চলুন ফিরে যাই আল্লাহর পথে

”অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ।” [সূরা নিসাঃ আয়াত ১৭]

আজকে আমি আপনাদের সাথে সূরা নিসার ১৭ নম্বর আয়াত নিয়ে কিছু কথা বলবো। বান্দা যখন আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ্‌ তা’আলাও তখন তার বান্দার দিকে ফিরে আসেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ” ফিরে আসা, কেউ যদি খাঁটি মনে সত্যিকারভাবে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসতে চায় তবে তাকে কিছু শর্ত মেনে নিতে হয়।অন্যকথায় আরবী শব্দ “إِنَّمَا” বিশেষ কিছু বুঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।আপনি যখন প্রশান্ত হৃদয়ে আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসার চিন্তা করেন, আপনি এই শর্তগুলো পূরণ করে ফিরে আসতে পারেন ।তাই আয়াতের প্রথমে “إِنَّمَا” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ”নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার তওবা কবুল করা তঁার নিজের উপর অপরিহার্য করে নিবেন, যদি আপনি এই শর্তগুলো মেনে নেন, তিঁনি নিশ্চয় কবুল করবেন
“لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ”
এই তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে তাদের জন্য, যারা কুৎসিত, ঘৃণ্য, জঘন্য, পাপকাজ করে – এ সবগুলোই “سُّوءَ”এর অর্থ হিসেবে ব্যবহত হতে পারে। আর, “بِجَهَالَةٍ”অর্থাৎ অপ্রতিরোধ্য আবেগের বশবর্তী হয়ে, যেমন কুকর্মে প্ররোচনা, রাগের বশবর্তী হয়ে, হতাশার আগুনে পুড়ে অথবা এমন কোন শক্তিশালী মানবিক অনুভূতি, যা ওই মুহূর্তে বিজয়ী হয়েছে। তারপর তারা ওই ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এটা হোল “جَهَالَةٍ” ।

আপনার অলসতা এক ধরনের “ جَهَالَةٍ” যখন আপনি নিজেই জানেন আপনার ফজরের নামাজ বাদ যাচ্ছে শুধু আপনার অলসতার জন্য। আপনার ক্রোধ এক ধরনের “ جَهَالَةٍ” যখন আপনি আপনার পিতামাতার উপর নিজের কণ্ঠ উঁচু করেন। আপনার চোখের সামনে কোন খারাপ ছবি আসার পরেও যখন টিভির চ্যানেল পাল্টাতে আপনার মনে অনীহা আসে, বুঝে নিবেন এটি সেই “ جَهَالَةٍ”।
আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন বান্দাহ যখন নফসের প্রতারণার স্বীকার হয়ে খারাপ কাজ করে ফেলে তারপর নিজের মনে ওই কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা জাগে এবং “ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ”।প্রসঙ্গক্রমে, এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, “سُّوءَ” শব্দটি একবচন, বহুবচন নয়। পাপকাজটি করার পরে সাথেসাথেই তারা আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসে।পাপে জড়িয়ে পড়লে নিজেকে আপনার নোংরা মনে হয়। নিজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন, ক্রোধে ফেটে পড়েন অথবা কখনও কখনও আশাহত হয়ে বলে ফেলেন, “আমার সব আশা শেষ হয়ে গেল”
কিংবা ভাবেন এখন আর তওবা করে কি লাভ হবে ? আল্লাহর কাছে এখন ফিরে গিয়ে কি লাভ? এখন আল্লাহর সাথে কথা বলার কোন অবস্থা নেই আমার, খুবই বিব্রতকর অবস্থা। আল্লাহ বলেছেন এটা তাওবা না, সত্যিকারের তাওবা হল, যখন আপনি সিন্ধান্ত নিয়েছেন আপনি আল্লাহর বিধান সজ্ঞানে লঙ্ঘন করবেন না, অথবা প্রকাশ্যে বা আপনার লাইফস্টাইল হিসেবে পাপ কাজ করবেন না। তাই বলে আপনিতো আর ফেরেশতা না, মানুষের ভুল হতেই পারে। আর ভুল হলে সাথে সাথেই আপনি আল্লাহ্‌র কাছে বিনম্র চিত্তে ফিরে আসুন “ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ”। তারপর আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন “فَأُولَـٰئِكَ يَتُوبُ اللَّـهُ عَلَيْهِمْ” এবং তখন আল্লাহ্‌ আপনার দিকে ফিরে আসবেন এবং আপনার তওবা কবুল করবেন। আমার ও আপনার জন্য কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা কখনও তওবা থেকে নিজেদের বিমুক্ত করতে পারবোনা কারন আমরা কখনও গুনাহ থেকে মুক্ত হতে পারবোনা। প্রতিদিন আপনার জীবনে এমন কিছু ঘটবে যার জন্য আপনি অনুতপ্ত হবেন। মনে রাখবেন সত্যিকার মুমিন তারাই যারা তাদের ভুলগুলো বুঝতে পারে।

পাপ থেকে সর্বতোরূপে বেচে থাকা অসম্ভব কারন খারাপ কিছু আমাদের সাথে যেকোনো সময়েই হতে পারে। কিন্তু যখন মুমিনদের জীবনে খারাপ কিছু ঘটবে, খারাপ কিছু করে ফেলবে, সময়ক্ষেপণ না করেই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে আসবে, আর আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার তওবা কবুল করাতো নিজের উপর অপরিহার্য করে নিয়েছেন।
“وَكَانَ اللَّـهُ عَلِيمًا حَكِيمًا”
আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, পরমজ্ঞানী।আল্লাহ জানেন আপনি কি অবস্থায় আছেন। আপনারা জানেন, একজন অপরাধীর অপরাধ যখন বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয় তখন অপরাধী ব্যক্তি এবং তার পক্ষের উকিল বিভিন্ন ভাবে বিচারকের সহানুভূতি আকর্ষণের চেষ্টা করে। যেমন তারা বলে, “আপনি জানেন মূল ঘটনাটা এমন ছিলোনা…” অথবা “মূল ব্যাপারটি শুনলে হয়তো আপনি আপনার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসবেন” । কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার সবকিছু জানেন। আপনি আল্লাহ্‌ তা’আলার চেয়ে উত্তম কৌশলী হতে পারবেন না। তিনি আপনার অপরাধের আদ্যোপান্ত জানেন এবং তিনি জানেন আপনার অপরাধ ক্ষমার যোগ্য কিনা।

তাই আমি আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছে দু’আ করি এই রামাদানে তওবা করাটা যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। তাওবা যেন আমরা নিয়মিতভাবে, সচেতনভাবে ও সজ্ঞানে করি। মসজিদে সবাই যখন দু’আ করে আপনি তখনই শুধু তওবা করবেন এমন না; গাড়ী চালানোর সময় তাওবাহ করবেন কারন আপনি এমন কিছু দেখেছেন যা আপনার দেখা উচিত না। আপনার কান দ্বারা এমন কিছু শ্রবণ করেছেন যা আপনার শোনা উচিত হয়নি। অথবা এমন এক আড্ডার মাঝে উপস্থিত হলেন যেখানে যাওয়া আপনার উচিত হয়নি। হয়তো আপনি নিজের অজান্তেই ওই আসরে আপনার ভাই, বোন, পিতা অথবা আপনার বন্ধুকে নিয়ে গীবতে জড়িয়ে পড়লেন। আপনি এমন ব্যক্তি না যে স্বীকার করে না যে ঐটা আসলে গীবত ছিল, আপনি ঐরকম ব্যক্তি যে নিজের ভুল ধরতে পারে আর বলে ঐটা আসলে গীবত ছিল। আপনি নিজে চেক করেন আর তাওবা করেন সাথে সাথে আমি আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ্‌ তা’আলা যেন আমাদের বেশী বেশী তওবাহ করার তওফিক দান করেন এই মাসে এবং আমাদের সকল তওবাহ যেন কবুল করেন। বারাকাল্লহু লি ওয়ালাকুম, ওয়াস-সালামু আ’লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

ইউটিউব লিংকঃ https://youtu.be/eccnvK_KDkc

(Visited 63 times, 1 visits today)

মতামত

comments