমরা কী খাচ্ছি?’ আপনি যখন এ মাসের ভাড়াটা পরিশোধ করে ফেলেন, আপনি কী নিয়ে ভাবা শুরু করেন? পরের মাসের ভাড়া নিয়ে। যখন আপনি এই সেমিস্টারের ফিসটা পরিশোধ করে ফেলেন, আপনি কী নিয়ে ভাবা শুরু করেন? পরবর্তী সেমিস্টারের ফিস নিয়ে। আপনারা বুঝতে পেরেছেন? সুতরাং আমরা শুধুমাত্র তখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবি যখন আমাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো পূরণ হয়ে যায়। আল্লাহ বোঝেন আমরা কে। তাই আল্লাহ আর-রহমান বলেন, ” এখানে, আমি তাৎক্ষণিক বিষয়ের তত্ত্বাবধান করি। কিন্তু যখন তোমার তাৎক্ষণিক বিষয়ের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, তোমার মন কোথায় যায়? ভবিষ্যতের দিকে।” আবার তিনি বলেন, “আর-রহীম। আমি তোমার ভবিষ্যৎও তত্ত্বাবধান করব।” আর-রহমান আর-রহীম। সুবহানআল্লাহ। আর এখন আর-রহমান আর-রহীমে। যখন ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, কী প্রতিভাধর… তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “এটা দ্বারা কী বোঝায়?” তিনি বলেছিলেন, “আর-রহমান হচ্ছে এই পৃথিবীর জন্যে আর আর-রহীম হচ্ছে মুসলিমদের জন্যে পরকালে।” তিনি শুধু একটা সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছেন। “আর-রহমান এই পৃথিবীর জন্যে আর আর-রহীম পরকালের জন্যে।” আর আপনি বুঝতে পারেন এই মানুষটির প্রতিভা সম্পর্কে। কারণ তিনি কিছু একটা দেখেছিলেন। তিনি এই পৃথিবীটাকে অস্থায়ী হিসেবে দেখেছিলেন। আর কোন নামটি অস্থায়ী? আর-রহমান আর তিনি একটা নামকে স্থায়ী হিসেবে দেখেছিলেন, কোন জীবনটা স্থায়ী? আর-রাহিম। পরকাল। সুবহানআল্লাহ। তিনি একদম যথার্থরূপে এটা বুঝেছিলেন। সাহাবারা যথার্থ বুঝেছিল। আর আমাকে এটা আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে ২৫ মিনিট লেগেছে। কিন্তু তারা যথার্থরূপে এটা দেখেছিলেন। তাদের লম্বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল না। আর-রহমান, আর-রহিমের। আমি আপনাদের দুমিনিটের বিরতির প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তো আমি আপনাদের এখন সেটা দিচ্ছি। আমি গুনছি। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনছি। এগিয়ে আসবেন না আর ছবি তুলতে চাইবেন না। এখন না। কারণ এখন আমরা থামব না, আর এরপরে এসব কাজ করার সুযোগ পাব। আমাদের অনেককিছু শেষ করা লাগবে। আমরা এখন পর্যন্ত কেবল আর-রহমান আর-রহিম পর্যন্ত এসেছি। আপনারা ঠিক আছেন তো? ঠিক আছে এখন আড়মোড়া ভাঙুন এবং যা করার করুন। সিঙ্গাপুরে। দুমিনিট সময় নিন

(৭ম পর্ব)

আপনাদের বিরতি কেমন ছিল? লম্বা আর প্রসারিত। বিসমিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু ‘আলা রসূলিল্লাহ ওয়া ‘আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি আজমা’ঈন। সুম্মা ‘আম্মা বা’দ। আমরা কী নিয়ে শেষে কথা বলছিলাম? আর-রাহমান, আর-রাহীম। চলুন আরেকটু আগাই। আমার কর্মজীবনের একটা হাস্যকর উদাহরণ দেই। আমি কী শিখাতাম? বলেছিলাম না? ছোটদের স্কুলে? জানেন, যেই স্কুলে আমি কাজ শুরু করেছিলাম, সেখানে আমি সবচেয়ে অল্পবয়স্ক টিচার ছিলাম। অন্য সব টিচার আনটিরা আমার থেকে বয়সে অনেক বড় ছিলেন। আর তারা বাচ্চাদের সাথে খুব শক্ত আচরণ করতেন। তারা এমন ছিলেন যে, তারা ক্লাসে ঢুকলে বাচ্চাদের মনে আল্লাহর ভয় ঢুকিয়ে দিতেন। বুঝলেন? এখন, আমি তো হাস্যরসপ্রিয় একজন মানুষ। তো, যখন আমি টিচার হিসেবে চাকরিটা পেলাম, প্রথম দিন আমরা ক্লাস শুরু করলাম, আর আমি তাদের জোক শুনাচ্ছি, আজগুবি খেলা দেখাচ্ছি, যেমন, এক কানে পেন্সিল ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করা। এই ধরণের দুষ্টুমি। তাদের গল্প শুনানো, ইত্যাদি। প্রথম দিন, আমার এখনও মনে আছে, যখন আমি ক্লাস থেকে চলে যাচ্ছিলাম, সবাই বলে উঠলো, “না, আপনি যাবেন না!” আর আমি ভেবেছিলাম যে তারা আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু আসলে কারণ হচ্ছে আনটি আসছিলেন। তাও। তারা আমার ক্লাস খুবই পছন্দ করতো, কারণ আমি তাদের সাথে এতো দুষ্টুমি করছিলাম।

আমি ভাবতাম, এই টিচাররা এতো জাঁদরেল কেন? বাচ্চাদের ক্লাসে ভালো সময় কাটানোকে তারা কেন এতো কঠিন করে তুলেন? তারা কেন বাচ্চাদের বন্ধু হতে পারে না? এরপর অন্য অভিজ্ঞ টিচাররা আমাকে জিজ্ঞেস করলো,” আজকে আপনার ক্লাস কেমন হল?” আমি বললাম, আমরা এতো মজা করেছি! আমরা হেসেছি খেলেছি …” তারা বললেন, “আপনি কি কিছু পড়িয়েছেন?” “না না, পড়াশোনা পরে করবো। প্রথমে আমি তাদের বন্ধু হতে চাই।” আর তারা সবাই বলল, “হাহা! আর তারা সবাই বলল, “হাহা! পরে বুঝবেন।” কেমন ব্যঙ্গ করে বললেন। আর আমি তো ভাবছি, আরে নাহ! এরকম কখনই হবে না। তারপর কিছুদিন পর। আমি আবারও ক্লাসে ঢুকলাম, আর আমি ওদের পড়াতে লাগলাম। কিন্তু ওরা কেউ তো আর চেয়ারে বসে থাকতে চায় না! “আমাদের গল্প বল! ওই কানের সেই খেলাটা দেখাও! ” আর তারা মারামারি করছে, একজন আরেকজনের পেন্সিল নিয়ে নিচ্ছে, আঁকাআঁকি করছে। আরেক জন তো, আমার এখনও মনে আছে, পিছনের দেয়ালে গিয়ে নিজের নাম লিখছে, তাও আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে! ওর বন্ধু ওকে বলে, “আমার মনে হয় উনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছে।” আর সেই ছেলে বলে, “আরে কিচ্ছু হবে না! উনি খুব ভালো মানুষ!” আর সে লিখেই চলল! তখন আমি একটা জিনিস বুঝতে পারলাম। যখন আপনি শুধুই ভালোবাসা, দয়া, ভালোবাসা আর দয়া আর ভালোবাসা আর দয়াই দেখাতে থাকবেন, তখন এটা কি সম্ভব যে মানুষ এর সুযোগ নিতে চাইবে? আচ্ছা।

আমি আরেকটা উদাহরণ দেই। এটা একটা হাস্যকর উদাহরণ, কিন্তু তাও এটা ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিবে। ধরুন, একজন মালিক, আর একজন দাস। মালিক বলল, “শুনো, তুমি আমার দাস। কিন্তু আমি চাই না যে তুমি সব ধরণের কাজ করো। আমার চাহিদা খুবই অল্প। আমি তোমার থেকে শুধু একটা জিনিসই চাই। এইযে একটা দেয়াল, না, দেয়ালও না, চক দিয়ে টানা একটা রেখা, লাইন। শুধু এই লাইনের অন্য পাশে যাবে না। এই লাইনের মধ্যে থাকবে। শুধু এই লাইনের বাইরে যাবে না। এই লাইন এর ভেতরে, যা ইচ্ছা করো। এই লাইন এর ভেতরে, যা ইচ্ছা করো। দাগ এর বাহিরে যাবে না। আমি শুধু এটাই দাবি করলাম। “তো, সেই দাস তো আসলে মুক্তই, কিন্তু ওই গোলাকার রেখার ভিতর। ঠিক আছে? গোলাকার রেখাটা ভালই চওড়া, কয়েক একর। ঠিক আছে? তো, সে এর ভিতর থেকে যা ইচ্ছা করতে পারে। তো, একদিন সে যাচ্ছে, লাইনের কাছে দিয়ে যাচ্ছে, আর ও হোঁচট খেল। খেয়ে লাইনের অন্য পাশে পড়ে গেলো। মালিক সব দেখছেন। তিনি একটা চেয়ার নিয়ে উঠানে বসে দেখছেন। দাস পড়ে গিয়ে সর্বপ্রথম কোথায় তাকাল? সে তাকাল তার বসের দিকে, তার মালিক তাকে দেখছে নাকি চেক করতে। মালিক তো চেয়ারে বসে, ভাব যেন কিছু হয় নি। মালিক কোন কথা বলেননি। শুধু সেখানে বসে আছেন। তো, দাস উঠে দাঁড়ালো, কাপড় টাপর ঝেরে মুছে আবার লাইনের ভিতর গেলো। পর দিন, দাস লাইনের কাছে, এইবার সে পড়ে যাওয়ার ভান করলো। সে মালিকের দিকে তাকাল, দেখল যে মালিক এখনও চেয়ারে বসে, আর কিছু বলছেন না। পর দিন, সে ভান করাও ছেড়ে দিলো। সে এক পা বাইরে দিলো এবং দেখল। এবং মালিক কিছুই বলল না। কিছুদিন পর সে এক পা বাইরে দিলো আর এক পা ভিতর দিয়ে হাঁটছে। কয়েক মাস পর, সে বেশির ভাগ সময়ই লাইনের বাইরে কাটায়। আর একটু পর পর সে মালিকের দিকে দেখে, “কেমন আছেন?” মালিক তো … কোন সমস্যা না! সুখের জীবন কাটাচ্ছে।

তারপর একদিন, মালিক তাকে ডাকল। “এখানে আসো।” সে গেলো। মালিক বললেন, “মনে আছে, প্রথম যেদিন দেখা হয়েছিল, আমি তোমাকে বলেছিলাম, ওই লাইনের বাইরে যাবে না?” সে বলে, “ও হ্যাঁ, হেহে, বলেছিলেন তো। আমার মনে আছে।“ তিনি বললেন, “আচ্ছা, তো তুমি সেই লাইনের বাইরে যাওয়া শুরু করলে। প্রথম বার ভুলে করেছিলে। তারপর ভান করলে, কিন্তু আমি জানি ইচ্ছে করে করেছিলে। তারপর তুমি আরও বেশী করে করতে লাগলে, তারপর তুমি বেশির ভাগ সময়ই লাইনের বাইরে কাটাতে লাগলে। আর, আমি সব লিখে রেখেছি। আমি তোমাকে কিছু বলিনি। কিন্তু আমি লিখে রেখেছি। আর এই সেই রেকর্ড। তুমি সেই লাইন অতিক্রম করেছ ৫৬৮০ বার। আর আজ আমি প্রত্যেক বারের জন্য তোমাকে চাবুক দিয়ে পিটাবো, আজকে।“ বলুন তো, এটা মানে কি? এটা মানে হচ্ছে, মালিক বুঝাচ্ছে, “তুমি আমার দয়ার সুবিধা নিয়েছ। তুমি ভুলে গিয়েছিলে যে আমার তোমাকে বিচার করার অধিকার আছে। আমি তোমাকে ততক্ষণই দয়া দেখাব যতক্ষণ তুমি আমার দয়ার অপব্যবহার না করো। আমার নির্দেশনাকে তাচ্ছিল্য না করো।“ কিন্তু আমি আসলে এই মালিক, লাইন, উঠান ইত্যাদির ব্যাপারে কথা বলছি না। আমি তাদের ব্যাপারে বলছিনা, তাই না? আমি আমাদের ও আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলছি। তো, শুধু আর-রাহমান আর-রাহীম থাকলে মানুষ তার অপব্যবহার করবে। তাই আল্লাহ বলেন, শুধু আর-রাহমান আর-রাহীম না, তিনি আমাদের সতর্ক করছেন, তিনি বলছেন, মালিকি ইয়াওমিদ দীন। তিনি বিচার দিবসের মালিক। এটা খুব সহজ তর্জমা – বিচার দিনের মালিক। আমি এ ব্যাপারে শুধু একটুখানি কথা বলব। কারণ, আরও অনেক কিছু আজ আলোচনা করতে হবে।

(৮ম পর্ব)
“মালিক” শব্দটি,“মালিক” শব্দটি … না, মালিক নিয়ে পরে বলব। আগে ন্যায় নিয়ে বলি। আল্লাহ বলেন, তিনি বিচার দিবসের মালিক। বিচার হলো এখানে দীন। আরবি শব্দ দীন – এর অর্থ হচ্ছে “নিচ্ছিদ্র, নির্ভুল আদানপ্রদান।“ আরবিতে বলা হয়, কামা তাদীনু, তুদানু, অর্থাৎ, আপনি একজনের সাথে যেভাবে আচরণ করবেন, সেও আপনার সাথে সেভাবেই আচরণ করবে। তার মানে, এই আয়াতের বিষয় হচ্ছে আপনার সাথে সদ্বিচার করা। এই আয়াত থেকে আমরা ইসলামের একটি সুদৃঢ় নিয়ম শিখতে পারি। আমাদের সাথে কেয়ামতের দিন দুইভাবে আচরণ করা হবে। শুধু এই দুইটাই বিকল্প। হয়তো আপনি আল্লাহর ভালোবাসা এবং দয়া পাবেন, অথবা আল্লাহর ন্যায় বিচার পাবেন। আল্লাহ এটা বলেননি যে আপনি হয়তো আল্লাহর দয়া নাহয় শাস্তি পাবেন। সেটা না। আল্লাহ বলেন নি যে হয়তো আপনি দয়া ও ভালোবাসা পাবেন, নাহলে রাগ। ব্যাপারটা এরকম না। আমি বলছি, এক পাশে ভালোবাসা ও দয়া, আর অন্য পাশে? ন্যায় বিচার। ন্যায় বিচার। এর মানে আপনাকে বুঝা লাগবে।

জানেন, আমি যখন আমেরিকায় ঘুরে বেড়াই, আমি কোরআনের আয়াতের ব্যাপারে নানান ভাবে ভাবি। ভ্রমণের সময়, আপনারা জানেন, সিকিউরিটি চেকের ব্যাপার আছে। জানেন, দুই হাজার দশকের শুরুর দিকে, ২০০২, ২০০৩ … আমেরিকান এয়ারপোর্ট গুলোতে খুব কড়া সিকিউরিটি ছিল। তো, আপনি ওখানে গেলে আপনার জুতা খুলতে বলতো, জ্যাকেট খুলতে বলতো, ইত্যাদি, সবকিছুর তল্লাশি করতো। তো, এক দিন, আমি এয়ারপোর্টে, আর সিকিউরিটি অফিসার যে ছিল, তাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। সে এরকম করল। তো, আমি গেলাম, দরজার চৌকাঠের মতো একটা জিনিস, সেটার ভিতর দিয়ে গেলাম। তারপর, সে আমাকে থামাল না। সে বলল না, “স্যার, আপনি একটু এদিকে আসুন। আপনার সাথে স্পেশাল মুসলিমদের জন্য বরাদ্ধ আচরণ করি। “ না, সে এরকম করলো না। আমি তো ভাবনায় পড়ে গেলাম। সে আমাকে থামিয়ে এক্সট্রা চেক করলো না। তো আমি ওকে ইঙ্গিত করলাম। তখন আমি ভাবলাম, হিসাবান ইয়াসিরা। আল্লাহ তা’আলা বিচারের দিন … কিছু মানুষের ডান হাতে একটা বই থাকবে। কিছু মানুষের বাম হাতে। আর এই বইতে কী আছে? এই বইতে কী আছে? আমাদের সব কর্মের তালিকা। তো, ভাবুন, আপনি কখনও আপনার পরীক্ষার খাতা আপনার শিক্ষককে দেখিয়েছেন? আর মাঝে মাঝে শিক্ষক সেই খাতা তাঁর ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলেন। কিন্তু অনেক সময়, তিনি বলেন, “এখানেই থাকো। আমি এখনই খাতা দেখে দিচ্ছি। “এরকম হয়েছে আপনার সাথে? আপনি ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর শিক্ষক আপনার খাতা দেখছেন। জীবনের সবচেয়ে হয়রানির ঘটনা গুলোর একটা। কারণ, যখনই তাঁর লাল কলমের দাগ আপনার খাতায় পড়তে গেলো … আপনি তো শেষ…। তাই না?

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা, যদি তিনি আপনার বই আপনার ডান হাতেও দেন, আপনার ডান হাতে বই আছে তার মানে এই না যে আপনি পাস হয়ে গেছেন। তারা (ফেরেশতারা) বই খুলে চেক করবে, আর আপনি যদি আমার মতো হন, তাহলে হয়তো ভালো ভালো পেইজ গুলো দেখিয়ে দিতে চাইবেন।

“৩৫ নং পেইজে দেখুন, একটা লাইলাতুল কাদর আছে। এটাই যদি আগে চেক করেন ভালো হয়,”
“ওই হজ্জটা ৮০ নং পৃষ্ঠায়। পেইজ ৮০ দেখুন, এই খারাপ গুলো বাদ দিন, পেইজ ৮০ টা ভালো। “

ছাত্ররা এরকম করে, তাই না? যেমন, তারা চাইবে আপনি খারাপ উত্তর গুলো বাদ দিয়ে শুধু ভালো গুলোরই মার্ক্স দেন? কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা… তো, প্রত্যেকে ভয়ে আছে, তারা ফেরেশতাদেরকে তাদের বই দেখাতে যাচ্ছে। আর ফেরেশতারা, ইয়াতাজাওয়াযুনা ‘আনহুম। হাদিসে আছে, তারা বলবে, “ঠিক আছে, যাও। পেইজ ৮০ দেখাতে হবে না। সব ঠিক আছে। আপনি যেতে পারেন, স্যার। ইটস ফাইন।“ ঘটনাটা এই রকম যে আপনি সিকিউরিটি অফিসারকে আপনার পাসপোর্ট দেখাচ্ছেন, আর সে ইঙ্গিত করে … আপনি তো ভাবছেন, “সত্যি? আমি সত্যিই যেতে পারি?” এর মানে আপনি পাস করেছেন। আপনি গ্র্যাজুয়েট হয়ে গেছেন। আপনি অন্য পাশে পার হয়ে গেছেন। অন্য পাশে যে গেলো, সে তো মহা খুশী, মানে, যার ডান হাতে বই।

সে তখন বলবে, “হা’উমুকরা’উ কিতাবিয়াহ। আরে সবাই দেখ! এইযে দেখ আমি কী পেয়েছি! আমার মার্ক্স দেখ!”

আপনি জানেন, যাদের মার্ক্স খারাপ আসে… আমি এরকম করতাম – যখন আমি আরবি প্রোগ্রাম শিখানো শুরু করি। আমি পরীক্ষা নিতাম, তারপর আমি প্রত্যেককে নাম ধরে ডাকতাম, সে ক্লাসের সামনে আসতো, আমি তাকে তার খাতা দিতাম, তারপর সে লজ্জা নিয়ে হেঁটে তার সিটে ফিরত যেত। আর যখন কোন ছাত্র পরীক্ষায় অনেক খারাপ করে, সে যখন পরীক্ষার খাতা পায় তখন প্রথমেই কী করে? সেটাকে ভাঁজ করে ফেলে … আর যারা ১০০ পায়, তাদের খাতা ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছায় হাত থেকে পড়ে যায়, “আমি দুঃখিত।“ … যেই ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সিকিউরিটি চেক পার হয়ে যায়,

সে বলে, “এই দেখ! আমার বই দেখ! ইন্নি যানান্তু আন্নি মুলাকিন হিসাবিয়াহ।“ “আমি জানতাম আমি খুব ভালো রেজাল্ট করবো।“ আমি জানতাম আমি আমার আমলগুলোর ফল পাব।“
সুবহানআল্লাহ!

আর, যে বাঁ হাতে বই পেলো। কোরআন এটাকে বর্ণনা করে এই ভাবে – ওয়ারা’আ যাহরিহি,” মানে পিঠের পিছনে। যেমন আপনি খারাপ রিপোর্ট কার্ড পেলেন, কিন্তু আপনি এও জানেন না যে সেটা কত খারাপ, কারণ সেটা আপনার পিঠের পিছনে (আপনি পড়তে পারছেন না)। আর আপনার পিছনের লোক আপনাকে বলছে, “হায় হায়!” আপনি বলেন, “কি কি? আমি তো দেখতে পাচ্ছি না।“ তো, তারা তাদের বই দেখাল। এবার কি ফেরেশতারা বলবে, “না ঠিক আছে। তুমি যেতে পারো”? না। তারা বইটা খুলবে। প্রত্যেক লাইন পড়বে। আর নবী সাঃ বর্ণনা করেন,“ইন্নাহু মান সু’ইলা ইয়াওমাল কিয়ামাতি ফাকাদ হালাকা।“ “যাকে বিচারের দিন প্রশ্ন করা হলো, একবারও হোক, সে শেষ। “ একবারও যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়।

মানে, যদি ফেরেশতা আপনাকে থামায় আর বলে, “স্যার, একটু দাঁড়ান। আপনার বইটা একটু দেখি। এটা কি? বৃহস্পতিবারে আপনি এটা কি করেছিলেন? কোথায় গিয়েছিলেন? এইযে ক্লাব? এখানে আপনি কী পান করছেন? কতটুকু মদ খেলেন? হুম। এইযে আপনার বন্ধুরা, এরা কে? এরা কি ভালো বন্ধু? না, রেকর্ড দেখে তো মনে হচ্ছে না।“ কী অবস্থা! সব রেকর্ডে আছে। ভিডিও ফুটেজ সহ। ওয়া ওয়াজাদু মা ‘আমিলু হাদিরা। “তারা যা করেছে সেগুলো তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে।“ সেই রেকর্ড যদি একবার বের করা হয়, আপনি শেষ। কিন্তু সেই রেকর্ড কি অন্যায্য হবে? না। বিচারের দিন, এমন কিছু মানুষ থাকবে যাদেরকে আল্লাহ ভালোবাসা, দয়া দেখাবেন, এবং বলবেন, “আমি তোমার বই খুলেও দেখবো না। তুমি যাও। ঠিক আছে।“ আর এমনও মানুষ থাকবে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলবেন, “ওদের বই খুলো।” এবং তারা আল্লাহর বিচার পাবে। তো, দুটো অপশন। হয়তো দয়া, নয়তো বিচার। আমরা আল্লাহর দয়া চাই। আমরা তাঁর ভালোবাসা চাই বিচারের দিনে। এটাই চাই।

কিন্তু আমরা এটার অপব্যবহার করি। ওয়াল্লাহি, মানুষ এটার অপব্যবহার করে। কিছু মানুষ হারাম উপায়ে টাকা অর্জন করা শুরু করে। নিঃসন্দেহে এটা খারাপ কাজ। তারা খারাপ মানুষের সাথে মেশে এবং তারা হারাম খায়, হারাম জিনিস পান করে , তারা হারাম জিনিস দেখে, হারাম জিনিস করে, এবং তারা বলে, “আল্লাহ স্নেহময়, করুণাময়, কত ভালো। কোন ব্যাপার না। আল্লাহ এই ছোট জিনিসকে বড় করে দেখবেন না। “[এর মানে] আপনি আল্লাহর দয়ার অপব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। তিনি এটাকে হালকা ভাবে নেন না। হালকা ভাবে দেখেন না। আল্লাহ দুটা জিনিসের সামঞ্জস্য বজায় রাখেন। একদিকে তাঁর অসীম ভালোবাসা। সেটা সবসময়ই আপনার জন্য থাকবে। তাঁর দয়া সবসময়ই আপনার জন্য থাকবে। এবং অন্যদিকে, “এটা একবারের জন্যও ভেবোনা যে তুমি আল্লাহর ভালোবাসা ও দয়ার অপব্যবহার করে যা ইচ্ছা করতে পারবে। কখনও এটা ভাববে না। কারণ এটা আল্লাহর দয়ার থেকে তোমাকে বঞ্চিত করবে। “ সুবহানাল্লাহ। দুটো জিনিষের সামঞ্জস্য। আর-রাহমান আর-রাহীম এক দিকে, মালিকি ইয়াওমিদ দীন অন্যদিকে।

(৯ম পর্ব)

তো, আজ রাতে আমি আর এই ৩ আয়াতের গভীরে যাব না। কিন্তু এটা বলব। এটা এই সেশনের আমার প্রিয় জায়গা। এই তিনটি আয়াত। আলহামদুলিল্লাহ হিরাব্বিল আলামিন, আররাহমানির রাহিম, আর কি? মালিকি ইয়াওমিদ্দিন – এই তিনটি আয়াত হচ্ছে কুরআনে প্রদত্ত আল্লাহর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচয় দানকারী আয়াত। প্রত্যেক মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কে যা জানতে হবে তা এই তিনটি আয়াতের মধ্যে আছে। শুধু এটাই যথেষ্ট। আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট। কেউ বলতে পারে, “তোমার ইসলামে প্রভুর ধারণাটা কীরকম? তোমরা তাঁর ব্যাপারে কী বিশ্বাস করো?” শুধু ফাতিহার এই তিন আয়াতই উত্তরে যথেষ্ট। প্রথম যা তিনি তাঁর ব্যাপারে আমাদের বললেন তা হচ্ছে, তিনি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার অধিকারী। ২য় জিনিস যা তিনি তাঁর ব্যাপারে আমাদের বলেছেন তা হচ্ছে, তিনি আমাদের মালিক। ৩য় জিনিস যা তিনি তাঁর ব্যাপারে আমাদের বলেছেন তা হচ্ছে, তিনি অন্য মালিকদের মতো নন। আপনার জন্য তাঁর আছে অসীম ভালোবাসা, অসীম দয়া। এবং শেষ জিনিস যা তিনি নিজের ব্যাপারে বলেছেন তা হলো, এটা ভাববেন যা যে তাঁর অসীম দয়া ও ভালোবাসার অপব্যবহার করতে পারবেন। তিনি কিছু মানুষের সাথে ন্যায় বিচার করবেন, যদি তারা অন্যায় করে থাকে। তারা যদি নিয়মিত তাঁর অবাধ্য হতে থাকে। সুবহানআল্লাহ। এটাই যথেষ্ট। এটা পূর্ণ। কিন্তু সব শেষে, আমাদের আল্লাহর সাথে সম্পর্কটা কী? আমি আগেও বলেছি। আমাদের তাঁর সাথে প্রাথমিক সম্পর্ক কী? তিনি আমাদের? মালিক। আমরা তাঁর? দাস। এটাই সম্পর্ক।

আল্লাহর ব্যাপারে এই প্রাথমিক বিষয় যে বুঝতে পারবে, সে অবশ্যই একটা ফলাফল উপলব্ধি করবে। তা হচ্ছে ইয়্যাকা না’বুদু। এটাই হচ্ছে পরিশেষ। ইয়্যাকা না’বুদু। “শুধু তোমার কাছেই আমরা দাসত্ব স্বীকার করি, ইচ্ছাকৃত দাসত্ব।“ এখন চলুন দাসত্ব নিয়ে কথা বলি। দাসত্ব কী ইচ্ছাকৃত হয় নাকি জোর দিয়ে হয়? দাসত্ব সাধারণত কেমন হয়? ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত? অনিচ্ছাকৃত। কেউ বলবে না, “আমি অন্যরকম একটি চাকরি খুঁজছি… আমি আমার পায়ে শিকল বাঁধা পছন্দ করি… বুঝতে পারছেন। “ কেউ দাসত্বের চাকরির জন্য এপ্লাই করে না। ঠিক না? দাসত্ব কখনও ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয় না। আমার সেই হাস্যকর উদাহরণে হয়েছে। আপনি এসে বললেন- এইযে, আপনি আমার দাস। আমি বললাম- ঠিক আছে, চলুন এটা করে দেখি। এটা ইচ্ছাকৃত। কিন্তু এটা সাধারণত হয় না। তাই না? আল্লাহর থেকে বেশী শক্তিশালী কোন মালিক হতে পারে না। এবং অন্য মালিকদের আরেকটা বিষয় এই রকম – সাধারণত দাসরা কি মালিকদের ভালোবাসে, নাকি ঘৃণা করে? ঘৃণা করে। এবং একবার যদি তারা সুযোগ পায় তাহলে – কী করে? মুক্ত হতে চায়। এবং যদি তারা মালিকের প্রশংসাও করে, তাহলে সেটা কি সত্যি না মিথ্যা প্রশংসা? মিথ্যা।

কিন্তু এই সূরা শুরু হয়েছিল আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে। এটা সত্যিকারের, আসল প্রশংসা এই মালিকের। এটা কীভাবে সম্ভব? এর কারণ হচ্ছে যে এই মালিক আপনাকে দাসত্ব করার জন্য জোর করেন না। আপনাকে এই উপলব্ধি নিজে থেকে করতে হবে। তাই, তিনি এটা বলেন নি যে, উ’বুদুল্লাহ, “আল্লাহর দাস হও!” বরং আমরা বলি, “ইয়্যাকা না’বুদু”, “আমরা তোমার কাছে নিজেদের দাসত্বে বিসর্জন দিচ্ছি। আমরা তৈরি। আমরা নিজে থেকে এটা বেছে নিয়েছি। আমরা ইচ্ছাকৃত ভাবে দাসত্ব স্বীকার করছি। অসাধারণ ব্যাপার! এই যে ইসলাম ধর্ম আপনাকে ফাতিহাতেই বলে দিচ্ছে, “তোমাকে এটা বেছে নিতে হবে। কেউ তোমাকে মুসলিম হতে জোর করতে পারবে না। তোমাকে নিজ থেকে আল্লাহর কাছে আসতে হবে।“ আর কেন আপনার আল্লাহর কাছে আসা উচিৎ? আপনার আল্লাহর কাছে আসা উচিৎ সূরা ফাতিহার প্রথম তিন আয়াতের জন্য। এটাই আপনার পক্ষে যথেষ্ট। যদি সত্যিই আপনি জানতেন আলহামদুলিল্লাহ -র মানে কী, রাব্বিল আলামিন এর মানে কী আপনি যদি বুঝে থাকেন, আর-রাহমানির রাহীমের মানে কী আপনি যদি বুঝে থাকেন, আর মালিকি ইয়াওমিদ দীন -এর মানে কী আপনি যদি বুঝে থাকেন, এগুলোর প্রত্যেকটা একক ভাবেই যথেষ্ট কারণ, কিন্তু সব মিলিয়ে এটা বলার জন্য যথেষ্ট, “ইয়া আল্লাহ, আমি তোমার দাস। আমি নিজের ইচ্ছায় কাজ করতে চাই না, আমি সেটাই করতে চাই যেটা তুমি চাও আমি করি। কারণ যা তুমি চাও, তা আমার চাওয়ার থেকে অনেক গুণ উত্তম। কারণ তুমি আমার রক্ষক, তুমি আমাকে ভালোবাসো আমার কল্পনার থেকেও বেশি। এবং তোমার ভালোবাসা আমি সর্বদা পাই।“ আল্লাহ তাঁর দাসত্বের আগে তাঁর ভালোবাসার ব্যাপারে বলেছেন, তাই না? তো, আল্লাহ তাদেরও ভালোবাসেন যারা তাঁর দাসত্ব গ্রহণ করে না। তাদেরও যারা তাঁর ব্যাপারে খারাপ কথা বলে। তাদেরও যারা তাঁকে অমান্য করে। “ইয়া আল্লাহ, তুমি এতো ভালো। আমি তৈরি। আমাকে গ্রহণ করো। আমি সাইন আপ করছি। ইয়্যাকা না’বুদু।“ এটাই হচ্ছে সেই কথা যা আমি আর আপনি বলি যখন আমরা এভাবে দাঁড়াই …

হয়তো আপনাদের মধ্যে কেউ একটা মুভি দেখছে, খারাপ মুভি। তারপর আপনি একটু বিরতি দিলেন, তারপর নামায পড়লেন, “ইয়া আল্লাহ, আমি শুধু তোমারই দাস। আমি কখনও তোমাকে অমান্য করি না। আমি এই উপলব্ধি নিজে থেকে পেয়েছি। আমাকে পথ দেখাও। “ তারপর আপনি সালাম ফিরান, তারপর আবার মুভি প্লে করেন। এর কোন মানে হয়? ভাবুন। আপনাদের কেউ জুমার নামায পড়তে গেলেন। হাজার হাজার মানুষ, সবাই বলছেন, “ইয়া আল্লাহ, আমি তোমার দাস। আমি এই উপলব্ধি নিজে থেকে পেয়েছি। আমি এটা বুঝি যে আমি যদি নিজের ইচ্ছায় কাজ করি, আমি নিজেরই ক্ষতি করবো। তাই আমাকে পথ দেখাও। “ তারপর জুমুয়ার নামায শেষে আপনি খারাপ কাজ করলেন।(সিগারেট খান) এটার অর্থ কী? তার মানে হচ্ছে আমরা জিহ্বা দিয়ে এমন কিছু বলছি কিন্তু তা আমাদের এখানে (অন্তর) পৌঁছায়নি। আর আমরা আসলে সে সম্পর্কে চিন্তাও করিনি। আসলে আমরা কী বলছি তা নিয়ে সচেতন থাকি না যখন আমরা বলি ইয়্যাকা না’বুদু। আমরা আল্লাহর সাথে একটা সন্ধি করছি। আমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সম্পর্কে কিছু বলছি। আমরা আল্লাহর কাছে একটা দাবি করছি।

কীভাবে আপনি আপনার মাকে বলেন যে আপনি তাকে ভালোবাসেন? আপনি তার বাসায় আসেন। তিনি আপনাকে বলেন, “জুতো খোলো” আপনি সেগুলো খোলেন না। তিনি আপনাকে বলেন, “ডিনার টেবিলে খাও।” আপনি সোফায় বসে খান। তিনি বলেন, “তোমার বন্ধুদের নিয়ে এসো না।” আপনি আপনার বন্ধুদের নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, “উচ্চস্বরে শব্দ কোরো না। ” আপনি শব্দ আরও বাড়িয়ে দেন। আর তারপর আপনি তাকে বলেন, “আমি আপনাকে ভালোবাসি, মা।” এটা কি একটা তামাশা? তিনি কি কষ্ট পান যখন আপনি তাকে বলেন যে আপনি তাকে ভালোবাসেন? এটা কি আপনার মায়ের জন্যে অপমানকর নয়? আমরা কি আল্লাহকে অপমান করছি না? তিনি আমাদের যা যা করতে মানা করেছেন তা সবই করছি। তারপর আমরা বলি, “ইয়া আল্লাহ, আমরা আপনার দাস। আপনার পরিপূর্ণ দাস। প্রকৃতরূপে ইয়্যাকা না’বুদু। আপনার দাস।” সুবহান আল্লাহ।

(Visited 128 times, 1 visits today)

মতামত

comments