যা বলেন তা চর্চা করুন

যা বলেন তা চর্চা করুন

উস্তাদ নুমান আলী খানের কুরআন উইকলি তে দেয়া “Quranic Gems” সিরিজ থেকে নেয়া।

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

কুরআন পড়ার সময় তোমরা কী মানুষকে ভালো কাজের আদেশ দাও আর নিজেদের কথা ভুলে যাও? তোমরা কী তোমাদের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে না? (২:৪৪) 


আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি, 

আজকে সুরা বাকারার ৪৪তম আয়াত থেকে কিছু পয়েন্ট আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আল্লাহ্‌ আজ্বা ওয়া জাল ইসরাইলীদেরকে বলছেন এবং উনি তাদেরকে বেশ কিছু আদেশ দিলেন প্রথমে। এই আদেশগুলো আসলে আপনি ইতিবাচক প্রভাব বলতে পারেন। 


একটা অংশ হচ্ছে, , “أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ ۚ” “আতআ’মুরুনা আন-নাসা বিল-বিররি” তোমরা কি মানুষকে ভালোর কথা বল বা ভালো কাজের আদেশ, পরামর্শ দাও আর একই সময় নিজেদের কথা ভুলে যাও, “وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ” “ ওয়া আ’ন্তুম তাতলূনা আল-কিতাবা” যখন আদতে তোমরাই কিতাবটি পড়ছ। তোমরাই এই বই পড়াতে নিমগ্ন। 

এখন এই “কিতাব পড়াতে” কথাতে আমি ফিরছি একমিনিট পর। এখন এই আয়াত “أَفَلَا تَعْقِلُونَ” “আ’ফালা তা’ক্বিলুনা” তখন তোমরা কী ভাবো না, তোমরা কী নিজেদের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ কর না। অবশ্যই এই আয়াতের মূল অর্থ হচ্ছে তোমারা মানুষকে ভালো কাজ করতে বল এবং তোমরা নিজেদের কথা ভুলে যাও, নিজেরাই তা কর না। এটা কীভাবে হয়? আসুন আরো গভীরভাবে দেখি কয়মিনিটের জন্য। 

প্রমথত এবং প্রধাণত, আল্লাহ্‌ আজ্বা ওয়া জাল, বিদ্রুপ করে বলছেন ““وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ” “ ওয়া আ’ন্তুম তাতলূনাল-কিতাবা” তোমারা হচ্ছ তারা যারা কিতাবটি পড়ছ। এখানে বলা হচ্ছে যে কেউ আল্লাহ্‌র কিতাব পড়ে, এটা হতে পারে অতীত কালের তাওরাত অথবা বর্তমান কুরআন, যখন আপনি আল্লাহ্‌র কিতাব পড়ছেন, প্রথম যার কথা আপনার চিন্তা করা উচিৎ, প্রথমত এবং প্রধাণত আপনার নিজের জন্য ভাবা উচিৎ। আমার নিজের জন্য ভাবা উচিৎ। আল্লাহ্‌র কিতাব আমার এই উদ্দেশ্য নিয়ে দেখা উচিৎ নয় যাতে প্রথমত এবং বিশেষত আমি অন্য কারো বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে পারি। অথবা, মনে করেন, এটা খুব ভালো বক্তৃতার বিষয় হতে পারে। অথবা এই আয়াতটি আমি অন্য কাউকে উপদেশ দিতে ব্যবহার করতে পারি। আল্লাহ্‌র কিতাব থেকে প্রথম উপদেশ গ্রাহক আমি নিজে। 

তো আল্লাহ্‌ বলছেন, তোমরা অন্য মানুষকে চট করে উপদেশ দাও”। আপনি জানেন কখনো কখনো মানুষ, উদাহরণ স্বরুপ, কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে, তারা পড়াশোনা করে এমনকি বক্তৃতা শোনে এবং তারা ওসব শোনে যাতে অনেকগুলো পয়েন্ট লিখে নিতে পারে যাতে তারা সেসব অন্যজায়গায় কথা বলার সময় কাজে লাগাতে পারে। ওটা ঠিক আছে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার লিখে নেওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে ওসব থেকে আপনি নিজে উপকৃত হয়েছেন। এবং আপনি নিজে উপকৃত হবার পরে, এই জ্ঞান আপনাকে প্রভাবিত করার পর আপনি নিজেকে বললেন, “কী জানো? আমি এটা অন্য কারো সাথে শেয়ার করলে মনে হয় ভালো হয়”। 

এবং আপনি যদি তা না করেন এবং আমি তা না করি তাহলে এটা হয়ে পড়ে খালি মঞ্চ অভিনয়। অন্যকথায় আপনি শুধু এই ধর্ম সম্পর্কে শিখছেন যাতে অন্যকে শিক্ষা দিতে পারেন এবং আপনি আল্লাহ্‌র কিতাব পড়ছেন যাতে অন্যদেরকে কিছু কথা বলতে পারেন, হয়তো তাদেরকে মুগ্ধ করতে, এমনকি হতে পারে তাদের জন্য উদ্গেগ থেকে কিন্তু তাদের জন্য এই উদ্বেগও মূল্যহীন যদি এই উদ্বেগটা প্রথমত আপনার নিজের জন্য নিজেকে দিয়ে শুরু না হয়। আমার ক্ষেত্রে আমার নিজেকে দিয়ে শুরু না হয়। 

এইজন্যেই এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন, “أَفَلَا تَعْقِلُونَ” “আ’ফালা তা’ক্বিলুনা” –তোমরা কেন চিন্তা কর না? এবং এই আয়াতটা খুবই স্পষ্টভাবে আমাকে বলে, যখনই আমি কুরআন অধ্যয়ন করি Quran “أَفَلَا تَعْقِلُون“أَفَلَا تَعْقِلُونَ” “আ’ফালা তা’ক্বিকুনা” আমার মাথায় ঘণ্টার মতো বাজতে থাকে এরকম, “আমি এটা পড়ছি, এনিয়ে পড়াশোনা করছি কিন্তু প্রথমত এবং প্রাধণত এটা আমার নিজের জন্য”। অনেক সময় আমরা অনেক কিছু শিখি কিন্তু আমরা খুব গভীরভাবে চিন্তা করি না আমরা কেন তা শিখছি। আমাদের মনে রাখতে হবে এবং আবারও ভাবতে হবে যে এর প্রত্যকেটি শব্দ, প্রতিটি আয়াত এবং রাসুলআল্লাহ (সাঃ) এর প্রত্যকটি হাদীস শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যে এবং কেবলমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই আমরা শিখছি। প্রথমত এবং বিশেষত আমাদের নিজেদের উপকারের জন্য এবং এরপর অন্যদের জন্য “أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ” আতআ’মুরুনা আন-নাসা বিল-বিররি ওয়া তানসাওনা আ’নফুসাকুম” 

এই আয়াতের শেষ উপদেশ হচ্ছে, এই ভাবার কাজটা শুধু ব্যক্তিগত নয় এটা আমাদের সম্পর্কে, আমরা মানে এই উম্মাহ- মানে এই পুরো মুসলিম সমাজ। যদি আমরা অন্য জাতিকে, অন্য মানুষকে, অন্য দেশকে এতো সহজে বিচার করি, আমাদের পক্ষে তাদের সম্পর্কে একটা ধারনা করে নেয়া খুব সহজ এই বলে যে “এরা সব এইরকম। এরা সব ঐরকম”। এটা খুব অদ্ভুত যে আমরা যত সহজে তা করি অত সহজে আমরা সেই একই রকম পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার নিজেদের নিয়ে করি না। 

এটা খুব মজার যে আমি দেখেছি যখন মুসলিমরা নিজেদের নিয়ে কথা বলে তারা বলে, “আমরা কাফেরদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গিয়েছি, তাই আমরা এতো খারাপ। তাদের মন্দ প্রভাব আমাদের উপর পড়েছে।“ আপনার নিজের দুর্নীতির জন্য অন্যদের দোষ দিতে পারেন না্। আমি এবং আপনি আমাদের নিজের কাজের জন্য দায়ী থাকবো, আল্লাহ্‌র সামনে আমরা অন্যকারো ঘাড়ে নিজের দোষ এই বলে চাপিয়ে দিতে পারবো না যে, “আল্লাহ্‌ জানেন এটা আমার দোষ নয়। এটা ওদের দোষ। ওরা আমাদের অসৎ কাজ করিয়েছে।”

এটা আল্লাহ্‌ আজ্বা ওয়া জালের সাথে চলবে না। তাই আমি প্রার্থনা করি যখন আমরা ব্যক্তিগতভাবে কুরআন শিখবো আমরা যেন গভীরভাবে ভাবি এবং এমনকি সবাই যখন আল্লাহ্‌র কিতাব নিয়ে পড়াশুনা করবো আমরা যেন গভীরভাবে ভাবনা চিন্তা করি। এবং এটা যাতে আমাদেরকে শেখায় কোনটার প্রাধান্য বেশি। 

বারাকআল্লাহু লি ওয়ালাকুম, ওয়া-সসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

 

 

(Visited 367 times, 1 visits today)

মতামত

comments