ঈমান এবং আঁধার প্রান্তরে পথ চলা প্রদীপ – ১ম পর্ব

আজকের খুতবার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের সাথে সূরা হাদিদের একটি আয়াত শেয়ার করা। কিন্তু এই আয়াত থেকে কিছু শিক্ষা বলার আগে আমি প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলতে চাই। সূরা হাদিদের মাঝখানে আল্লাহ বিচার দিবসের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। বিচার দিবস এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আল্লাহ কুরআনের বহু জায়গায় আলোচনা করেছেন। সাধারণত তিনি যখন এ সম্পর্কে বলেন – তিনি বিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জান্নাতের দিকে ধাবমান এবং তিনি অবিশ্বাসীদের সম্পর্কে বলেন যারা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু আলোচ্য অংশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এখানে আল্লাহ বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে তিনি বিশ্বাসীদের মুনাফিকদের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। আল্লাহ বিশ্বাসীদের বিপরীতে অবিশ্বাসীদের তুলনা করার পরিবর্তে বিশ্বাসীদের বিপরীতে এমন লোকদের তুলনা করছেন যারা মনে করতো যে তাদের ঈমান রয়েছে, অথবা ভান করতো যে তারা মুসলিম অথবা তাদের ঈমান রয়েছে কিন্তু বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে এই ঈমানের কোন মূল্য থাকবে না। এরাই হলো মুনাফিক, আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করেন। সুরা হাদিদের এই আলোচ্য অংশটি আমাদের জানা খুবই জরুরী। কারণ এই অংশটি আমাদের জানায় যে বিচার দিবসে কীভাবে এই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কিয়ামতের দিন বিশ্বাসীরা যখন দাঁড়াবে, রাসূল (স) তাদেরকে দেখতে পাবেন। “ইয়াওমা তারা” তিনি দেখতে পাবেন মানে রাসূল (সঃ) দেখতে পাবেন… “আল মু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাত” বিশ্বাসী নারী পুরুষদেরকে। “ইয়াসআ নুরুহুম বাইনা আইদিহিম ওয়া বি আইমানিহিম” তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে। এর মানে হলো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের হৃদয় থেকে এবং ডান হাত থেকে জ্যোতি বিচ্ছুরিত হবে। এই আলোটি কেন জরুরী? কারণ, আল্লাহর প্রতি আপনার-আমার ঈমান যদি অকৃত্রিম হয় এবং বিশ্বাস দৃঢ় হয়, কিয়ামতের দিন এই বিশ্বাস জ্যোতিতে রূপান্তরিত হয়ে দীপ্তি ছড়াবে। আর এই বিশ্বাস দুনিয়াতে আমার কর্মকে প্রভাবিত করেছে, আমার হাতের সেই কাজগুলোই কিয়ামতের দিন আলোতে রূপান্তরিত হবে।

সেদিন আমাদের কাছে দুইটি টর্চ (আলো) থাকবে,… শেষ বিচারের দিনটি হবে নিকষ কালো একটি দিন। আঁধারে ঢাকা বিস্তীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের জান্নাতে পৌঁছাতে হবে। এবং সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সবার আলোর প্রয়োজন হবে। কিছু কিছু ব্যক্তির আলো হবে অনেক প্রখর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাদের আলো এতো লম্বা হবে যে সেই আলো এক শহর থেকে আরেক শহর পর্যন্ত বিচ্ছুরিত করতো। আবার কারো কারো আলো হবে অত্যন্ত অনুজ্বল। সেই টিমটিমে আলোতে নিজ পা কোথায় ফেলছে কোনোমতে শুধু সেটিই দেখতে পাবে। তাহলে মানুষ বিভিন্ন মাত্রার আলো নিয়ে যখন জেগে উঠবে এবং জান্নাতের পথে যাত্রা শুরু করবে, তখন আল্লাহ’তাআলার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হবে। কারণ, অন্ততপক্ষে তাদের নিজস্ব কিছু আলো আছে। আর অনেকের তো কোন আলোই নেই, তাই তাদের জান্নাতে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারা কোন পথ দেখতে পাবে না। “বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য”। তোমাদের সামনেই এটা আছে। হাঁটতে থাকো, চলতে থাকো। পরবর্তী আয়াতেই আল্লাহ অন্য একদল লোকের কথা বলেন যারা জেগে উঠার পর গভীর বিস্ময়ে আবিস্কার করবে পথ চলার জন্য তাদের নিজস্ব কোন আলো নাই! তাদের চারপাশ গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন। বহু দূরে তারা দেখবে কিছু আলো দেখবে… আপনারা দৃশ্যটা কল্পনা করতে পারেন… চারপাশ গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন আর বহু দূরে তারা দেখবে কিছু মানুষ আলো নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা হয়তো মানুষ দেখতে পায় না, শুধু আলোর কিছু বিচ্ছুরণ দেখা যায়। তখন তারা ভাববে, আমাদের দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছা উচিত। কারণ আলোটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

তো, সেই মুনাফিকরা কিয়ামতের দিন এই রকম একটি তমসাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে জেগে উঠবে, আর তারা বিশ্বাসীদের আলো দেখে তাদের ধরার চেষ্টা করবে। কারণ তাদের নিজস্ব কোন আলো থাকবে না। তারা জেগে উঠে গভীর বিস্ময়ে আবিষ্কার করবে তাদের সাহায্য করার মতো কিছুই নেই। “যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে”। এক্তিবাস শব্দ দ্বারা বুঝায় – যেমন আগের দিনে আপনার হাতে ‘মশাল’ থাকত, আর অন্যজনের আগুন থেকে নিজের মশাল জ্বালিয়ে নিতেন, সেরকম। তাই, তারা ভাবল আমরা তোমাদের কাছ থেকে কিছু আলো ধার নিবো, আমরা তোমাদের টা নিয়ে যাব না। একটু থামো, আমাদের সাহায্য করো। তখন মুনাফিকদের “বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর।“ আমরা তোমাদের সাহায্য করবো না।

হাশরের ময়দান হচ্ছে এমন ভয়াবহ একটি জায়গা যেখানে জন্মদাত্রী মা নিজ সন্তানকে পর্যন্ত অগ্রাহ্য করবে। ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, প্রাণের বন্ধু —-এইসব পার্থিব সম্পর্কগুলো ছিন্ন হবে। প্রতিটি মানুষ শুধুমাত্র নিজেকে বাঁচাতে উদ্বিগ্ন থাকবে। কেউ এমনকি পেছনেও ফিরে তাকাবে না। “তোমরা পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর।” ‘পিছনে ফিরে যাও’ — একপ্রকার ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। মানে দুনিয়াতে ফেরত যাও, এবং আলোর সন্ধান করো। কারণ, কেউ যদি দুনিয়াতে তার ঈমান ও কর্ম দিয়ে ‘আলো’ সংগ্রহ না করে থাকে, তাহলে সেদিন তার নিজস্ব কোন আলোই থাকবে না। আলো সংগ্রহ করার একমাত্র জায়গা হলো এই দুনিয়া। তারপরেও মুনাফিকরা মুসলমানদের ধরার চেষ্টা করবে, কারণ তারা এটা মানবে না, আর তাদের ধরার চেষ্টা করবে। এভাবে যখন তারা বিশ্বাসীদের নিকটবর্তী হবে …ঠিক এমন একটি মুহূর্তে, দুই দলের মাঝে একটি বৃহদায়তন ও প্রকাণ্ড দেয়াল নেমে আসবে। যার একটি দরজা থাকবে। (এই দরজা সম্পর্কে আমরা অন্য এক সময় কথা বলবো)। আল্লাহ বলেন – “অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর। ফলে এখন তারা ধরার চেষ্টা করলেও পারবে না।

দেয়ালটি খাড়া হওয়ার পর… আল্লাহ বলেন – দেয়ালের অন্য পাশে যে পাশটা মুনাফিকরা দেখতে পাবে না… থাকবে আল্লাহ্‌র করুণা, দয়া এবং মমতা। আর অপর দিকে (মুনাফেকদের দিকে) থাকবে কঠোর শাস্তি এবং অন্ধকার। তাহলে এখন শুধু অন্ধকারই নয়, রয়েছে বিশাল এক দেয়াল ফলে তাদের পালানোর আর কোন জায়গা নেই। আর পেছনে দেখতে পাবে শাস্তি তাদেরকে আচ্ছন্ন করার জন্য এগিয়ে আসছে। তখন এই মুনাফিকরা – আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত না করুন – মরিয়া হয়ে বলবে, “আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?” লক্ষ্য করুন, মুনাফেকরা অপর পাশে থাকা মুমিনদেরকে ডাকছে – স্পষ্টতই দরজা এই পাশ থেকে খোলা যায় না- আরে দরজাটা খোল না, আমারা তো তোমাদের সাথেই থাকতাম। এভাবে মরিয়া হয়ে ডাকা হবে।

সামনে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে এটা বুঝা গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই আমি আজকের খুৎবার জন্য এই আয়াত পছন্দ করেছি। এই বাক্যটার কারণে “আলাম নাকুম মাআকুম” আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? ব্যাপারটা হলো – এই লোকগুলো যারা দেয়ালের ভয়ংকর পাশে অবস্থান করছে, যারা মরিয়া হয়ে আছে, যাদের নিজস্ব কোন আলো নেই; তারা ভাবতো তারাও মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত। তারা এটা নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। এতো আত্মবিশ্বাসী ছিল যে, তারা কিয়ামতের দিনও সেই কথা বলছে – আরে! আমরা তো তোমাদের সাথেই থাকতাম! আমরা তোমাদের সাথে নামায পড়তাম, ব্যবসা করতাম, তোমাদের বন্ধু ছিলাম, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল, চাচাতো-মামাতো ভাই/বোন ছিলাম। আমারা তো একই কলেজে, ভার্সিটিতে গিয়েছি, আরে আমরা তো একই। কেন আজ আমরা বিচ্ছিন্ন? কেন এই সম্পর্কচ্ছেদ ঘটছে আজকে?

এখন অপর পাশে অবস্থিত মুমিনরা নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে, দেয়াল স্থাপিত হওয়ার কারণে এই পাশের মুনফিকরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লো অন্যদিকে অপর পার্শ্বে অবস্থিত মুমিনরা নিজেদেরকে অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছে; তাদের আর কোন তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। কারণ এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এখন তারা সময় নিয়ে মুনাফিকদের উত্তর দিচ্ছে। এই কারণে তোমরা আজ আর আমাদের সাথে নেই। জান্নাতি লোকেরা সর্ব প্রথম তাদের বলেছিল, পেছনে ফিরে গিয়ে আলোর তালাশ করো। স্পষ্টতই তোমাদের কোন আলো নেই। আবার মুনাফিকরা সম্পূর্ণ হতবাক! আমাদেরও তোমাদের মতো আলো পাওয়ার কথা!

এখন জান্নাতি মানুষরা মুনাফিকদের ব্যাপারে বর্ণনা করবে… এই লোকগুলোর তো আলো ছিল, তাদের বিশ্বাস ছিল, কীভাবে তারা এটা হারালো? কীভাবে তারা কিয়ামতের দিন সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়লো? এই আয়াতটি বিশেষভাবে নিগূঢ় একটি আয়াত। এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, কীভাবে একজন মুসলিম ক্রমে ক্রমে ঈমান হারায়। কীভাবে একজন মানুষ ঈমানের মত মহামূল্যবান জিনিস পাওয়ার পরেও, পরিশেষে তা হারিয়ে ফেলে। রাতারাতি কোন ব্যক্তির ঈমান ধ্বংস হয়ে যায় না। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কোন ঈমানদার ব্যক্তি মুনাফেক হয়ে যায় না। এটা একটা পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি এই নিরন্তর বানীতে প্রকাশিত হয়েছে — “বালা” অবশ্যই তোমরা আমাদের সাথে ছিলে, “ওয়ালা কিন্নাকুম ফাতানতুম আনফুসাকুম” আমি প্রথমে সহজ অনুবাদ বলছি পরে ব্যাখ্যা করবো … এক নাম্বারঃ তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে (ফিতনায় ফেলে) বিপদগ্রস্ত করেছ।“ আরবিতে ফাতানা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোন কিছুকে পরীক্ষাতে ফেলা। স্বর্ণ গলিয়ে তার খাদ ফেলে দিয়ে ধীরে ধীরে বিশুদ্ধ করার পদ্ধতিটিকেও ফাতানা বলে। স্বর্ণ নিখাদ করার প্রক্রিয়া সহজ নয়, বরং এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক দহন প্রক্রিয়া।

“ফাতানতুম আনফুসাকুম” এর অনেকগুলো ব্যাখ্যা আছে। তবে আজকের খুৎবার জন্য একটা বিষয়কে হাইলাইট করবো… ‘তুমি নিজেকে বারংবার জেনেবুঝে এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছ, যেখানে তোমার ঈমান পদে পদে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে’। এখানে জিনিসটা বোঝার চেষ্টা করুন। ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হবে জেনেও আপনি বারবার নিজেকে এমন পরিবেশের সম্মুখীন করেছেন, এবং নিজেকে বুঝিয়েছে “আমি এটা সামলে নিতে পারবো, আমার বিপদে পরার বা পদস্খনলনের কোন সম্ভবনা নাই”। আপনি নিজেকে এমনসব বন্ধু/আত্মীয়স্বজন দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রেখেছেন যারা খারাপ কাজ করে, খারাপ কথা বলে, অশ্লীল জিনিস দেখে, খারাপ জায়গায় যায়। কিন্তু আপনি নিজেকে বুঝিয়েছেন আমি তাদের মত না, আমি শুধু তাদের সাহায্য করছি। আপনি বার বার ঐ সব পরিবেশে যেতেন। আপনি এমনসব আড্ডায়, জায়গায়, পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর মিশছেন, ওঠাবসা করছেন। আপনি নিজেকে প্রবোধ দিচ্ছেন, “এইসব আমার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। সবাইকে প্রভাবিত করলেও আমাকে করবে না।“

বস্তুত শুরুতেই এমনিতেই তারা ঈমানহারা হয়ে যায়নি; ঈমান ধ্বংসের সর্বপ্রথম ধাপটাই হচ্ছে অসৎ সঙ্গ! তারা নিজেদেরকে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ফেলে রাখত। আর তারা ভাবতো- এতে তাদের উপর কোন প্রভাব পড়বে না। আমি একটি হালকা উদাহরণ দিবো… আশা করি পয়েন্টটা বুঝতে পারবেন। বাসায় যখন অনেক তেল-মসলা দিয়ে রান্না করেন, তখন সারা বাড়িতে সেই গন্ধে ভরে যায়। আপনি বাসার ভেতর থেকে এই গন্ধ বুঝতে পারবেন না। কিন্তু যখন বাইরে থেকে একজন বাসায় প্রবেশ করে, বিশেষত কোন আরব যদি আসে সে ভাবে সে কোন দুষিত পরিবেশে এসে পড়েছে; সে একটা ধাক্কার মত খায়। কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পর সে অভ্যস্ত হয়ে যায়, এটা এখন শুধু অক্সিজেন।

ঠিক একইভাবে, আপনি প্রথমে খারাপ কোন পরিবেশে গমন করলে সাথে সাথে বুঝতে পারেন এটা ঠিক নয়। আমি খারাপ হয়ে যাব। আমার এখানে থাকা উচিত নয়। আপনার অন্তর অস্বস্তি অনুভব করবে। কিন্তু আপনি যদি বার বার বার বার এই পরিবেশে যেতে থাকেন, কি হবে তখন? আপনি আর খারাপ ফীল করেন না। কেউ যদি জীবনে প্রথমবার কোন ধূমপায়ীর পাশে বসে তখন সিগারেটের গন্ধে সে কাশতে থাকবে, চোখ জ্বালা করে চোখ দিয়ে পানি আসবে, ফ্রেস বাতাসের জন্য সে ছটফট করবে, এবং সে দ্রুত সেই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে চাইবে। কিন্তু সে নিজেই যদি সিগারেট পান করতে থাকে, বছর খানেক পর এটাই তাদের অক্সিজেনে পরিণত হয়, সিগারেট ছাড়া তারা নিঃশ্বাসও নিতে পারে না। এটা সম্পূর্ণরূপে তাদের পরিবর্তন করে ফেলে। তাহলে প্রথম সমস্যা হলো – আপনি নিজেকে অসৎ পরিবেশে ফেলে রাখেন। “”ফাতানতুম আনফুসাকুম” । ইনশাল্লাহ চলবে…।

[ সূরা হাদিদের আলোচিত আয়াতসমূহ]
বাংলা ভাবার্থঃ “যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এবং সেই চূড়ান্ত প্রতারক তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল। যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দে

(Visited 100 times, 1 visits today)

মতামত

comments