মু্সলিমদের দায়িত্ব

মু্সলিমদের দায়িত্ব

উস্তাদ নুমান আলী খানের কুরআন উইকলি তে দেয়া কুরআনের রত্ন  সিরিজ থেকে

রাসুলরা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদবাহী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী,তাদের এজন্যই পাঠানো হয়েছিল যাতে করে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহ্‌ তায়ালার নিকট মানবজাতির কোন অজুহাত পেশ করার সুযোগ না থাকে; সত্যিই আল্লাহ্‌ তায়ালা মহাপরাক্রমশালি ও প্রজ্ঞাময়।

সূরা আন-নিসাঃ ১৬৫

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতাল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

আজকের সংক্ষিপ্ত রিমাইন্ডার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্‌ সুবহানাহুওয়াতায়ালা সূরা নিসা আয়াত ১৬৫ তে আমাদের যা বলেছেন তা অনেক শক্তিশালী। “রাসুলরা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদবাহী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী”। অবশ্যই আমরা জানি তাঁরা তা করেছেন। কিন্তু তারপর আল্লাহ্‌ বললেন আমাদের যে কেন তিনি তাঁদের পাঠিয়েছিলেন “যাতে করে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহ্‌ তায়ালার ওপর মানবজাতির কোন অজুহাত খাড়া করার সুযোগ না থাকে”

অন্যভাবে বলা যায় রাসুলদের পাঠানোই হয়েছে যাতে মানবজাতির কোন অজুহাত না চলে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতালার পথ থেকে সরে যাওয়ার। এই কারণে রাসুলদের পাঠানো হয়েছে।এটা আসলেই অনেক কঠিন। এটা এই রুপ যেন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতায়ালা বলছেন “ ইনিই সেই রাসুলুল্লাহ , শেষ নবীকে  পাঠানো  হয়েছে  মানবজাতির আর কোন অজুহাত চলবেনা। ইনিই শেষ নবী”।

আপনি কি জানেন এটার মানে একজন মুসলিমের জন্য কি দাড়ায়? এটার মানে এই দুনিয়াতে যদি কেউ মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না চিনেন উনি আসলেই কেমন তা না জানেন , তিনি তেমন নয় যারা তাকে ঘৃণা করে তারা যেভাবে উপস্থাপন করেন, তেমন ও নয় মিডিয়া অন্যের সামনে  তাঁকে  যেভাবে  তুলে  ধরে  বরং  তারা তো জানেনই না উনি সত্যিকারে কেমন, কিন্তু তিনি আসলেই কেমন তা যদি আমরা না জানি এটা আমাদের বহন করতে হবে কারন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিশনের বাহক।

কিন্তু এখন মানবজাতির কোন বিকল্প পথ নেই। কোন অজুহাত ও নেই। এই কারনেই রাসুলদের পাঠানো হয়েছিল। যদি রাসুলদের শুধু মাত্র তাঁদের জাতির জন্য প্রেরন করা হত তখন তাঁদের কাজ হত তাঁদের জাতির প্রত্যেকে সংবাদটি পেয়েছে এটি নিশ্চিত করা। এবং যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠানো হয়েছে সব মানুষের জন্য, পুরু মানবজাতির জন্য, তিনি সব মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছাতে পারেন নি, তিনি কখনো চায়নার লোকদের সাথে কথা বলেন নি,তিনি কখনো ইন্ডিয়ার লোকদের সাথে কথা বলেন নি,তিনি কখনো ইউরোপের লোকদের সাথে কথা বলেন নি। উনার মিশন এরাবিয়ান পেনিনসুলাতে সীমাবদ্ধ ছিল, এবং সামান্য সংখ্যক যোগাযোগ তিনি অন্য জাতির সাথে করতে পেরেছিলেন চিঠির মাধ্যমে। এই টুকুই। তার সেই দায়িত্ব যেহেতু তিনি মানবজাতির শেষ রাসুল তার বার্তা গুলো আল্লাহ্‌ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং এটি সংরক্ষিত থাকবে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত। তিনি কুরআন ঠিক সেভাবেই সংরক্ষন করে রেখেছেন যেভাবে তিনি রেখে গিয়েছিলেন। তিনি এটা এভাবে সংরক্ষন করে রেখেছেন যাতে আপনি এবং আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংবাদ বাহক হতে পারি। মানবজাতির কোন অজুহাত থাকা উচিত না। এই কারণে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতায়ালা রাসুলদের নির্বাচন করেছেন। এবং এই আয়াতে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা সরাসরি আমাদের সংযোগ স্থাপন করছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিশনের সাথে। এটা খুব খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত। তাই আমি চায় আপনারা ভাবুন, মুসলমানেরা, রাসুলদের সময়ের লোকেরা এবং বাকি মানবজাতি, শেষ বিচারের দিন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা জিজ্ঞেস করবেন তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে “ তুমি কি তাদের সংবাদ পৌঁছে দিয়েছিলে”? এবং তিনি বলবেন “হ্যাঁ”। এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন “ তোমরা কি সংবাদ গ্রহন করেছিলে”? তারা হয়ত বলবে “না”।

এদের মাঝে কারা আছি? আমরা। তারপর আল্লাহ্‌ সুবাহানুহুওয়াতায়ালা আমাদের দিকে মানে মুসলিমদের দিকে ফিরবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন “তোমরা কি রাসুলের বানীগুলো পৌঁছে দাওনি”? এবং আমরা তখন তাঁকে বলবো “আসলে আমরা ব্যস্ত ছিলাম, আমাদের এত সময় ছিলনা”, অথবা আমরা মুখে বলেছি কিন্তু আমাদের চরিত্রে তা প্রকাশ পায়নি। এটাই পরীক্ষা। আমাদের অবস্থা স্যন্ডউইচের মত হয়ে যাবে। একদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন “আমি আমার কাজ করেছি তারা দায়ী” । অন্য দিকে মানবজাতি বলবে, আমরা কোন সংবাদ পাইনি। এই লোক গুলো! আপনি চান আমরা তাদের অনুসরণ করি?আপনি কি দেখেছেন মুসলিমরা কিরকম আচরণ করত? কারন আমরা জানি তারা কিরকম আচরণ করত। আমরা জানি তারা কিরকম ব্যবসা করত।আমরা কেন তাদের মত মুসলিম হতে চাইবো”?  যদি তারা আমাদের উপর এই মামলা ঠুকে দেয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি উনার দায়িত্ব পালন করায় মুক্তি পেয়ে যাবেন তখন আমাদের কি হবে? আমরা তখন উভয় দিক দিয়ে স্যান্ডউইচে পরিনত হব। এটাকে “শাহাদা আলা আন্নাস” বলে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আপনার বিপক্ষে সাক্ষী দিবেন যদি আপনি আপনার দায়িত্ব পালন না করেন এবং আপনি হয়ত তখন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবেন। আপনি হয়ত বলবেন “ আমরা সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি”। মানুষ জানত ইসলাম কি যদিও আমরা মুখে কিছু বলিনি।মুসলিমদের সন্নিকটে থেকেই তারা জানত ইসলাম কি এবং এর বৈশিষ্ট কি,এর নৈতিকতা ও ভিন্নতা কি, মুসলিমদের নীতি সমুহ কি। এবং যদি তারা না জানে আমরা ফাঁদে আটকে যাব। আমরা  ফাঁদে আটকে যাব। আল্লাহ্‌ সুবাহানুহু ওয়াতায়ালা বলবেন তাই মানুষের কোন অজুহাতই থাকবেনা রাসুলদের আগমনের পর। এবং আল্লাহ্‌ তায়ালা  মহাপরাক্রমশালি ও প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ্‌ তায়ালা সবসময় মহাপরাক্রমশালি এবং আল্লাহ্‌ তায়ালা সবসময় প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ্‌ জানতেন যে রাসুলরা মানষ জাতির জন্য যথেষ্ট হবে।

তাই এখন যখন লোকেরা বলেন  “এই ধর্মকে নির্বাচন করার মত যথেষ্ট পরিমান যুক্তি আমাদের কাছে ছিল না”। এই দোষের কিছু অংশ তাদের উপর বর্তায় আর কিছু অংশ মুসলিম জাতির উপর বর্তায় যারা তাদের কাজ ঠিক মত করে নি। এটা আমাদের জন্য চিন্তা করার মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আমরা যদি সংবাদ বহন না করি, আমি বলছিনা আমাদের সবারই বাইরে বের হতে হবে এবং প্রচারক হতে হবে, আমি এটা বলছিনা, আমি যেটা বলছি তা হল যদি আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের আলোকিত বৈশিষ্টগুলো ধারন না করি, আমরা যদি এটাই না জানি আমাদের বইতে প্রথমে কি আছে, এখনকার সময়ে আপনার কাউকে  গিয়ে  দাওয়া  দিতে হয়না, মানুষ নিজ থেকে এসেই জিজ্ঞেস করে “ তোমরা মুসলিম? তোমরা নামায পড়? তোমরা কিভাবে নামায পড়? তোমরা কি কি করো”? আমার বাড়িতে কিছু কাজ ছিল এবং এক লোক সে পেইন্টিং করে সে জিজ্ঞেস করলো “এটা কিসের পেইন্টিং”। আমি তাকে বললাম “এটা প্রার্থনার পেইন্টিং”।

তারপর আমরা নামায নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। আমি তাকে দাওয়া দি নি। সেই নিজ থেকে আমার কাছে দাওয়া চেয়েছে। এটাই আমি বলছি। সুযোগটা এখানেই। আমাদের এভাবেই এগুতে হবে, তাই আমি প্রার্থনা করি যে আমরা এভাবে এগুতে সক্ষম কারন মানবজাতির যদি কোন অজুহাত না থাকে তাহলে অবশ্যই এটার পিছনে কারন আপনি আমি এবং যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেন, যারা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তাদের প্রচারনার কারণেই। চূড়ান্ত কথা।

এটা খুবই সুন্দর। আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা সব রাসুলদের পাঠিয়েছেন এবং তিনি তাদের ধারা ও বর্ণনা করেছেন, তারা সুসংবাদ দিয়েছেন এবং সতর্ক ও করেছেন। তিনি আগে কোনটা উল্লেখ করেছেন? তারা সুসংবাদ দিয়েছেন। আমাদের ভালো সংবাদের বাহক হতে হবে। আমাদের কাউকে এটা বলতে হবেনা যে তারা জাহান্নামে যাচ্ছে, আমাদের কাউকে এটা বলতে হবেনা যে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত। এভাবে আপনি ইসলামের সংবাদ পৌঁছাতে পারবেন না। এটা আশার সংবাদ। এটা আশাবাদের সংবাদ। এবং এখন যদি মুসলিমরা নিজেদের নিয়ে আশাবাদী না হন, আশা পূর্ণ না হন, অনেক মুসলিম যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারা সত্যি বিশ্বাস করে তারা জাহান্নামে যাবে, তারা জান্নাতে যাওয়ার মত নিজেদের যোগ্য মনে করেনা। “ জান্নাত হল খুব খুব ভালো মানুষদের জন্য। এটা আমাদের জন্য না”! আপনি যদি নিজেকেই বিশ্বাস না করেন তাহলে অন্যদের কি করে বুঝাবেন? অন্যদের কে কিভাবে পথ দেখাবেন? রাসুলরা এসেছিলেন সুসংবাদ দেয়ার জন্য। প্রথমে সুসংবাদগুলো নিজেদের মধ্যে ধারন করুন তাহলে আপনি অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম, ওয়া-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

 

 

 

 

(Visited 414 times, 1 visits today)

মতামত

comments