শবে ক্বদর

আমি আমার নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, লাইলাতুল ক্বদরের সুযোগ গ্রহণ করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহ এই রাতের জন্য একটি বা দুইটি আয়াত নয় বরং কুরআনের সম্পূর্ণ একটি সূরা উৎসর্গ করেছেন। আর এটাও যদি যথেষ্ট না হয়, তিনি আবার চুয়াল্লিশ নাম্বার সূরা, সূরা আদ-দুখানের প্রথম প্যাসেজ এই রাতের জন্য উৎসর্গ করেছেন। সুতরাং এটা ছোট কোনো বিষয় নয়।

ইসলামে অন্য অনেক দিন বা রাতের স্পেশাল মর্যাদা আছে। কিন্তু অন্য কোনো দিন বা রাতের জন্য এভাবে একটি সম্পূর্ণ সূরাকে উৎসর্গ করা হয়নি। তাই এই রাতের সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রচেষ্টা চালানো জরুরি। ……………..

লাইলাতুল কদরের প্রথম উপকারিতা – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ – “শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” কেউ কেউ এই হাজার মাসকে আক্ষরিক অর্থেই নিয়েছেন এবং গণনা করে বের করেছেন যে, এক হাজার মাস = ৮৩ বছর ৪ মাস। এতো মূল্যবান এই রাত! সুতরাং আজ যদি শবে ক্বদর হয় আর আপনি ফজরের নামাজ আদায় করেন তাহলে আপনি ৮৩ বছরের জন্য ছুটি নিতে পারেন।  না, না, এটা এমন নয়। এই আয়াতের অর্থ এটা নয়।

আরেকটি ব্যাপার যেটা লক্ষ্যণীয়…আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন পরিমাপে সময়ের উল্লেখ করেন যেমন – আল্ফ়া সানাতিন বা হাজার বছর। মাঝে মাঝে তিনি এর সাথে যোগ করেন – “মিম্মা তা’উদ্দুন” তোমাদের গণনার হিসেবে। অন্য কথায়, এই আয়াতে এই অর্থটাও এখানে সুপ্ত আছে যে, তোমাদের গণনার হিসেবে হাজার মাস থেকেও এই রাত উত্তম।

হাজার মাস মূলত একটি জীবনকালের সমান। আশি বছরের কিছু বেশি মূলত একজন স্বাভাবিক মানুষের আয়ুষ্কাল। সুতরাং আল্লাহ বলছেন যে তোমাদের গণনার হিসেবে এই রাতটি গোটা একটি জীবনকালের চেয়েও উত্তম। এই রাতটি কাজে লাগাও তাহলে তুমি গোটা একটি জীবনকাল কাজে লাগালে।

এই রাতটি এতো অভিজাত, মহীয়ান এবং শক্তিশালী যে এই রাতটি আপনার বাকি জিন্দেগীর গতিপথ ঠিক করে দিতে পারে। এটা আসলে আপনার জীবনের সবকিছু পরিবর্তন করে দিতে পারে। আপনার এক রাকাত নামাজ এক হাজার মাস এক রাকাত নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম, একবার জিকির করা এভাবে এক হাজার মাস জিকির করার চেয়ে উত্তম। যদিও এই ব্যাপারটা খুবই চমকপ্রদ। আর এটা সত্য। কিন্তু শবে ক্বদরের ফজিলত শুধু এর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এই আয়াত আরো যে ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে তা হলো – এই একটি রাত একটি সম্পূর্ণ জীবনকাল থেকেও শ্রেষ্ঠ। ‘লাইলাতুল ক্বাদরী খাইরুম মিন আল ফি শাহর”

তাই আন্তরিকভাবে আমাদেরকে এই রাত ইবাদাতে কাটাতে হবে যেন আমরা নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারি। এবং আশা করবো যে আমাদের বাকি জীবন আল্লাহর রহমতে আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে উঠবে।

[উস্তাদ নোমান আলী খানের সূরা ক্বদর এর আলোচনা থেকে]

(Visited 48 times, 1 visits today)

মতামত

comments